[কোরানের আলোকে তীব্র প্রতিবাদ/সমালোচনা চাই! তবে প্রসংগহীন, যুক্তিপ্রমানহীন, আপত্তিকর, অশ্লীল ভাষা/ব্যবহার গ্রহনযোগ্য নয়]
১. আবুযর (রা) থেকে বর্ণিত: রাছুল বলেছেন, “একদা আমার নিকট আল্লাহর তরফ থেকে এক বিশেষ দূত এসে এই সুসংবাদ ঘোষণা দিলেন যে, যে ব্যক্তি মৃত্যু পর্যন্ত শেরেকী গুনাহ থেকে পাক পবিত্র থাকবে সে ব্যক্তি বেহেস্তে যাবে।” [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল. হক, পৃ: ৩১৭]
নামাজ, রোযা, হজ্জ ও জাকাত ইত্যাদি যাবতিয় ধর্ম-কর্মের আর কি প্রয়োজন আছে!! শেরেকী ছাড়া দুনিয়ার যাবতিয় অন্যায়-অনাচার-অপরাধ, অশ্লীল-জেনা-যৌন ভোগ করার অধিকার পেল মোসলেম জাতি! আর এর দায়-দায়িত্ব আল্লাহর নবির ঘাড়েই চাপিয়েছে ! অতএব এ জাতি অধঃপতনে যাবে না তো যাবে কোন্ জাতি!
২. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত: রাছুল (সা) বলেছেন, কোন মোসলমানের ৩টি শিশু সন্তান মারা গেলে ঐ শিশুদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে (শিশুর পিতামাতা) বেহেন্ত দান করবেন। একজন স্ত্রীলোক জিজ্ঞাসা করলো, দু’টি সন্তান মরলে? রাছুল উত্তর দিলেন, দু’টি সন্তান মরলেও বেহেস্তে যাবে। বিবি আয়শা প্রশ্ন করলেন, একটি সন্তান মরলে? রাছুল উত্তর করলেন, একটি সন্তান মরলেও বেহেস্ত নছিব হবে:। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল. হক; পৃ: ৩৫৩]
৩. আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত: রাছুল বলেছেন, স্বামী যদি স্বীয় স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে এবং স্ত্রী যদি তাতে অসম্মতি প্রকাশ করে, যদ্দরুন স্বামী অসন্তুষ্টির সহিত রাত্রি যাপন করে, তবে সেই স্ত্রীর রাত্রি এমন অবস্থায় অতিবাহিত হয় যে, ফেরেস্তাগণ ভোর পর্যন্ত সারারাত তাহার প্রতি লা’নত ও অভিশাপ বর্ষণ করেন। [দ্র: বোখারী, ৩য় খ. ৮ম সংস্করণ, শায়খ আজিুজু হক; পৃ: ২৮৪]
৪. সাহল ইবনে সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত: নবি (সা) বলেছেন, আমার উম্মত থেকে ৭০ হাজার মতান্তরে ৭০ লক্ষ (অনুমান বটে!) লোকের একটি দল বেহেস্তে যাবে যারা একত্রে বেহেস্তের দরজা অতিক্রম করবে। তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল থাকবে। [দ্র: বোখারী, ৩য় খ. ৮ম প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ২৮৬]
৫. উম্মুল আলা (রা) বলেন, তখন আমি মৃত ওসমান ইবনে মজউন (রা) এর প্রতি লক্ষ করে বললাম, হে আবু ছায়েব! আমি আপনার জন্যে সাক্ষি দিচ্ছি এবং শপথ করে বলছি আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত এবং বেহেস্তবাসী করেছেন। (ইল্লীন ছিজ্জিনের হাদিছগুলি তাদের জানা ছিল না?) এতদশ্রবণে নবি আমাকে বললেন, ‘তুমি কিভাবে নিশ্চিতরূপে জানলে যে, সে বেহেস্তবাসী?’ আমি আরজ করলাম, আপনার জন্য আমার মাতা-পিতা উৎসর্গ, ইয়া রাছুলাল্লাহ! এ ব্যক্তি বেহেস্তি না হয়ে আর কে বেহেস্তবাসী হবে! তদুত্তরে রাছুল (সা) বললেন, ‘নিশ্চিতরূপে সঠিক অবগতি এই ব্যক্তিরই লাভ হয়েছে। এবং আমিও আশাকরি, সে খুব ভালো পেয়েছে।’ অতঃপর হযরত (সা) শপথ করে বললেন ‘আমি আল্লাহর রাছুল, তথাপি আমি বলতে পারি না যে, আমার প্রতি আল্লাহ কিরূপ ব্যবহার করবেন।’ [বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ৩১৮]
৬. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত: একদা সাহাবীগণ একটি জানাজার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তারা মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করলেন। নবি (সা) বললেন, নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। অতঃপর অন্য আর একটি জানাজার নিকট দিয়ে চলার সময় ছাহাবীগণ মৃত ব্যক্তির নিন্দা করলেন। এবারও নবি (সা) বললেন, নির্ধারিত হয়ে গেছে। অতঃপর ওমর জিজ্ঞাসা করলেন, কি নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে? নবি (সা) বললেন, প্রথম মৃতের প্রতি তোমরা প্রশংসা করেছো, সে অনুযায়ী তার জন্য বেহেস্ত নির্ধারিত হয়েছে। দ্বিতীয় মৃতকে তোমরা খারাপ বলেছো। সে অনুযায়ী তার দোজখ নির্ধারিত হয়েছে। কোন মোসলেম মৃত ব্যক্তির পক্ষে চারজন লোক তার সৎ বা বদ সাক্ষি দান করবে, আল্লাহ তাকে ঠিক সে অনুযায়ী বেহেস্ত বা দোযখ দান করবেন। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, যদি ৩ জন সাক্ষি হয়? নবি (সা) বললেন, তবুও। যদি ২ জন সাক্ষি হয়?--তবুও। অতঃপর আমরা ১ জন সাক্ষির বিষয় জিজ্ঞাসা করি নি। [দ্র: বোখারী,১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ৩৪৩]
৭. আমর ইবনে মাইমুন (রা) বলেন, নুবুয়াতের পূর্বে একটা বানর ব্যাভিচার করায় অনেক বানর সেখানে সমবেত হয়ে তাকে রজম (ব্যাভিচারীকে পাথর মারা) করলো। আমিও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে রজম করলাম। [ দ্র: বোখারী, মোস্তফা চরিত, আঁকরাম খাঁ, মৌজু হাদিছ অধ্যায়]
৮. রাছুলাল্লাহ বলেছেন, বেগুণ সর্বরোগের মহৌষধ। [দ্র: ঐ]
৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত: রাছুল (সা) বলেছেন, যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয় এবং শব বাহকগণ দাফন কার্য সমাপ্ত করে তার নিকট থেকে ফেরার পথে রওয়ানা হয় মাত্র। এমনকি তখনও তার এতটুকু সন্নিকটে যে, সেখান থেকে তার পাদুকার শব্দ কর্ণগোচর হয়; এমতাবস্থায় মৃত ব্যক্তির নিকট দুই জন ফেরেস্তা এসে লাশকে উঠিয়ে বসান এবং প্রশ্ন করেন: ক. তোমার আল্লাহ কে? খ. কাহার বন্দেগী করেছো? গ. তোমার ধর্ম কি? ঘ. তুমি মোহাম্মদের (সা) প্রতি বিশ্বাস এনেছিলে? তুমি কিভাবে জানতে যে, সে মোহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাছুল? [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ৩৪৮]
১০. আবু আইয়ুব (রা) বর্ণনা করেন, একদা নবি (সা) বিকাল বেলা ভ্রমণে বের হলেন। পথিমধ্যে এক প্রকার শব্দ শুনে বললেন, এক ইহুদিকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে (ইহা উহারই শব্দ)। [ দ্র: বোখারী, ১ম খন্ড, ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ৩৫২]
১১. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত: একদা নবি (সা) একটি বাগানের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তথায় তিনি দু’টি কবরের মধ্য থেকে কবরবাসীদের বিকট চীৎকার শব্দ শুনতে পেলেন। তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। তিনি বললেন, ‘এ কবরবাসীদের আজাব দেয়া হচ্ছে; তা যদিও কোন কঠিন কাজের জন্য নহে, তবে গোনাহ অতি বড় ছিল। এক ব্যক্তি প্রস্রাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতো না। দ্বিতীয় ব্যক্তি চোগলখুরী করতো।’ এই বলে তিনি একটি খেজুরের ডালা দুই খন্ড করে দুই কবরে গেড়ে দিলেন। এক ব্যক্তি আরজ করলো, এরূপ কেন করলেন? হযরত (সা) উত্তর দিলেন,‘ আমি আশা করি ডালা দু’টি শুক্না না হওয়া পর্যন্ত তাদের আজাব আল্লাহর তরফ থেকে লাঘব করা হবে।’ [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল. হক; পৃ: ১৩৭]
(চলবে-২)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



