(পূর্বাপর)
নামাজে গুরুতর শেরেকী বক্তব্য পুনঃ লক্ষ্যণীয়ঃ
১. [১০৮: ১-৩] নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কাওছার দান করেছি। অতএব তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নমাজ পড় ও কুরবানী (নাহার=ধংস, নির্মূল) কর।
২. [২: ১১৯] নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্য-সনাতন ধর্ম প্রেরণ করেছি, সু-সংবাদ দাতা ও সতর্ককারী রূপে। জাহান্নামীদের বিষয় তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করবো না।
৩. [২: ১২০] - জ্ঞান প্রাপ্তির পরেও তুমি যদি তাদের খেয়াল খুশীর অনসুরণ করো তবে আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমার কোন সাহায্যকারী বা অভিভাবক পাবে না।
৪. [২: ১২২] হে বনি ইস্রাইলগণ! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো! যদ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছি এবং বিশ্বে সকলের উপরে তোমাদের শ্রেষ্ঠত্বতা দিয়েছি।
৫. [২: ১৪৫] - তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর তুমি যদি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ কর তবে অবশ্যই তুমি জালিমদের দলভূক্ত হবে।
৬. [৪২: ৭] এভাবেই আমি তোমার প্রতি আরবি ভাষায় কোরান অবতীর্ণ করেছি; যাতে তুমি মক্বা ও তার আশ-পার্শ্বের লোকদের সতর্ক করতে পার।
৭. [৪: ১০৫] নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্য সনাতন কিতাব নাজিল করেছি; যাতে সে অনুসারে তুমি মানুষের মধ্যে বিচার মীমাংসা কর এবং বিশ্বাস ভঙ্গকারীদের সমর্থনে তর্ক করিও না।
৮. [৬: ১০৬, ১০৭] তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে তোমার প্রতি যা অহি হয় তুমি শুধু তারই অনুসরণ কর, তিনি ব্যতীত অন্য কোন আল্লাহ নেই; এবং তুমি মুশরীকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে লও।- এবং তোমাকে তাদের উপরে উকিল নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাদের অভিভাবকও নও।
৯. [১১: ১১২] -সুতরাং তুমি যেভাবে অহি প্রাপ্ত হয়েছো তার উপরেই অটল থাকো এবং তোমার সহিত যারা ঈমান এনেছে তারাও অচল থাকুক। সাবধান! সীমা লঙ্ঘন করিও না। তোমরা যা কর সে তার সম্যক দ্রষ্টা।
১০. [১৬: ১২৩] এখন আমি তোমার প্রতি অহি করলাম তুমি একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর এবং সে মুশরিকদের দলের নহে।
১১. [১৭: ৯০-৯৩ ] এবং উহারা বলে, কখনই আমরা তোমাতে ঈমান আনব না : যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে এক প্রস্রবণ উতসারিত করবে; যতক্ষণ না তোমার জন্য একটি আঙ্গুর বা খেজুরের বাগান দেখতে পাবো, যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় নদী-নালা প্রবাহিত করবে; যতক্ষণ না তুমি আকাশকে খন্ড-বিখন্ড করে আমাদের উপর ফেলবে, এবং যতক্ষণ না তুমি আল্লাহ ও ফিরিস্তাদের আমাদের সম্মুখে হাজির করবে। যতক্ষণ না দেখবো যে তোমার একখানা স্বর্ণ নির্মিত বাড়ি আছে, এবং যতক্ষণ না তুমি আকাশে হঠাত অদৃশ্য হয়ে যেতে পার; কিন্তু আকাশে অদৃশ্য হলেও তোমার উপরে আমরা ঈমান আনবো না, যতক্ষণ না তুমি সেখান থেকে আমাদের জন্য একখানি আসমানী কেতাব বয়ে আনবে, যা আমরা পাঠ করতে পারবো। তুমি জবাব দাও! পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি তো কেবল একজন মানুষ ও রাছুল মাত্র।
১২. [৩৩: ৫০] হে নবি! নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীগণকে- তোমার মামা-খালার কন্যাগণ, চাচা-ফুফির কন্যাগণ-একমাত্র তোমার জন্য হালাল করেছি। সাধারণ মোসলেমদের জন্য হালাল করিনি-।
১৩. [৬৯: ৪৪-৪৭] সে (নবি) যদি আমার নাম নিয়ে কিছু রচনা করতো, তবে আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, এবং তার জীবন ধমনী কেটে ফেলতাম; অতঃপর তোমাদের কেহই তাকে রক্ষা করতে পারতে না।
এধরণের অসংখ্য আয়াত কোরানের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে। নমাজে সেগুলি আবৃত্তি করার অর্থই বিশ্বের সকল মুসলমানগণ মসজিদে/ঘরে বাইরে আল্লাহর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে রাছুল-নবিকে ও জনসাধারণকে আদেশ উপদেশ দিয়ে নমাজ পড়ে মোসলেম, মোমেন, আলেম, আল্লামা, পীর, কামেল হিসাবে আÍতৃপ্তি লাভ করেন!
যা বলা হবে তা না জেনে, না বুঝে, নামাজে যাওয়া নিষিদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ আশা করি কিছুটা হলেও পরিস্কার।
ছালাত আরবি, নমাজ পার্শী শব্দ, দুটোই আমাদের কাছে বিদেশী ভাষা এবং সমভাবে অজ্ঞাত; এজন্যই এবং স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগে যে, নামাজ কিভাবে পড়বো! কি কি পড়বো, হাত কতখানি উঠাবো, রুকু সেজদা কেমন করে করবো ইত্যাদি। কিন্তু যদি নামাজকে প্রার্থনা বলতে শিখতাম! রুকু-সেজদাকে বিনম্র-বিনীত, ভদ্র-নম্র, নিবেদিত, একনিষ্ঠ বুঝতাম! তবে শব্দটি উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তার বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তু মুহুর্তের মধ্যেই বোধগম্য হতো; প্রার্থনায় কি কি বলা উচিত বা অনুচিত, নড়া-চড়া, উঠা-বসা ইত্যাদি 'প্রার্থনা’ শব্দটিই বুঝিয়ে দিত। রুকু-সেজদা ইত্যাদি গৌণ আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করতে হতো না।
ভিক্ষা কিভাবে করতে হয়! কতটুকু দূরে দাড়াতে হয়! হাত কতখানি বাড়াতে হয়! বসতে হয়, না দাড়াতে হয়! বক্তব্য, সুর-স্বর কেমন হওয়া উচিত! কি বলা উচিত! কি উচিত না! তা ভিক্ষুককে শিখিয়ে দিতে হয় না বরং পেটের চাহিদা অনুযায়ী প্রধানতঃ 'ভিক্ষা’ শব্দটিই তাকে বুঝিয়ে দেয়।
জানা-অজানা সমগ্র সৃষ্টির তুলনায় একটি মানুষ বিন্দাতি বিন্দু বা অণু-পরমাণুরও পরমাণু নয়! এমনকি পৃথিবীটাও মহা বিশ্বের তুলনায় বিন্দাতি বিন্দুও নয়। সে ক্ষেত্রে একটি মানুষ আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে কি! আর বসবেই বা কি! আল্লাহরই বা তাতে কি যায় আসে! তবে সমাজবদ্ধ মানুষের স্বার্থেই একটা নির্দিষ্ট নিয়মকানুন প্রয়োজন বটে! তবে উহার সাথে আল্লাহর খুশী/গোষ্যার সম্পর্ক নেই।
আর একটি বিষয় আলোকপাত করা একান্ত জরুরী মনে করি, আর তা হলো: নমাজে আমরা আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে রুকু-সেজদা, গুণগান ও আবেদন-নিবেদন করে থাকি। অতঃপর ডানে বাঁয়ে ছালাম ফিরিয়ে আল্লাহর দরবার থেকে বিদায় হই; অর্থাত এখন আর নমাজে রত নই, নমাজ শেষ। অতঃপর দুহাত তুলে আপন সন্তান থেকে শুরু করে চৌদ্দ পুরুষ পর্যন্ত দোযখ মাফ তথা বেহেস্তে নেয়ার সুপারিশ শাফায়াতগুলি কোন্ আল্লাহর কাছে করা হয়! আর মহানবি এমন কি অন্যায়, পাপ করেছিলেন (নাউজুবিল্লাহ), যে কারণে অমুকের মত আলেম আর আমার মত জালেম, মোরতাদ, ঘুষখোর, ধর্মব্যবসায়ীদের মহানবির জন্য শান্তি ও বেহেস্ত নছিবের সুপারিশ করতে হয়!
(৪/৫)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



