দ্য প্রিজনার অব ঢাকা
গার্ডিয়ান পত্রিকায় রিপোর্ট
মানবজমিন ডেস্ক : বৃটেনের বহুলপ্রচারিত গার্ডিয়ান পত্রিকা বাংলাদেশের সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বুধবার ‘দ্য প্রিজনার অব ঢাকা’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই রিপোর্টের উল্লেখযোগ্য অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
জন পিলজারের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে দেশ থেকে একদিন উদ্ভব ঘটেছিল বৃটিশ সাম্রাজ্যের, সেই কবি, গায়ক, শিল্পী, মুক্তচিন্তাবিদ ও দুঁদে স্বৈরাচারীদের দেশের এক অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে দিন কাটছে একজন সাহসী সজ্জন মানুষের। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি ১৯৭১ সালের দিনগুলো থেকেই। তার নাম মওদুদ আহমদ। তখন তিনি তরুণ আইনজীবীÑ যিনি বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সমর্থক ছিলেন। স্কুলের ছাত্র থাকাকালেই ভাষা আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত এক তরুণের রক্তে মওদুদের শার্ট ভিজেছিল। ১৯৫৬ সালে মিশরে বৃটেন যখন হামলা করে তখন তিনি ঢাকায় বৃটিশ কনস্যুলেট অফিসে ইউনিয়ন পতাকা নামিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। পুলিশের বেয়োনেটের আঘাতে তিনি তখন আহত হন এবং সেই ক্ষত তাকে এখনও ভোগাচ্ছে। ১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করে তখন রাজপথে মওদুদের বিক্ষোভ মিছিলের ছবি বৃটেনের ডেইলি মিরর পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা হয়। মিরর পত্রিকায় আমার সেই রিপোর্টের শিরোনাম ছিল ‘বার্থ অব এ নেশন’। হত্যা, অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের পর এক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় মওদুদ শর্ত সাপেক্ষে উপ-প্রধানমন্ত্রী হতে সম্মত হন। শর্তানুযায়ী জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তারা একত্রে একটি দল গঠন করেন। কিন্তু মওদুদ যখন বললেন, দল হতে হবে গণতান্ত্রিক তখন তাকে বরখাস্ত করা হলো। যখনই তিনি লন্ডন আসতেন তখনই তিনি আমাদের অনেককেই ফোন করতেন। বাংলাদেশের জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায় বিচারÑ বিশেষ করে নারী অধিকারের প্রতি তিনি ছিলেন সোচ্চার। তিনি ফের গ্রেপ্তার হলেন। পরে তিনি কারাগার থেকে এমপি নির্বাচিত হন। গত বছর ১২ই এপ্রিল গভীর রাতে ২৫ জন সৈন্য ঢাকায় মওদুদের বাড়িতে জোরপূর্বক ঢুকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই। তারা মওদুদের বাড়ি তল্লাশি করে। চোখ বেঁধে এমন একটা স্থানে নিয়ে যায় যেটি ‘কৃষ্ণ গহ্বর’ হিসেবেই পরিচিত। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চলে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক আদায় করা হয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি। শেষ পর্যন্ত মদ রাখার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্ট তার মামলা ও আটকাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে।
মওদুদ টিউমারে ভুগছেন এবং ছয় মাস ধরে তাকে ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। তার স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ বলেছেন, তিনি ভীষণ অসুস্থ। তিনি বলেন, দলের কর্মী ও সমর্থক হওয়ার কারণে হাজার হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোটা দেশটি একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকে অবশ্যই এটি জানতে হবে। জন পিলজার তার রিপোর্টে বলেন, মওদুদের মামলার সঙ্গে মালয়েশিয়ার বিরোধী নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘটনার অসম্ভব মিল রয়েছে। তিনি এ সপ্তাহে সেখানকার স্বৈরাচারী শাসনকে উল্টে দিয়েছেন। উভয়ের মুখই বন্ধ করার আয়োজন করা হয়। অমিল কেবল আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সেখানে মওদুদ আহমদের ক্ষেত্রে কেবল নীরবতা। বিনা অভিযোগ বা বিচারে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ লন্ডন সফর করবেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে তার সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আমি ও অন্যরা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের কাছে লিখিতভাবে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে মওদুদকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। তিনি তার কোন জবাব দেননি। গর্ডন ব্রাউনের সা¤প্রতিক ঘোষণায় যদি স্বাধীনতার ছিটেফোঁটা অর্থও থেকে থাকে তাহলে তাকে ওই সাক্ষাৎকারের সময় অবশ্যই এ প্রশ্নটা উত্থাপন করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




