somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরানের আলোতে হজ্জ/কোরবানী অবৈধ-১/১০

০৬ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরানের আলোতে প্রচলিত হজ্জ, তারিখ এবং বিশ্বব্যপী পশু হত্যা বৈধ নয়।
হজ্জ অর্থ : সংকল্পবদ্ধ হওয়া, শপথ করা; কোরবানী অর্থ: ত্যাগ করা, উতসর্গ করা।
অর্থাত লোভ, হিংসা, মোহ, ক্রোধ, যাবতিয় মিথ্যা, অন্যায়, অশ্লীল, অপস্বভাব-কর্ম ত্যাগ করার শপথ এবং তা আজীবন রক্ষা করাকেই আরবিতে কোরবানী-হ্জ্জ বলা হয় (২: ৯৭)।

প্রচলিত হজ্জে গিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে থাকা, কাপড় পরা, মাথা কামান, ৭ পাক ঘোরা, পাহাড়ে দৌড়া-দৌড়ি, পাথর চুম্বন, পাথর নিক্ষেপ করে শয়তান মারা, পশু হত্যা, কয়েক ওয়াক্ত নামাজ পড়া ইত্যাদি। আর ফেরত এসে কতিপয় দিন ঘরে বন্দী হয়ে থাকা। (সং. ইসলামী বশ্বিকোষ; ১ম খ. ৩য় মুদ্রণ; ২য় খ. ২য় সংস্করণ; ই. ফা)।
এখানেই যাবতীয় হজ্জের সমাপ্তি, অতঃপর বেশ-ভুষায় হাজী খেতাবটি বংশ পরস্পরায় স্থায়ীত্ব লাভ করে।
আশঙ্কা করা হয় যে, হজ্জের সময় বিশ্বের সকল শয়তান পবিত্র মক্বা নগরীতে হাজির হয়, তাই হাজিগণ পাথর ছুঁড়ে শয়তান মেরে ফেলে, কাল পাথর (হজরে আছওয়াদ) চুমুতে জীবনরে সকল পাপ চুষে হাজিকে বেহেস্তবাসী করে।এ ধারণার পক্ষে রচিত হয়েছে অসংখ্য হাদিছ।
হজ্জ সম্বন্ধে কোরানের উল্লেখ্যযোগ্য আয়াত:
১. [২: ১২৫; ২২: ২৬] এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন কাবা গৃহকে মানবজাতির মিলন কেন্দ্র ও নিরাপত্তা স্থল করে ছিলাম এবং বলেছিলাম ‘তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়াবার স্থানকেই সালাতের স্থান রূপে গ্রহণ কর’ এবং ইব্রাহিম ও ইসমাঈলকে তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী, রুকূ ও সিজদাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছি।
সহজ কথা: ‘সেই সময়কে স্মরণ কর’ অর্থাত পৌত্তলিকদের বিরুদ্ধে ইব্রাহিমের জীবনব্যাপী সংগ্রামের সফলতার পর কাবাগৃহ বা স্থানকে আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর এবং উহার বিধি-বিধান ঘোষণার সময়কে স্মরণ কর। কাবা সমগ্র মানবজাতির মিলন কেন্দ্র হবে, অর্থাত বিশ্ব দরবার, বিশ্ব এস্তেমা বা মুসলিম জাতিসংঙ্ঘের সদর দপ্তর বলে গণ্য হবে। এখান থেকেই বিশ্ব দিক নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইব্রাহিমের দাঁড়াবার স্থানকে ছালাতের স্থান গ্রহণ করার অর্থ ইব্রাহিমের প্রার্থনা বা ছালাতের বিষয়বস্তু বা নিয়ম পদ্ধতি, আর্ত ও আর্থ সামাজিক রীতি-নীতি আন্তর্জাতিকভাবে অনুসরণ করতে হবে। মক্কার চতুস্পার্শের লোক (বহিঃবিশ্ব) বা ভ্রমণকারী, আগ্রহশীলগণ (তাওয়াফীগণ), মক্কার অধিবাসী বা স্থানীয়গণ (এতেকাফ-কারীগণ) সমর্থক বা বিনীতগণ (রুকুকারীগণ) ও সদস্য, ঈমানদার বা ভক্তগণের (সেজদাকারীগণ) যাবতিয় নিরাপত্তা ও কল্যাণ বিধানের জন্য এই সদর দপ্তর সত্য, ন্যায় ও সঠিক দিক নির্দেশনা দিবে। এবং উহার সভাপতি বা ইমাম হবেন (তত সময়) যথাক্রমে ইব্রাহিম অতঃপর তার উত্তরাধিকারী ইসমাঈল; তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আপামর সকলের জন্য সমান ও ন্যায্য অধিকার, কর্তব্য ও ন্যায়সঙ্গত স্বার্থ সংরক্ষণ [পবিত্র রাখবে] করবে।
২. [ ২: ১৫৮] ‘সাফা ও মারওয়া’ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেহ কাবা গৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এই দু’টির মধ্যে যাতায়াত করলে তার কোন পাপ নাই এবং কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে সতকর্ম করলে আল্লাহ পুরস্কার দাতা সর্বজ্ঞ।
সহজ কথা: ‘উমরা’ অর্থ ভ্রমণ বা বেড়ানো, ঘুরে বেড়ানো। পূনঃ স্মরণীয় যে, কোরানের যে কোন অনুবাদে বিশেষ করে বঙ্গানুবাদে গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ আরবি শব্দের অর্থ সন্দেহজনক কারণে বঙ্গানুবাদ না করে বরং আরবিই নতুবা পারর্সী, উর্দ্দু বা হিন্দি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। অতঃপর ‘ইসলামী বা শরিয়তি পরিভাষা’ নামে নুতন এক ফন্দি আবিস্কার করে উহার দোহাই দিয়ে শরিয়তের আকার-অনুষ্ঠানের পক্ষে শব্দটির মনগড়া ব্যাখ্যা জুড়ে দিয়ে কোরানকে সাধারণের কাছের দূর্ভেদ্য করে তুলেছেন। মূলতঃ বাক্যটির সার অর্থ: যারা ইব্রাহিমের নীতি বা সংবিধান স্বীকার করে এবং সেই নীতির উপর কায়েম থাকার শপথ (হজ্জ) করার জন্য কাবায় হাজির হয় তারা পরদেশী হয়েও আরবের বিভিন্ন স্থানে স্বাধিনভাবে ভ্রমণের অধিকার আছে, আয়াতে উল্লিখিত ‘সাফা মারওয়া যাতায়াতে পাপ নেই,’ অর্থাত আরবের বিভিন্ন অঞ্চল স্বাধীনভাবে ভ্রমন বাধা দিতে পারবে না। আরবদেশ বিশ্বের সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে (ওপেন ষ্টেট-ওপেন ট্রেড)।
(চলবে-২/১০)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:২৫
১৭টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×