৫১. কোরান: ব্যক্তি ও মানব সেবা, কল্যাণকর যাবতিয় কর্মই প্রকৃত ও প্রধান ধর্ম বলে আখ্যায়িত করে এবং ঐ ধর্মের জন্যই সুঠাম দেহ-মন রক্ষণ ও জ্ঞান আহরণের জন্যই প্রার্থনা, সাধন-ভজন প্রভৃতি।
[তথ্যসুত্র: ৩২; ১২; ৩০: ৪১; ২৯: ৫৮; ৯৮: ৭; ৩৪: ২৫; ১০৭: ১-৭; কোরানের মূল দর্শন]
শরিয়ত: শরিয়ত নামাজ, রোজা, হজ্জ, জাকাত এবং দাঁড়ি-টুপি, আতর- সুরমা ও জুব্বা-কাব্বাকে প্রধান ধর্ম মনে করে। কর্ম বা মানব সেবাকে ধর্মই মনে করে না।
৫২. কোরান: ভিক্ষা দেওয়া/নেয়া এবং অলস জীবন চূড়ান্তভাবেই ঘৃণা করে।
[তথ্যসুত্র: ৬২: ৯, ১০; ৪৫:২২; ৯৮: ৭; পূর্ণ কোরান]
শরিয়ত: ভিক্ষা দান এবং গ্রহণ উভয়কেই ছোয়াব হিসাবে মনে করে। এক পয়সা ভিক্ষা দিলে ১০ থেকে ৭০ গুণ ছোয়াবে বিশ্বাসী। অধিকাংশ আলেম- পীরগণ অলস জীবন যাপন করে।
৫৩. কোরান: মিথ্যাকে কোন অবস্থাতেই বরদাস্ত করে না।
[তথ্যসুত্র: ২:৪২, ১৫৯, ১৭৪; ৩: ৭১; ১৭: ৮১]
শরিয়ত: মিথ্যার মাধ্যমে সত্য প্রচার হালাল মনে করে।
৫৪. কোরান: আল্লাহর সুন্নতে (বিধানে) কখনও কোন রদ-বদল বা পরিবর্তন হয় না।
[তথ্যসুত্র: ১৭: ৭৭; ৩৫: ৪৩; ৩৩: ৬২]
শরিয়ত: আল্লাহর কোন সুন্নত (বিধান) নেই, রাছুলের হাজার হাজার সুন্নত (বিধান) আছে এবং তা রদ-বদল হয় বা হয়েছে।
৫৫. কোরান: কোরানের উচ্চারণ, সুর বা শব্দ ছাড়া যারা আর কিছুই বুঝে না বা বুঝতে চেষ্টা করে না তারা বধির, অন্ধ, কাফের ও গাধার তুল্য; তাদের প্রতি আল্লাহ নাপাকী/আবর্জনা (বিষ্ঠা) নিক্ষেপ করে। [তথ্যসুত্র: ২: ১৭১; ৭: ১৭৯; ১০; ১০০; ৮: ২২; ৬২; ৫]
শরিয়ত: কোরান বোঝার দরকার নেই শুধু পড়লে, মুখস্ত করলেই ঝুড়ি ঝুড়ি ছোয়াব এমনকি অক্ষর প্রতি ১০টি ছোয়াব পাওয়া যায়। কোরানে বর্ণিত খিঞ্জির (শুকর), হেমার (গাধা) ফেরাইন, জিনা প্রভৃতি শব্দ উচ্চারণ করলেও।
৫৬. কোরান: সৃষ্টি তত্ত্বে বর্তমান মনুষ্য জাতি আদম থেকে কিন্তু আদমের পূর্বেও জীব বা মনুষ্য জাতি ছিল বলে সাক্ষ্য দেয়।
[তথ্যসুত্র: ২: ৩০; ১০: ১৪]
শরিয়ত: সৃষ্টি তত্ত্বে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী : ১. আদমকে প্রথম মানব। ২. নবি মুহাম্মদকে প্রথমের প্রথম মানব এবং তার নূরেই জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। ৩. তারও পূর্বে আল্লাহ ময়ুর পক্ষি সৃষ্টি করেছেন এবং রাছুলকে, তাঁর কন্যা বিবি ফাতেমা, জামাতা আলী ও নাতিদ্বয় হাসান ও হোসেনকে যথাক্রমে ঐ ময়ুরের মুকুট, গলার হার, কানের লতি ইত্যাদি করে রাখা হয়-।
৫৭. কোরান: কোন এক রাতে মোহাম্মদ কাবা মসজিদ থেকে মসজিদুল আকসায় (দূরবর্তি স্থানে) পলায়ণ/ভ্রমন করেছিলেন। [তথ্যসুত্র: ১৭: ১]
শরিয়ত: কোন এক রাতে এবং মুহুর্তে মোহাম্মদ অর্ধনারী পশুর পিঠে চড়ে বিশ্ব চরাচর, বেহেস্ত-দোযখ এবং ৭ম আসমানের উর্দ্ধে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
৫৮. কোরান: ধর্মকে যারা খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং দল-উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তারা রাছুলের উম্মত নয়; তাদের উপর রাছুলের কোনই দায়িত্ব নেই।
[তথ্যসুত্র: ৩: ১০৩,১০৫; ৬:১৫৯]
শরিয়ত: সুন্নীদের প্রধান ৪টি দল: হানাফী, শাফেই, হাম্বেলী ও মালেকী, এই ৪ দল (মোজাহাব) ৪ ফরজ বিশ্বাস করত: যেকোন ১টি গ্রহণ করে। বাকি দলগুলি একে অন্যকে কাফের, মোরতাদ বলে বিশ্বাস করে এবং পরস্পর সামাজিক কর্মকান্ড এমনকি বিয়ে-সাদিও হারাম মনে করে।
৫৯. কোরান: বেহেস্ত-দোযখের অবস্থান বা সীমানা আকাশ-পাতাল বা আসমান-জমিন বা সৃষ্টি ব্যাপীয়া।
[তথ্যসুত্র: ৩: ১৩৩; ৫৭: ২১]
শরিয়ত: বেহেস্ত-দোযখ ৭ম আকাশের উর্দ্ধের উর্দ্ধে বরই বাগানের (ছিদ্রতুল মুন্তাহা) পার্শে নির্দিষ্ট।
৬০. কোরান: কোরানসহ অতীতের সকল ঐশী গ্রন্থসমূহ গান বা সুর, তাল ও ছন্দে ছন্দে নাজিল হয়েছে। অশ্লীল, অকল্যাণকর কথা, বক্তৃতা, কবিতা, গান, গজল এমন কি ইশারা-ইংগীত সমানভাবেই হারাম।
[তথ্যসুত্র: পূর্ণ কোরান]
শরিয়ত: আরবি গান ছাড়া বাকী সকল ভাষার গান ভালো/মন্দ সবই হারাম বলে বিশ্বাস করে। বাকিগুলি সম্বন্ধে তাদের মাথা ব্যাথা নেই।
৬১. কোরান: প্রধানতঃ ২ ওয়াক্ত+ গভীর রাতে অতিরিক্ত (নফল) ১= মোট তিন ওয়াক্ত ছালাতের নির্দেশ দেয়।
[তথ্যসুত্র: ১৭: ৭৮, ৭৯; ১১: ১১৪; ২০: ১৩০ ৩০; ১৭, ১৮ ৩৩: ৪২; ৫০: ৩৯, ৪০; ৭৬: ২৫, ২৬
শরিয়ত: প্রধানত: ৫ ওয়াক্ত+সুন্নত, নফল ইত্যাদিসহ অসংখ্য নামাজের ওয়াক্ত চালু করেছে।
৬২. কোরান: ব্যভিচারি/ব্যভিচারিনীকে (ব্যাভিচারিতকে নয়) প্রকাশ্যে শত বেত্রাঘাতের বিধান আছে। [তথ্যসুত্র: ২৪: ২]
শরিয়ত: প্রধানত: নির্দোষী ক্ষতিগ্রস্থ ব্যভিচারিতকেও পাথর মেরে হত্যা করে। সাধারণত: ব্যাভিচারিগণ (পুরুষ)এ আইনের উর্দ্ধেই থাকে।
৬৩: কোরান: কুকুর গুহপালিত জন্তু। [তথ্যসুত্র: ১৮: ১৮]
পশুকুলের মধ্যে কুকুরই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় এবং সর্বশ্রেষ্ট প্রভুভক্ত।
শরিয়ত: শুকরের মতই কুকুরকে ঘৃণা করে। এমনকি উহার ছোঁয়া লাগলে অজু-গোসল, নামাজ-রোজাসহ বেহেস্ত হারাম হয়।
৬৪. কোরান: ‘কাবাঘর’ আল্লাহর; সুতরাং আল্লাহর ঘরের দায়/দায়িত্ব, রোজগারের উপর আল্লাহতে বিশ্বাসী সকল দেশ/জাতির অধিকার সমানে সমান। (তথ্যসুত্র: আল্লাহর ঘর। কোন ব্যক্তি/দল বা জাতির নয়)
শরিয়ত: ‘কাবাঘর’ সৌদি বাদশার। নিজে ছাড়া অন্য কারো এমনকি ঢোকারো অধিকার নেই; যাবতিয় আয়-রোজগার, অধিকার ও কর্তব্য লা-শরিক সৌদি বাদশার।
বি: দ্র: উল্লিখিত কোরানের সুত্রগুলির কিছু প্রত্যক্ষ এবং কিছু পরোক্ষ। শরিয়তের ধারাগুলির সুত্র-দ্রষ্টব্য দেয়া হয়নি কারণ উহা সর্বজন বিদিত। তাছাড়া পূর্ণ সুত্র-দ্রষ্টব্য ‘কোরান বনাম শরিয়ত’ গ্রন্থে দেয়া আছে। নিচে ক্লিক করে বইটি বিনা মূল্যে ডাউনলোড করা যায়:
http://www.youngmuslimsociety.com
(শেষ)
বিনীত-

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

