১. কোরান ও হাদিছের পার্থক্য একটি অপরটির বিপরীত; একটি স্রষ্টার অন্যটি সৃষ্টির।
২. নবির সাথে বোখারীদের যেমন পার্থক্য, তার চেয়েও বেশি পার্থক্য নবির কেতাব কোরানের সাথে বোখারীদের কেতাব হাদিছের ।
৩. কোরানের একটি বাণীর সত্যাসত্যের সাক্ষি ও প্রমাণ সে বাণীটি নিজেই এবং উহাই যথেষ্ট ও যথাসর্বŸস্ব। পক্ষান্তরে, হাদিছের একটি বাণীর সত্যাসত্যের প্রমাণের জন্য শত শত বাণী এমনকি অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে; আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত এ সংকলন চলছেই এবং এর বিতর্ক অনাদিকাল যাবত চলতেই থাকবে। অর্থাত ১টি মিথ্যাকে ঢাকতে শত সহস্র মিথ্যার আশ্রয় নিয়েয়ো তা ঢাকা সম্ভব নয়।
৪. কোরান অহি আসার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ং মহানবি নিজেই লিখেন/ লিখান। কথিত হাদিছ মহানবির নামের দোহাই দিয়ে তার ওফাতের প্রায় ৩০০ বৎসর পরে স্বঘোষিত রাছুলের সেক্রেটারী (নায়েবে রাছুল) সা¯প্রদায়িক নেতা উপ-নেতাগণ সাধারণের কাছ থেকে শুনে অথবা কল্পনা করে রচনা করেন।
৫. কোরানের উপর সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দল-উপদলগুলির প্রধানতঃ কোন সন্দেহ নেই; পক্ষান্তরে দলিয় হাদিছের উপর পরস্পর দল-উপদলের, একে অন্যের কোনই বিশ্বাস নেই, স্বীকারও করে না।
৬. কোরান মহানবির সরাসরি মুখ নিঃসৃত বাণী; হাদিছ দলিয় ইমামদের বিক্ষিপ্ত শ্রুত এবং স্ব-হস্ত লিখিত বাণী।
৭. আল্লাহ-রাছুলের হাদিছ মানেই কোরান; বোখারীদের হাদিছ মানেই ছেহাছেত্তা ইত্যাদি।
৮. কোরান বিশ্বাস করা মানেই রাছুলের উপর ঈমান আনা; হাদিছ বিশ্বাস করা মানেই বোখারীদের উপর ঈমান আনা।
৯. প্রচলিত নামাজে কোরানের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়; পক্ষান্তরে হাদিছের আয়াত তেলাওয়াত করা হারাম (নিষিদ্ধ)। অর্থাত ক্ষেত্র বিশেষে নিজেরাই হাদিছকে হারাম (নিষিদ্ধ) করে রেখেছে। অথচ তারা ‘হাদিছও এক প্রকার অহি (অহি গায়রে মতলু)' অর্থাৎ অপঠিতব্য বা পড়ার অযোগ্য অহি কিন্তু তা আল্লাহ হতেই প্রেরিত বলে স্বীকার করে!!
নবির ওফাতের প্রায় ৩শ’ বছর পরে দল-উপদলীয় মানুষের রচিত কেতাবকে আল্লাহ প্রেরীত অহি হিসাবে বিশ্বাস করার অর্থই প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে বোখারীদেরকে নবি/রাছুল হিসাবে স্বীকার করা। এবং ইহাকে কোরানের সমতুল্য মনে করার অর্থই আল্লাহর সাথে শরীক করা; যা কুফুরী হেতু ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ (৩: ৭৮)।
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


