ঘোষনা: ‘হাদিছ’র স্থলে ‘শরিয়ত’ শব্দ বসানো হয়েছে, যাতে কূট-কৌশলে কখনো ‘হাদিছে নেই’ বলে ফিকহা থেকে ফতোয়াগুলিও রক্ষার সুযোগ না পায়।
আল্লাহর ঘোষনামতে কোরানে যাবতিয় বিষয় সহজ, সরল, পূর্ণ তফছির/ব্যাখ্যাসহ নিখুত সমাধান থাকতে বোখারীগণ কেন কোরানকে প্রত্যাখ্যান করত নিজ হাতে রাছুলের নামে হাদিছ রচনা করলো? এর উত্তর আজকের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেড় বিলিয়ণ শিয়া/ছুন্নী/কাদিয়ানী সমাজ।
৩১. কোরান: রোজা ভংগের মাত্র ২টি কারন: যেভাবেই হোক ১. পানাহার ও ২. সহবাস নিষিদ্ধ। [সুত্র/তথ্যসুত্র: ২: ১৮৫- ১৮৭]
শরিয়ত: ঐ ২টি কারনের বিরুদ্ধে ৩৩টি ভংগ/অভংগের কারন ঘোষিত আছে এবং তার অধিকাংশই অশ্লীল, কৌতুককর। মাত্র কয়েকটি: ক. কামুক দৃস্টিতে বিবির দিকে তাকালে বির্যপাত হলে রোজা ভাংগে না খ. ধাত্রী বা নিজেই প্রসুতির যোনিতে আংগুল ঢুকালে সম্পূর্ণ আংগুল বা আংশিক ২য় বার ঢুকালে রোজা ভংগ হয় (আহম্মক আলেম নয় তো!)। গ. কোন স্ত্রীলোক অসতর্ক ভাবে নিদ্রায় থাকলে অথবা অজ্ঞান অবস্থায় কেহ সংগম করলে রোজা ভংগ হবে ( কতবড় জালিম!); পুরুষটির জরিমানা দিতেই হবে। ঘ. চনাবুটের কম পরিমাণ দাতে আটকে থাকা খাদ্য খেলে রোজা ভংগ হয় না। ঙ. ভুলে বার বার পেট ভরে খেলেও রোজা ভাঙে না। ভুলে সঙ্গম করলেও রোজা ভাঙে না;। নির্ভূলে সংগম করলে জরিমানা দিলে/না দিলেও মাফ হয়।
৩২. কোরান: হজ্জের দিন তারিখ হজ্জের মাসের ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে হতেই হবে। [সুত্র/তথ্যসুত্র: ২: ১৮৯]
শরিয়ত: হজ্জের দিন তারিখ মাসের ৯ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে হতেই হয়। ইচ্ছা হলে আরব বাদশা যে কোন সময় ঐ তারিখও পরিবর্তন করতে পারে।
৩৩. কোরান: ধর্মের নামে বিশ্বব্যাপী এবং নির্বিচারে পশু হত্যার (কোরবানী) বিধান নেই। অপচয়কারীইগণই শয়তান। [সুত্র/তথ্যসুত্র: ২২: ৩৭; ১৭: ২৭]
শরিয়ত: আয়-রোজগার হারাম/হালাল নির্বিচারে ধর্মের নামে দুনিয়াব্যাপী ধনীদের পশু হত্যা ফরজ মনে করে। গরীবগণ যারা পশু সংগ্রহ করতে না পারে, তাদের ১০দিন ধরে রাখা নখ, গোঁফ ও যৌন লোম চাঁছা পশু কোরবানীর সমতুল্য মনে করে । (সুত্র/তথ্যসুত্র: আবু দাউদ; হাদিছ নং-২৭৮০, পৃ: ৭৩৫]
৩৪. কোরান: সাপ্তাহিক জুমার (সমাবেশ/মিটিং) দিন ৭ম দিন শনিবার পালনের ইঙ্গিত আছে। [সুত্র/তথ্যসুত্র: ২: ৬৫, ৬৬, ৭; ১৬৩]
শরিয়ত: শনিবার ৭ম দিন ইহুদিদের দিন কল্পনা করত: বর্জন করে ষষ্ঠ দিন শুক্রবার পালন করে। তাছাড়া সকল মসজিদেই সাপ্তোহের ৭দিনই দৈ: ৫বার জুমা/জামাত বা সমাবেশ নামাজ পড়ে থাকে। ইহুদিদের শনিবারো (?) বাদ যায় না।
৩৫. কোরান: তুলনায় (নুন্যতম) প্রয়োজনাতিরিক্ত স্থাবর-অস্থাবর অর্থ-সম্পদ ভোগ বা ধারণ চূড়ান্ত অবৈধ।
[সুত্র/তথ্যসুত্র: ২; ২১৯, ২৬১; ৫১: ১৯; ১০০: ৮; ছুরা- ১০২; ছুরা: ১০৪; ছুরা: ১০৭]
শরিয়ত: হালাল-হারাম যাই হোক স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পাহাড় গড়ার অধিকার আছে। বৎসরে মাত্র ২.৫০% শতাংশ কথিত জাকাত দিলে বাকি ৯৭.৫০% হারাম অর্থ-সম্পদ হালাল হয়।
৩৬. কোরান: মৃত্যুর পূর্বে স্ব-জ্ঞানে এবং ইচ্ছামত সমস্ত সম্পত্তি উইল করা অত্যাবশ্যকীয় (ফরজ)। বিশেষ কারণে যদি উইল করতে না পারে তবে তা পুরুষ ২ নারী ১ অনুপাতে বন্টন করতে হবে (?)। বন্টন কালে এতিম ও নিকট অভাবিদের কিছু অংশ দিতে হবে। [সুত্র/তথ্যসুত্র: ২: ১৮০; ৪: ৫-১১]
শরিয়ত: ৯৯.০০৯% শতাংশ মোসলমানও বিধানটি স্বীকার করে না। ০.০০১% শতাংশ মোসলমানও এতিম বা অভাবিদের ০.০০১% অংশও দেয় না, বিধানটির পাত্তাই দেয় না।
৩৭. কোরান: আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কারো উপর আক্রমণ হারাম। যেভাবে আক্রান্ত হয় ঠিক সেভাবেই প্রতিহত বা পাল্টা আক্রমন করতে পারে। যে পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয় ঠিক ততটুকুই প্রতিশোধ নিতে পারে স্ব-জাতির মধ্যে হত্যা চূড়ান্ত হারাম।
[সুত্র/তথ্যসুত্র: ৪: ২৯, ৩০, ৯২; ১৬: ১২৬; ৪২: ৩৯, ৪০; ২; ১৭৮, ১৯০; ৫: ৩২, ৪৫]
শরিয়ত: ব্যক্তি ও দলের মতবাদ প্রতিষ্ঠায় বিভ্রান্তকর জেহাদের নামে যেকোন অবস্থায় নিজ বা অন্য জাতিদের অকাতরে হত্যা, খুন, গুম করা ফরজ মনে করে এবং উহার পুরস্কার নিঃশর্ত বেহেস্ত প্রাপ্তি মনে করে।
৩৮. কোরান: ধর্মে বা কারো বিশ্বাসের উপর কোন অজুহাতেই জোর, যুলুম, আক্রমণ বা অত্যাচার নিষিদ্ধ [সুত্র/তথ্যসুত্র: ২: ১৯১, ২১৭, ২৫৬; ৪: ১৭১; ৩৯: ৪১; ৫০: ৪৫; ৯২: ১২; ১৬: ১২৫; ৫: ৬৪]। মিথ্যাকে পরাজিত করতে হবে অকাট্য যুক্তি-প্রমান ও উতকৃষ্ঠতর স্বভাব-আচরণে (৪১: ৩৪)
শরিয়ত: মিথ্যা, প্রতারণা, জোর, যুলুম, হত্যা, খুন, গুম, ভয়ভীতি, লোভ, নাসভ্য আচরণ, এমনকি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শরিয়তি মতবাদ প্রতিষ্ঠা জরুরী মনে করে।
৩৯. কোরান: যেকোন অবস্থায় সমাজে শান্তি ধারণ ও রক্ষণ মানবের সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত ধর্ম এবং উহাই আল্লাহর একক চিরন্তন ইসলাম/ঔম/পিস্। [সুত্র/তথ্যসুত্র: ২:১১, ১৯১, ২১৭; ৩: ১৯, ৮৫; ৫: ৩; ১৬; ৯০; ৪: ১৭১] অর্থাত যে কোন কিছুর বিনিময় ‘শান্তিবাদই’ আল্লাহর স্বীকৃত ধর্ম।
শরিয়ত: সমাজ বা দেশ ছারখার হয়ে যাক! আল্লাহর ধর্ম বাস্তবায়নে (আল্লাহর কোন ধর্ম নেই) রক্তের গংগা বয়ে যাক! অর্থাত সমাজে শান্তি (ইছলাম) রক্ষা নিষ্প্রয়োজন।
৪০. কোরান: ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে হাদিয়া বা মজুরী গ্রহণ চূড়ান্ত নিশিদ্ধ (হারাম), যারা খায় তারা আগুন খায়; এমনকি মদ, শুকরের মাংসের চেয়েও হারাম। [সুত্র/তথ্যসুত্র: ২: ৪১, ৭৯, ১৭৪-১৭৬; ১১: ২৯, ৫১; ২৬: ১৪৫, ১৬৪, ১৮০; ১২: ১০৪; ৪২: ২৩]
শরিয়ত: অর্থের বিনিময়/মজুরী ছাড়া আলেম-ইমামদের যাবতিয় ধর্ম-কর্ম একেবারেই অচল। ইমামের বেতন বন্ধ হলে ঐ মসজিদে তার ইমামতিও বন্ধ হয়।
(চলবে-৬)
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

