(পূর্বাপর)
কোরানের আলোতে প্রচলিত হজ্জ, তারিখ এবং বিশ্বব্যপী পশু হত্যা বৈধ নয়।
হজ্জ অর্থ : সংকল্পবদ্ধ হওয়া, শপথ করা; কোরবানী অর্থ: ত্যাগ করা, উতসর্গ করা।
অর্থাত যাবতিয় মিথ্যা, অন্যায়, অবিচার, অশ্লীল, অপস্বভাব-কর্ম ত্যাগ করার শপথ করাকেই আরবিতে কোরবানীর হ্জ্জ বলা হয়।(তথ্যসুত্র: ২: ৯৭)।
ধর্মের নামে পশু হত্যা আল্লাহ গ্রহন করেন্না:[/sb
১২. [২২: ৩৭] আল্লাহ্র নিকট উহাদের গোশত এবং রক্ত পৌঁছায় না বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি ইহাদিগকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষনা করতে পার-।
সহজ কথা: আরবি ‘না লুন’ এর অর্থ প্রধানতঃ বখশিশ, যাকে ছোয়াব/লাভ বা পুণ্য বলা হয়; সুতরাং আয়াতে বর্ণিত ‘গোস্ত ও রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না’র পরিবর্তে ‘ পশুর গোস্ত ও রক্তে আল্লাহর নিকট কোন বকশিস নেই’ অনুবাদটিই যথার্থ। অর্থাত ধর্মের নামে পশু হত্যা আল্লাহ গ্রহণ করে না, আল্লাহ তা চায় না, তার অপছন্দ হেতু তাতে কোনই ছোয়াব-লাভ নেই।
‘তাকওয়া’ শব্দটি পূর্বেয়ো দৃঢ়তার সহিত ব্যবহৃত হয়েছে; বলা হয়েছে যে হজ্জ গমণকারীর প্রধান পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া। তাকওয়া অর্থ: সতর্কতা, শপথ রক্ষার ক্ষমতা, দৃঢ় মনোবল অর্জন; এজন্য প্রয়োজন নিঃস্বার্থ ত্যাগের অভ্যাস বা সাধনা। এই গুণ বা আনবিক শক্তি আল্লাহ মানুষের অধীন করে দিয়েছেন, আয়ত্ত্ব করার সুত্র বাতলে দিয়েছেন; তাই ইচ্ছা এবং চেষ্টা থাকলেই সম্ভব; সুতরাং আল্লাহর শ্রেষ্টত্বতা স্বীকার কর, কৃতজ্ঞতার সহিত স্তুতিবাদ কর।
চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র যাবতিয় সৃষ্টি যেখানে মানুষের অধীন করে দিয়েছেন! সেখানে পশু বা উট অধীন করে দিয়ে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষনা করার অনুবাদ অসংগত এবং কোরানের মৌলিক দর্শন বিরোধী।
১৩. [৬: ১৩৬] আল্লাহ যে শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন তা থেকে তারা আল্লাহর জন্য এক অংশ নির্দিষ্ট করে এবং আপন ধারণা অনুযায়ী বলে, ‘ইহা আল্লাহর জন্য এবং ইহা আমাদের উহা দেবতাদের জন্য।’ যা তাদের দেবতাদের অংশ তা আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এবং যা আল্লাহর অংশ তা তাদের দেবতাদের কাছে পৌঁছে; তারা যা মীমাংসা করে তা নিকৃষ্ট।
সহজ কথা: প্রচলিত শরিয়ত পশু হত্যার গোস্ত প্রাগ পৌত্তলিকদের মতই ভাগাভাগি করে যেমন: ১ ভাগ নিজের, ২য় ভাগ আত্মীয়-স্বজনদের এবং ৩য় ভাগ আল্লাহর নামে, যা গরীব-মিছকীনদের ১/২ টুকরা করে বন্টন করা হয়। এ রকম শরিকী ভাগ-বন্টন আল্লাহ ঘৃণা করেন; আল্লাহর পছন্দ হলো ত্যাগের শপথ (কোরবানী-হজ্জ) রক্ষার মনোবল (তাকওয়া) অর্জন। ইহারই বিনিময় তাঁর কাছে ছোয়াব রয়েছে; সুতরাং নিতান্ত প্রয়োজনে পশু হত্যা কর, গোস্ত খাও, যার নেই তাকে খাওয়াও; কিন্তু পূর্ববত পৌক্তলিক-প্যাগণদের মত ছোয়াবের ভ্রান্ত আশায় পশু হত্যার হুলি খেলায় মাতিও না।
প্রচলিত হজ্জ-কোরবানী সিনেমা নাটকের মত অবাস্তব বর্বর অনুষ্ঠান সর্বস্ব মাত্র; কোরানের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক যে নেই তা পাঠকগণ এক্ষণে তা স্বীকার করতে বাধা নেই; আর প্রকৃত ধর্মের যাবতিয় কর্মের সত্যা-সত্যের যুক্তির যুক্তি হলো পরীক্ষীত মানব কল্যাণ; অর্থাত আদেশ-উপদেশে বাস্তবিক এবং স্থায়ী মানব কল্যাণ প্রমানিত হলে, উহাই সত্য-সনাতনধর্ম, মানব ধর্ম, ধর্মের কর্ম এবং কর্মের ধর্ম।
সিনেমা-নাটকের কিছু ফলাফল থাকলেও শরিয়তের অনুষ্ঠানাদির অপব্যায় ও ক্ষতি ছাড়া কোন পরীক্ষীত কল্যাণ (ছোয়াব) ১৪শ বছরে প্রমানিত হয়নি। তবুও কাল্পনিক গুণা মাফ ও বেহেস্তে অবাধ ভোগের লালসায় বাস্তব সমাজ জীবন বিপন্ন করে কোটি কোটি নিরীহ পশু রক্তের হোলি খেলায় মুসলিম বিশ্ব আজ মদমত্ত। এই অবৈধ, অপচয়, অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে অবলা পশুরা কি আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে না! অবশ্যই করে! নতুবা জোর যবরদস্তি করে, হাত-পা বেঁধে কাত্ করতে হবে কেন! আল্লাহর যদি আদেশই থাকতো! তবে নিরীহ পশুরা অবশ্যই ইসমাইলের মত স্বেচ্ছায় শুয়ে পড়তো!
(চলবে-৬/১০)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


