somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রায় শতভাগ পীর/আল্লামাগণ হারামখোর নয় তো!

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

* আলেম/আল্লামাগণ কেন পাপ কথা ও হারাম ভক্ষণে নিষেধ করে না? বরং ইহারাও যা করে (বলে এবং খায়) ইহাও নিকৃষ্ঠ। (৫: ৬৩)

* হে বিশ্বস্থগণ! অধিকাংশ আলেম-পীরগণ মানুষের ধন-সম্পত্তি অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করছে। এবং আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করছে;--তাদের কঠোর শাস্তির সংবাদ দাও।(৯: ৩৪)

সার্বজনীন হুসিয়ারী:
ক. আমার আয়াতের বিনিময়ে সামান্য মূল্যও গ্রহণ করিও না। তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।(২: ৪১)

খ. সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কেতাব রচনা করে এবং তুচ্ছ মূল্য প্রাপ্তির জন্য বলে, ‘ইহা আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত।’ (হাদিছকে তারা আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত ২ নম্বরী অহি বলে) তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য শাস্তি তাদের এবং যা তারা উপার্জন করে, তার জন্যও শাস্তি তাদের।(২: ৭৯)

গ. আল্লাহ যে কিতাব প্রকাশ করেছেন, যারা তা গোপন রাখে ও বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজের পেটে আগুন ছাড়া অন্য কিছুই ভরে না। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথাও বলবেন না এবং পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে বিভত্‌স শাস্তি। তারাই সত্‌ পথের বিনিময় ভ্রান্ত পথ এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করেছে; আগুন সহ্য করতে তারা কতইনা ধৈর্য্যশীল! ইহা এই হেতু যে, আল্লাহ্ সনাতন কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং যারা কিতাব সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করেছে (কোরান বনাম হাদিছ-ফতোয়া) নিশ্চয়ই তারা দুস্তর মতভেদে রয়েছে।(২: ১৭৪-১৭৬)

নবি নূহের অংগীকার
হে আমার সম্প্রদায়! ইহার পরিবর্তে আমি তোমাদের নিকট ধন সম্পদ চাই না। আমার পারিশ্রমিক আল্লাহর নিকট।(১১: ২৯)

নবি হুদের অংগীকার
হে আমার সম্প্রদায়! আমি ইহার পরিবর্তে তোমাদের নিকট কোন মজুরি চাই না। আমার পারিশ্রমিক তারই নিকট যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।(১১: ৫১)

নবি ছালেহর অংগীকার
আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন মজুরী চাই না। আমার মজুরি জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে। (২৬: ১৪৫)

নবি লুতের অংগীকার
ইহার জন্য আমি কোন মজুরী চাই না। আমার মজুরী জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।(২৬: ১৬৪)

নবি শোয়েবের অংগীকার
আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন মূল্য চাই না। আমার মজুরি জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।[২৬: ১৮০]

নবি মুহাম্মদের অংগীকার
ক. এবং তুমি তাদের নিকট কোন মজুরি দাবি করিও না। ইহাতো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ মাত্র। (১২: ১০৪)

খ. বল! আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না। এবং যারা মিথ্যা দাবি করে আমি তাদের দলভূক্ত নই।(৩৮: ৮৬) অর্থাত মজুরীর বিনিময় ধর্ম সম্বন্ধে তারা যা কিছু বলে/দাবি করে তা সমূহ মিথ্যা।

গ. -বল! ইহার জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন মজুরি চাই না-।(৬: ৯০)

ঘ.-বল! আমি ইহার বিনিময় তোমাদের কাছ থেকে প্রেম-ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার ব্যতীত অন্য কোন মজুরি চাই না-।(৪২: ২৩)

উল্লিখিত অসংখ্য আয়াতে বজ্রকঠিন হুশিয়ারী থাকা সত্ত্বেও নামাজে টাকা, মিলাদে টাকা, জানাযায় টাকা, ওয়াজ-নছিহতে টাকা, ফতোয়ায় টাকা, বিয়ে পড়াতে টাকা, তালাকে টাকা, মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজারে টাকা, পীরের আস্তানায় টাকা (শিক্ষাক্ষেত্র ব্যতিক্রম)! টাকা ছাড়া শরিয়ত/মারেফতী ধর্মের চাকা একেবারেই স্তব্ধ!

ফতোয়াবাজ/ওয়াজেইনদের বক্তব্য, বিষয়বস্তু কালাকালভেদী এক ও অভিন্ন থাকা সত্ত্বেও তাদের আকার-আকৃতি, সুর-তাল, পরিচিতি এবং স্ব/দলিয় ঘোষিত খেতাবের তারতম্য হেতু মজুরি/হাদিয়ারও তারতম্য হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে কথিত উচ্চপদস্থ অধিকাংশ পীর-আলেমগণ ভাড়া খাটেন। তারা জেনে শুনেই আয়াতগুলি গোপন রেখে মজুরী গ্রহণ করে থাকেন! হারামকে অমৃত/ছোয়াব মনে করে ভক্ষণ করে থাকেন। যদিও তারা জানেন যে, তারা আগুন খাচ্ছেন এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথাও বলবে না, পবিত্রও করবে না।
অন্যদিকে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীগণ কথিত আল্লামা, মুফতিদের ভাড়া খাটিয়ে আল্লাহ-রাছুলের নামে মনগড়া বই পুস্তক রচনা করে একচেটিয়া ধর্ম ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। নভেল-উপন্যাসের মতই দর দাম কষাকষি করেই তা কিনতে বাধ্য হতে হয়। ‘মূল্যে’র স্থলে লেখা থাকে ‘হাদিয়া’ অর্থাত বাংলায় ‘মূল্য’ লিখা হারাম, আরবি ‘হাদিয়া’ লিখা হালাল!
অধিকাংশ মসজিদ, মাদ্রাসা গড়ে ওঠে ব্যবসাভিত্তিক এবং আপত্তিকর, সংঘাতপূর্ণ স্থানে; বিশেষ করে বিদেশের প্রত্যেকটি মসজিদের নামের শেষে ‘ইনক্’ অর্থাত ব্যবসা কেন্দ্রের নমুনা আছে; আর আল্লাহর মসজিদের কর্তিত্ব নিয়ে মানুষ বনাম মানুষের মামলা-মকর্দমা চলে! ধর্ম নিয়ে হয় খুনাখুনী!

নামাজ পড়াতে/পড়তে (পড়াতে হয় কেন?পড়াবার জন্য স্কুল/মাদ্রাসাই আছে) ইমাম যা জানেন, মুসল্লীগণও তা জানেন; ইমামের যতটুকু সময় নষ্ট হয়, মুসল্লীদেরও ততটুকু সময় নষ্ট হয়। মুসল্লীদের নামাজ পড়া ফরজ, ইমামেরও তাই(শরিয়ত মতে) । কিন্তু ইমাম তার নামাজ বিক্রয় করেন। মুছল্লীদের নামাজের চাওয়া-পাওয়া আল্লাহর কাছে, পক্ষান্তরে ইমামের নামাজের হারাম চাওয়া পাওয়া মুছল্লীদের হারাম/হালাল পকেট পর্যন্ত। বেতন বন্ধ, ইমামতিও বন্ধ! পয়সার বিনিময়ে নামাজ পড়ান, কিন্তু নিজেরা নামাজ পড়েন্না! অর্থাত আল্লাহর দরবারে তারা বে-নামাজী নয়তো!

রাছুল ও তাঁর ছাহাবাগণ ধর্ম প্রচারে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করে নিঃশেষ হয়েছেন। পক্ষান্তরে আজকের শরিয়ত/মারেফত ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে অর্থ-সম্পদের পাহাড় ও রাজকীয় প্রাসাদে ভোগ-বিলাসে মদমত্ত্ব। পীর আব্বাজান, ইমাম ওয়ায়েজীনদের ছোয়াব ততনগদ আর মুছল্লীদের/শিষ্যদের ছোয়াব মৃত্যুর পরে! অর্থাত জবাবদিহিতার পথ পূর্বেই বন্ধ করে রেখেছেন।

ভক্তদের ধারণা হুজুর কেবলা খাবেন কি! প্রশ্নটি আল্লাহর নির্দেশের উপরে অনধিকার কুফুরি চর্চা! তারা কি খাবেন কি খাবেন না! তা কোরানের পাতায় পাতায় বর্ণিত আছে। বর্তমানে তারা কি খাচ্ছেন! এর পরিণতি কি! তাও আয়াতে স্পষ্ঠভাবে বর্ণিত হয়েছে; অর্থাত মদ, শুকরের মাংস, ঘুষ, চুরী-ডকাতীর চেয়েও হারাম ভক্ষণ করছেন, আগুন খাচ্ছেন এবং তা জেনে শুনেই, আর এরাই শরিয়তের কথিত আলেম/আল্লামা!
আপদে-বিপদে কোন উপায়ান্ত না থাকলে সাময়িকভাবে নিশিদ্ধ/হারাম ঘোষিত মদ, শুকরের মাংস খাওয়ার সুযোগ দিয়েছে কোরানে কিন্তু ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের সুযোগ কস্মিনকালেও দেয়নি; নামাজ শেষে মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে পড়ে হালাল রুজির সন্ধানের নির্দেশ আছে (তথ্যসুত্র: ৬২: ১০)।

ধর্ম ব্যবসায়ীদের অনুসরণ কোরানে নিষিদ্ধ/হারাম:
অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের নিকট থেকে কোন মজুরি গ্রহণ করে না এবং সত্‌-পথপ্রাপ্ত (৩৬: ২১)।

ক. ইমামতি/নেতৃত্ব ঐ ব্যক্তির জন্য যিনি অভাবহীন ও প্রকৃতপক্ষেই ধর্মভীরু এবং সত্‌-কর্মভীরু; ধর্ম-কর্মের বিনিময়ে যাদের অর্থ গ্রহণ করতে হয় না এবং করেন্না। অভাবী, লোভী, নিষ্কর্মা পোষাক/পেশাদারী ধার্মীকদের ইমামতি/নেতৃত্বের অধিকার নেই।

খ. ধর্ম-কর্ম বা ছোয়াব কেনা/বেচা উভয়ই নিশিদ্ধ/হারাম (সম্ভবও নয়)। আর ব্যবসায়ীক অনুবাদ, ফতোয়া/তফছির কোরানের আলোকে/বিবেকের পরশে (১৭: ৩৪) পরীক্ষা/নিরীক্ষা ব্যতীত গ্রহণ ভয়াবহ!

গ. ছালাত/প্রার্থনা আত্মার এমন আত্মিক নিগুড় বিষয় যেখানে নেতা অবাঞ্চিত। আল্লাহ আর প্রার্থনাকারীর কিব্লার মাঝে ২য় ব্যক্তি/বস্তুর উপস্থিতি/কল্পনা অবৈধ/শিরকী।
বিনীত।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০৮
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×