প্রসংগ: ইসলামে বহু বিবাহ নিয়ে জামিলুল বাসারের বিভ্রান্তিকর ফতোয়ার বিষয়ে কিছু কথা। সুত্র: জিয়া ১৩০৭ তাং ২৪/০৫/১১ প্রযত্নে: সদালাপ।
মজবাসার এক সংগে একাধিক বিবি হারাম!। যারা ফতোয়ার সংজ্ঞা নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্যে এইটা হলো ফতোয়ার একটা উদাহরন। এখানে মজবাসার কোরানে সুষ্পষ্ঠ ভাবে একাধিক স্ত্রী রাখা হারাম বলা না হলেও উনি সাধ্যমত জ্ঞানের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করে তা “হারাম” বলে মত দিয়েছেন। (জিয়া ১৩০৭)
ছালাম মি: জিয়া ১৩০৭
আপনার মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞ। তবে পুনরায় সদালাপের কোন মন্তব্যে এরূপ সমাদর করা সম্ভব হবে না। কারণ সদালাপ ম জ বাসারের কাছে মাকরুহ হয়ে গেছে; পারতপক্ষে ভ্রমন করাই হয় না।
আরবি ‘হারাম’ শব্দটির প্রধান অর্থ সীমাবদ্ধ, সংরক্ষিত (বিশেষ=স্পেসাল), অবৈধ, হায়েজ, পোষ্য, বঞ্চনা, নৈরাস্য; উহার বহু বচনে এহরাম (দ্র: আরবি-বাংলা অভিধান; মা. মুহিউদ্দীন)। নিশিদ্ধ নয়।
সুতরাং শরিয়তের বেদাতী পরিভাষার দোহাই দেয়া প্রচলিত ‘হারাম’ শব্দের ব্যবহার কোরান ও অভিধানের স্পষ্ঠ আলোকে সংগত নয় বরং অবৈধ।
প্রমান:
ক. কোরানে উল্লিখিত মসজিদুল হারাম বল্তে কাবাঘর নিষিদ্ধ, অবৈধ, অপবিত্র বা না যায়েজ নয়। উপরন্তু নিশিদ্ধ, নাপক বা মদ, শুকরের মত হারাম ঈমান করলে বরং তাকেই অমুসলিম বা বে-ঈমান ঘোষনা করা হয়।
খ. এহরাম ‘হারাম’এর বহুবচন; অথচ বিভ্রান্ত শরিয়ত পরিভাষার দোহাই দিয়ে হজ্জে যোগদানের প্রাক্বালে হিন্দুদের ধুতি পরিধানকে এহরাম বলে চালিয়ে দিয়েছে।
ফতোয়া:
আরবি ‘ফতোয়া’ অর্থ আইন আর ‘মুফতি’ অর্থ আইনজ্ঞ/উকিল। ইসলামী উকিলগণ কোরানিক আইনে অভিজ্ঞ/পরিপক্ব থাকতেই হবে এবং সেই আইনের আলোকে/সমর্থনেই জীবন/মরণের যাবতিয় বিচার নিষ্পত্তি করতে বাধ্য। অন্যথায় কাফির, ফাছিক, জালিম বলে সাব্যস্ত হয় (দ্র:৫: ৪৪-৪৯)। পক্ষান্তরে প্রচলিত মুফতিদের কোরান সম্বন্ধে ৫/১০% শতাংশও জ্ঞান থাকে না এবং শরিয়ত তা প্রয়োজনো মনে করে না। কারণ কোরানের বিপরীতে ব্যক্তি/স্ব স্ব দলের রচিত বেদাতী, খাম-খেয়ালী ফতোয়ার (আইন) বই মুখস্ত করেই তারা মুফতি হন! প্রধানত কোরানের ধারই ধারে না। কারণ ফতোয়ার বিষয়বস্তু হলো:
কোরানে যা নেই তা হাদিছে; হাদিছে যা নেই তা ফেকহায়; ইহাতে যা নেই তা ইজমায়; উহাতে যা নেই তা কিয়াসে এবং তাতে যা নেই তা ফতোয়ায়। অর্থাত কি না কোরানসহ কোথাও যা নেই! তা আছে হাটে বাজারে, রাস্তাঘাটে ধর্ম বেচা জাহান্নামী (২: ১৭৪) ইমাম, মূফতি মৌলবীদের মুখে। অর্থাত মনুষ্য রচিত ৫ খানি শরিয়তী কিতাবে মূলত; কোরান/কিতবাকে গিলেই ফেলেছে।
আল্লাহ বলে কোরান/কিতাব পূর্ণভাবেই পরিপূর্ণ; শুষ্ক বা পচা শস্য কণা এমনকি মশা-মাছির উপমা দিতেও কুন্ঠাবোধ করেন্নি (দ্র: ১৮: ১, ৫৪; ৬: ৩৮, ৫৯, ১২৬; ১০: ৬১; ১৭: ৪১, ৮৯; ২৭: ৭৪, ৭৪; ১৬: ৮৯) এত এত আয়াতের বিপরীতে তারা চ্যালেঞ্জ করে বলে কোরানে ৫ ভাগের ১ ভাগো নেই! সংক্ষিপ্ত! অস্পষ্ট! অসম্পূর্ণ! এতবড় ধৃষ্ঠতা/অধর্ম দেড় বিলিয়ণ শিয়া/ছুন্নী/কাদিয়ানীরাই করে থাকে।
আর ঐ সকল দলীয় রচিত কিতাবাদীর পক্ষে সাক্ষ্য দাড় করিয়েছে মৃত রাছুলকে।
আজ রাছুল যদি বেচে থাকতেন তবে অবশ্যই ইহাদেরকে হত্যার নির্দেশ দিতেন কি না?????
শরিয়তের বালসুলভ প্রশ্ন:
কয় অক্ত, কয় রাকাত, রুকু ক্যামনে করবো! হায়েজবতী স্ত্রী থেকে কয় হাত দূরে থাকবো তা কি কোরানে আছে?
উত্তর:
ক. -না নেই। কোরানে যা নেই তা মান্তে যাবে কেন? কে বলেছে মান্তে? আল্লাহ বরং বার বার নিশেধ করেছে।
খ. কোরান বহির্ভূত বিধান রচনা করে অত:পর উহা ‘কোরানে নেই’ বলে কোরানকে অভিযুক্ত করা কি বর্বরতা/কুফুরী নয়?’
গ. আর ঐ আয়াতগুলি তুলে ধরে প্রশ্নগুলি আল্লাহকে করে না কেন? সেগুলি কি ম জ বাসারের ফতোয়া? সুতরাং তারা সরাসরি আল্লাহ/কোরানেরই বিরোধীতা করছে।
মজ বাসার কোরানের আলোতে সচরাচর/সাধারণত একাধিক বৌ অবৈধ/হারাম বা নিশিদ্ধ প্রমান করেছে। মানা না মানা নিজস্ব বিষয়। যে কোনভাবেই হোক কোরানের আলোকে/সমর্থনে কোন কিছু প্রতিষ্ঠা করাকে যারা ফতোয়া বলে তারাই শতভাগ বিভ্রান্ত! ম জ বাসার নয়! নয়ই নয়।
একাধিক বিয়ে প্রচলিত ‘হারাম’(বিশেষত/সীমাবদ্ধ)অর্থে নিশিদ্ধ নয়; উপরে বর্ণিত ‘হারাম’ শব্দের প্রকৃত অর্থে সচরাচর অবৈধ/হারাম বা সীমাবদ্ধ (স্পেশাল) বলা হয়েছে। ৪ বিয়ে কেন! দরকার হলে ১০/১৫ বিয়েয়ো করতে পারে! যদি তারা একে একে সংগত সংসার পালন, মৃত্যু, ত্যাগ/পলায়ণ, সন্তান উতপাদন, যৌন অক্ষম বা যে কোন উল্লেখযোগ্য গুরুতর বিশেষ কারনে প্রাকৃতিক প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এটা নিতান্ত কৌশোরিক বা সাধারণ আক্বল জ্ঞান স্বীকৃত এবং প্রাকৃতিক। [কোরান জ্ঞানীদের জন্য]
ফরজ:
শুধু বিয়েই কেন? নামাজ রোজা, হজ্জ, জাকাতসহ ৩০ পারা কোরানে একটি বিধানো শরিয়তী ‘ফরজ’ অর্থে ফরজ করা হয়নি। উহা উপদেশ মাত্র; গ্রহণ/বর্জন দুটোর সু/কুফল বাতলিয়ে শতভাগ স্বাধিনতা দিয়েই কোরান মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে। মানা না মানা নিজস্ব বিষয় হেতু অনেকেই উহার পক্ষে কথা বলে ফায়দা অর্জন করে কিন্তু নিজে মানে না। প্রমান:
ক. আমি কি তাকে ২টি পথ দেখাই নি? (৯০:১০)
খ. আমি তাকে পথ বাতলে দিয়েছি; হয় সে মানবে, না হয় মানবে না (৭৬: ৩)।
সুতরাং ‘ফরজ’ অর্থ পালনীয় বা করা উচিত (আপন স্বার্থে); না করলে নাই। তাইই সংখ্যা গরিষ্ঠ শিয়া/ছুন্নীরা মানলেয়ো অনুসরণ করেই না।
আল্লাহ যদি কোন আইন বেধেই/চাপিয়ে/নির্ধারিত করেই দেয়! তবে তা লংঘন করার ক্ষমতা মানুষের থাকে না। যেমন: কুকুরের গলায়, গরুর মূখে যখন লিস/কর্ব পরিয়ে পথে নামায় তখন উহারা ইচ্ছায়/অনিচ্ছায় ঐ চাপিয়ে দেয়া আইন লংঘন করতে পারে না! এর নামই শরিয়তের ভাষায় ‘ফরজ।‘ এমন ফরজ কোরানে ১টিও নেই, নেই নেই!
-একাধিক স্ত্রী রাখা কোরানে কোথাও হারাম করা হয়নি। তবে এই কথা সত্য যে – একাধিক স্ত্রী রাখাকে আল্লাহ কোরানে দারুন ভাবে নিরুৎসাহিত করেছেন সুরা নিসা আয়াত ১২৯ এ। (জিয়া ১৩০৭)
অট্ট হাস্যকর কথা! মদো হারাম করা হয়নি! তবে স্বয়ং আল্লাহ যেখানে দারুনভাবে নিগেটিভ/নিরুতসাহিত বিধান দেন! উহার মধ্যে পুন: তিল পরিমাণ পজেটিভ/উতসাহিত বিধান খোজাই তো গুরুতর কুফুরী! শরিয়তের দৃষ্টিতে উহাই তো নিশিদ্ধ/হারাম। ‘দারুন’ শব্দটা কি চরম নিশিদ্ধের প্রতীক নয়? সুতরাং প্রধানত একাধিক বৌ’র লোভ যে শরিয়তের দৃস্টিতেই প্রচলিত হারাম! তা কি বলার অপেক্ষা রাখে? তবুয়ো আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে আনাদিকাল থেকে পুরুষদেরকে বেস্যা বানিয়ে উম্মার প্রজনন ধারা নাপাক করছে!! আর নিজেরা মায়োলানা/ছাইদী (আমাদের প্রভু), গাউস, কুতব, রাছুলের সেক্রেটারী (নায়েবে রাছুল), অরেছাতুল আম্বিয়া (নবিগণের উত্তরাধিকারী), ইসলামী রাজ-বাদশা দাবী করছে!!
আশাকরি জিয়া সাহেবদের সকল চিন্তা, হতাসা, জড়তা চিরতরে বিলুপ্ত হলো।
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



