৩য় পর্ব
আল্লাহ/রাছুল বলেন:
৪। –প্রার্থনার স্বর উঁচু কিংবা অতিশয় ক্ষীণ করো না। বরং এ দুয়ের মধ্যম পথ অবলম্বন করো। (১৭: ১১০)
পক্ষান্তরে বোখারীগং বলেন:
৪। ক. আবু মা’মার (রা) বলেন, আমরা খাব্বাবকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘রাছুল কি জোহর ও আছরের নামাজে কিছু পড়তেন?’ তিনি বললেন ‘হ্যাঁ!’ আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনারা কিরূপে জ্ঞাত হলেন?’ তিনি বললেন, ‘রাছুলের (সা) দাড়ি মোবারক যে নড়াচড়া করতো, তা লক্ষ্য করেই আমরা তা উপলব্ধি করলাম।’
খ. আবু হোরায়রা (রা) বলেন, ‘নামাজে সব রাকাতেই কোরানের অংশ বিশেষ পড়তে হয় যেসব নামাজে রাছুল (সা) সশব্দে কেরাত পড়তেন, আমরাও সে সব নামাজে ঐরূপ পড়িব। যে সব নামাজে তিনি নিঃশব্দে পড়তেন, আমরাও ঐরূপ পড়িব।’
[হাদিছ সূত্র: ক) বোখারী, ১ম খ. ১২ প্রকাশ; পৃ: ২৪৫; আজিজুল হক খ) ঐ, পৃ: ২৪৭-৪৮]
মন্তব্য
১. ওহে বোখারীদের উম্মতগণ! রাছুল কি আয়াতটি প্রত্যাখ্যান/অস্বীকার করেছিলেন?
২. আয়াতে সহজ-সরল ৩টি নির্দেশ: ক. উঁচু স্বরে নয় খ. মনে মনেও নয় গ. বরং মধ্যম স্বর।
আদেশ ৩টি বোঝার জন্য বোখারীগংদের দরকার আছে? তদুপরি আল্লাহ দ্ব্যর্থহীনভাবে দাবি করেন যে, রাছুল কোরানের বিপরীত, বাহিরে, বিরুদ্ধে বা অতিরিক্ত কোনো কথা-কাজ করেন্নি! তারপরও চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন যে, যদি করতো! তবে তার জীবন ধমনী কেটে ফেলা হতো (তথ্য: ৬৯: ৪৪-৪৭)।
কিন্তু হায়! শরিয়ত এই চ্যালেঞ্জ অবিশ্বাস/অস্বীকার করত: রি-চ্যালেঞ্জ দিয়ে বিশ্বময় ঘোষনা করে যে, রাছুল কোরানের বাহিরে হাজার হাজার কথা কাজ করেছেন! যা হাদিছ নামে প্রতিষ্ঠিত এবং তা মান্তে মুসলমানদেরকে বাধ্য করেছে। আজ কোরানের একটি আয়াত বল্লে তার বিরুদ্ধে কয়েক গন্ডা হাদিছ হাজির করে আয়াতকে পদদলীত করছে।
২. আয়াতে ঠিক যে তিনটি বিষয় আদেশ করা হয়েছে, ঠিক সেই ৩টি বিষয়ই সরাসরি অস্বীকার করে রাছুলের নামেই হাদিছ রচনা করে বিপরীত ছুন্নত (বিধান) চালু করেছে। অবাক হওয়ার কথা! কোটি কোটি মোজাদ্দেদ আলেমদের একজনের কাছেও কি বিষয়টি ধরা পড়ে না? ‘রাছুল কি জোহর ও আছরের নামাজে কিছু পড়তেন?’ আয়াতের বিপরীতে হাদিছের বয়ানগুলি ভন্ডামী ও প্রতারণা মাত্র। নামাজে অবশ্য অবশ্যই যে কিছু তেলাওয়াত করা হয়! রাছুল জীবনভর ইহাইতো প্রচার করেছেন! তা নতুন করে রাছুলের দাড়ি মোবারক নড়াচড়া দেখে বিশ্বাস আনার যুক্তি কি?
৩. আদিকালের কথিত ইমামগণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই যে রাছুলের বে-ইজ্জতি তথা ইছলামের শিকড় উৎপাটনের সুদূরপ্রসারী সূক্ষ্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ণ করে চলছেন! ‘মুছলিম’ থেকে খারিজ হয়ে যে তারা শিয়া, ছুন্নী, হানাফি, হাম্বলী, তাবলীগী, চিশতী, ভান্ডারী মুসলমান হয়ে গেছেন! তা পীর-আলেম না হোক! আধুনিক শিষ্য-সাগরেদের চেতন হওয়া উচিত!
৪. নামাজ/প্রার্থনা বা ধ্যান-সাধনা একান্ত নিজস্ব গোপন নিগুড়-আধ্যাত্বিক বিষয়; নামাজীর কিব্লা আল্লাহ; এই দুয়ের মাঝে কথিত ইমাম বা কোন ইট-পাথরের ঘর কল্পনা-কিব্লা করা ক্ষমার অযোগ্য শিরকী পাপ, যার পরিণাম আজকের শরিয়তী সমাজ।
রাছুলের খেজুর পাতার মসজিদ ছিল শিক্ষা বা অফিস ভবন।
বিনীত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



