মানুষের মন যে কত বিচিত্র হতে পারে তা এ থেকে স্পষ্ট অনুমান করা যায়। পাবনার কালাচাঁদপুরে দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর সংসার করার পর ৪৫ বছর বয়স্ক স্ত্রীকে ৩০ বছর বয়স্ক বন্ধু রহুল আমিনের সাথে মেলামেশায় বাধা দেয়ায় খুন হলেন ৫৫ বছর বয়স্ক স্বামী মোশারফ হোসেন মৃধা। মিঃ মৃধা হয়ত তার স্ত্রীকে এ পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। এতে হিতে বিপরীত হয় এবং তাদের মধ্যে তিক্ততা আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে পরকিয়া পাগল নিষ্ঠুর স্ত্রী বিবেক শুন্য হয়ে তার ছেলে বন্ধুর সহায়তায় স্বামীকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে রাখে। শেষে পুলিশ গিয়ে সেই লাশ উদ্ধার করে।
কথায কথায় সংসার ভেঙ্গে দেয়া খুবই ঘৃণার কাজ। একসাথে বসবাস করতে গেলে ঝগড়া-ঝাটি ও মান-অভিমান হতেই পারে। সাময়িক মনোমালিন্য হলে পরস্পর বোঝাপরার মাধ্যমে তা মেটানোর প্রয়াশ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু একজন ভুক্তভোগী স্বামী বা স্ত্রীর জন্য কোন পর্যায় পর্যন্ত বার বার এ ধরনের সুযোগ দেয়াটা সমিচিন হতে পারে? তা ভাববার বিষয় বৈকি। কোন মুসলিম পরিবারে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পরস্পরের প্রতি সামান্যতম বন্ধুত্ব, বোঝাপরা, শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সহমর্মিতা ইত্যাদি অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত সেই সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য বিধিমত চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কেউ কোন পরকীয়ার মত কুকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়লে তাদের কোন একজনের পক্ষে তা মেনে নেয়া খুবই মুশকিল হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে চেষ্টা করেও বিপথে পা দেয়া মানুষটিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে সেই সংসারকে কতদিন পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা ঠিক হতে পারে তা ভাববার যথেষ্ট প্রয়োজন আছে বৈকি।
আমাদের সমাজে সরল-মনা স্বামী বা স্ত্রীরা এমন পরিস্থিতে পড়েও লোক-লজ্জার ভয়ে কোন রকমে জোরা-তালি দিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু শুধুমাত্র চক্ষু-লজ্জার ভয়ে এরূপ ছলনার সংসার টিকিয়ে রেখায় সুখ তো নেই-ই, বরং শেষে যে চরম দূর্গতিই মেলে তা বার বার প্রমাণিত হচ্ছে। কিন্তু তারপরও মানুষ এ ধরনের পাপকে প্রশ্রয় দিয়ে শুধু যে পাপের ভাগি হচ্ছে তাই নয়, সাথে সাথে বিপদও ডেকে আনছে। একজন মুসলিমের ক্ষেত্রে নিজে এ ধরনের অন্যায় করা কিংবা অন্য কেউ করলে তাকে প্রশ্রয় দেয়া কি উচিত? বিশেষ করে অতি আপনজন স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ যদি এ ধরনের পাপ কর্মে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে সেই পথ থেকে ফেরানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। তবে সেই পাপের কুৎসিত রূপটা যদি ব্যভিচার হয়, তাহলে তাকে সহ্য করার সামর্থ সবার হবে কিনা সন্দেহ। বিশেষ করে একজন মুসলিম স্বামী বা স্ত্রীর পক্ষে এরূপ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারন করা অত্যন্ত কঠিন। ভুল বশত কেউ এই কুকামে জড়িয়ে গেলে তাকে শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি একবার তওবা করার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। কিন্তু সাবধান করার পরও কোন বিপথগামী ব্যক্তি বার বার যদি এমন ঘৃণ্য কাজ হতে নিজেকে নিবৃত করতে না পারে, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কোন রুচিশীল বিবেকবান নারী/পুরুষের জন্য তো বটেই, বিশেষ করে কোন মুসলিমের জন্য মোটেই উচিত নয়। বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ধরনের অন্যায়কারীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করাই জাগ্রত বিবেক তথা ইমানের দাবী। তা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখিন হবার সম্ভাবনাই যে প্রবল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি এরূপ অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে যে নিজেও খুন হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে, সেই বুদ্ধিও তখন তাদের লোপ পায়।
মিঃ মৃধার স্ত্রী এমন একজন পাপী যার অপরাধ শুধু পরকীয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতদিনের জীবন সঙ্গিকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার সিদ্ধান্ত নিতেও তার হৃদয় কাপেনি। সুতরাং যে আইনেই বিচার করা হোক না কেন মৃত্যুদন্ডই তার প্রাপ্য হওয়া উচিত। ইসলামের বিধান অনুসারে ব্যভিচার এবং খুন করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে জনসম্মুখে রজমই তার জন্য যোগ্য শান্তি হতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



