আল্লাহ/রাছুল বলেন:
২ ক. তোমরা মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও আর নিজেদেরকে ভুলে থাক? তোমরা কেতাব পড় অথচ তোমরা বুঝ না? (২: ৪৪)
খ. তিনি মানুষের জন্য স্বীয় বিধান সহজ সরলভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। (২: ২২১)
গ. এভাবেই আল্লাহ তার বিধান পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ অবতীর্ণ করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পার। (২: ২৪২)
ঘ. আমিতো বহু জ্বীন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; যাদের হৃদয় আছে কিন্তু তদ্বারা উপলব্ধি করে না; তাদের চক্ষু আছে কিন্তু তদ্বারা দেখে না; এবং তাদের কান আছে কিন্তু তদ্বারা শ্রবণ করে না। এরা পশুর ন্যায়; বরং তা অপেক্ষাও অধিক বিভ্রান্ত; এরা গাফিল। (৭:১৭৯)
ঙ.- এবং যারা বুঝতে চেষ্টা করে না, তাদের ওপর আল্লাহ ময়লা (বিষ্ঠা) নিক্ষেপ করেন। (১০: ১০০)
চ. যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব ভার দেয়া হয়েছিল, তারা তা বহন ছাড়া বুঝে অনুসরণ করেনি। তাদের উপমা পুস্তকবহনকারী গাধার সমতুল্য। কত নিকৃষ্ট সেই জাতির দৃষ্টান্ত। যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহ জালিমদের সৎপথ দেখান না। (৬২: ৫)
ছ. তবে কি তারা কোরান সম্বন্ধে গবেষণা করে না! না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ! (৪৭: ২৪)
জ. কাফেরদের উপমা এরূপ যেমন কোনো ব্যক্তি এমন কিছুকে ডাকে যার শব্দ ও চিৎকার ব্যতীত আর কিছুই বুঝে না; তারা মূক, বধির, অন্ধ; সুতরাং তারা বুঝবে না। (২: ১৭১)
ঝ. যে বিষয় তোমার কোনই জ্ঞান নেই উহার অনুসরণ করিও না; কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় প্রত্যেকেরই কৈফিয়ত তলব করা হবে। (১৭: ৩৬)
পক্ষান্তরে বোখারীগং বলেন:
২ ক. যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ (অক্ষর) পাঠ করে সে তার বদলায় একটি নেকী পাবে। আর একটি নেকী হবে ১০টি নেকীর সমান। ‘আমি আলিফ, লাম, মিম-কে একটি হরফ বলছি না বরং ‘আলিফ’ একটি, ‘লাম’ একটি, ‘মিম’ একটি হরফ।’ (তথ্য: রিয়াদুস সালেহীন, ৩য় খ. পৃ: ৫৭; মো. হক; সুত্র: তিরমিযী)
খ. ‘একদিন জিব্রাইল নবির (সা) নিকট বসে ছিলেন। তিনি ওপর থেকে কিছু আওয়াজ শুনে মাথা উঠিয়ে দেখলেন এবং বললেন, এটি হল আকাশের একটি দরজা। আজকের দিনে এটা খোলা হয়েছে। কিন্তু ইতিপূর্বে আর কোনো দিন এটা খোলা হয়নি। তারপর এই দরজা দিয়ে একজন ফেরেস্তা অবতরণ করলেন। জিব্রীল বললেন, ‘এই ফেরেস্তাটি পৃথিবীতে অবতরণ করছে। ইতিপূর্বে সে আর কখনো অবতরণ করেনি।’ ফিরিস্তাটি তাকে ছালাম করল এবং বলল, ‘সুসংবাদ গ্রহণ করুন; যা আপনাকে দেয়া হয়েছে এবং আপনার পূর্বে আর কোনো নবিকে দেয়া হয়নি। সে দুটি হচ্ছে ছুরা ফাতেহা ও ছুরা বাকারার শেষ আয়াত। সেগুলোর কোনো একটি অক্ষর পড়লেই আপনাকে তার ছোয়াব দেয়া হবে।’ (তথ্য: ঐ পৃ: ৬৭; সুত্র: মুসলিম)
মন্তব্য:
১. স্পষ্ঠ বর্ণিত ২ দলের দর্শন, ঈমান-আমান পরস্পর বিপরীত। এক্ষণে কে কার উম্মত তা বুঝে নিতে ওয়াজ নছিহত বা এস্তেখারা নামাজের দরকার হয় না; অন্ততপক্ষে 'ঝ' নং টুলস্টি ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।
২. এখানে কোরানের মাত্র ৮টি উদাহরণ দেয়া হয়েছে। কম করে হলেও এক শতেরও উর্ধ্বে অনুরূপ আয়াত রয়েছে। ইহার বিপরীতে আবার অসংখ্য হাদিছও আছে যাতে: কোরান পড়লে ছোয়াব, নির্দিষ্ট আয়াত মুখস্ত করলে ছোয়াব, শুনলে ছোয়াব, পড়ালে ছোয়াব, মুখস্ত করলে ছোয়াব; এমনকি পড়তে না জানলে শুধু মাত্র পৃষ্ঠার উপরে আঙ্গুল টেনে গেলেও ছোয়াব; এ ধরনের বহু হাদিছ ফতোয়া বহুকাল ধরে সমাজে প্রতিষ্ঠিত আছে। না জেনে/বুঝে মুখস্ত করার এমন ছোয়াব যে হাফেজ-ক্বারীদের চেহাড়া দেখলেই সকল ছগীরা গুনা মাফ হয়! বংশে ১জন মাত্র হাফেজ/ক্বারী থাকলে পুরা বংশই না কি বেহেস্তে যায়!
৩. এক একটি নেকীর ওজন বা মাপ-পরিমাপ না জানলে উহাকে ১০ দিয়ে গুণ করা যায়? শরিয়ত উহার যোগফল কি জানে? মূলত: অংকটি কি প্রতারণা নয়?
৪. হাফেজ, ক্বারী, ইমাম-আলেমগণসহ ৯৯ ভাগ শিয়া, ছুন্নী, কাদিয়ানীগণ নামাজ-কোরান পড়ে কিন্তু বুঝে না! বুঝার সুযোগও নেই! যারা কিছু বুঝে তারাও কিন্তু মানে না, মানে বোখারীগংদের। তবে কি তারা তাদেরই উম্মত?
৫. এমন বিপরিতার্থক দর্শন ভন্ড-প্রতারকগণ রাছুলের নামে বাজারজাত করে রাছুলের বেইজ্জতী করত: নিজেরা ফায়দা লুটে সমগ্র মুছলিম বিশ্বকে প্রতারিত করেছে।
বিনীত।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



