( Evolution within the limitation & commend )
যারা মনে করেন বানর প্রজাতি বা গ্রেট-এপ্সদের পূর্বপুরুষই মানব জাতির পূর্বপুরুষ, সেই তথাকথিত বিবর্তনবাদীদের ধারণা ও সীমানির্দেশিত বিবর্তনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কিন্তু এক নয়। বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংক্ষেপে সীমানির্দেশিত বিবর্তন বলতে যা বোঝাতে চেয়েছি তা হলো- এক একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির জীবদের মধ্যে, এমনকি মানুষের মধ্যেও নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমসোম বাহিত জেনেটিক নিয়ন্ত্রনের আওতায় স্রষ্টা প্রদত্ত নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহের আদান প্রদান জণিত বিবর্তন অবশ্যই ঘটছে এবং তা ঘটছে একটি নির্দিষ্ট সীমার অভ্যন্তরেই। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে এককোষী অণুজীব সৃষ্টির মধ্য দিয়েই সম্ভবত জীবনের আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু তাই বলে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে ও অধীনে গতানুগতিক জন্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অণুকোষ থেকেই বংশানুক্রমে বিবর্তিত হতে হতে বানরেরা জন্ম নিয়েছে এবং এই বানরের প্রজাতি বা লুসি, কহ-টাহ-নউ-মুউ, আরডিদ ইত্যাদি জন্তুর পূর্বপুরুষদের ওউরশজাত হতেই বিবেকবান মানব জাতির জন্ম হয়েছে,--এই ভ্রান্ত ধারণাটি অন্তরে গেঁথে বসলে মানুষ ভ্রান্তির বেড়াজালে আটকা পরে। আর এই মনোভাব থেকেই ধীরে ধীরে প্রকৃতিবাদ তথা নাস্তিকতার দিকে ধাবিত হয়। আদি বানর প্রজাতির মধ্য থেকে বিবর্তিত হয়ে আধুনিক বানর অর্থাৎ বর্তমান কালের বানরেরা জন্ম নিয়েছে বটে। কিন্তু স্বাভাবিক বংশবিস্তারের মাধ্যমে এই বানরদের মধ্য থেকেই বিবর্তিত হয়ে আদিতথা আধুনিক মানুষের উদ্ভব ঘটেছে, এরূপ কোন সূহ্ম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি এবং এরূপ ভাববার কোন অবকাশও নেই। পৃথিবীতে মানুষের আগমন ও সৃষ্টি সম্পর্কে নানা মতবাদ প্রচলিত আছে এবং তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। তবে সকল গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ের সঠিক ও সূহ্ম জ্ঞান যে সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালার নিকটেই আছে তা অবনত মস্তকে স্বীকার করে নেয়াই শ্রেয়।
আল-কোরআন (Al-Quran)
সূরা হাশর:- (59.Al-Hashr // Exile) -আয়াত নং-২২
(৫৯ : ২২) হুয়াল্লা হুল্লাজি লা- ইলাহা ইল্লা হুয়া আলিমুল গায়বি ওয়াশ্শাহাদাতি হুয়ার রাহ্মানুর রাহীম।
(৫৯ : ২২) অর্থ:- তিনিই আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তিনি সকল গোপন ও প্রকাশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি পরম করুণাময় ও পরম দয়ালু।
আল-কোরআনের এই ঐশীবাণীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আমি কিছু বক্তব্য পেশ করতে চেয়েছি। আমার এই চিন্তা-ভাবনার মাঝে ভুল-ভ্রান্তি হয়ে গেলে পরম করুণাময় ও পরম দয়ালু আল্লাহতায়ালা যেন আমাকে ক্ষমা করেন।
মহাবিজ্ঞানময় সৃষ্টিকর্মের সূচনালগ্ন থেকেই মহান আল্লাহতায়ালা মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই পৃথিবীকে সুনিয়ন্ত্রিত ও সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলেন। সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দানের পূর্বে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহতায়ালার অসীম শক্তির মাঝে বিলীন ছিল। মহান স্রষ্টার ইচ্ছায় তাঁর অসীম শক্তির অতি সামান্য অংশের প্রভাবে এই সৃষ্টি জগতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ফলে কোন অজ্ঞাত সময়ে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যকার সমস্ত দৃশ্য ও অদৃশ্য বস্তু-জগৎ ও জীব-জগৎ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় মৌল কণিকা সমূহের গঠন সম্পন্ন হয়। পৃথিবীর বয়স সম্পর্কে ৪৫০ কোটি বছরের যে হিসেব দেখানো হয় তা এই ভূপৃষ্ঠে বাসযোগ্য পরিবেশ রচনার জন্য যথেষ্ট সময় হতে পারে। কিন্তু তা একটা শিশু-পৃথিবী সৃষ্টি করে তাতে জীবনের উন্মেষ ঘটানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জটিল জৈব অণুসমূহের প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জীবনবাহী বর্তমান পৃথিবীরূপে গড়ে তুলবার জন্য যথেষ্ট সময় নয় বলেই মনে হয়। সৌরমন্ডলের প্রধান আকর্ষণ জীব তথা মনুষ্যবাসের উপযোগী এই ঘুরন্ত পৃথিবীটা বর্তমানে আমাদের ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির একপ্রান্তে অতি ক্ষুদ্র অবয়বে পড়ে রইলেও একদা এই পৃথিবীটাই যে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিন্দুর আকারে জন্ম নিয়ে সৃষ্টিকালীন মূল ভূমিকার সাথে জড়িত ছিল না, তা জোর গলায় বলা যায় কি ? যেহেতু অর্ধেক চক্রন বিশিষ্ট অর্থাৎ ভরবাহী মৌল-কণিকাগুলি দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত পদার্থ গঠিত। সুতরাং বলবাহী মৌল-কণিকা যেমন গ্লুয়ন, ফোটন ইত্যাদি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভরবহী মৌল-কণিকা যেমন কার্ক, নিউট্রিনো ইত্যাদি সৃষ্টির ক্ষণ থেকেই পৃথিবী সৃষ্টির ভিত্তি রচিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া যুক্তিসংগত। পরবর্তীতে বিভিন্ন পরিবর্তন ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ মৌলিক পদার্থ কণিকা অর্থাৎ পরমাণু সমূহের গঠন সম্পন্ন হয়। অতঃপর ভূমন্ডলের স্তরগুলো সৃষ্টির উদ্দেশে পরমাণুগুলো পরস্পর মিলিত হওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট মৌলিক পদার্থসমূহ সৃষ্টি হতে থাকে। মহাকালের প্রবাহের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা রকম ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মৌলিক পদার্থগুলো আনুপাতিক হারে মিলিত হওয়ায় নানা বৈশিষ্ট্যের যৌগিক পদার্থগুলো (জৈব ও অজৈব) সৃষ্টি হতে থাকে। এগুলো স্তরে স্তরে সজ্জিত হওয়ায় নির্দিষ্ট আকৃতিতে পৃথিবীরূপে একটি সীমাবদ্ধ গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়। অপরদিকে সুউচ্চ সীমানার অন্তহীন দূরত্বকে সাতটি বিরাটকায় আসমানী অংশে বিভক্ত করার পর প্রতিটির জন্য নির্দিষ্ট ডাইমেনশন বা মাত্রার সীমানা নির্ধারন করে দেয়া হয়। ফলে আল্লাহতায়ালার বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট ডাইমেনশন বা মাত্রার নিয়ন্ত্রিত ছকে প্রথম আসমানের বিভিন্ন স্তর ও মহাস্তরগুলো সজ্জিত হয়ে চলেছে। এভাবে আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় ধীরে ধীরে সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ. উপগ্রহ ও বায়ুমন্ডলের স্তরগুলো পরিগঠিত হতে থাকে। প্রত্যেককে স্ব-স্ব স্থানে প্রয়োজনমত স্থাপন করে আমাদের কল্যাণে অবিরাম একই নিয়মের অনুবর্তী করা হয় এবং অক্ষতির্যকতা সৃষ্টি করায় ভূপৃষ্ঠে ধীরে ধীরে জীবন সৃষ্টি ও প্রতিপালনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠে।
এ ধরণীতে ঠিক কতকাল পূর্বে জীবনের উন্মেষ ঘটেছে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কোটি কোটি বছর পূর্বে আবির্ভূত এলজে জাতীয় সামূদ্রিক আগাছা বা শ্যাওলাকে জীবনের প্রচীনতম নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং পানিতেই সর্বপ্রথম জীবনের সূত্রপাত ঘটে। তাছাড়া সমস্ত জীবেরই দৈহিক গঠনে, জীবনের স্পন্দনে এবং জীবন ধারণের জন্য পানি অপরিহার্য এবং এর কোন বিকল্প নেই। জীবনের স্পন্দনে পানির উপস্থিতিই যে একমাত্র পূর্বশত তা আজ একটি চরম বৈজ্ঞানিক সত্য। ঐশী গ্রন্থ আল-কোরআনে এ তথ্যটি এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে-
আল-কোরআন (Al-Quran)-
সূরা নূর:- (24.An-Noor // The Light)-আয়াত নং-৪৫
(২৪ : ৪৫) অর্থ:- আল্লাহ্ সকল প্রকার প্রাণীকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে।
সূরা ত্বহা:-(20.Ta-Ha // Ta-Ha)-আয়াত নং-৫৩
(২০ : ৫৩) অর্থ:- এবং তিনিই আকাশ থেকে বরি বর্ষান এবং তা দ্বারা আমরা জোড়ায় জোড়ায় বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।
বিজ্ঞান:-
বর্তমানে একদল বিজ্ঞানী পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টি সম্পর্কে নুতন তথ্য দিয়েছেন। ভাসেলডরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর উইলিয়াম মার্টিন এবং গ্লাসগোতে স্কটিশ এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ সেন্টারের প্রফেসর মাইকেল রাসেল এর মতে:--প্রাণ সৃষ্টির আগে কোষের জন্ম হয়। প্রথমে কোষ জীবন্ত ছিল না। এটি মৃত ছিল এবং এর সৃষ্টি হয় আয়রন সালফাইড হতে। বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে, জীবনের সৃষ্টি হয়েছিল সমূদ্রের তলদেশে অন্ধকারে জলমগ্ন ক্ষুদ্র পাথুরে পরিবেশে অর্থাৎ আয়রন সালফাইড পাথরের তৈরি অতি ক্ষুদ্র প্রোকষ্ঠ ইনঅরগ্যানিক ইনকিউবেটরে। তাদের বর্ণনা অনুসারে সতন্ত্র ও সংরক্ষিত কোন স্থানে বা আধারে প্রথমে জীব কোষের গঠন সম্পন্ন হয়। প্রথমে কোষ মৃত ছিল। পরবর্তীতে তা প্রাণের মলিকিউলে পূর্ণ হয় অর্থাৎ কোষে প্রাণ সঞ্চার ঘটে।
আল-কোরআন (Al-Quran) -
সূরা মুরসালাত-(77.Al-Mursalat // The Emissaries)-আয়াত নং-(২০ - ২৩)
(৭৭ : ২০) আলাম নাখলুক্বকুম মিম মা- য়িম মাহীন।
(৭৭ : ২০) অর্থ:- আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি ?
(৭৭ : ২১) ফাজ্বা‘আলনা-হু ফী ক্বারা-রিম মাকীন।
(৭৭ : ২১) অর্থ:- অতঃপর আমি তা রেখেছি সংরক্ষিত আধারে।
(৭৭ : ২২) ইলা- ক্বাদারিম মা’লূম।
(৭৭:২২) অর্থ:- এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত।
(৭৭ : ২৩) ফাক্বাদরনা- ফানি’মাল ক্বা- দিরূন।
(৭৭ : ২৩) অর্থ:- অতঃপর আমি পরিমিত আকারে সৃষ্টি করেছি, আমি কত নিপুণ স্রষ্টা।
সূরা সিজদাহ্:-(32.As-Sajda // The Prostration)-আয়াত নং-(৭ - ৯)
(৩২ : ০৭) লাজী-আহছানা কুল্লা শাইয়িন খালাক্বাহূ ওয়া বাদাআ খালাক্বাল ইনছা-নি মিন ত্বীন।
(৩২ : ০৭) অর্থ:- তিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।
(৩২ : ০৮) ছুম্মা জ্বা‘আলা নাছলাহূ মিন ছুলা-লাতিম মিম মা-য়িম মাহীন।
(৩২ : ০৮) অর্থ:- অতঃপর তিনি তার বংশধারা বা ভিত্তি স্থাপন করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।
(৩২ : ০৯) ছুম্মা ছাওয়্যা-হু ওয়া নাফাখা ফীহি মির রূহিহী ওয়া জ্বা‘আলা লাকুমুছ ছাম‘আ ওয়াল ওয়াবছা-রা ওয়াল আফ্য়িদাহ ; ক্বালীলাম মা-তাশকুরূন।
(৩২ : ০৯) অর্থ:- অতঃপর তিনি ওকে সুষম করেছেন এবং তাঁর নিকট হতে ওতে রূহ (প্রাণ) সঞ্চার করেছেন এবং পরিগঠন করেছেন তোমাদের কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরন। তোমরা অতি সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
(32 : 09) Then He set him right and breathed into him of His spirit and gave to you ear, and eyes and heart. What a little gratitude you acknowledge?
সূরা দাহর-(76.Al-Insan // Man)-আয়াত নং-১ ও ২
(৭৬ : ১) হাল আতা-‘আলাল ইনছা- নি হীনুম মিনাদ দাহরি লাম ইয়াকুন শাইআম মাজকুরা।
(৭৬ : ১) অর্থ:- নিশ্চয় এমন কিছু কাল অতিবাহিত হয়েছে- যখন মানবসত্তা উলেখযোগ্য কিছু ছিল না।
(৭৬ : ০২) ইন্না- খালাক্বনাল ইনছা- না মিন নুত্বফাতিন আমশা- জ্বিন নাবতালীহি ফাজ্বা‘আলনা- হু ছামী‘আম বাছীর।
(৭৬ : ০২) অর্থ:- আমি তো মানুষকে সংমিশ্রিত পরিচ্ছন্ন পানির বা তরল পদার্থের বাছাইকৃত বা পরিবর্তিত অতি সামান্য অংশ থেকে সৃষ্টি করে তাকে পরিগঠন করেছি শ্রবণ ও দর্শনকারী রূপে। (ক্রমশঃ চলবে).......
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৮:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



