somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরানের আলোতে প্রার্থনা/নমাজ (পর্ব-৩/৫)

২০ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পূর্বাপর)
নামাজে গুরুতর শেরেকী বক্তব্য পুনঃ লক্ষ্যণীয়ঃ
১. [১০৮: ১-৩] নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কাওছার দান করেছি। অতএব তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নমাজ পড় ও কুরবানী (নাহার=ধংস, নির্মূল) কর।
২. [২: ১১৯] নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্য-সনাতন ধর্ম প্রেরণ করেছি, সু-সংবাদ দাতা ও সতর্ককারী রূপে। জাহান্নামীদের বিষয় তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করবো না।
৩. [২: ১২০] - জ্ঞান প্রাপ্তির পরেও তুমি যদি তাদের খেয়াল খুশীর অনসুরণ করো তবে আল্লাহর বিরুদ্ধে তোমার কোন সাহায্যকারী বা অভিভাবক পাবে না।
৪. [২: ১২২] হে বনি ইস্রাইলগণ! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো! যদ্বারা আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছি এবং বিশ্বে সকলের উপরে তোমাদের শ্রেষ্ঠত্বতা দিয়েছি।
৫. [২: ১৪৫] - তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর তুমি যদি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ কর তবে অবশ্যই তুমি জালিমদের দলভূক্ত হবে।
৬. [৪২: ৭] এভাবেই আমি তোমার প্রতি আরবি ভাষায় কোরান অবতীর্ণ করেছি; যাতে তুমি মক্বা ও তার আশ-পার্শ্বের লোকদের সতর্ক করতে পার।
৭. [৪: ১০৫] নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্য সনাতন কিতাব নাজিল করেছি; যাতে সে অনুসারে তুমি মানুষের মধ্যে বিচার মীমাংসা কর এবং বিশ্বাস ভঙ্গকারীদের সমর্থনে তর্ক করিও না।
৮. [৬: ১০৬, ১০৭] তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে তোমার প্রতি যা অহি হয় তুমি শুধু তারই অনুসরণ কর, তিনি ব্যতীত অন্য কোন আল্লাহ নেই; এবং তুমি মুশরীকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে লও।- এবং তোমাকে তাদের উপরে উকিল নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাদের অভিভাবকও নও।
৯. [১১: ১১২] -সুতরাং তুমি যেভাবে অহি প্রাপ্ত হয়েছো তার উপরেই অটল থাকো এবং তোমার সহিত যারা ঈমান এনেছে তারাও অচল থাকুক। সাবধান! সীমা লঙ্ঘন করিও না। তোমরা যা কর সে তার সম্যক দ্রষ্টা।
১০. [১৬: ১২৩] এখন আমি তোমার প্রতি অহি করলাম তুমি একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর এবং সে মুশরিকদের দলের নহে।
১১. [১৭: ৯০-৯৩ ] এবং উহারা বলে, ‌কখনই আমরা তোমাতে ঈমান আনব না : যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে এক প্রস্রবণ উতসারিত করবে; যতক্ষণ না তোমার জন্য একটি আঙ্গুর বা খেজুরের বাগান দেখতে পাবো, যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় নদী-নালা প্রবাহিত করবে; যতক্ষণ না তুমি আকাশকে খন্ড-বিখন্ড করে আমাদের উপর ফেলবে, এবং যতক্ষণ না তুমি আল্লাহ ও ফিরিস্তাদের আমাদের সম্মুখে হাজির করবে। যতক্ষণ না দেখবো যে তোমার একখানা স্বর্ণ নির্মিত বাড়ি আছে, এবং যতক্ষণ না তুমি আকাশে হঠাত অদৃশ্য হয়ে যেতে পার; কিন্তু আকাশে অদৃশ্য হলেও তোমার উপরে আমরা ঈমান আনবো না, যতক্ষণ না তুমি সেখান থেকে আমাদের জন্য একখানি আসমানী কেতাব বয়ে আনবে, যা আমরা পাঠ করতে পারবো। তুমি জবাব দাও! পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি তো কেবল একজন মানুষ ও রাছুল মাত্র।
১২. [৩৩: ৫০] হে নবি! নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীগণকে- তোমার মামা-খালার কন্যাগণ, চাচা-ফুফির কন্যাগণ-একমাত্র তোমার জন্য হালাল করেছি। সাধারণ মোসলেমদের জন্য হালাল করিনি-।
১৩. [৬৯: ৪৪-৪৭] সে (নবি) যদি আমার নাম নিয়ে কিছু রচনা করতো, তবে আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, এবং তার জীবন ধমনী কেটে ফেলতাম; অতঃপর তোমাদের কেহই তাকে রক্ষা করতে পারতে না।
এধরণের অসংখ্য আয়াত কোরানের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে। নমাজে সেগুলি আবৃত্তি করার অর্থই বিশ্বের সকল মুসলমানগণ মসজিদে/ঘরে বাইরে আল্লাহর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে রাছুল-নবিকে ও জনসাধারণকে আদেশ উপদেশ দিয়ে নমাজ পড়ে মোসলেম, মোমেন, আলেম, আল্লামা, পীর, কামেল হিসাবে আÍতৃপ্তি লাভ করেন!
যা বলা হবে তা না জেনে, না বুঝে, নামাজে যাওয়া নিষিদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ আশা করি কিছুটা হলেও পরিস্কার।
ছালাত আরবি, নমাজ পার্শী শব্দ, দুটোই আমাদের কাছে বিদেশী ভাষা এবং সমভাবে অজ্ঞাত; এজন্যই এবং স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগে যে, নামাজ কিভাবে পড়বো! কি কি পড়বো, হাত কতখানি উঠাবো, রুকু সেজদা কেমন করে করবো ইত্যাদি। কিন্তু যদি নামাজকে প্রার্থনা বলতে শিখতাম! রুকু-সেজদাকে বিনম্র-বিনীত, ভদ্র-নম্র, নিবেদিত, একনিষ্ঠ বুঝতাম! তবে শব্দটি উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই তার বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তু মুহুর্তের মধ্যেই বোধগম্য হতো; প্রার্থনায় কি কি বলা উচিত বা অনুচিত, নড়া-চড়া, উঠা-বসা ইত্যাদি 'প্রার্থনা’ শব্দটিই বুঝিয়ে দিত। রুকু-সেজদা ইত্যাদি গৌণ আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করতে হতো না।
ভিক্ষা কিভাবে করতে হয়! কতটুকু দূরে দাড়াতে হয়! হাত কতখানি বাড়াতে হয়! বসতে হয়, না দাড়াতে হয়! বক্তব্য, সুর-স্বর কেমন হওয়া উচিত! কি বলা উচিত! কি উচিত না! তা ভিক্ষুককে শিখিয়ে দিতে হয় না বরং পেটের চাহিদা অনুযায়ী প্রধানতঃ 'ভিক্ষা’ শব্দটিই তাকে বুঝিয়ে দেয়।
জানা-অজানা সমগ্র সৃষ্টির তুলনায় একটি মানুষ বিন্দাতি বিন্দু বা অণু-পরমাণুরও পরমাণু নয়! এমনকি পৃথিবীটাও মহা বিশ্বের তুলনায় বিন্দাতি বিন্দুও নয়। সে ক্ষেত্রে একটি মানুষ আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে কি! আর বসবেই বা কি! আল্লাহরই বা তাতে কি যায় আসে! তবে সমাজবদ্ধ মানুষের স্বার্থেই একটা নির্দিষ্ট নিয়মকানুন প্রয়োজন বটে! তবে উহার সাথে আল্লাহর খুশী/গোষ্যার সম্পর্ক নেই।
আর একটি বিষয় আলোকপাত করা একান্ত জরুরী মনে করি, আর তা হলো: নমাজে আমরা আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে রুকু-সেজদা, গুণগান ও আবেদন-নিবেদন করে থাকি। অতঃপর ডানে বাঁয়ে ছালাম ফিরিয়ে আল্লাহর দরবার থেকে বিদায় হই; অর্থাত এখন আর নমাজে রত নই, নমাজ শেষ। অতঃপর দুহাত তুলে আপন সন্তান থেকে শুরু করে চৌদ্দ পুরুষ পর্যন্ত দোযখ মাফ তথা বেহেস্তে নেয়ার সুপারিশ শাফায়াতগুলি কোন্ আল্লাহর কাছে করা হয়! আর মহানবি এমন কি অন্যায়, পাপ করেছিলেন (নাউজুবিল্লাহ), যে কারণে অমুকের মত আলেম আর আমার মত জালেম, মোরতাদ, ঘুষখোর, ধর্মব্যবসায়ীদের মহানবির জন্য শান্তি ও বেহেস্ত নছিবের সুপারিশ করতে হয়!
(৪/৫)

১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×