গন্দম খায় সকলেই, আসামী করে কাল্পনিক/কাগজের বাবা আদমকে।
স্রষ্টা-সৃষ্টি বা সৃষ্টির সৃষ্টি সম্বন্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছা জ্বিন, ফিরিস্তা, শয়তান শ্রেষ্ঠ মানুষের পক্ষেও সম্ভব নয়। স্থুল, সূক্ষ্ম ও জ্যোতিদেহ, একই দেহে এই তিন দেহের সমন্বয় (থ্রী-ডায়মেনসন) সম্বন্ধে নিশ্চিত জ্ঞান না থাকলে (দ্র: ধর্ম দর্শন) ইহা কিঞ্চিত বোধগম্য হওয়াও কঠিন বটে!
বিজ্ঞানীগণ যখন আমিত্ব, ইচ্ছা, আকর্ষণ ও জ্ঞানের মৌল আবিষ্কার করতে পারবেন ঠিক তখনই বিষয়টি কিছুটা সহজবোধ্য হবে; তবে তা বহু দূর।
মানুষ/জীব সৃষ্টি সম্বন্ধে কোরানে বহুবার এবং বহুভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: ক. মাটি দিয়ে খ. আঠালো মাটি দিয়ে গ. ঠন্ ঠনে মাটি দিয়ে ঘ. ঝংকার যুক্ত কাদা মাটি দিয়ে ঙ. মথিত মাটির সার অংশ দিয়ে চ. সংমিশ্রিত তরল পদার্থ দিয়ে ছ. তরল পদার্থের নির্যাস দিয়ে জ রক্ত দিয়ে ঝ. শুক্র দিয়ে ইত্যাদি।
উল্লিখিত যে কোনো একটি সূত্র ধরে আগে বা পিছে এগোলে মোটামুটি্ একটি বিবর্তিত (কেন্দ্রহীন) চক্রের ধারণায় পৌছতে পারে। যেমন ‘মাটি দিয়ে সৃষ্টি’ তার অর্থ এই নয় যে, কুমারের মতো মাটি মথিত করে, পুতুল তৈরি করে বিলিয়ণ ট্রিলিয়ণ(হুব্বা) বছর রোদে/আগুনে পুড়ে ঠন্ঠনে হলে পর তার মধ্যে আল্লাহ ফুঁক দিয়ে আদমকে সৃষ্টি করেছে; তবে ধারণাটির ভাবার্থের সঙ্গে গীতা/বেদে বর্ণিত ৮৪ লক্ষ যোনি ভ্রমনের সামঞ্জস্য আছে, আছে কুরানের বিবর্তন সুত্র (তথ্য: ৭১: ১৪; ৭৬: ১; ৩০: ১৯ আরো অসংখ্য)।
মূলত উল্লিখিত ধারাগুলো সৃষ্টি রহস্য উদ্ঘাটনের প্রাথমিক সূত্র মাত্র; উহার যে কোনো একটি সূত্র ধরে বিজ্ঞানীগণ (আল্লামাগণ) যাতে সৃষ্টির উপাদানে পৌঁছতে পারে।
যেমন: ‘মাটি দিয়ে সৃষ্টি!’ বল্লেই প্রশ্ন আসবেই যে, মাটি কিসের সৃষ্টি! সাধারণ উত্তর: পানির সৃষ্টি; পানি কিসের সৃষ্টি! বাতাসের সৃষ্টি (ক্রমশ)। বাতাসের রয়েছে অসংখ্য উপাদান। সেগুলো ভাজন-বিভাজন করতে করতে বৈজ্ঞানিকগণ (আল্লামাগণ) এ্যাটম, নিউট্রন, প্রোটন ও ইলেক্ট্রনে পৌছে ভাবলেন যে, বস্তু বিভাজনের এটাই শেষ একক। কিন্তু পরে দেখলেন যে না! তারও বিভাজন সম্ভব; শুধু তাই-ই নয়, এই বিভাজনের আর শেষ নেই; অর্থাত আবর্তন/বিবর্তন বা চক্রবৃদ্ধি। যতই বিভাজন করতে সক্ষম হচ্ছেন ততই শক্তি, মহাশক্তি মানুষের অধীন হচ্ছে, অদৃশ্য দৃশ্যতর হচ্ছে।স্মরণীয় যে, এটা বস্তু সৃষ্টির সূত্ররহস্য মাত্র, জীবন সৃষ্টি নয়। আর মহা জ্ঞানী ডারউইন বস্তু ব্যতীত জীবন সৃষ্টির বিবর্তন সম্বন্ধে কিছুই বলেননি।
যে কোনো জীবদেহ বা বস্তুর বিভাজন করতে করতে যেমন নিউট্রন প্রোটন ইলেক্ট্রনে পৌঁছা যায়, ঠিক তেমনি একক পরমাণু যোগ করতে করতে যে কোনো বস্তু বা জীবদেহ তৈরি বা হওয়া যুক্তিসঙ্গত। অতএব এক্ষণে আপাতত: বলা যায় যে, মানুষ এবং যাবতীয় জীব-জন্তু বা বস্তু এবং গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি এ্যাটম, নিউট্রন, প্রোটন ও ইলেকট্রন থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আর অদূর ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীগণ যখন আমিত্ব, আকর্ষণ, ইচ্ছা ও জ্ঞানের একক আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন তখনই জীবন-মৃত্যু, স্রষ্টা-সৃষ্টির রহস্য-জটলা বহুলাংশে খুলে যাবে সত্য, কিন্তু ততোধিক নতুন জটাজালে আবদ্ধ হবে। পক্ষান্তরে আল্লাহ্ উপলব্ধি, আল্লাহঙ্কার আজকের মতোই অম্লান থাকবে।
মানব সৃষ্টির সূচনা আদম থেকেই যে নয় তা কোরানই সাক্ষ্য দেয়:
অইজ ক্বা-লা-তা লামুন।(২: ৩০) অর্থ: স্মরণ কর: যখন উপাস্য (রব)মুক্ত আত্মা (মালায়েকাতদের) বলে, ‘নিশ্চয়ই বস্তুর উপর প্রতিনিধি নিয়োগ করি। তারা বলে, ‘তুমি কি সেখানে এমন কিছু নিয়োগ কর! যারা অশান্তি ও রক্তপাত ঘটায়-!”
[আর্দ্ব অর্থ: বস্তু বা দৃশ্য; পৃথিবী নয়; ‘পৃথিবীর আরবি শব্দ ‘দুনিয়া’] মাত্র পৃথিবীর বুকে প্রতিনিধিত্ব দিলে আজকের বৈজ্ঞানিকগণ পৃথিবীর বুক ছেড়ে গ্রহ-নক্ষত্র, আকাশ-মহাকাশ সম্বন্ধে ভাবতেই পারতো না। সুতরাং শরিয়তের অনুবাদ প্রশ্নবিদ্ধ]
আল্লাহশক্তি/জ্ঞানের বাইরে মানুষ, জ্বীন, ফেরেস্তা কারো ধারণা-কল্পনা করারও ক্ষমতা নেই। অর্থাৎ মানুষ কাল্পনিকভাবে যাইই কিছু সৃষ্টি করে যাবতীয় সৃষ্টিগুলো আল্লাহশক্তির মধ্যে আছে বলেই মানুষ তা ধারণা বা নকল করতে পারে। অর্থাৎ প্রকৃতিশক্তির মধ্যে যা নেই তা মানুষ-জ্বীন, ফেরেস্তা কল্পনায়ও সৃষ্টি করতে পারে না। অতএব, ফেরেস্তাগণ যখন বলল যে, ‘এমন প্রতিনিধি সৃষ্টি কর যারা সেখানে অশান্তি ও খুনাখুনি করে’ এর অর্থই এমন এক জাতি সম্মন্ধে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে (জিন, জান্, খাড়া/বসা বা পদ/চতুস্পদ মানুষ যা কিছুই হোক) যারা আমাদের মতোই হাগু/পিপি করা রক্ত মাংসের স্বার্থন্বেষী দেহধারী জীব ছিল এবং তারা আজকের মতই দুনিয়ায় অশান্তি, খুনাখুনি বা রক্তারক্তি করত!
মূলত উল্লিখিত আদম সৃষ্টি রহস্য সূত্রটি প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য; ইহা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য নয়। ‘আমাকে’ সৃষ্টি করে অতঃপর ‘আমার দেহ’ সৃষ্টি করা হয়; আর তাই বলেই আমার হাত, আমার মাথা, আমার দেহ, আমার লাশ, আমার কবর, সবকিছুই আমার কিন্তু ‘আমি’ কই! ‘আমি’ কে এবং কী! ‘আমি’ অদৃশ্য অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত কথায় ‘দেহদ্বারা খন্ডিত/সীমিত (জাহান্নাম) অসীম/মুক্ত (জান্নাত)জীবন’; ‘আমার’ দৃশ্য অর্থাৎ দেহ। অদৃশ্য জান্নাতবাসী ‘আমি’ দেহদ্বারা বন্দী হলেই অর্থাত আমার মা-বাবা আদম-হাওয়া (জন্মদাতা) (গন্দম, যা তাদের যৌবনের আগ পর্যন্ত নিশিদ্ধ/গোপন ছিল) জিনার ফলে আমাকে (আমি+আমার) জান্নাত থেকে জাহান্নামসহ দুনিয়ায় নিক্ষেপ করা হয় (জন্ম হয়) অনুরূপ কারণে আমার স্ত্রীকে নিক্ষেপ করা হয় অজানা অন্যত্র। ধীরে ধীরে যতই বড় হতে লাগলাম ততই স্ত্রীর আকাংখা তীব্রতর হতে লাগল/গোপন চোখ খুলতে লাগল; দীর্ঘ কয়েক যুগ কান্নাকাটির (আকর্শণ) পরে কোন এক দেশ/গ্রামে স্ত্রীর সন্ধান পেয়ে প্রকৃতির বিধানে আমিও গন্দম খাই, তুমি খাও, সেও খায়; এভাবেই কারাবাসী শাস্তি/ভোগের পর, পুন ভিসা পেলেই আপন দেশে উড়াল দেই। ঐ জগতের সুত্রও অনুরূপ অর্থাত আবর্তন-বিবর্তন। (বড়ই জটিল বিষয়)
উল্লিখিত আদমের ইতিহাসের সঙ্গে প্রত্যেকটি মানুষ/জীবের জন্মেরই ইঙ্গিত। কোরানও তাই ঘোষণা করে:
অ লাক্বাদ-মিনাচ্ছা-জ্বিদীন। (৭: ১১) অর্থ: তোমাদিগকে সৃষ্টি করি অতঃপর তোমাদের আকৃতি (দেহ) সৃষ্টি করি; অতঃপর ফেরেস্তাদের (পজেটিভ/ধ্বনাত্মক শক্তি) মানুষের অধীন থাকতে বলি। তবে ইব্লিসগণ (নিগেটিভ/ঋণাত্মক শক্তি) ব্যতীত সকলেই অনুগত থাকে-। [অর্থাত অনুগতরা ফিরিস্তা; অননুগতরা ইব্লিছ]
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



