somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্তিতি,প্রতিক্রিয়া চীনের জড়িয়ে যাবার আশংকা- ১

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে এক ধরনের ঘোলাটে পরিস্তিতি উদ্ভব ঘটেছে। তবে সামনের দিনে তা আরো ঘনীভুত হবার সম্ভাবনাকে আন্তঃর্জাতিক পরিস্তিতির আলোকে দেখবার জন্যই এই লেখায় কিছু বিষয়ের দিকে আলোকপাত করব। যা আমাদের জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কর্তৃত্ব নিয়ে বর্তমানে সংশয় দেখা দিয়েছে। তার কারনগুলোর একটি হল মিয়ানমার আর ভারত বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে তাদের যে অংশ নির্ধারন করেছে তাতে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মালিকানা থাকে কিনা তা অনেকটাই প্রশ্নের সম্মুখীন। যে জাতি তার পাঠ্যপুস্তকে সমুদ্রসীমা বাদ রেখে স্হল সীমানা কতদূর আর কতবড় সে সবক শেখায় তার কপাল যে এভাবেই পুঁড়বে তা বলাই বাহুল্য, তা সে বাঙালী জাতিই হোক অথবা বাংলাদেশী।

এখন ব্যাপারগুলো আরো যে রকম জটিল হয়েছে এবং তার সাথে যুক্ত হয়েছে পৃথিবীব্যাপী শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর কর্তৃত্ব বজায় রাখবার জোর প্রচেষ্টা।


মিয়ানমার-চীন এর সুসর্ম্পক কারোরই অজানা থাকবার কথা নয়। বর্তমানে মিয়ানমারে সামরিক জান্তা নামে যারা পরিচিত, তাদের টিকে থাকবার পিছনে একক রাষ্ট্র হিসেবে চীনের যে ভূমিকা তা অনেকাংশে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাঈলের টিকে থাকবার পেছনে মার্কিন ভূমিকার পদাঙ্ক অনুসরন করে।
কথাটা বেখাপ্পা মনে হলেও তার ভিত্তি খুঁজতে হবে, আমাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ethnic minority বিরুদ্ধে মিয়ানমার জান্তার দমন পীড়নের মাএা এবং সে অনুসারে রাষ্ট্রকে weaponize করবার প্রয়াসের মধ্যে।

১৯৮৮ সালে যখন এই সামরিক জান্তারা ক্ষমতা দখল করে, তার এক বছর পর ১৯৮৯ সালে চীনের উচ্চপদস্হ সামরিক কর্মকর্তারা মিয়ানমারের সাথে 1.4 বিলিয়ন ডলারের weapon চুক্তি হয়। যার মধ্যে প্রাধান্যকারী আইটেম ছিল জেট ফাইটার, ট্যাংক ও নাভাল সীপ ইত্যাদি।

১৯৯৪ সালে আবারো এই সামরিক জান্তারা চীনের কাছ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আবারো weapon চুক্তি হয়। এছাড়া এই বছরেই জাপানীজরা দাবি করে যে, মিয়ানমারের কোকো দ্বীপে যা ইন্ডিয়া অধিকৃত আন্দামান দ্বীপ থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্হিত,সেখানে চীন radar ও electronic surveillance system তৈরী করেছে। এছাড়াও মিয়ানমারের দক্ষিনান্ঞলে zadetkyi island এ সামরিক স্হাপনা তৈরী করেছে যা ইন্দোনেশীয়ার সাবাং দ্বীপ এর কাছে। যদিও মিয়ানমার তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

কৌশলগত দিক থেকে মিয়ানমারের ভূ রাজনৈতিক অবস্হান bay of bengal এ চীনের পৌছানোর জন্য সবচেয়ে সহজ পথ। যার কারণে "southwest silk road" ব্যবহার উপযোগী করে তুলবার পরিকল্পনা চীনের বহুদিনকার।
চীনের নৌবাহিনীকে bay of bengal এ পৌছাতে মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করতে হয় এবং সেখানে পৌছাতে তার সময় ৫দিন লাগে। কিন্তু মিয়ানমারের কারণে people's liberation army navy (PLAN) প্যাসেফিক ও ইন্ডিয়ান সাগরে এ পৌছতে ৩০০০কিলোমটার পথ কমিয়ে আনতে পারবে।


অর্থনৈতিক দিক থেকেও মিয়ানমারের অবস্হান চীনের জন্য গুরুত্ববহন করে। কারণ দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় চীনের মার্কেট বিস্তার করতে চাচ্ছে চীন। এই মার্কেটাও প্রায় ২০০ মিলিয়ন মানুষের বাজার। তাছাড়া থাইল্যান্ড, লাউস, ক্যাম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সাথে অর্থনৈতিক সর্ম্পক তৈরীতে মিয়ানমারের কৌশলগত অবস্হান চীনের বাজার বিস্তারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।
তাই কোনভাবেই মিয়ানমারের ভূ রাজনৈতিক অবস্হান অন্য পরাশক্তির কতৃর্ত্বে ছাড়তে নারাজ চীন। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×