কবিতার খাতায় অনেকদিন কোন আঁচড় বসায় না আমার বন্ধু মাধব। 'সরল সত্যি' কবিতাটি লেখার পর থেকে কবিতা লেখার প্রতি যে টান তা অনেকটাই উঠে গেছে। যে কবিতায় সে লিখেছে তা যা মনে করেই লিখুক না কেন অভিমান করে বা এক আকাশ সমান কষ্ট নিয়ে যে সে দ্বিতীয় কারো ভালবাসা আর চায় না এর পরে কিভাবে কবিতা লিখবে মাধব কেননা ওর বেশীরভাগ কবিতার বিষয়বস্তু তো ওর এক একটি ভালবাসা। ভালবাসা যদি না থাকে তবে মাধবের কবিতা হারিয়ে যাওয়া কি স্বাভাবিক না।
সকাল থেকে আজ বৃষ্টি পড়ছে, শীতকালে সচরাচর বৃষ্টি পড়ে না তবে আজ আকাশের মন খারাপ বলেই কি বৃষ্টি পড়ছে নাকি মন খারাপ অন্য কারো। তমা কেমন আছে আজ মাধব তা জানে না, পাঁচ পাঁচটা দিন হয়ে গেল মেয়েটা একটা ফোন দিল না, এমন কেন ও। নীলের সাথে তো রোজ কথা হচ্ছে, কথা হচ্ছে তানিয়ার সাথেও। তাহলে মাধবের সাথে কথা হতে সমস্যা কোথায়। মাধব কি অপরাধে অপরাধী জানতে ইচ্ছা করে তার। সবকিছু তমার ইচ্ছামতই যদি চলে তাহলে মাধব আর কোথায় যেয়ে দাঁড়াবে।
মাধব একসময় মায়াকে ভালবাসত, কত কত কবিতাই না সে লিখল বছর তিনেকের বেশী জুড়ে মায়ার জন্য। ‘আকাশ মানবীর লাল টিপ’ থেকে শুরু করে ‘মালা তুমি কার’ প্রত্যেকটি কবিতাতেই অসীম ভালবাসা ছিল মায়ার জন্য, ভালবাসা না থাকলে যে কবিতা সৃষ্টি হত না আর কবিতা সৃষ্টি না হলে হয়ত মাধবের সাথে মায়ার এতটা দূরত্ব ও তৈরি হত না, যাই হোক এসব কথা এখন অতীত, তারপরেও অতীতকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না বলেই হয়ত মায়াকে নিয়ে মাধবের মন এখনো এক চিমটি হলেও ভাবে। মাধবের লেখা কবিতাগুলোর মধ্যে এজন্যই হয়ত ‘তুমি আমার’ কবিতাটি মাধবের এখনো অনেক প্রিয়। মাধবের মত মায়া কি কখনো মাধবকে নিয়ে এভাবে ভাবত, মাধব এই প্রশ্নের উত্তর জানে না, আজ সে জানতেও চায় না।
মাধবের মা তার ছেলেকে বিয়ে করাতে চায়, এজন্য তিনি সবাইকে মাধবের জন্য বঊ খুঁজতে বলেছেন কিন্তু মাধব এখন বিয়ে করতে চায় না, এমনকি আগামী চার বছরের মধ্যে তার বিয়ে করার ইচ্ছা নেই সে কথা তার মাকে জানিয়ে দিয়েছে, মাধব কাঊকে পছন্দ করে কিনা তা মাধবের মা জানতে চান কিন্তু মাধব এই প্রশ্নের কোন উত্তর দেয় না। মায়ার প্রতি মাধবের টানের কথা তিনি জানতেন, মায়াকে তার ও পছন্দ কিন্তু মাধব মায়াকে নিয়ে মায়ের সব প্রশ্ন এড়িয়ে যায়। মায়াকে এত বছর পর নতুন করে সে আর টেনে আনতে চায় না।
মায়ার প্রতি এত ভালবাসা থাকা সত্বেও কেন গত বছর মাধবের তার জীবনে তমাকে নিয়ে আসা সেই প্রশ্ন যেমন তমার মাঝে বিরাজমান তেমনি মাধবের মাঝেও যে এই প্রশ্ন উঁকি দেয়না তা নয়। মাধব এই প্রশ্নের উত্তর জানে না আর জানলেও দিতে চায় না কখনো। মায়াকে মায়ার জায়গায় রেখেই মাধব আজ তমাকে ভালবাসে আর তমা ? তমা কি ভালবাসে মাধবকে নাকি তমাও মায়ার মত মাধবের এক পাক্ষিক ভালবাসার ফসল?
তমার সাথে কথা বলে আমি জানতে পারি তমা মাধবকে ভালবাসে না, শুধুই একজন বন্ধু ভাবে, এর থেকে বেশী কিছু নয় কিন্তু মাধব দৃঢ় প্রত্যয়ে বিশ্বাস করতে চায় মাধবের জন্য তমার সামান্য হলেও কোথাও ভালবাসা লুকিয়ে আছে, হয়ত তা এখন প্রকাশ পাচ্ছে না তবে একদিন তা দেরীতে হলেও প্রকাশ পাবে। মাধবের মা তমা নামের কেউ মাধবের বন্ধু তালিকায় আছে জানতে পেরেছেন, তিনি ইতিমধ্যে তমার ছবিও দেখেছেন তবে তমাকে নিয়ে তার মনোভব কি মাধব তা এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারে নি তবে মাধবের বিশ্বাস মাধব তমাকে চাইলে মাধবের মা তার ছেলের জন্য হলেও তমাকে তার আদর ও ভালবাসা দিয়ে নিশ্চয়ই মেনে নিবেন।
মাধবের আকাশে একদিন মায়া ছিল, মায়ার জন্য ভালবাসা ছিল, আজ সেই আকাশে তমাকে নিয়ে উড়ছে সে কিন্তু মায়ার আকাশে যেমন মাধব ছিল না তেমন করেই আজ তমার আকশেও মাধব নেই, আছে নীল। তমা ও নীল পরস্পরকে ভালবাসে, মাধব সেটা ভাল করেই জানে তারপরেও মাধব নিজের সাথে অপেক্ষা নামের এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যদি সে অপেক্ষা অন্তহীন হয় তবে মাধবের যুদ্ধ ও চলবে অন্তহীন সময় ধরে।
গল্প বলি আর জীবন বলি সব কিছুরই একটা শেষ থাকে আর সেই শেষটায় বন্ধু মাধবের নতুন একটি সরল সত্যির কথাই কবিতার ভাষায় বলে যাই...
স্বপ্ন বলি, যুদ্ধ বলি
আশা বুনি, ভালবাসার খামার গড়ি
সব শেষে একটাই চাওয়া খোদার কাছে
তমার মুখে জীবন জুড়ে হাসি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


