somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দলতন্ত্র মানেই সন্ত্রাসীতন্ত্র (শেষ পর্ব)

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব

সামরিক শাসন এসেই সর্বপ্রথম কাজ
১. গণতন্ত্রের নামে অবৈধ দল-উপদলগুলো চিরতরে হারাম ঘোষণা করা।

২. উপর থেকে মেজর পর্যন্ত ৪০/৫০ হাজার সৈনিকদের স্ব স্ব অতিরিক্ত অর্থ সম্পত্তি শুন্য করে কাশী/ক্বাবাঘরে ঢুকিয়ে স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ মাথায় নিয়ে ন্যায়নীতি ও সততা রক্ষার শপথ (হজ্জ) করাবে যে, তারা দেশ ও দশের স্বার্থে, ইহ-পরকালের স্বার্থে লোভ, হিংসা, মোহ, ক্রোধ, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ইত্যাদি কোনো রকমের দুর্নীতি বা বেআইনি কাজ করবে না এবং এ ধরনের কোনো অন্যায়-অবিচার কোন কিছুর বিনিময় বরদাস্ত করবে না। এমন শপথ গ্রহণকারীদের সততার সাক্ষি ও পরিচিতি স্বরূপ স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থের প্রতীক ব্যাজ বহন করবে। এটা আপন বিবেকের অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করবে এবং এদের দেখামাত্র জনসাধারণ নিঃসন্দেহে তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারবে। বিষয়টি কিছুটা কৌতুকর হলেও ধর্মান্ধ সমাজে উল্লেখযোগ্য ছোয়াব বয়ে আনবে। শপথপ্রাপ্ত অফিসারদের জেলা-উপজেলা ভিত্তিক জবাবদিহিতামূলক ক্ষমতার আওতায় নিয়োগ করবে।

অত:পর
৩. নেতা-নেত্রী থেকে গ্রাম্য মাতুব্বর, পীর-পাদ্রি, অফিসার ও ধনাঢ্যগণ মাটি-পানির জন্মদাতা নয়! তারা ২টি পেট-পিঠসহ চতুষ্পদী নয়! সুতরাং অতিরিক্ত, অপ্রয়োজনীয় ভোগ-বিলাসে দখলকৃত অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর অর্থ-সম্পদ অবিলম্বে নিঃশর্ত ত্যাগ, নয়তো বাজেয়াপ্ত করবে; আল্লাহ প্রদত্ত্ব/প্রাকৃতিক জন্ম ও জীবনের সমাধিকারে মাথাপ্রতি প্রয়োজনের সমবণ্টন নিশ্চিত করবে। অন্তত ভূমির ব্যবসা-বাণিজ্য অবিলম্বে হারাম ঘোষণা করতে হবে।

৪. সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত অর্থ সম্পদের ৪১% স্ব স্ব এলাকার অভাবীদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিলি বণ্টন, পুনর্বাসন করবে; ৩০% শতাংশ স্ব স্ব এলাকার উন্নয়ণ কাজে ব্যবহার এবং বাকি ২৯% সরকারি কোষাগারে জমা করবে।

৫. যে কোন প্রকার দোষী-আসামীদের ত্বরিত বেগে প্রকাশ্যে বিচার-আচারে দণ্ডিত করে জনজীবন নির্ভয় ও নিশ্চিত করবে।

৬. সরকারি প্রত্যেকটি শাখার ডেপুটি সেক্রেটারি পর্যন্ত, বিচারক, উকিল-মোক্তার এবং থানার ওসি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ২ নং ধারা মোতাবেক অথবা প্রকাশ্যে শপথের আওতায় আনতে হবে।

৭. শপথ ভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার স্বজনপ্রীতি, ঘুষ, কালোবাজারি ইত্যাদি সামরিক/বেসামরিক বিশেষ ভাসমান আদালত গঠন করে প্রকাশ্যে ত্বরিত ত্বরিত বিচার-মীমাংশা করবে।

৮. খুনী, ব্যাভিচারী, প্রতারক প্রভৃতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা-মকর্দমা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী ব্যতীত সকল জেল-হাজতীদের মুক্তি দিতে হবে। নতুন যে কোন মামলা-মকর্দমা ৬ থেকে ১ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

৯. উকিল মোক্তার, ডাক্তারদের ফি বরাদ্ধ করত অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

১০. প্রচার মাধ্যমগুলো মিথ্যা, বিভ্রান্তকর বা উষ্কানিমূলক প্রচারণা কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দল-উপদল নির্মূল হলে স্বভাবতই প্রচার মাধ্যমগুলির উস্কানীমূলক প্রচারের সুযোগ বা আগ্রহও থাকবে না।

১১. পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করলে ৩ বছরের মধ্যেই বিপুল জনসমর্থন আসবেই আসবে। দেশের অবৈধ অর্থসম্পদ উদ্ধার ও তার সঠিক বণ্টন-ব্যবহারে অচিরেই স্বাবলম্বী হবে; কিঞ্চিৎ প্রমাণ হিসেবে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোই উল্লেখযোগ্য।সুতরাং এরি মধ্যে গণজোয়ারের ধাক্কায়, সম ভোগ-বন্টনী আইনের শৃংখ্যলে সরকারি-বেসরকারিদের নৈতিক চরিত্র স্থিতিশীল হতে বাধ্য।

১২. অতঃপর দল-উপদলবিহীন স্বাধিন, অবাধ, সাতন্ত্র, স্বতন্ত্র গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা নির্বাচিত হবে!তারা সংগে সংগে পূর্ববত কাবায় ঢুকে শপথ নামায় খত্‌ দিতে হবে। তাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, তারা ক্ষমতায় আসেনি বরং গোলামী করার জন্য পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনে সরকারী ব্যয় ব্যতীত প্রার্থীগণ একটি পয়সাও খরচ করতে পারবে না।
তারা সংসদ ভবনে সরকার গঠন করার জন্য ঐ সংসদের মধ্যেই প্রয়োজনমতো শারীরিক বা মানসিক দলাদলি করতে পারবে; কিন্তু তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া প্রচার মাধ্যম ব্যতীত ঐ দেয়ালের বাইরে আসতে পারবে না; অর্থাত কোনো অবস্থাতেই সেবার নামে জনজীবন বিভ্রান্ত, বিপন্ন করতে পারবে না।

১৩. গণতান্ত্রিক দেশ প্রথায় গোলাম নির্বাচনে ছেলের ওপর বাবার, স্ত্রীর ওপর স্বামীর, ভাগ্নের ওপর মামার, শালার ওপর দুলাভাইর তিল পরিমাণ হস্তক্ষেপ বা প্রভাব জঘন্য অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে।

১৪. সেনাবাহিনী ঔপনিবেশিক বা ঠিকানা বিহীন মা-বাবার সন্তান/সংস্থা নয়। জনগণের স্বার্থে জনগণের সেবায় জনগণের পয়সায় শিক্ষাপ্রাপ্ত, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত, স্ব-স্বীকৃত জীবন উৎসর্গিত সাধারণ জনগণেরই সন্তান নয় বরং অসাধারণ জনগণেরই বাবা-সন্তান; তারাই আমাদের জাতীয় নির্দলীয় শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ দল।বাহিরের দল-উপদলগুলি চিরতরে মিশিয়ে দিলে তাদের মধ্যের মানসিক অসমতা স্বভাবতই দূর হবে।
অমুক দেশ কবে আমাদের মাটি দখল করতে আসবে সেই ভরসায় জীবনভর পিটি-প্যারেড আর কেরানীগিরী করে বেহেস্তী ভোগ-বিলাসে বেকার জীবন কাটাবে আর চোখের সামনে সোনার সংসারের অবক্ষয়, অশান্তি নীরবে যুগের পর যুগ সহ্য করবে, এমন বর্বর দিকদর্শন ধর্মীয় নয়, প্রাকৃতিক নয়, নয় বিজ্ঞানভিত্তিক। তাছাড়া আধুনিক যুগে মাটি ছিন্তাই/ডাকাতির সুযোগ নেই বললেই চলে।

১৫. সেনা বাহিনীর দরকার মাত্র ইয়াজউদ্দিন/জিল্লুর রহমান সাহেবের মত অথবা একজন মূক, বধির কিন্তু চক্ষুষ্মান বেসামরিক প্রেসিডেন্টের।

১৬. গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অর্থ ৫ বছরের ১বার ১টি মহা পবিত্র (?) ব্যালট কাগজ প্রাপ্তি নয়!খুনী ফাসীর আসামীর মুক্তি বা কালো টাকা সাদা করার অধিকার নয়! বরং ন্যয্য বিচার, ন্যয্য অধিকারে পেট-পিঠের সমাধিকার।

১৭. প্রচলিত দলতন্ত্রে স্বাধীন হয় প্রেসিডেন্ট, দ্বিতীয় স্তরে মন্ত্রিপরিষদ, তৃতীয় স্তরে তাদের আত্মীয়-বান্ধব, চ্যালা-চামুণ্ড এবং চতুর্থ স্তরে তাদের পাহাড়াদার একটি দুর্ধর্ষ দল; যারা স্ব রচিত আইনেরও উর্দ্ধে অতি স্বাধিন থাকে। বাকীসব পূর্বে যেমন ছিল আজও তেমন আছে এবং ভবিষ্যতেও এমনই থাকবে; যতদিন তারা দল-উপদল ভেঙে চুরমার না করে।

সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ রাখতে হবে যে, সম্পদের সীমিত ভোগ, পেট-পিঠের সমাধিকার বাস্তবায়ণ না করা পর্যন্ত অভাব অভিযোগ, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, ঘুষ, প্রতারণা, হিংসা, অহংকার, খুনাখুনি নির্মূল দূরের কথা এমনকি নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব নয় এবং হয়নি; স্থায়ী আদর্শ চরিত্র গঠন সম্ভব নয়, সম্ভব নয় ধর্মপ্রতিষ্ঠাও।

এমন পদক্ষেপ গ্রহণ কোনো দল-উপদল দ্বারা সম্ভব নয় বলেই সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া বিকল্প পথ খোলা নেই। কতিপয় অসৎ-অসভ্য, ভোগ-বিলাসী, লোভী, দোষী-প্রতারক ছাড়া সামরিক শাসনে শতভাগ নিরীহ জনসাধারণের ভয় বা আপত্তিও থাকে না!বরং তারা সর্বোচ্য নিরাপদ মনে করে।

চালাক-চতুর নেতা-নেতীগণ! জীবনের দীর্ঘ ভোগ-বিলাসী অভিজ্ঞতায় বুঝতেই পারছো যে, এ কাজ দল-উপদলদ্বারা সম্ভব নয়! আর বাস্তবিকই যদি দেশ-দশের কল্যাণ কামনা করো তবে তোমরা স্বেচ্ছায় আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লিথিত শর্তে তাদের হাতে ১০/১৫ বছরের জন্য গোলামী ছেড়ে দিয়ে বাকি জীবন প্রভু হয়ে থাকো। অন্যথায় উহা বাস্তবায়ণে উত্তম কোন পথ বের করো; যেহেতু ১ পা কবরে নেমে গেছে। দেহ-মগজের অসহায়ত্ব ভোগ-বিলাস আর সাজ সজ্জ্যায় ঢেকে রাখতে পারছে না।
বিনীত।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×