ক. তাছাড়া (৩৩: ৪০)—-আল্লাহর রাছুল ও শেষ নবি--। রাশাদ খলিফা বলছেন নবি শেষ হলেও রাছুল শেষ নয় এবং তিনিই রাছুল।
বনাম
খ. নবি/রাছুল চিরকাল আসতেই থাকবে (দ্র: পূর্ব এবং পরে বর্ণিত অসংখ্য আয়াতে স্পষ্ট ইংগিত):
[উপরে বর্ণিত ২ পক্ষের আয়াতের অনুবাদ/ভাবার্থের কোন্টি ভুল/বিভ্রান্তকর! কোন্টি নির্ভূল/অভ্রান্তকর! বা কোন্টি গ্রহণযোগ্য বা পরস্পর সাংঘর্ষিক কিনা! তা সমগ্র কোরানিক দর্শন মাথায় রেখে নিশ্চিত সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছা যায়; এবং ইহাই সহজ, সরল, সর্বোতকৃষ্ঠ পথ! এজন্য তৃতীয় ব্যক্তির লেখা হাদিছ/ফতোয়া শুধু নিষ্প্রয়োজনই নয় বরং অবৈধ।]
(পূর্বাপর)
১১. (৪০: ৩৪) পূর্বেও তোমাদের নিকট ইউসুফ এসেছিলেন স্পষ্ট বাণীসহ। কিন্তু তিনি যা নিয়ে এসেছিলেন তাতেও তোমরা সন্দেহ পোষণ করেছ। অবশেষে তিনি যখন মারা গেলেন, তখন(ও) তোমরা বলেছিলে, তারপরে আল্লাহ আর কাকেও রাছুল করে পাঠাবেন না। সীমা লঙ্ঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারীদের আল্লাহ এভাবেই বিভ্রান্ত করে থাকেন।
[‘শেষ নবি, নবি আর আসবেন না’ এই পুনরাবৃত্তিশীল ভ্রান্ত মতবাদটি নবি ইউসুফের পূর্ব থেকেই যে চলে আসছে, আয়াটিই তার জ্বলন্ত সাক্ষি; মোহাম্মদের পরেও ঐ বিশ্বাস অপরিবর্তনীয় রয়েছে।]
এহেন সন্দেহ পোষণকারীদের ‘সীমা লঙ্ঘনকারী ও বিভ্রান্ত’ বলে আয়াতটিতেই ঘোষণা করেছে। সুতরাং উপরোল্লিখিত সাক্ষি-প্রমানে প্রচলিত ৩৩: ৪০ এর অনুবাদ/উহার তফছির ব্যাখ্যা চুড়ান্ত ভুল প্রমান করে। অতএব আমাদের অবস্থান কোথায় তা দিনের মতই স্পষ্ট।
নবি/রাছুল আগমনের কথা শুনলেই মৌলবাদীদের গাঁয়ে যেন আগুন ধরে যায়। পক্ষান্তরে বিশ্ব ইমাম, ইমামে আজম, গাউছুল আজম, জামানার মোজাদ্দেদ! সংস্কারক! মাওলানা (আমরা/আমাদের আল্লাহ), ছাইদী (প্রভু) ইত্যাদি নবি-রাছুলদেরও উর্দ্ধের দাবিদার পথে-ঘাটে দেখা মিলে!
মূলতঃ এদেরই অণু পরমাণুতে যে ইবলিস ভর্ করে থাকে, তা অতীতের সকল নবি/রাছুলদের আমলেই প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে। স্বাধীন হয়েই প্রমাণ হয়েছে যে, ইহাই আল্লাহর অভিপ্রায় ছিল। কিন্তু এখনও তারা আল্লাহর ইচ্ছাকে মেনে নিতে পারছেন না! দেশের প্রায় শতভাগ আলেম, আল্লামাগণ আল্লাহর এই সত্যকে মিথ্যা ভেবে সত্যের বিরুদ্ধে চরম বিরোধিতা করে সরাসরি আল্লাহরই বিরোধিতা করত: অগনিত আপন জ্ঞাতি-গোষ্ঠিকে বে-ইজ্জতি করেছে, হত্যা করেছে।
পূর্বেই আল্লাহর সঙ্গে ইব্রাহিমের চুক্তি উল্লিখিত হয়েছে যে, ধরায় পুনঃ পুনঃ নবি-রাছুল আগমনের চির সুত্রিতার চুক্তি।
উহা অতীতের কোন ঐশী গ্রন্থে বা কোরানে বাতিল করেনি! কিম্বা মহানবির ওফাতের প্রায় ৩ শত বছর পরে বোখারীগণ রাছুলের নামে কোরান বিরুদ্ধ হাদিছ অহি প্রাপ্তও হননি! এবং স্বয়ং রাছুলও কোরান বিরুদ্ধ/স্ব-বিরোধী কথা বল্তেই পারেন্না!
১২. (৩: ৮১-৮২) আয়াতদ্বয়ে শরিয়তের বিশ্বাস যে:
ক. লাওহে মাহফুজে/অজানা আসমানের মাঠে আল্লাহর সভাপতিত্বে জীবীত-মৃত সকল নবিগণকে ডেকে (শেষ নবি) মুহাম্মদের উপর ঈমান আনা ও তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করার অঙ্গিকার নেয়া হয়। অতঃপর উক্ত নবিকে মরা নবিগণসহ যারা অস্বীকার করবে তারাই সত্য ত্যাগী ও পথভ্রষ্ট বলে গণ্য হবে।
খ. কাদিয়ানীদের ব্যাখ্যায় বলা হয় যে, নবিদের মাধ্যমে নবিদের নয় বরং জনসাধারণের অঙ্গিকার নেয়া হয়েছে এবং ‘নবিদের’ বলতে ঐ সভায় স্বয়ং নবি মোহাম্মদও উপস্থিত ছিলেন, এবং পরবর্তি নবির উপর ঈমান আনার শপথ করানো হয় এবং ‘মির্জা গোলাম আহ্মদই সেই পরবর্তি নবি!
গ. ডঃ রাশাদ খলিফার দর্শন যে, ‘নবিত্ব শেষ কিন্তু রাছুলত্ব শেষ নয়’ এবং তিনি নিজকেই রাছুল।
সমালোচনা:
৩: ৮১ নং এ জনসাধারণের কোনই সম্পর্ক নেই বরং সরাসরি আল্লাহ ও সকল নবিদের অঙ্গিকার নামা মাত্র। আল্লাহ-নবির ঐ কাল্পনিক শপথ অনুষ্ঠান সমাপ্তির পরেই ৩: ৮২ নং আয়াতে পরবর্তি জনসাধারণের কথা স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে (শপথ নয়) যে, পরবর্তি রাছুলকে যারা অস্বীকার করবে তারাই পথভ্রষ্ট বলে গণ্য হবে; (জনসাধারণের কাছ থেকে আল্লাহ/নবিগণ অংগিকার নিতে পারে না! কারণ তাদের উপর ভরসা করার কোন যুক্তি/হেতু নেই!) সুতরাং কাদিয়ানীদের ধারণা ভ্রান্ত।
মুলতঃ আয়াতটিতে ‘সকল নবিদের’ বলতে ‘নবিদের সমাবেশ বুঝানো হয়নি!’ বরং প্রত্যেক নবির কাছ থেকে অর্থাত নবি মাত্রই (সকল নবি)এই অঙ্গিকার নেয়া হয়েছে যে, তাঁকে যে সমস্ত সুত্র-বাণী, জ্ঞান, গুণ ও ক্ষমতা দেয়া হয়, পরবর্তিতে উহারই সমর্থক অর্থাত অনুরূপ গুণ সম্পন্ন কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ প্রেরণাপ্রাপ্ত হলে (রাছুল হলে বা আসলে) তাকে যেন অবশ্যই স্বীকার করে নেয়া হয় এবং প্রচার প্রতিষ্ঠায় সাহায্য সহযোগিতা করা হয়। জীবিত/মৃত সকল নবিদের সম্মীলিত সেমিনার/সমাবেশ হয়নি; ‘জামাত’ শব্দটিও সেখানে নেই; আল্লাহ ব্যক্তি নন! ভোটাভুটি বা পলিটিক্স করেন্না!
এই গুরত্বপূর্ণ আয়াতটির ভাবার্থ হলো: প্রত্যেক নবি মৃত্যুর আগে স্ব জ্ঞানে উত্তরাধিকার নিয়োগ করবে; যাতে পক্ষপাতিত্ব, সংশয়, সন্দেহ বা দলাদলির সুযোগ নিয়ে সমাজ পথভ্রষ্ঠ না হয়। ‘তোমাদের প্রদত্ত কেতাব, হেকমত বা জ্ঞান-বিজ্ঞান, কলা কৌশলের বিষয় ‘শপথ কর!’ অর্থাত তোমাকে যা দেয়া হয়েছে ঠিক অবিকল সত্য স্বত্ত্ব তোমার মনোনিত/উপযুক্ত পরবর্তি আর একজনকে দিয়ে আসবে যেন তিল পরিমাণও কৃপণতা বা গোপন করা না হয়; ইহাই নবি-রাছুলদের উপর সর্বপ্রধান শর্ত/দায়িত্ব! এই অঙ্গিকার রক্ষার্থে রাছুলকে সাবধান করে বলা হয়:
(চলবে-৪/৫)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১১ সকাল ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


