somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডা: মাহফুজশান্তের নামে কুরবানী (উতসর্গ)

০৬ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রচলিত হজ্জ-কুরবানী কুরান বিরুদ্ধ/বহির্ভূত একটি বর্বর দূ:খজনক নাটক সর্বস্ব।

হজ্জ অর্থ : শপথ/সংকল্প করা; (বাকি অর্থগুলি [অর্থ নয় তফছির] মূল অর্থের সংগে অসামঞ্জস্য কথিত ইসলামীক পরিভাষার বলে দেয়া হয়নি)

কোরবানী অর্থ: ত্যাগ/বিরত থাকা/উতসর্গ করা; অর্থাত ত্যাগের শপথ করা। সুতরাং বছরে ১বার হালাল/হারাম অর্থে পশু হত্যার অর্থ বিরত/ত্যাগ বা উতসর্গের শপথ নয়!

কি ত্যাগ/বিরত থাকার শপথ করবে?
-যে কেহ ঐ মাসগুলিতে শপথ (হজ্জ) করতে চাইলে: অশ্লীল যৌনাচার, অন্যায় আচরণ এবং কলহ-বিবাদ না (ত্যাগের) করার শপথ(হজ্জে) করবে।(তথ্যসুত্র: ২: ১৯৭)।
অর্থাত লোভ, হিংসা, মোহ, ক্রোধ, মিথ্যা, অত্যাচার-অবিচার যাবতিয় অন্যায় স্বভাব-কর্ম আজীবনের জন্য ত্যাগ/উতসর্গ করার নামই শপথ বা ‘কুরবানীর হজ্জ।‘

হজ্জের তারিখ কবে?
কোরান ঘোষিত হজ্জের তারিখ জিল হজ্জ মাসের ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত। কিন্তু শরিয়ত ইহা প্রত্যাক্ষান করত: আপন খেয়াল-খুশী মত ৯ থেকে ১২ তারিখ হজ্জের দিনক্ষণ পরিবর্তন করে:

[২: ১৮৯] লোকে তোমাকে নুতন চাঁদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে; বল! উহা মানুষের হজ্জ ও তার সময়ক্ষণ নির্ধারক-।
উল্লিখিত আয়াতে বর্ণিত ‘লোকে তোমাকে নুতন চাঁদ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে! আয়াতে ব্যবহৃত ‘আহেল্লাত’ শব্দটি ‘আল-হেলাল’ এর বহুবচন; মাসের ১লা থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত ‘আহেল্লাত’ বলা হয় এবং ঐ সম্বন্ধেই প্রশ্ন করা হয়েছে; কামার বা চাঁদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করেনি। উত্তরে বলা হয়েছে যে ‘আহেল্লাত’ এ মানুষের হজ্জের দিন-ক্ষণ ধার্য করা হয়েছে।

হেলাল ক্রিসেন্ট অর্থ চাঁদ নয় বরং নুতন চাঁদ; প্রতিপদ বা প্রথমা থেকে দ্বিতীয়া, তৃতীয়া পর্যন্ত ধরা হয়। আরবে আজও মাসের ১লা থেকে ৩ তারিখ পর্যন্তকে ‘আহেল্লাত’ বলে। অতএব হজ্জের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ নি:সন্দেহে মাসটির প্রথম ৩ দিন; আল্লাহর এই নির্ধারিত তারিখ খন্ডন করার শক্তি-যুক্তি বিশ্বের কারো নেই! অথচ কোরানের প্রতি বৃদ্ধাংগুলি প্রদর্শন করত শরিয়ত নিজস্ব মতে ৯-১২ তারিখে প্রতিষ্ঠা করে। আর বিশ্বের দেড় বিলিয়ণ মুসলমানগণ তা বিনা বাক্যে অনুসরণ করছে!

পশু হত্যা হবে একমাত্র প্রাচীন গৃহের (মীনায়) সামনে, দুনিয়াব্যাপী ঘরে ঘরে নয়:
[২২: ৩৩, ৩৪] ইহাতে তোমাদের জন্য নানাবিধ উপকার রয়েছে এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য; সুতরাং উহাদের স্থান প্রাচীন গৃহের নিকট-।
‘নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উপকার’ অর্থে মিনায় দেশী-বিদেশী প্রচুর লোক সমাগমে পশুর গোস্ত আসু খাদ্য সমস্যার সমাধান দেয়। দুনিয়াব্যাপী পশু হত্যার বিধান কোরানে নেই; অথচ কোরানের স্পষ্ঠ বিধান লংঘন করে দুনিয়াব্যপী পশু হত্যার হুলি খেলায় মদমত্ত!

ধর্মের নামে পশু হত্যা আল্লাহ গ্রহন করেন না:
লাইইয়ানা-লাল্লা-হা লুহুমুহা-অ লা- দিমা-উহা- অলা-কিই ইয়ানা-লুহুত্তাক্বওয়া মিনকুম- (২২: ৩৭)অর্থ: আল্লাহর নিকট উহাদের গোশত এবং রক্ত পৌঁছায় না বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া-।
ক. নালুন অর্থ: প্রধানতঃ বখশিশ, যাকে ছোয়াব/লাভ বা পুণ্য বলা হয়; সুতরাং আয়াতে বর্ণিত ‘গোস্ত ও রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না’র পরিবর্তে পশুর গোস্ত ও রক্তে আল্লাহর নিকট কোন বকশিস (ছোয়াব) নেই অনুবাদটিই যথার্থ; অর্থাত ধর্মের নামে পশু হত্যা আল্লাহ গ্রহণ করে না, আল্লাহ তা চায় না, তার অপছন্দ হেতু তাতে কোনই ছোয়াব-লাভ নেই। এই যথার্থ অনুবাদটি প্রচারিত হলে অবলা পশুকূলের উপর মানুষের অহেতুক, অমানুষিক অপচয়, অত্যাচার বন্ধ হত!

খ. তাকোয়া: অর্থ উপরে ২: ১৯৭ নং আয়াতে বর্ণিত শপথ রক্ষার স্থীর ‌‌মনোবল।

উপসংহার:
প্রচলিত হজ্জ হারাম-হালাল পার্থক্য বিহীন ধনীদের সাময়িক আমোদ-প্রমোদের অনুষ্ঠান হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত এবং তাদেরই বেহেস্ত প্রাপ্তির অলীক ধারণা বিজড়িত অনুষ্ঠান; কিন্তু সংখ্যা গরিষ্ঠ গরীবদের বছরে এক টুকরা মাংস প্রাপ্তি ছাড়া বেহেস্তের আসা-ভরসা নেই! এমন সাম্প্রদায়িক পাক্ষপাতদুষ্ট ধনীদের আমোদ-ফুর্তির আইন কোরানে নেই। অবশ্য গরীবদের শান্তনার জন্য মৌলবাদ পূর্ব থেকেই মহানবির নামে একটি আপত্তিকর অশ্লীল হাদছি রচনা করে রেখেছে যে:
‘যাদের পশু কোরবানী করার সামর্থ নেই, অর্থাত গরীব অসমর্থগণ নির্ধারিত ১০ দিন ধরে রাখা নখ, চুল, গোঁফ ও যৌন লোম চেঁছে ফেল্লে পশু কোরবানীর সমান ছোয়াব পাবে।’ (তথ্যসুত্র: আবু দাউদ, ১০ম খন্ড, হাদিছ নং- ২৭৮০, পৃ: ৭৩৫)।
অর্থাত প্রেসিডেন্ট-মন্ত্রি, রাজা-বাদশা, মওলানা, গাউস-কুতুব, ব্যবসায়ী, পীর-কেব্লা প্রভৃতি পাক/নাপাক ধনাঢ্যগণ হাজার/লক্ষ টাকা দিয়ে যে পশুটি কোরবানী করলো তার আনুপাতিক ছোয়াব তাদেরই দুয়ারে ভুখা-নাঙ্গা এক টুকরা গোস্ত প্রার্থীর চেঁছে ফেলা নখ-চুল আর যৌন লোমের সমান!
কোরান বহির্ভূত প্রচলিত শরিয়ত ইসলামকে কোথায় নামিয়েছে! তা জ্ঞানীদের ভেবে দেখার সময় সমাসন্ন।
বিনীত।
(বিশদ ব্যাখ্যা দেখুন: http://www.youngmuslimsociety.com)
১৫টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্ষমতা কখনো স্থায়ী না।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১০




গ্রামের এক গরিব ছেলের নাম ছিল রাকিব। ছোটবেলা থেকেই সে একটা জিনিস খুব বুঝতে চাইতো- এই পৃথিবীতে আসলে সবচাইতে ক্ষমতাবান কে?

একদিন সে দেখল পুরো গ্রামের মানুষ চেয়ারম্যান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মি মিজানুর রহমান সিনহা সাহেবের ম্ৃত্যুতে কিছু কথা মনে পড়ছে।

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮

মি মিজানুর রহমান সিনহা (৮২), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক্‌মি ল্যাবরেটরিজ মারা গেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত ২টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কি শুধু মক্কায় রয়?

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

মক্কা গিয়ে "আল্লাহ খোঁজো" আল্লাহ শুধু মক্কায় রয়?
পাশের ঘরে ভুখা জাগে নিভৃতে তার রাত ফুরোয়।
পাশের ঘরের ভুখা জানে রাত কিভাবে প্রভাত হয়!
— শ্রাবণ আহমেদ ...বাকিটুকু পড়ুন

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে, পর সোনালি চেলি নব সোনাল ফুলে......

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৬


সেই ছোটবেলায় আমার বাড়ির কাছেই একটা বুনো ঝোপঝাড়ে ঠাসা জায়গা ছিলো। একটি দুটি পুরনো কবর থাকায় জঙ্গলে ছাওয়া এলাকাটায় দিনে দুপুরে যেতেই গা ছমছম করতো। সেখানে বাস করতো এলাকার শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×