( Evolution within the limitation & commend )
বিজ্ঞান:-
বর্তমানে একদল বিজ্ঞানী পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টি সম্পর্কে নুতন তথ্য দিয়েছেন। ভাসেলডরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর উইলিয়াম মার্টিন এবং গ্লাসগোতে স্কটিশ এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ সেন্টারের প্রফেসর মাইকেল রাসেল এর মতে:--প্রাণ সৃষ্টির আগে কোষের জন্ম হয়। প্রথমে কোষ জীবন্ত ছিল না। এটি মৃত ছিল এবং এর সৃষ্টি হয় আয়রন সালফাইড হতে। বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে, জীবনের সৃষ্টি হয়েছিল সমূদ্রের তলদেশে অন্ধকারে জলমগ্ন ক্ষুদ্র পাথুরে পরিবেশে অর্থাৎ আয়রন সালফাইড পাথরের তৈরি অতি ক্ষুদ্র প্রোকষ্ঠ ইনঅরগ্যানিক ইনকিউবেটরে। তাদের বর্ণনা অনুসারে সতন্ত্র ও সংরক্ষিত কোন স্থানে বা আধারে প্রথমে জীব কোষের গঠন সম্পন্ন হয়। প্রথমে কোষ মৃত ছিল। পরবর্তীতে তা প্রাণের মলিকিউলে পূর্ণ হয় অর্থাৎ কোষে প্রাণ সঞ্চার ঘটে।
আল-কোরআন (Al-Quran) :-
সূরা মুরসালাত:-(77.Al-Mursalat // The Emissaries)-আয়াত নং-(২০ - ২৩)
(৭৭ : ২০) আলাম নাখলুক্বকুম মিম মা- য়িম মাহীন।
(৭৭ : ২০) অর্থ:- আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করিনি ?
(৭৭ : ২১) ফাজ্বা‘আলনা-হু ফী ক্বারা-রিম মাকীন।
(৭৭ : ২১) অর্থ:- অতঃপর আমি তা রেখেছি সংরক্ষিত আধারে।
(৭৭ : ২২) ইলা- ক্বাদারিম মা’লূম।
(৭৭:২২) অর্থ:- এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত।
(৭৭ : ২৩) ফাক্বাদরনা- ফানি’মাল ক্বা- দিরূন।
(৭৭ : ২৩) অর্থ:- অতঃপর আমি পরিমিত আকারে সৃষ্টি করেছি, আমি কত নিপুণ স্রষ্টা।
সূরা সিজদাহ্:-(32.As-Sajda // The Prostration)-আয়াত নং-(৭ - ৯)
(৩২ : ০৭) লাজী-আহছানা কুল্লা শাইয়িন খালাক্বাহূ ওয়া বাদাআ খালাক্বাল ইনছা-নি মিন ত্বীন।
(৩২ : ০৭) অর্থ:- তিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।
(৩২ : ০৮) ছুম্মা জ্বাআলা নাছলাহূ মিন ছুলা-লাতিম মিম মা-য়িম মাহীন।
(৩২ : ০৮) অর্থ:- অতঃপর তিনি তার বংশধারা বা ভিত্তি স্থাপন করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।
(৩২ : ০৯) ছুম্মা ছাওয়্যা-হু ওয়া নাফাখা ফীহি মির রূহিহী ওয়া জ্বাআলা লাকুমুছ ছামআ ওয়াল ওয়াবছা-রা ওয়াল আফ্য়িদাহ ; ক্বালীলাম মা-তাশকুরূন।
(৩২ : ০৯) অর্থ:- অতঃপর তিনি ওকে সুষম করেছেন এবং তাঁর নিকট হতে ওতে রূহ (প্রাণ) সঞ্চার করেছেন এবং পরিগঠন করেছেন তোমাদের কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরন। তোমরা অতি সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
(32 : 09) Then He set him right and breathed into him of His spirit and gave to you ear, and eyes and heart. What a little gratitude you acknowledge?
সূরা দাহর:-(76.Al-Insan // Man)-আয়াত নং-১ ও ২
(৭৬ : ১) হাল আতা-আলাল ইনছা- নি হীনুম মিনাদ দাহরি লাম ইয়াকুন শাইআম মাজকুরা।
(৭৬ : ১) অর্থ:- নিশ্চয় এমন কিছু কাল অতিবাহিত হয়েছে- যখন মানবসত্তা উলেখযোগ্য কিছু ছিল না।
(৭৬ : ০২) ইন্না- খালাক্বনাল ইনছা- না মিন নুত্বফাতিন আমশা- জ্বিন নাবতালীহি ফাজ্বাআলনা- হু ছামীআম বাছীর।
(৭৬ : ০২) অর্থ:- আমি তো মানুষকে সংমিশ্রিত পরিচ্ছন্ন পানির বা তরল পদার্থের বাছাইকৃত বা পরিবর্তিত অতি সামান্য অংশ থেকে সৃষ্টি করে তাকে পরিগঠন করেছি শ্রবণ ও দর্শনকারী রূপে।
আলোচনা:-
সুতরাং আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের তথ্যগুলো পর্যালোচনা করলে ঝুঝে নেয়া যায় যে, মহাবিজ্ঞানময় সৃষ্টিকর্মের ধারাবাহিকতায় এই ভূপৃষ্ঠে এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন জীবনের কোন স্পন্দন ছিল না। (৭৬:১)ফলে মানবসত্তা তথা সকল জীবিত সত্তাগুলো তখন প্রাণহীন অর্থাৎ অনুল্লেখযোগ্য অবস্থায় কাদামাটি (৩২:৭) অর্থাৎ তুচ্ছ (৭৭:২০) পানি ও মাটির বিভিন্ন উপাদানসমূহের মিশ্রিত অতি সামান্য অংশের মাঝে প্রক্রিয়াধীন ও ধাপে ধাপে পরিবর্তনশীল অবস্থায় কালাতিপাত করছিল। একদা অণুজীব সৃষ্টির মত উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠলে আল্লাহর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ও পরিবেশে, (৭৭:২১) সংরক্ষিত কোন স্থানে বা আধারে (বিজ্ঞানে বর্ণিত ইনঅরগ্যানিক ইনকিউবেটরে) পানি ও মাটির সংমিশ্রিত সারনির্জাস অর্থাৎ (৭৬:২) পানি, অজৈব ও জৈব খনিজ উপাদানসমূহের মিশ্রনের অতি সামান্য অংশকে একটি (৭৭:২২) নির্দিষ্টকাল ব্যাপী প্রক্রিয়াজাত করা হয়। ফলে অতি সূহ্ম (৭৭:২৩)ডিএনএ, আর.এন.এ ও প্রোটিন অণুগুলোর গঠন সম্পন্ন হয় এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সরল এককোষী অণুজীবগুলোর কাঠামো বা আকৃতি গঠিত হতে থাকে।
আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণা অনুযায়ী সূহ্ম ডি এন এ-এর যে অংশ একটি পলিপেপটাইড উৎপাদনের সংকেত বহন করে সেই অংশকেই গঠনগত জীন বলে। বংশধারার নিয়ন্ত্রণকারী একক হলো এই জীন। ১৯০৩ খৃষ্টাব্দে Johannsen বংশধারার নিয়ন্ত্রক বস্তুকে জীন নাম দেন। সুতরাং (৩২:৮) ডি এন এ অণু গঠনের ফলে এবং এতে আল্লাহ্ প্রদত্ত জীন বাহিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণেই অণুকোষ তথা জীবের বংশধারা বা ভিত্তি রচিত হয়।
সরল এককোষী অণুজীবগুলোর কাঠামো (৩২:৯) বা আকৃতি গঠিত হওয়ার সাথে সাথে মহান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় অণুকোষগুলো প্রাণের মলিকিউলে পূর্ণ হয় অর্থাৎ অণুজীবগুলোর মধ্যে প্রাণের সঞ্চার ঘটে। ফলে অণুজীবগুলো পর্যায়ক্রমে জীবন লাভ করে। অতঃপর আল্লাহর বেঁধে দেয়া প্রকৃতিগত বিশেষ নিয়মে এক একটি জীবন্ত ও স্বতন্ত্র অণুজীব থেকে যুগে যুগে অসংখ্য অণুজীব জন্ম নিতে থাকে।
মহাকালের প্রবাহের কোন এক পর্যায়ে বহুকোষী জীবজগৎ সৃষ্টির মত উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠলে নিয়ন্ত্রিত নির্দিষ্ট সময় ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমসোমের অধিকারী ও আল্লাহ প্রদত্ত জীন বাহিত সতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এক একটি সতন্ত্র প্রজাতির মাতৃ-জীবকোষ অর্থাৎ ডিম্ব-কোষের গঠন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করে আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় সেগুলোর মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করা হয়।
তেমনি মানব সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠলে (৩২:৯) ৪৬টি অর্থাৎ ২৩ জোড়া ক্রোমসোমের অধিকারী মাতৃ-মানবকোষ সৃষ্টি করা হয়। এই মাতৃ-মানবকোষে আল্লাহ প্রদত্ত জীন বহিত মানব বৈশিষ্ট্যগুলোর উন্মেষ ঘটিয়ে (৩২:৯) সুষমভাবে গঠন করা হয় এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা ও অলৌকিক শক্তির পরশে এতে প্রাণের (রূহ্) সঞ্চার ঘটে। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি স্বতন্ত্র প্রজাতির বৈশিষ্ট্যধারী জীবকোষ থেকে প্রতিটি স্বতন্ত্র প্রজাতির মূল পুরুষ ও স্ত্রী বৈশিষ্ট্যধারী জীবদের প্রত্যেককে তথা মাতৃ-মানবকোষ থেকে প্রথম মানব ও মানবিকে আল্লাহর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ও পরিবেশে পরিমিতভাবে ও পূর্ণাঙ্গরূপে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরনের অধিকারী করে সৃষ্টি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিটি প্রজাতির জীব তথা মানুষের ক্ষেত্রেও বংশ রক্ষার জন্য প্রাকৃতিক স্বাভাবিক নিয়মগুলো বেঁধে দেয়া হয়েছে। (৩২:৮) এই নিয়মগুলোর (জৌন ও অজৌন জনন) অধীনে অবাধ বংশবিস্তারের ফলে ও সীমানির্দেশিত বিবর্তনের কারণে প্রতিটি প্রজাতির মধ্য থেকে সেই প্রজাতির অন্তর্গত নানা শ্রেণীর ও প্রকারের বিবর্তিত ও বংশবিস্তারক্ষম জীবেরা আজও জন্ম নিচ্ছে। মহান স্রষ্টা এই জীবদের মধ্য থেকে যাদেরকে বিলুপ্ত করতে চেয়েছেন তাদের বিলুপ্তি ঘটেছে এবং যাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছেন তারা আজও বেঁচে আছে।
প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট প্রজাতির জীবকোষে সেই প্রজাতিটির জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট সংখ্যক জীন বহিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকে। গতানুগতিক স্বাভাবিক জন্ম প্রক্রিয়ার অধীনে নির্ধারিত স্বাভাবিক জীন বাহিত বৈশিষ্ট্যগুলোর আদান প্রদান ঘটে। ফলে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রাণীদের মাঝে জেনেটিক নিয়ন্ত্রনের আওতায় একটি নির্দিষ্ট সীমানার অভ্যন্তরেই বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশগত বৈষম্যের কারণে আকৃতি ও প্রকৃতিগত কতিপয় বায়োলজিকাল পরিবর্তন অর্থাৎ সীমানির্দেশিত বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু তাই বলে একটি নির্দিষ্ট জীব প্রজাতি থেকে কখনই স্রষ্টা প্রদত্ত নির্দিষ্ট জীন বাহিত বৈশিষ্ট্যের সীমানা অতিক্রম করে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নুতন জীব প্রজাতির জন্ম হয় না। যেমন ধানের বীজ থেকে গম হয় না, কাকের ডিম থেকে কোকিল এবং শিম্পাঞ্জীর পেট বা ঔরশ থেকে মানুষের জন্ম হয় না। এখনও এ ধরনের কোন প্রমাণ মেলেনি, কখনও মিলবেও না।
বিভিন্ন কারণে জীবকোষের মধ্যে কখনো মিউটেশন ঘটলে ত্রুটিপূর্ণ ক্রোমসোম বা জীনের উদ্ভব ঘটতে পারে। আর এই ত্রুটিপূর্ণ জীনের কারণে প্রজননের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির অন্তর্গত কিছুটা ভিন্ন আকৃতি ও প্রকৃতির নুতন এক প্রকার জীবের জন্ম হতে পারে। আবার নিকট সাদৃশ্যের বৈশিষ্ট্যধারী দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে কদাচিত প্রজনন ঘটলে কিছুটা ভিন্ন আকৃতি ও প্রকৃতির সংকর প্রজাতির জীবের জন্ম হয় বটে। কিন্তু দেখা গেছে যে, সংকর প্রজাতির প্রণীদের প্রজনন ক্ষমতা লোপ পাওয়ায় বা অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিক বংশবিস্তারের পথরুদ্ধ হয়। ফলে অচিরেই এর বিলুপ্তি ঘটে। যেমন লাইগার, টাইগন, খচ্চর ইত্যাদি।
তবে একই প্রজাতির অন্তর্গত জীবদের মাঝে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলোর আদান প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে স্বাভাবিক জন্ম-প্রক্রিয়ার আওতায় উন্নত বৈশিস্ট্যসম্পন্ন স্বাভাবিক জীব জন্মগ্রহন করে। মানুষের ক্ষেত্রেও প্রজননের মাধ্যমে মাতা ও পিতার মধ্যকার স্বাভাবিক জীনবাহিত মানব-বৈশিষ্ট্যগুলোর আদান প্রদানের ফলে সীমানির্দেশিত বংশগত বিবর্তনের ধারায় স্বাভাবিক নব প্রজন্মের আগমন ঘটে।
কিন্তু মিউটেশনযুক্ত অস্বাভাবিক ক্রোমসোম বা জীনের কারণে কখনো কখনো বংশগতভাবে ব্যাধিগ্রস্ত বা অস্বাভাবিক মানব প্রজন্মের সূচনা হতে পারে। যেমন-
*ক্রোমসোম ২১ একটি অতিরিক্ত অর্থাৎ এক জোড়ার পরিবর্তে তিনটি থাকলে ‘Down Syndrome’ নামক অস্বাভাবিক শিশু জন্ম নেয়:--জন্মগতভাবে এদের মুখমন্ডল অস্বাভাবিক হয়। দুটি চোখের ব্যবধান বেশী হয় ও চোখের পাতায় ভাঁজ থাকে, নাক চ্যাপ্টা, মুখ কিছুটা খোলা ও হাত, পা এবং হৃদপিন্ড অস্বাভাবিক হয়।
*ক্রোমসোম ১৮ একটি অতিরিক্ত অর্থাৎ এক জোড়ার পরিবর্তে তিনটি থাকলে ‘Edward’s Syndrome’ দেখা দেয়:- এদের মাথা পাশাপাশি চ্যাপ্টা, হাত ছোট ও আঙ্গুলের ছাপ সরল হয়। এরা দুর্বল ও ছোট হয়। এদের মানসিক অপূর্ণতা খুব বেশী হয়। এরকম বাচ্চা এক বছর বয়সেই মারা যায়।
*ক্রোমসোম ১৩ একটি অতিরিক্ত থাকলে ‘Patau Syndrome’ দেখা দেয়:--এদের মানসিক অসম্পূর্ণতা খুব বেশী। দেহের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ অঙ্গে সাংঘাতিক ত্রুটি থাকায় এরা জন্মের পরেই মারা যায়।
*সেক্স-ক্রোমসোম X দুইটি ও Y একটি থাকলে 'Kleinfelter’s syndrome' দেখা দেয়- এদের ক্রোমসোমের সংখ্যা ৪৭। এর মধ্যে অটোসোম ৪৪টি অর্থাৎ (৪৪ টি অটোসোম + X X Y )। এরকম লোকেরা মোটা, হাত-পা দীর্ঘ ও দেহ লোমযুক্ত হয়। বুদ্ধি কম হতে পারে। এরূপ পুরুষেরা শুক্রাণু উৎপন্ন না হওয়ায় সাধারনত অনুর্বর হয়।
*Turner’s Syndrome:- এরূপ স্ত্রীলোকের সেক্স-ক্রোমসোম X একটি কম থাকে। এদের ক্রোমসোমের সংখ্যা ৪৫। এরা খর্বাকৃতির হয়। বর্মের মত বুক, ছোট গৃবা, হাতটা কনুই থেকে কিছুটা বাঁকা থাকে। চোখ, কান, নখ ও হৃদপিন্ডের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। এদের যৌন চরিত্র সাধারনত অপরিনত থাকে।
আবার লীথ্যাল বা প্রাণনাশক জীনের উপস্থিতিতে জীবনীশক্তি হ্রাস পায় এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে থাকে। যেমন:-
*একটি লীথ্যাল জীন হোমজাইগাস অবস্থায় থাকলে ‘Amaurotic Idioc’ নামক অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়:- শৈশবেই অর্থাৎ ৪-৭ বছর বয়সেই এদের দৃষ্টিশক্তি লোপ পায়। বয়ঃবৃদ্ধির আগেই অন্ধত্বের পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। ফলে অচিরেই এদের মৃত্যু ঘটে।
*অন্য একটি লীথ্যাল জীন হোমজাইগাস অবস্থায় থাকলে ‘Icthyosis’ রোগ হয়:- শিশুকাল থেকেই এদের ত্বক মোটা, শক্ত, খোলসযুক্ত ও গভীর খাঁজবিশিষ্ট হয় । এই খাঁজ থেকে রক্তপাত হয় এবং বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ঘটায় এদের মৃত্যু হয়।
*এছাড়াও সেমি-লীথ্যাল জীনের প্রভাবে Huntington’s Chorea, Epilopia, Retinoblastoma ইত্যাদি রোগ হয়।
এই পৃথিবীতে কতকাল পূর্বে মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে তা সঠিকভাবে জানতে পারা না গেলেও অন্ততঃ এটুকু বুঝে নেয়া যায় যে, প্রথম মানব ও মানবী হযরত আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রচনার পূর্বক্ষণে মানুষের সাথে আকৃতি, প্রকৃতি, দৈহিক শক্তি, সক্রিয় ক্ষমতা ইত্যাদি কতিপয় নিকটতর সাদৃশ্যের বৈশিষ্ট্যধারী ওরাংওটাং, গরিলা, শিম্পাঞ্জী, গ্রেট অ্যাপস্ তথা মানুষের পূর্বপুরুষ হিসেবে অন্য যেসব জন্তুদের কথা বলা হচ্ছে ওদের আবির্ভাব ঘটাই স্বাভাবিক এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে যুক্তিসংগত। এ পর্যন্ত মানবকোষের ক্রোমসোমে তিনশ কোটি জেনেটিক-লেটারস্ আবিষকৃত হয়েছে। মহান আল্লাহতায়ালা এই তিনশ কোটির ১% - ১.২% অর্থাৎ প্রায় তিন কোটি জেনেটিক লেটারস বাহিত সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র মানব-বৈশিষ্ট্যসমূহের বা হিউম্যান জেনম- এর অধিকারী হিসেবে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এই হিউম্যান জেনম- এর কারণেই মানুষের পূর্বপুরূষ হিসেবে ধারণাকৃত জন্তুদের থেকে মানুষ স্বতন্ত্র জীব হিসেবে পরিগণিত হয়। কোন কোন দিক থেকে যতই নিকটতর হিসেবে প্রতীয়মান হোক না কেন, ঐসব ২৪ জোড়া ক্রোমসোমধারী জন্তুদের মধ্য থেকে ২৩ জোড়া ক্রোমজোমের অধিকারী ও “হিউম্যান জেনম” অর্জনকারী মানব-শিশু কখনও জন্ম নেয়নি এবং নেবেও না। মলিকুলার বায়োলজি, জেনেটিক্স ও জীবাশ্মবিজ্ঞানের বর্তমান অগ্রগতির আলোকে এ ধরণের কোন প্রমাণ এখনও মেলেনি। মানুষ সৃষ্টির জন্য অবশ্যই মানব বৈশিষ্ট্যধারী প্রাণের একক অর্থাৎ জীবন্ত ও পূর্ণাঙ্গ মানবকোষ গঠনই পূর্বশর্ত হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। আর এই জীবন্ত মানবকোষ কেবলমাত্র মহান আল্লাহতায়ালার নিয়ন্ত্রিত পরশেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। সুতরাং মানুষের পূর্বপুরুষ মানুষই। মানুষের পূর্বপুরুষের সন্ধান পেতে হলে ২৩ জোড়া ক্রোমজোমের অধিকারী ও “হিউম্যান জেনম” অর্জনকারী আদি মানবের সন্ধানই করতে হবে।
এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহতায়ালার শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি একই আদি পিতা-মাতার সন্তান-সন্ততি হিসেবে এই পৃথিবীর সব মানবমন্ডলী পরস্পর একই সূত্রে গাঁথা ও পরম আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। আল্লাহতায়ালা মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাই শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শণ স্বরূপ সকল সৃষ্টির হিত সাধনের জন্য মানুষকে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। কারণ শুধু শক্তি অর্জন করলেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় না। বরং অর্জিত শুভ শক্তিকে সকল অন্যায় রোধে এবং সত্য, সুন্দর, কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই কেবল প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হতে পারে। আল্লাহতায়ালা মানুষকে ভাল-মন্দ বিচারের ক্ষমতা অর্থাৎ বিবেক দান করেছেন এবং সেইসাথে সত্য ও শান্তির পথে সঠিকভাবে চলার জন্য জ্যোতির্ময় মুযিযা স্বয়ং আল্লাহর বাণী আল-কোরআন দান করেছেন। যা চিরন্তনভাবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সর্বোত্তম জীবনবিধান। বুদ্ধি ও বিবেকের সহায়তায় ঐশীবণীসমূহের মর্মার্থ অনুধাবন এবং রাসূলাল্লাহ্ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর আদর্শের প্রকৃত অনুসরন ও সেই অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করতে পারলেই একজন মানব সন্তান প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হয়। আর এই সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমেই কেবল বিভ্রান্তির নাগপাশ থেকে বেরিয়ে এসে ইহকালীন ও পরকালীন চুড়ান্ত লক্ষ্যে উপনীত হওয়া সম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



