somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামাজ কত ওয়াক্ত?

২৩ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামাজের ওয়াক্তের সংখ্যা নিয়ে দল-উপদলের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে এবং সমূহ পার্থক্যগুলি স্ব স্ব হাদিছের অনুসরণে প্রতিষ্ঠিত।
বাহাইদের মতে (যদিও তারা মুসলিম দাবি করে না) ব্যক্তির অবস্থান ও জ্ঞানের তারতম্য হেতু ১ থেকে ২ ওয়াক্ত; আবার কারো জন্য সর্বোচ্য ৩ ওয়াক্ত বরাদ্ধ আছে। সুন্নীগণ প্রধানতঃ ৫ ওয়াক্ত; অতঃপর বেতেরসহ ৬, তৎপর অতিরিক্ত তাহাজ্জুদসহ ৭ ওয়াক্ত যোগ সুন্নত নামের আরও ৫ ওয়াক্ত মোট ১০/১২ ওয়াক্ত। ইহা ছাড়াও তারাবী, কসুফ, খসুফ, চাসত্, আশুরা, জায়নামাজ, জানাজা ও শোকরীয়া ইত্যাদি মিলে অগুন্তি নামাজ ও ওয়াক্ত আছে। এখানে বলা ভাল যে, হুযুরদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে বলে ৬ষ্ঠ ওয়াক্ত ‘বেতের’ এশার সঙ্গে যুক্ত করেছেন; অনুরূপ হাস্যকরভাবে শিয়াদের একটি উপদল স্বীকৃত ৫ ওয়াক্তের নামাজ ৩ ওয়াক্তে সারে। প্রকাশ থাকে যে, নামাজের সময় সংখ্যা পার্থক্য ছাড়া শিয়া-সুন্নী-কাদিয়ানীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতায় কম-বেশি পার্থক্য থাকলেও তা গুরুতর নয়; তবে পার্থক্য-পার্থক্যই।
প্রধানতঃ কোরানে ৫/৭/১২ বা অগুণতি ওয়াক্তের তেমন কোন প্রমান নেই। নিম্ন বর্ণিত আয়াতগুলির মতে:
১. (১৭: ৭৮, ৭৯) ফজর ও মাগরিব ২ ওয়াক্ত + অতিরক্তি ১ তাহাজ্জুদ= মোট ৩ ওয়াক্ত। কিন্তু অতিরিক্ত নির্দেশটা একমাত্র রাছুলের জন্যই বলে মনে হয়; তবে যারা রাছুলের মতই প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় (চিন্তার বিষয়) তারও ইচ্ছা করলে অনুসরণ করতে পারে।
২. (১১: ১১৪) ফজর ও মাগরিব ২ ওয়াক্ত।
পক্ষান্তরে শরিয়ত বলে: দিনের প্রথম প্রান্তভাগে ফজরের ছালাত, দ্বিতীয় প্রান্তভাগে জুহর ও আছরের ছালাত এবং রাতের প্রথমাংশে মাগরিব ও ইশার ছালাত। মোট এই পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরজ- (সুত্র: ১১: ১১৪ নং আয়াতের ফুটনোট নং-১০৮- ইবনে কাছীর; ই. ফা।) হতাসার বিষয় যে, উল্লিখিত ব্যক্তি ও দলিয় তফছির/ফতোয়ার সঙ্গে আলোচ্য আয়াতের কোনই সম্পর্ক নেই; জুহর, আছর বা ইশা আরবি শব্দত্রয়ও সেখানে নেই; আর অন্যত্র থাকলেও উহাদে অর্থ প্রচলিত শরিয়তের দর্শন সমর্থন করে না।
৩. (২০: ১৩০) ফজর ও মাগরিব ২ ওয়াক্ত।
এখানেও শরিয়ত বলে: সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজর, সূর্যাস্তের পূর্বে আছর রাত্রিকালে মাগরিব ও ইশা এবং দিনের প্রান্তে অর্থাৎ সূর্য পশ্চিমে হেলিয়া যাওয়ার পরে জুহর এই পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের বিবরণ এখানে দেওয়া হইয়াছে। (সুত্র: ২০: ১৩০ আয়াতের ফুটনোট নং- ৪৮৯; ই. ফা)
উদ্বেগের বিষয় যে, পূর্ববৎ ফতোয়াটির সঙ্গে আয়াতের কোনই মিল-মহব্বত নেই! আল্লাহর কোরানের পাতায় হেন দলীয় ফতোয়া লেখা দূঃসাহসিক বলেই মনে হয়।
৪. (৩০: ১৮) দিনের শেষ প্রান্ত (আশিয়ান/ইশা) ও প্রভাত (তুযহার)।
লক্ষনীয় যে, ব্রাকেটে আসিয়ান অর্থ: সন্ধ্যা বা দিনের শেষ প্রান্ত অর্থাৎ মাগরিব (দ্র: আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান, মদিনা পাব্লিকেশান্স ) এবং তুজহেরুন বা জাহের, জাহির, এজহার এর অসংখ্য অর্থের মধ্যে প্রধান অর্থ: প্রকাশ, স্পষ্ট, পরিস্কার, বাহির, আবির্ভাব; জাহিরা/জাহিরাতুন= মধ্যদিন (যা আয়াতে নেই) (দ্র: আরবি-ইংরাজি অভিধান, জে এম কাউয়ান; দ্বিপ্রহর, পরবর্তি সময় (দ্র: আরবি-বাংলা অভিধান, মদিনা পাব্লিকেশান্স)।
বর্ণিত অন্যান্য আয়াতের আলোকে সূর্যের প্রকাশ বা ভোরকেই বুঝা অধিক সঙ্গত; অতিরক্তি সাক্ষি যেমন প্রচলিত মিলাদে: ‘এজহার ইয়া রাছুলাল্লাহ’ অর্থাৎ প্রসুতী মা আমিনার গর্ভ থেকে মুহাম্মদকে প্রকাশ/বের হয়ে আসার জন্য শ্লোগান দেয়া হয় ! সুতরাং এখানেও পাওয়া যায়: ফজর ও মাগরিব। তাই যোহর বলতে ভিন্ন একটি ওয়াক্ত তৈরী সঙ্গত নয়।
৫. ইহা ব্যতীত ৩০: ১৭; ৩৩: ৪২; ২৪: ৫৮; ৫০: ৩৯, ৪০ প্রভৃতি আয়াতগুলিতে ফজর ও মাগরিব ও ৭৬: ২৫, ২৬ এ ফজর, মাগরিব ও তাহাজ্জুদ (শব্দটি লেখা নেই), একুনে সর্বমোট ২+ ১=৩ ওয়াক্ত নামাজ পাওয়া যায়।
৬. (২: ২৩৮)। -বিশেষত মধ্যবর্তী ছালাত-।
অতীব লক্ষনীয় যে, আয়াতটিতে মধ্যবর্তী ওয়াক্তের কথা বলা হয়নি! বলা হয়েছে মধ্যবর্তী ছালাতের কথা! এবং তা সকল অনুবাদেই বিদ্বমান। আর গুরুত্বপুর্ণ ‘বিশেষতঃ বা স্পেসাল’ শব্দটি মূল আয়াতে নেই। তবুও সকল অনুবাদকগণ ঐ গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি কোন্ যুক্তিতে যুক্ত করেছেন তা বোধগম্য নয়।
‘মধ্যবর্তী ছালাত’ বলতে: ছালাতের মধ্যে যা বলা হয় তা রক্ষা করতে বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে দল-উপদলীয় মুসলমানগণ কেহ কেহ ৩/৫/৭ ইত্যাদি বেজোড় ওয়াক্ত নির্ধারণ করে বিশেষ ছোয়াবের আশায় মাঝের ওয়াক্ত রক্ষার উপর বিশেষ জোর দেয়। সুতরাং আয়াতটি মূলার্থ সম্বন্ধে নিশ্চিৎ হওয়া দরকার। কারণ এক বা একাধিক নামাজের মধ্যের বিষয়বস্তু বা বক্তব্য রক্ষা না করে মাত্র মধ্যের বা আগে/পিছের হাজার ওয়াক্ত রক্ষায় কোনই অর্থ বহন করে না, বরং কৌতুককর।
অতএব মধ্যবর্তী নামাজ সংরক্ষণের সহজ, সরল অর্থ পাঠক এবারে নিজেই বের করতে পারেন!
অথবা দেখুন:
ক. নামাজের বক্তব্য হৃদয়ের (মধ্যে) কেন্দ্রের কেন্দ্রস্থলে নিবেদন বা উপস্থিত করা।
খ. নামাজের মধ্যের বক্তব্য/ওয়াদাগুলি এক নামাজ থেকে আর এক নামাজের মধ্যবর্তী কর্মময় জীবণে সংরক্ষণ, অনুসরণ বা সমুন্নত রাখা।
যে কোন এক ওয়াক্ত নামাজের মধ্যের আবেদন, নিবেদন রক্ষণ (হাফেজ) করলে নামাজ কাজা হওয়ার ভয়-ডর বা সুযোগই থাকে না! বাকি-বক্বাও পড়ে না।
উল্লিখিত আয়াতগুলির বিশদ আলোচনার আলোকে মূলতঃ সূর্য উঠার এবং ডুবার খানিক আগে-পিছে সময়কালকেই বার বার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে,ইনিয়ে-বিনিয়ে বলা হয়েছে; যার সাধারণ ওয়াক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় সকাল-সন্ধ্যা ২ + অতিরিক্ত রাতে ১= মোট ৩ ওয়াক্ত; এবং কর্মবহুল জীবনে ইহাই লৌকিক ও প্রাকৃতিক। [/su
* মৌখিক এক নামাজ থেকে অন্য নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে প্রাক্টিক্যাল বা মৌলিক ছালাতই সর্বশ্রেষ্ঠ ছালাত: হালাল উপার্জনে হালাল রক্ত ধারণ। হালাল/পবিত্র বীর্যে বংশ বিস্তার করণ।
* অন্যথায় মধ্যবর্তী বা আশ-পাশের লক্ষ ওয়াক্ত/ছালাত রক্ষায় দোযখ থেকে মুক্তির আশা নেই!
* বিশ্বের শতভাগ মানুষ মুসলমান হলে, ৯৯ ভাগ ডক্টরেট হলেও শান্তির (ইসলামের) তিল পরিমাণ ভরসা নেই।

প্রচলিত ৫/১০ ওয়াক্ত নামাজ সরাসরি কেরান দিয়ে প্রমান করা সম্ভব নয় বিধায় কূট-কৌশলে কাল্পনিক মে’রাজের আরব্য উপন্যাস রচনা করেছেন! ৫০ খেকে ৫ ওয়াক্তে স্থীর করেছে যাতে ভবিষ্যতে এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ না পায়; আর সঙ্গে আরো ৫ ওয়াক্ত সুন্নত যুক্ত করে সাধারণ মানুষের মৌলিক ধর্ম-কর্ম বিমূখ করেছে; ফলে অভাব-অভিযোগ, অনিয়ম, উশৃংখ্যল, ভিক্ষা, ধর্মব্যবসা ও পরনির্ভরশীর করতঃ মুসলিম জাতির নৈতিক চরিত্র, মনোবল-মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। তাই এ জাতি জ্ঞানে, মানে ধনে সকল জাতির তুলনায় নিকৃষ্ঠ, যার অপর নাম অভিশপ্ত।
বিনীত।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:৪৫
২৬টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×