৪র্থ পর্ব
আল্লাহ/রাছুল বলেন:
৫। ক. - আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাত্রির কৃষ্ণ রেখা থেকে ঊষার শুভ্র রেখা পরিষ্কারভাবে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর নিশা গমন পর্যন্ত উপবাস পূর্ণ কর। [২: ১৮৭]।
খ. -তোমাদের জন্য উপবাস কালে রাতে সহবাস বৈধ করা হল। [২: ১৮৭]
বোখারীগং বলেন:
৫। ক. যাবের ইবনে যায়েদ বলেন: কামুক দৃষ্টি নিয়ে বিবির দিকে তাকালে যদি বীর্যপাত ঘটে তবুও রোযা পূর্ণ করবে।
খ. আবু হোরায়রা (রা) বলেন, রোযাদার যদি ভুল করে খায় বা পান করে, তবুও সে রোযা পূর্ণ করবে। কেননা আল্লাহ্ই তাকে পানাহার করিয়েছেন।
গ. রোযা রেখে রোযার কথা ভুলে গিয়ে কিছু খেয়ে ফেলে, কিংবা ভুলে স্বামী-স্ত্রী সহবাস হয়ে যায়, রোজার কথা মনে না থাকে, তবে তাতে রোজা ভাঙে না। যদি ভুলে পেট ভরেও খায় বা ভুলে বার বারও পানাহার করে; তবুও রোযা ভাঙে না। কিন্তু খাওয়া শুরু করার পর স্মরণ হওয়া মাত্রই বন্ধ করা চাই। বন্ধ না করে সামান্য কিছু গিলে ফেলে তাতে রোযা ভেঙে যাবে।
ঘ. কোনো রোযাদারকে ভুল বশত খেতে দেখে, যদি রোযাদার সবল হয় তবে, তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া ওয়াজিব। যদি তার রোযা রাখার মতো শক্তি না থাকে, তবে স্মরণ করবে না।
ঙ. রোযা রেখে দিনে ঘুমালে, স্বপ্নদোষ হলে বা স্বপ্নে কিছু খেলে রোযা ভঙ্গ হয় না।
চ. ধাত্রী প্রসূতির প্রস্রাবের দ্বারে আংগুল ঢুকালে কিংবা নিজেই নিজ যোনিতে ঢুকিয়ে সম্পূর্ণ আঙ্গুল বা কিয়দংশ বের করে আবার ঢুকালে রোজা ভংগ হয় কিন্তু কাফফারা ওয়াজিব হবে না। আর যদি আঙ্গুল বের করার পর আবার না ঢুকায় তবে রোযা নষ্ট হবে না। অবশ্য পানি ইত্যাদি দ্বারা আঙ্গুল ভিজে থাকে তবে, প্রথমবারে ঢুকালেই রোযা নষ্ট হবে।
ছ. কোনো স্ত্রীলোক অসতর্ক অবস্থায় নিদ্রা গিয়েছে, কিংবা অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। কেউ তার সঙ্গে সহবাস করলে তার রোযা ভঙ্গ হবে। এই কাজা ওয়াজিব হবে।পুরুষ লোকটির কাফফারা ওয়াজিব হবে।
জ. হযরত আয়শা (রা) বলেন: এক ব্যাক্তি নবির (সা) নিকট এসে অনুতাপের সঙ্গে বলল, ‘এই বদ-নছিব ধ্বংস হয়েছে।’ নবি জিজ্ঞাসা করলেন,‘তোমার কী হয়েছে?’ সে বলল, ‘আমি রোজা থাকা অবস্থায় স্ত্রীসহবাস করে ফেলেছি।’ নবি বললেন, ‘তোমার কি একজন ক্রীতদাস মুক্ত করার ক্ষমতা আছে?’ সে বলল, ‘না;’ রাছুল বললেন, ‘ ২ মাস রোজা থাকতে পারবে?’ সে বলল, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘ ৬০ জন গরিবকে খাওয়াতে পারবে?’ বলল, ‘না।’ এমন সময় এক লোক এক ঝুড়ি খেজুর নিয়ে আসল। তখন নবি ঐ ব্যক্তিকে বললেন, ‘ঐ খেজুর নিয়ে যাও এবং স্বীয় গোনাহর কাফ্ফারা হিসেবে সদকা দাও।’ সে বলল,‘ এটা কি এমন লোককে দেব যে আমার চেয়ে অধিক গরিব? আমি কসম করে বলছি, আমার মতো গরিব এ এলাকায় আর কেউ নেই।’ তিনি এ কথা শুনে স্বভাবগত মৃদু হাসির চেয়ে একটু অধিক হেসে (কারণ তিনি ঐ ব্যক্তির মতলব বুঝতে পেরেছিলেন) বললেন, ‘ঠিক আছে, তুমি তোমার পরিবারবর্গকেই খেতে দাও।’
[হাদিছ সূত্র: ক) বোখারী, ২য় খণ্ড, ৩য় সংস্করণ, পৃ: ২৪৪; মা. আতিকুর রহমান প্রমুখ; খ) বোখারী , ২য় খ. ৮ম সংস্করণ, পৃ: ১৭৪, আ. হক ; গ- ছ): বেহেস্তী জেওর, ১ম খণ্ড; রোযা ভঙ্গ অধ্যায়; আশরাফ আলী থানভী, জ) বোখারী, ২য় খ. ৮ম সংস্করণ, পৃ: ১৭৫; আ. হক]
মন্তব্য:
১. ছিয়াম শব্দের অর্থ উপবাস। উপবাস মানেই যৌনভোগ ও পানাহার থেকে বিরত থাকা। অতএব লোভে হোক ভুলে হোক, উপবাস রতকালীন যে কোনো অবস্থায় যৌনভোগ, পানাহার উপবাস ভঙ্গ হয়; এতে কোনো ব্যতিক্রম নেই এবং এটাই আয়াতটির সহজ, সরল অর্থ। অর্থাৎ বিষ জেনে খেলে যে ফল, না জেনে খেলেও সেই একই ফল অনিবার্য। এ সময় স্ত্রী সহবাস বৈধ নয়। সহবাস বলতে যৌনাবেগে যে কোনো কর্মই তার অধীন। পক্ষান্তরে হাদিছগুলো উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ের অস্তিত্বই অস্বীকার করেছে।এমনকি স্বয়ং রাছুল নিজেই অস্বীকার করেছেন বলে ‘জ’ নং ধারায় সাক্ষি রচনা করেছে।
২.‘গ’ থেকে ‘ছ’ পর্যন্ত বর্ণিত ধারাগুলো মৃত আশরাফ আলী থানভীর সংকলিত ‘বেহেস্তি জেওর’ ১ম খণ্ডের ৩৩টি ধারার মধ্য থেকে চয়ন করা হয়েছে, ঐ ৩৩টি ধারাই স্ব-রচিত ও কোরান-বিরুদ্ধ। এতে আলেম সাহেবের কোরান বিবর্জিত অশ্লীল, অসভ্য ও প্রকাশ্য যৌন বিকৃতির বীভৎস চরিত্রের সাক্ষি বহন করে। লজ্জ্যার বিষয়! 'ছ' নং এর এমন জেনাও শরিয়তে জরিমানার বিনিময় যায়েজ হয়! এই লোকটি না কি বেহেস্তের অগ্রীম সনদপ্রাপ্ত উপ-মহাদেশের বিখ্যাত আলেম!
৩. আয়াতে পরিস্কার যে অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত অর্থাত মাগরীবের নামাজের পরেই রোজা ভংগের স্পষ্ঠ নির্দেশ; পক্ষান্তরে শরিয়ত সূর্য ডোবার সংগে সংগে এমনকি মাগরিবের আজান দেয়ার পূর্বেই রোজা ভংগ করে; বলা হয় যে, একটু দেরীতে রোজা ভংগ করলে নাকি রোজা মাকরুহ হয়ে যায়।
কি বিভত্স বেদাতী শরিয়ত!
বিনীত।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



