নিচের প্রায় অর্ধশত কুরানের আয়াতের ঘোষনা, স্পষ্ঠ, আকার-ইংগীতের বিপরীতে ৩৩: ৪০ এর অনুবাদ ও হাদিছের ‘শেষ নবি’ বিশ্বাস শুধু মাত্র মিথ্যাই নয় বরং প্রতারণা।কারণ কুরান মিথ্যা নয়! স্ব-বিরোধীও নয়।
নবি, রাছুল, জ্ঞানী-বিজ্ঞানী তথা জীব জন্মে-মরে বা শেষ হয় কিন্তু নবুয়ত, রেছালত, প্রেরণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান তথা জীবনের জন্ম-মৃত্যু বা শেষ হওয়ার বিষয় নয়; সুতরাং কখনও না কখনও, কোথাও না কোথাও পাত্রভেদে কম-বেশি ভর করেই করে এবং করবেই করবে। এ বিষয়টি বুঝতে কুরান-কিতাব, ডক্টরেট, গাউস-কুতুব, আলেম-আল্লামা এমনকি লেখাপড়ারই দরকার হয় না।
১. কুলনাহবিতু-খালেদুন। (২: ৩৮, ৩৯) অর্থ: আমি বললাম, তোমরা এখান (বর্তমান অবস্থা) থেকে বহিষ্কৃত। অতঃপর আমার তরফ থেকে তোমাদের নিকট যখন(ই) সৎ পথের নির্দেশ আসে/আসবে (যখনই রাছুল-নবি আসবে) তখন যারা তা মান্য করে চলবে তাদের কোন ভয় থাকবে না এবং তারা অশান্তি ভোগ করবে না। আর যারা অমান্য করবে তারাই চিরস্থায়ী দুঃখ ও অশান্তি ভোগ করবে।
উল্লিখিত সূত্র মতে ধর্ম পিতা ইব্রাহিম এবং তারই অনুসারী (উম্মত) পরবর্তী সকল নবি-রাছুলসহ আজকের মানবসমাজ। এই ইব্রাহিমের সঙ্গে ১ নং উল্লিখিত আদমের প্রতি আল্লাহর ওয়াদা; ক্রমাগত নবি-রাছুল আগমনের কালাকালভেদী চিরসূত্রিতার ২য় চুক্তি সম্পাদিত হয়:
২. অ এজবতালা-যলেমিন। (২: ১২৪) এবং স্মরণ কর, যখন ইব্রাহিমকে তার প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করলেন এবং সেগুলো সে পূর্ণ করায় আল্লাহ্ বললেন, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করছি।’ সে বলল, ‘আমার বংশধরগণের মধ্য থেকেও কর!’ আল্লাহ বলেন, ‘আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।’ (অর্থাৎ তার প্রার্থনা মুছলিমদের জন্যই মঞ্জুর কিন্তু অত্যাচারিদের জন্য না মঞ্জুর করা হল; অর্থাত যালিমগণ/কাফিরগণ মানবেই না)
৩. রাব্বানা--হাকিম। (২: ১২৮, ১২৯) অর্থ: হে আমাদের রব!- এবং আমাদের বংশধর থেকে তোমার এক অনুগত দল রাখিও-। -সেই অনুগত দলের মধ্য থেকে তাদের জন্য একজন রাছুল মনোনীত করিও, যে তোমার আয়াতসমূহ তাদের নিকট বর্ণনা করবে। তাদেরকে হেকমত (জ্ঞান-বিজ্ঞানের সূত্র/কলা-কৌশল) শিক্ষা দেবে ও পাক পবিত্র (অভাবহীন) করবে-।
ইব্রাহিমের উল্লিখিত প্রার্থনা ও আল্লাহর অঙ্গীকার মোতাবেক যুগে যুগে (কম-বেশি) অনুগত দল ছিল, আজও আছে এবং তাদের মধ্য থেকে মানবজাতির জন্য একজন নবি/রাছুলও মনোনীত হয়ে আসছে। আয়াতটি একথাই বলে এবং এভাবেই যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাছুল মনোনীত হয়ে আসছে। এজন্যই পূর্ব উল্লিখিত আল্লাহর ঐ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরবর্তী সকল রাছুল/নবিকেই প্রতিশ্রুত রাছুল/নবি বলা হয়।যার স্বল্পসংখ্যক ছাড়া বেশি সংখ্যকদের ইতিহাস কোরানে বর্ণনা করেননি।
আল্লাহর এই সহজ-সরল ধারাবাহিক নবি/রাছুল মনোনয়নের স্থায়ী অঙ্গীকার কখনও ভঙ্গ করেছেন! কি ভঙ্গ করবেন! বা রহিত করেছেন/করবেন অথবা মোহাম্মদের পর থেকে বাতিল হয়েই গেল! এমন কোন নির্দেশ বা আকার-ইঙ্গিত সমগ্র কোরানে নেই। এরপরেও যদি হাদিছের ওপর ঈমান হারার ভয়ে আয়াতটির ওপর যাদের সন্দেহ হয় তাদের লক্ষণীয়:
তুমি কখনও মনে কর না যে, আল্লাহ তার রাছুলগণের সঙ্গে প্রদত্ত ওয়াদা ভঙ্গ করেন/করবেন-।(১৪: ৪৭; ২২: ৪৭)
অতএব প্রয়োজনে পুনঃ পুনঃ, ক্রমাগত রাছুল-নবি আগমনের স্ব-পক্ষে উল্লিখিত আয়াতত্রয়ই যথেষ্ট ও চূড়ান্ত বলে আল্লাহ-রাছুলের পক্ষে যে কেহ বিশ্ব শরিয়তের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে।
বিষয়টি সর্বশ্রেষ্ঠ স্পর্ষকাতর হেতু বিশদ সাক্ষ্য-প্রমান দেয়া হলো:
সেই অনুগত দল স্থান, কাল, পাত্র ও ভাষাভেদে কখনও আর্য-আদর্শ, ইহুদি, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, খ্রিস্টান ও মুছলিম ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল এবং আছেও। কিন্তু প্রত্যেকটি দল কালের বিবর্তনে চতুর ধর্মান্ধ, পুরোহিত, পাদ্রি, পন্ডিত ও রাছুলের স্ব-ঘোষিত সেত্রেটারিগণ (নায়েবে রাছুল) ব্যক্তি ও দলের ঘৃণ্য স্বার্থে স্ব স্ব নবিদের দোহাই দিয়েই ঐশী গ্রন্থের পাশা-পাশি উপনিষদ, টেস্টামেন্ট, বাইবেল, হাদিছ নামে দু-নম্বরী শরিয়ত রচনা করত: মতভেদ ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দল উপ-দলে বিভক্ত হয়েছে; পূর্ব-প্রতিশ্রুতি মোতাবেক পরবর্তী নবি আসা সত্ত্বেও স্ব-স্ব দলের বাপ-দাদার রচিত রদ-বদলকৃত শরিয়তের উপর স্থির রয়েছে এবং প্রকাশ্যে/অপ্রকাশ্যে স্ব স্ব নবিকে ‘শেষ নবি’ হিসেবে বিশ্বাস করত: পরবর্তী নবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, একমাত্র হিংসা ও স্বার্থের কারনে।
প্রধানত প্রভাবশালী, প্রতিষ্ঠিত আলেম-আল্লামা, পন্ডিত ও ধনীগণ কখনওই পরবর্তী নবিকে গ্রহণ করেননি, আজও করবে না, ভবিষ্যতেও না। পক্ষান্তরে নিষ্পেষিত, নিপীড়িত নিরীহ সরলপ্রাণ গরিব দুর্বল অসহায় জনসাধারণ নতুন নবিকে বরণ করে ইব্রাহিমের সেই আদি চুক্তি সমুন্নত রাখে:
অ নুরীদু-অরেসীন(২৮:৫) অর্থ: আমি চাই নিষ্পেষিত নিপীড়িত অসহায় জনসাধারণকে সাহায্য করতে; তাদের নেতৃত্ব দান করে দেশের অধিকারী করতে।
৪. অ তিলকা- আলীম।(৬: ৮৩) অর্থ: এবং ইহা আমার যুক্তি-প্রমাণ যা ইব্রাহিমকে দিয়েছিলাম তার সপ্রদায়ের মুকাবিলার জন্য; আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি-।
৫. অ অহাবনা-মুহছেনীন। (৬:৮৪) অর্থ: এবং তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়াকুবকে তাদের প্রত্যেককে সৎ পথে পরিচালিত করেছি; পূর্বে নুহকেও সৎ পথে পরিচালিত করেছি এবং তার বংশধর দাউদ, সুলায়মান, আয়ুব, য়ুসুফ, মুসা ও হারূনকেও; আর এভাবেই বিশ্বস্থ পরিশ্রমীদের পুরস্কৃত করি/করব। (চলবে-২)
বিনীত
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




