রাছুলের নামে বোখারী বলেন:
১. -যখন কবরে লাশ রাখা হয় এবং দাফন কার্য সমাপ্ত করে মাত্র রওয়ানা হয় , এমনকি তার পাদুকার শব্দ কর্ণগোচর হয়; তখনই মৃত ব্যক্তির নিকট ২ ফেরেস্তা এসে লাশকে উঠিয়ে বসান এবং প্রশ্ন করেন: ক. তোমার আল্লাহ কে? খ. কাহার বন্দেগী করেছো? গ. তোমার ধর্ম কি? ঘ. তুমি মোহাম্মদের (সা) প্রতি বিশ্বাস এনেছিলে? তুমি কিভাবে জানতে যে, সে মোহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাছুল? [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ৩৪৮]
২. -একদা নবি (সা) বিকাল বেলা ভ্রমণে বের হলেন। পথিমধ্যে এক প্রকার শব্দ শুনে বললেন, এক ইহুদিকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছে (ইহা উহারই শব্দ)। [ দ্র: বোখারী, ১ম খন্ড, ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ৩৫২]
৩. -একদা নবি (সা) একটি বাগানের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তথায় তিনি ২টি কবরের মধ্য থেকে কবরবাসীদের বিকট চীতকার শুনতে পান। তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। তিনি বললেন, ‘কবরবাসীদের আজাব দেয়া হচ্ছে; তা যদিও কোন কঠিন কাজের জন্য নহে, তবে গোনাহ অতি বড় (কবিরা) ছিল। এক ব্যক্তি প্রস্রাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতো না। ২য় ব্যক্তি চোগলখুরী করতো’ এই বলে তিনি একটি খেজুরের ডালা দুই খন্ড করে দুই কবরে গেড়ে দিলেন। এক ব্যক্তি বল্লো: এরূপ কেন করলেন? হযরত (সা) উত্তর দিলেন, ‘আমি আশা করি ডালা ২টি শুক্না না হওয়া পর্যন্ত তাদের আজাব আল্লাহর তরফ থেকে লাঘব করা হবে।‘ [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ১৩৭]
৪. -একদিন রাছুল (সা) বক্তৃতা করতে দাঁড়িয়ে কবরের মানুষকে যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে, সে সম্পর্কে বর্ণনা দেন। যখন তিনি বর্ণনা দিলেন তখন কবরের আজাবের ভয়াবহতা শুনে মুসলমানগণ চীতকার করে উঠলেন।-অতঃপর তাকে (কবরের মধ্যে লোহার গুর্জ দ্বারা ভীষণ আঘাত করা হবে; ঐ গুর্জ দ্বারা পাহাড়কে আঘাত করলে উহা বালুকা স্তুপে পরিণত হতো) আঘাতের চোটে সে এতবড় চীতকার করবে, যা তার আশ-পাশের সকলে (বরং দুনিয়ার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সকলেই) শুনতে পাওয়ার যোগ্য। অবশ্য মানুষ ও জ্বীন জাতি তা শুণে না-। [বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, শায়খ আজিজুল হক; পৃ: ৩৫০-৩৫২]
সমালোচনা:
১. মাটিতে গর্ত করে মরা বা লাশ যেখানে রাখা হয়; উহাই প্রচলিত ভাষায় কবর। উল্লিখিত হাদিছগুলিতে কবর আজাব সম্বন্ধে যে সকল ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, উহা সেই কবর, মাজার, গোর বা সমাধি।
২. লাশ বা মরদেহ ইট-পাথর, মাটির ঢিলা, পরিত্যক্ত জুতা, জামা-কাপড়,পরিত্যক্ত থুথু বা সিগারেটের গোরার সঙ্গে তুলনীয়। তুলনা করা যেতে পারে বাহ্যের সঙ্গে; খাদ্য-খাদক গ্রহণ করার পরে যেমন বাহ্য ত্যাগ করি, মৃত্যু গ্রহণ করে তেমনি দেহ ত্যাগ করি। মৃত্যুর পর দেহ বা লাশ সাপ-বাঘে খাক, কি পুড়ে ফেলুক, শুটকী করে রাখুক! তাতে লাশের বা আত্মারো কিছু যায় আসে না।
দেহ নশ্বর, জীবন অবিনশ্বর। এই জীবন বা আত্মাই দেহে থাকতে/জীবিতাবস্থায় দেহের মাধ্যমে কর্মগুনে সুখ-দুঃখ ভোগ করে থাকে, দেহ নয়। বস্তুতপক্ষে দেহের নিজস্ব কোন সত্ত্বাবোধ নেই; জীবিত থাকতেও নয়, মৃত্যুর পরেতো নয়ই নয়। এই আত্মাই অনিবার্য কারণে দেহ ত্যাগ করার পরও অতীত বর্তমান কর্মগুণে তার ফলাফল ভোগ করে থাকে। অতএব, এই মাত্র দেহ ত্যাগ করা আত্মাকে মাত্র ৪টি প্রশ্নের জন্য কবরে পরিত্যাক্ত লাশের মধ্যে ঢুকিয়ে/পুর্নজন্ম দিয়ে ছওয়াল জওয়াবের বয়ান রাক্ষস-খোক্কসের গল্পের মতই।
কোরান তথা বাস্তবতার সঙ্গে গাঁজাখোরী গল্পগুলোর সাথে কোন মিল নেই। তবুও যদি কেহ হাদিছগুলি বিশ্বাস করতে চান তবে গোরস্ত করার সংগে সংগে একটি শুকর, হাতি, বিড়াল বা ইদুর বেধে রেখে এক্ষুণী পরীক্ষা করতে পারেন। ৪নং হাদিছে বর্ণিত ‘লাশের চীতকার মানুষ ও জ্বীন ছাড়া বাকি সকলেই যখন শুনতে পায়!’ তখন দেখুন হাতি বা ইদুরটি লাশের চীতকারে হার্টফেল করে কিনা অথবা দড়ি ছিড়ে পালায় কিনা! অথবা সামান্যটুকু ও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় কিনা! এই সামান্য পরীক্ষাটুকু করে নিলে গোর আজাবের ভয়ে এবং হাদিছ সত্যাসত্য পরীক্ষার জন্য ২ রাকাত নফল নামাজ ও এস্তেখারার প্রয়োজন হয় না।
প্রকৃতপক্ষে হাদিছগুলি কাল্পনিক ও জঘন্য মিথ্যা ভয় প্রদর্শন করে মূর্খ মানবদের ধর্মের সেবায় নিয়োজিত করার মানসে রাছুলের নামে ডাহা মিথ্যা কলংক রচনা মাত্র। হাদিছ ভক্ত, হাদিছে শায়খ জনাব আজিজুল হকের উক্তিই উহার চূড়ান্ত ও প্রকৃষ্ঠ প্রমাণ:
Ô- মৃত্যুর পর ছওয়াল-জবাব ইত্যাদির স্থান কবর বলিতে সমাধি স্থল গর্ত উদ্দেশ্য নহে- এতদ্ভিন্ন মৃত ব্যক্তিকে কবরে ফেরেস্তাগণ কর্তৃক উঠানো বসানো এবং মৃত ব্যক্তির চীতকার ইত্যাদির হাল অবস্থার বর্ণনাসমূহও সাধারণ দৃষ্টিতে এক জটিল সমস্যা বলিয়া পরিগণিত। এই সমস্যার সমাধানও এই যে, ঐ সব হাল ইহজগতের সমাধিস্থল গর্ত নহে-Õ [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, আ. হক; পৃ: ৩৪৭]
সমূহ লজ্জ্যার বিষয় যে বর্ণিত হাদিছগুলি স্ব-ঘোষিত হাদিছে শায়খ আজিজুল হক সাহেব নিজেই অনুবাদ করেছেন! অতঃপর নিজেই এক্ষণে তা অস্বীকার করছেন এবং তাও ডাহা মিথ্যা!মিথ্যার উপরে মিথ্যা! প্রমান:বর্ণিত হাদিছগুলিতে ‘ইহজগতের সামাধিকেই’ নিশ্চিত করে।
মূলতঃ কবর আজাবের হাদিছগুলি সম্বন্ধে হক সাহেবের নিজস্ব উক্তিটি নিজের সমূহ ঈমানের বিরুদ্ধ হলেও বিবেকের তাড়নায়, কঠিন বাস্তবতার নিষ্পেষণে কোন গত্যান্তর না পেয়ে, স্ব-বিরোধী উক্তিটি করতে বাধ্য হয়েছেন। বলতে কি! এরপরও তিনি ‘কোরান যেমন সত্য, হাদিছও তদ্রুপ সত্য; নির্ভুল, সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি পথে-ঘাটে, মসজিদ-মাহফিলে, বই পুস্তকে জীবনভর কছম খেয়ে চলছেন। কারণ এটুকুই তার পেশাদারী ধর্ম শিক্ষার একমাত্র পূঁজি। আর তাই বলেই বোখারীর বঙ্গানুবাদ করে উহার মজুরি (ছওয়াব) প্রচুর (হারাম) অর্থ আয় করেছেন তো বটেই তদুপরি বেহেস্ত নিশ্চিত জ্ঞান করে, তার মরহুম জন্মদাতাকেও উহার অংশীদারীত্বের দলিল করে দিয়েছেন। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ, গুজরায়েশ অধ্যায়, পৃ: ৬, আ. হক]
পক্ষান্তরে রাছুলও এহেন দু:সাহসিক দাবি করতে সাহস পাননি!
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

