somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাল চাইলে মাদককে লাথি মেরে ও মদ্যপকে লাঠিপেটা করে মানুষ বানাও-

২৭ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথায় কথায় একে অন্যের মুন্ডুপাত করলেই কি কাম হবে? এদিকে যে মাদকের নেশার চালে বাংলার মেরুদন্ড ভেঙে মুন্ডু নিপাতের নিল-নকশা আঁকা হচ্ছে, সেদিকে কি খেয়াল আছে? বাঙালী মাতাল হলে তো ওদেরই কামাল। এখনও টাইম আছে, ভাল চাইলে স্বার্থবাদীরা চরম ছোবল মারার আগেই আর ঘোরের মধ্যে না থেকে বাংলার দামালেরা জাগো।

আমাদের এই প্রাণের দেশটা মাদক চোরাচালানের আড্ডাখানা আর তরুণ সমাজ মাদক-মত্ত হোক তা কোন দেশপ্রেমিকের কাম্য হতে পারে না। দিনকে দিন মাদকের নেশা এমনই সাংঘাতিক পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যে, শেষে কুকুর মারার ওষুধও নাকি মাদক সেবিদের নেশার তালিকায় স্থান পেয়েছে। কিন্তু কোন পথে কেমন কোরে আসছে এসব? জাতিয় দৈনিক পত্রিকার পাতা খুললে এই খবরগুলো সহজেই চোখে পড়ে। কিছুদিন আগে একটি পত্রিকায় দেখলাম- ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং এর আশপাশে মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যেই নাকি কেনা বেচা চলছে। বেশ কিছু সংখ্যক মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে পিছিয়ে নেই ছাত্রীরাও। এমনকি মেয়ে শিশুরাও মাদকের ঝুঁকির বাইরে নয়। রাজধানীর বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নাকি বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। নেশায় আসক্ত ছাত্র ছাত্রীরা মাদক বিক্রেতাদের সাথে সহজে যোগাযোগের জন্য কম দামের মোবাইল কিনে দিয়েছে । মোবাইল কল পেলে তারা বিভিন্ন হোস্টেলসহ নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে মাদক পৌঁছে দেয়। অনেককে আবার শিরায় ইনজেকশন দিয়ে দিতে হয় বলেও তারা জানিয়েছে। তাতে বাড়তি টাকাও মেলে। ইদানিং মানুষ, মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুর পেটে পুরে এবং কাঠাল, ডাব, আনারস, পেঁপে সহ তরিতরকারির ভিতরে লুকিযে ইয়াবা পাচার হচ্ছে। চাঁনখারপুল, চকবাজার এলাকার কিছু ওষুধের দোকানে বিভিন্ন নেশার ইনজেকশন পাওয়া যায় বলেও আসক্তরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের নাকের ঢগার উপর দিয়ে প্রতিদিনই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন এলাকাসহ মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল ছাড়াও ইনজেকশন ও নানা রকমের মাদক সেবনের আড্ডা জমজমাট হয়ে ওঠে। এই যদি হয় উচ্চ বিদ্যাপিঠগুলোর অবস্থা, তাহলে পরিস্থিতিটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে তা গভীরভাবে ভেবে দেখা দরকার। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য বিক্রয় ও প্রকাশ্যেই সেবন বা গ্রহণ করছে মাদকাসক্তরা। তারা শিরায় নিচ্ছে ইনজেকশন। প্যাথেডিন ছাড়াও ভারতে কুকুর মারার জন্য যে ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়, সেটাও গ্রহণ করছে মাদকসেবীরা।

মাদকের কবলে পড়ে শুধুমাত্র কোন নির্দিষ্ট দেশ বা জাতি নয়, গোটা বিশ্বের সমাজ ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন। নেশায় আসক্ত মানুষের কাছে ভালবাসা মূল্যহীন। ভাল কথায় যতই বোঝানো হোক না কেন, মাদকের গন্ধ পেলে ওরা সবই যায় ভুলে। কিন্তু তাই বলে স্বার্থপরের মত "নেশা খাবি খা, মারা যাবি যা"- এমনটি বলে হাল ছেড়ে দেবার পক্ষে আমি নই। ভালবাসা ও ভাল কথায় কাজ না হলে তাদের মদ্যপ মনকে বাগে আনার জন্য দরকার পড়লে প্রথমে আচ্ছা করে লাঠিপেটা করতে হবে। আর মাদক চোরাচালানকারীদের ধরে ধরে কঠিন সাজা দিতে হবে। মাদকাসক্তদের বিশেষ স্থানে আটকে রেখে শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোপরি মাদক-মুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক লড়াই চাই। যত ব্যবস্থাই নেয়া হোক না কেন, মানুষ যতদিন পর্যন্ত মন থেকে এটিকে ঘৃণাভরে লাথি মেরে দূরে ঠেলে দিতে না পারবে, ততদিন এই নেশার হাত থেকে মুক্তি মেলা ভার। সেজন্য নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল স্তরের জনগণকে মাদকের খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কু-সংস্কারমুক্ত স্বচ্ছ ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আর একদম দেরী না কোরে এর বিরুদ্ধে দেশের সরকারকেও সময় উপযোগী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেই সাথে পারিবারের মধ্যে সুসম্পর্কের বন্ধন সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে বাবা-মার সম্পর্কটা সন্তানের কচি মনের উপরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই বাবা-মাকে একে অপরের প্রতি কটাক্ষ ও বিদ্বেষমূলক আচরন পরিহার করা উচিত। কারন এরূপ আচরন দেখতে দেখতে এক সময় সন্তানদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে তারা ফ্রাস্ট্রেশনে ভুগতে ভুগতে কৃত্রিম শান্তি খোঁজার ছলে এক সময় মাদকের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। তাই আপন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ছোট-খাট বিষয়কে অযথা বড় বানানো ঠিক নয়। এতে জটিলতা বাড়ে। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের ভালোর জন্য এসব ছোট-খাট বিষয় উপেক্ষা করা খুব একটা কঠিন নয়। পরিবারিক সু-সম্পর্কের জন্য সমঝোতার মাধ্যমে উভয়কেই ছাড় দিতে হবে। তাহলে আস্তে আস্তে সব স্বাভাবিক হয়ে আসবে। দিনের একটি সময়ে ছেলে-মেয়েদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে পরস্পরের ভাবনা-চিন্তাকে সেয়ার করতে হবে। এর ফলে দূরত্ব যেমন কমবে, তেমনি বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ভাব বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে স্কুল ও খেলার মাঠের পরিবেশ ও সাথীদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতে হবে। এতে ভাল-মন্দ অনেক কিছুই আঁচ করা সম্ভব হবে। হঠাৎ কারো স্বভাবের কোন পরিবর্তন অস্বাভাবিক ঠেকলে তার কারন বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং সময়মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাদক ও জুয়ার নেশার ভয়ংকর প্রভাব থেকে দূরে থাকার জন্য মনস্তাত্বিক লড়াইয়ের প্রস্ততি স্বরূপ সর্বজ্ঞ আল্লাহতায়ালা ঐশীবাণী প্রেরণের মাধ্যমে বার বার সাবধান করে দিয়েছেন। এই মন্দ স্বভাব থেকে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য আল্লাহতায়ালা বলেন-

আল-কোরআন(Al-Qur’an)-
সূরা আল বাক্বারা- (2.Al-Baqara // The Cow) -আয়াত নং- ১১৯
(০২ : ২১৯) অর্থ:- (হে নবী), এরা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; তুমি বলে দাও, “এ দু’ট জিনিসের মধ্যে বড় ধরনের পাপ (ক্ষতি) এবং মানুষের জন্য সামান্য কিছু উপকারও রয়েছে; কিন্তু এগুলোর পাপ (ক্ষতি) উপকার অপেক্ষা অনেক বেশী।” তারা তোমাকে (এও) জিজ্ঞাসা করে (আল্লাহর পথে) তারা কি খরচ করবে? বল, ‘যা উদ্বৃত্ত।’ এভাবে আল্লাহ্ তাঁর সকল নিদর্শন (আয়াত সমূহ স্পষ্টরূপে) তোমাদের জন্য বর্ণনা করেন যাতে তোমরা চিন্তা কর,
( 02 : 219 ) They ask thee concerning wine and gambling. Say: "In them is great sin, and some profit, for men; but the sin is greater than the profit." They ask thee how much they are to spend; Say: "What is beyond your needs." Thus doth Allah Make clear to you His Signs: In order that ye may consider,
সূরা মায়েদাহ- (5.Al-Maeda // The Table)-আয়াত নং-(৯০ ও ৯১)
(০৫ : ৯০) অর্থ:- হে বিশ্বাসিগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃন্যবস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে করে তোমরা সফলকাম হতে পার।
(05 : 90) 'O believers! Wine and gambling and idols and divining arrows are only unclean things, a work of devil (Satan) then save yourselves from them, so that you may prosper.
(০৫ : ৯১) অর্থ:- শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্র“তা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায়, এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণে ও নামাজে বাধা দিতে চায়। অতএব তোমরা কি নিবৃত হবে না?
(05 : 91) The devil (Satan) desires only to put hatred and enmity among you in regard to wine and gambling and to bar you from the remembrance of Allah and from prayer, will you then desist?

মানবজাতির কতটুকু ভাল বা মন্দ কিসে নিহিত আছে তা স্রষ্টা মহান আল্লাহতায়ালা ভালভাবেই জানেন। তাই তিনি সকল মন্দ থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে বার বার সাবধান করে দিয়েছেন। বর্তমানে মাদকাসক্তি একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে, যা সমাজ তথা গোটা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সর্বনাশা নেশার কবলে পড়ে যে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ধুমপান করা আর বিষপান করা একই কথা। হিসেব করলে দেখা যাবে যে, কেবলমাত্র ধুমপান করেই ধুমপায়ীরা জীবনে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করছেন। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে তারা যেমন নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছেন, তেমনি পরিবারের অন্যান্য সদস্য অতি আপনজন স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে তো বটেই, সেইসাথে সমাজে তাদের আশেপাশে যারা অবস্থান করেন সবার মাঝেই বিষক্রিয়া ছড়াচ্ছেন। আর এ অপরাধের দায় থেকে তারা কখনই মুক্ত নয়। Alcoholism এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা এখন সবারই জানা আছে। অতিরিক্ত মাত্রায় Alcohol গ্রহনের ফলে লিভারের ক্ষতি হয় এবং পরিনামে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ায় ধুকে ধুকে মৃত্যু ঘটে। তাছাড়া কিডনী, হৃদপিন্ড, স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক সহ দেহের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে। যদিও অল্প মাত্রায় সেবন করলে Blood cholesterol level স্বাভাবিক রাখা সম্ভব বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের মাত্রায় অর্থাৎ অল্প মাত্রায় Alcohol সেবন খুবই কঠিন ব্যাপার। কারণ দেখা গেছে যে, খুব কম মানুষই Alcohol সেবনের পরিমাণ অল্প মাত্রায় ধরে রাখতে পারেন। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এই নেশার মাত্রা দিন দিন বাড়তেই থাকে। তাছাড়া অল্প মাত্রায় বছরের পর বছর Alcohol সেবন করলে যে মানব দেহে এর আদৌ কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না তা এখনও প্রমাণিত হয়নি। কারণ অল্প মাত্রায় Alcohol সেবনের culture তো কেবল শুরু হয়েছে মাত্র। বাজারে এখন আনেক ধরনের Lipid lowering ওষুধ পাওয়া যায়। তাই এই হারাম পথে অগ্রসর না হয়ে ওষুধ সেবন করাই ঈমানদারগণের ঈমানের দাবি।

আল্লাহর আইন গুটিকয়েক মানুষের জন্য নয়। সমগ্র মানব জাতির স্বভাব, চরিত্র অনুসারে ও তাদের কল্যাণের জন্যই আল্লাহতায়ালা বিধি বিধান প্রেরণ করেন। স্রষ্টা সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহ্ এই মাদক তথা Alcohol এর সামান্য কিছু উপকারের বিষয়টি ভালভাবেই অবগত আছেন। আর তাই তো তিনি অব্যাক্ত না রেখে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বেই আল-কোরআনের সূরা আল বাকারা -এর (০২:১১৯) নং আয়াতে প্রথমত Alcohol এর সামান্য কিছু উপকারের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন এবং সাথে সাথে যেহেতু এর (শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক) ক্ষতির মাত্রাই অধিক, তাই মদ্যপান হারাম করে দিয়েছেন। বর্তমানে হিরোইন, গাঁজা, ভাং, ব্রাউন সুগার, ইয়াবা ইত্যাদি নানা ধরনের মাদকের ছড়াছড়ি। মাদকাসক্ত অবস্থায় এবং নেশার চাহিদা মেটাতে গিয়ে একজন মানুষ বিবেকশুন্য হয়ে যায়। তখন সে অতি সহজেই চুরি, ডাকাতি, খুন, ছিনতাই, জেনা ও ব্যভিচার, বিকারগ্রস্থ যৌন অভ্যাস সহ নানা রকম অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ কারনে একদিকে যেমন সমাজের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে, তেমনি লাগামহীন অবৈধ সম্পর্ক এবং একই সিরিঞ্জের মাধ্যমে একই সময়ে অনেকে মাদক গ্রহণের ফলে ‘এইডস্’, ‘হেপাটাইটিস-বি ও সি’ সহ আরও অনেক জানা অজানা প্রাণঘাতি রোগের প্রকপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তাছাড়া এগুলো ব্যবহারের ফলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্র যেমন হৃদপিন্ড, ফুসফুস, কিডনি, লিভার, স্নায়ুতন্ত্র ইত্যাদি অকালেই ক্ষতির সম্মুখিন হয়। শুধু তাই নয় মাদকাসক্ত পিতা-মাতার কারণে সদ্যজাত নিষ্পাপ শিশুরাও রেহাই পাচ্ছেনা। তারা নানা রকম জন্মগত ত্রুটির শিকার হচ্ছে। তাই সূরা মায়েদাহ এর (০৫ : ৯০) নং আয়াতে এগুলোকে ঘৃন্যবস্তু ও শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। পরিপূর্ণ ইসলামী জীবন ব্যবস্থা সকল পঙ্কিলতার হাত থেকে রার জন্য যে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা আজ সর্বজনস্বীকৃত ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আল-কোরআন (Al-Qur’an)-
সূরা মায়েদাহ-(5.Al-Maeda // The Table)-আয়াত নং- ৯২ ও ৯৩
(০৫ : ৯২) অর্থ:- এবং আল্লাহর অনুসরণ কর, ও রসূলের অনুসরণ কর এবং সতর্ক হও, যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও- তবে জেনে রাখ যে, স্পষ্ট প্রচারই আমার রসূলের কর্তব্য।
(05 : 92) And obey Allah and obey the Messenger and be careful then if you turn back, know then that the responsibility over Our Messenger is only to deliver the message clearly.
(০৫ : ৯৩) অর্থ:- যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকাজ করেছে (এই নিষেধাজ্ঞা জারির ) পূর্বে তারা যা ভক্ষণ করেছে তার জন্য তাদের কোন পাপ নেই। যদি তারা (ভবিষ্যতেও) সাবধান থাকে ও (আল্লাহর উপর) ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, অতৎপর সতর্ক থাকে, (এভাবে যতক্ষণ পর্যন্ত ) তারা ঈমান আনবে ও ভাল কাজ করবে, পুনরায় আল্লাহতায়ালাকে ভয় এবং ভাল কাজ করতে থাকবে ( আল্লাহতায়ালা অবশ্যই তাদের ক্ষমা করে দেবেন, কেননা ); সৎকর্মশীল মানুষদেরকে আল্লাহ্তায়ালা ভালবাসেন।
(05 : 93) On those who believed and did righteous work there is no sin for what they ate (before), if (at present) they become careful and keep faith and do righteous work, again remain careful, (like this, until) they will be faithful (to Allah) & will do good deeds, then again will continue to fear Allah and do good deeds (Allah must perdon them, because); Allah loves the, righteous.

মহান স্রষ্টার সাবধান বাণী যারা বিশ্বাস করে ও মেনে চলে এবং রাসূলুল্লাহ্ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে যারা সঠিকভাবে অনুসরণ করে তারা নিরাপদ থাকে। আর যারা অবজ্ঞা করে তারাই চরমভাবে ভোগে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভালভাবে না জানার বা বুঝার কারণে আমরা কতই না মন্দ কাজ করেছি, নিজের উপর জুলুম করেছি। (০৫ : ৯৩) অনুতপ্ত হৃদয়ে মহান স্রষ্টার সামনে মাথা নত করলে পরম করুণাময় নিশ্চয়ই ক্ষমা করবেন। তাই আসুন আর দেরি নয়, এতদিন অজ্ঞতার আঁধারে থেকে মন্দ যা করেছি তার জন্য অনুতপ্ত হই এবং খাঁটি অন্তরে তওবা করে তা চিরতরে বর্জন করি। সেইসাথে প্রকৃত ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তির পথকে সুগম করে তুলি।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৫৪
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×