আল্লাহ/রাছুল বলেন:
৩। লোকে তোমাকে হায়েজ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে, বল! ইহা অসূচি; সুতরাং তোমরা হায়েজ কালে স্ত্রী সঙ্গ বর্জন করবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সহবাস করবে না-। (২: ২২২)
পক্ষান্তরে বোখারীগং বলেন:
৩। ক. বিবি আয়শা বলেন: আমি ও নবি (সা) অপবিত্র অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে একই সঙ্গে গোসলখানায় গোসল করতাম, তার নির্দেশে ঋতুর কাপড় পরিধান করতাম। অতঃপর তিনি আমার সঙ্গে মিশা-মিশি করতেন।
খ. বিবি আয়শা বলেন: আমাদের কেউ ঋতুবতী হলে এবং সে অবস্থায় রাছুলাল্লাহ (সা) তার সঙ্গে মিশামিশি করতে চাইলে তাকে ঋতুর প্রাবল্যের সময় ঋতুর কটিবেশ পরার নির্দেশ দিতেন, অতঃপর তিনি তার সঙ্গে মিশামিশি করতেন।আয়শা বলেন, তোমাদের মধ্যে কে নবির মত নিজের কামপ্রবৃত্তি দমন করতে সমর্থ?
গ. মায়মুনা (রা) বলেন: রাছুল্লাহ (সা) তার কোনো স্ত্রীর সঙ্গে ঋতু অবস্থায় মিশামিশি করতে চাইলে, তাকে ঋতুর কটিবেশ পরার নির্দেশ দিতেন (হাদিছ সূত্র: ক, খ ও গ: বোখারী, ১ম খণ্ড, ৭ম সংস্করণ, পৃ: ১৫৯)।
ঘ. আবু হোরায়রা (রা) বলেন, একদা নবি (সা) কয়েক জন ছাহাবাসহ এক মজলিশে বসেছিলেন। এমন সময় একটি লোক দৌঁড়ে এসে বলল, ‘ইয়া রাছুলাল্লাহ! আমি একটি অন্যায় কাজ করে ফেলেছি, আমি ঋতু অবস্থায় স্ত্রী-সঙ্গম করে ফেলেছি।’ রাছুলাল্লাহ (সা) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হায়েজের বয়স কত?’ লোকটি উত্তর করল, ‘১ দিন।’–– রক্ত কিরূপ?’ লোকটি উত্তর করল, ‘রক্ত গাঢ় লাল।’ রাছুল্লাহ বললেন, ‘তুমি ১ দিনার কাফফারা দাও।’ এমন সময় আর একটি লোক দৌঁড়ে এসে অবিকল বলল। রাছুল পূর্ববৎ প্রশ্ন করলেন। লোকটি উত্তর দিল, ‘হায়েজের বয়স ২দিন এবং রক্ত লাল।’ রাছুল আদেশ দিলেন, ‘তুমি অর্ধ দিনার কাফফারা দাও।’ অতঃপর আর একটি লোক দৌঁড়ে এসে একই ঘটনার কথা বলল এবং রাছুলও একই প্রশ্ন করলে, লোকটি জবাব দিল হায়েজের বয়স ৩ দিন ও রক্ত হালকা লাল। অতঃপর রাছুল (সা) নির্দেশ দিলেন, ‘তুমি ১/৪ দিনার কাফফারা দাও।‘ (তথ্য: হাদিছে রাছুল, আলী হায়দার; ১ম প্রকাশ; হাদিছ ও পৃ: নম্বর দেয়া গেল না)
ঙ. ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: হায়েজ অবস্থায় যথাক্রমে ১ দিনার, অর্ধ দিনার; ভিন্ন মতে কাফফারার দরকার নেই, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই হয়। (দ্র: জামে আত-তিরমিযী,১ম খ. ৪র্থ প্রকাশ; হা. নং-১৩১, ১৩২, পৃ: ১২৮]
সমালোচনা
১. মা-বাপ, ভাই-বোনেরা আমার! হাদিছগুলি কি কোরানের ব্যাখ্যা? না বে-ইজ্জতী??
২. নারীদের হায়েজ সময়কালীন কোরানোল্লিখিত বিধি নিষেধটি নিতান্ত সহজ-সরল, যার পুনঃ ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন।
৩. ইহার প্রধান দুটি নির্দেশ: ১. ঐ সময় বিবি সঙ্গ বর্জন, ২. এবং সংগম বর্জন।
সংগ বর্জন বলতে: যৌনাবেগে ধরা, ছোঁয়া, হাসি-ঠাট্টা, কথাবার্তা, রং-তামাশা, মস্করা ইত্যাদি খুঁটিনাটিসহ সকল বিষয় থেকে বিরত থাকা বুঝায়। এ বিশেষ সময়টা মা-খালা, বোন ও আপন কন্যাদের সঙ্গে সাধারণত যেমন সম্পর্ক ও যোগাযোগ থাকে; ঋতুবতী স্ত্রীর সাথেও তদ্রুপ সম্পর্ক বজায় রাখার পরিষ্কার ইঙ্গিত বহন করে উল্লিখিত আয়াতে।
৪. মাসের মাত্র ৩/৫টি দিন ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা কোনো মোমেন এমনকি সাধারণ লোকের পক্ষেও অসম্ভবের কিছু নয়; যাদের একাধিক বিবি বর্তমান থাকে, তাদের পক্ষে বিষয়টি কোনো বিষয়ই নয়। পক্ষান্তরে, একজন নবি, অতঃপর ৯/১১ জন বিবি বর্তমান থাকতে, ঋতুবতী বিবিদের সাথে মাখামাখি, মিশামিশি করতেন বলে হাদিছ রচনা করেছে। আর এজন্য রীতিমতো ঋতুর নির্দিষ্ট কাপড় পরার নির্দেশ দিতেন, অতঃপর মাখামাখি করতেন!! হাদিছ বেত্তাগণ ‘মুবা-শারাতুন’ এর অর্থ করেছেন, ‘মাখামাখি’, ‘মিশামিশি’। কিন্তু স্ত্রীর ক্ষেত্রে ইহার অর্থ ‘সঙ্গম!’ [দ্র: আধুনিক বাংলা আরবী অভিধান; মা. মুহিউদ্দিন]। অতএব হাদিছ বেত্তাগণ মূলত কী বলতে চাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়, আবার পরিষ্কারও বটে! তবুও মাত্র মাখামাখির কাম প্রবৃত্তিটুকুও (হাদিছ মতে) দমন করতে তিনি সক্ষম হননি! অতঃপর বিবি আয়শার (রা) দাম্ভিকপূর্ণ উক্তি (হাদিছ মতে) “তোমাদের মধ্যে কে নবির মতো কামপ্রবৃত্তি দমন করতে সক্ষম।” উক্তিটুকুর মন্তব্য করতে গণ্ড মূর্খ লোকেরও রুচিতে বাঁধে। হাদিছটি বোখারীগণ রচনা না করে বরং তাদের বিবিগণ রচনা করলে ভেবে-চিন্তে রচনা করতেন। কারণ, স্বামী-স্ত্রী মাখামাখির সীমা কতদূর বা তার ফলে উভয়ের কী হাল হকিকত হয় তা ইমাম বোখারীগণ না জানলেও তাদের বিবিগণ অবশ্যই জানতেন।
৫. উল্লিখিত ৪ নং হাদিছটি যেন অজ পাড়াগাঁয়ের গণ্ড মূর্খ নাট্যকারের রচনা। মহানবি হায়েজের বয়স, রক্তের রং ইত্যাদির সাক্ষ্যসাবুদ নিয়ে কয়েক দিনার কাফফারার নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হলেন! মাত্র একটিবারের জন্যও সাবধান করে দিলেন না যে, এ অবস্থায় স্ত্রীমিলন কোরানে নিশিদ্ধ ঘোষিত আছে, অতএব ‘তোবা কর, দ্বিতীয় বার আর যেন না কর।’ বরং সামান্য কাফফারার বিনিময় সকল অবস্থায় ঋতুবতী বিবির সঙ্গে সহবাসের বৈধতার রায় দিলেন! উল্লিখিত হাদিছগুলো মহানবির উক্তি বলে যদি কেউ বিশ্বাস করে, তবে তার মোসলমানিত্ব থাকবে কি না তা ভেবে দেখা জরুরি।পক্ষান্তরে ঐ হাদিছগুলিকে কোরানের ব্যাখ্যা, কোরান বুঝতে হাদিছ অপরিহার্য (ফরজ/ওয়াজিব) বলে যারা বলবত্ রেখেছে, তাদের কি ‘মুছলিম’ দাবি করার অধিকার আছে?
হাদিছগুলো অলংকৃত হতে হতে এমন পর্যায় এসেছে, যা লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে লিখতে হল:
৬. ‘মোকছেদুল মোমেনীন’-এ লিখা আছে, “ঋতুবতী বিবির লোছে/রানে পুরুষ অঙ্গ ঘষাঘষি করে বীর্যপাত ঘটানো যায়েজ আছে।” [দ্র: মোক্ছুদুল মোমিনীন বা বেহেশতের পুঞ্জী, পৃ: ৬৯; মা. মো. শামছুল হক/ গোলাম রহমান]
ইমাম বোখারীদের ওপর ঈমান এনে মহানবির নামে জঘন্য মিথ্যা কলঙ্ক মুছলমানগণ আজ দেড় হাজার বৎসর যাবৎ বহন করে চলছে। দলীয় স্বার্থ ও আপন অশ্লীল দোষ-ত্রুটি ঢাকার জন্য মহানবির পবিত্র নামের দোহাই দিয়ে হাদিছগুলো রচিত হয়েছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস করা যায়। এগুলোর ওপর জনসাধারণের বিশ্বাস অর্জন ও দৃষ্টি হরণের জন্য অতি সাধারণ ও গৌণ বিষয় কিছু সত্য কথা হাদিছে লিখেছে বটে! কিন্তু তার আড়ালে কোরানের মূল ও মৌলিক ভিত্তির ওপর মহানবির ব্যক্তিত্ব তথা পুত পবিত্র পরিবারের ওপর অবিশ্বাস্যরূপে কলংক রচনা করেছেন! এদেরকে প্রতিহত করার উপায় কি!!
বিনীত।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



