এক সময় আল-কেরআনের (১১:০৭) নং আয়াতটি নিয়ে অনেকেই কটাক্ষ করেছে। সৃষ্টির সূচনা লগ্নে যে পানি থাকতে পারে, অবিশ্বাসীরা এমনটি ধারনাই করতে পারত না। ওরা হন্নে হয়ে মাহাকাশে তন্ন তন্ন করে পানি খুঁজে বেড়াচ্ছিল।
সূরা হুদ ( মক্কায় অবতীর্ণ )
(১১:০৭) তিনিই ছয় দিবসে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তখন তাঁর (নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) আরশ (নিবদ্ধ) ছিল পানির (তরলিত অবস্থার) উপর, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে আচরণে শ্রেষ্ঠ, আর যদি তুমি তাদেরকে বল যে, "নিশ্চয় মৃত্যুর পরে তোমরা পুনরুত্থিত হবে" তখন অবিশ্বাসীরা অবশ্য বলে যে, "এটা তো স্পষ্ট যাদু/অলীক কল্পনা!";
ʿarshuhu- and His throne was
(আল্লাহতায়ালার আরশ বলতে শুধুমাত্র পার্থিব কোন সিংহাসন বা চেয়ার নয়, বরং রাজকীয় কর্তৃত্ব বা রাজশক্তির মত বিষয়ের সাথেও সম্পৃক্ত। সকল শক্তির আধার মহান আল্লাহতায়ালা সর্বশক্তিমান। কাজেই 'তাঁর আরশ' বলতে যে এক্ষেত্রে পার্থিব কোন বস্তুগত রাজ সিংহাসন বা চেয়ারের সাথে তুলনা করা চলে না তা বোধসম্পন্ন মানুষ মাত্রই বুঝে নেবার কথা। আমি বিষয়টিকে বোঝানোর সুবিধার্থে এর অর্থ মহান স্রষ্টার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে প্রকাশ করাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করি।)
Caltech-Led Astronomers Discover the Largest and Most Distant Reservoir of Water Yet
"The environment around this quasar is unique in that it's producing this huge mass of water," says Matt Bradford, a scientist at NASA's Jet Propulsion Laboratory (JPL), and a visiting associate at Caltech. "It's another demonstration that water is pervasive throughout the universe, even at the very earliest times."
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মহাকাশে এমন একটি পানির উৎসের সন্ধান পেয়েছেন যা এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত উৎসগুলোর মধ্যে প্রচীনতম ও বৃহত্তম। এটি কোয়াসার গ্যালাক্সির কেন্দ্রভাগে অবস্থিত কৃষ্ঞগহ্বরকে ঘিরে এক বিশাল এলাকা জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।
Vast Amount of Water Discovered Circling Distant Quasar
The astronomers say the water vapor they observed was present 1.6 billion years after the formation of the universe in the Big Bang, roughly 13.6 billion years ago. That pushes the existence of water in the universe 1 billion years closer to the Big Bang than any previous find, and it indicates that water has been prevalent in the cosmos almost from the beginning.
পৃথিবী থেকে ১২০০,০০০০০০০ (১২০০ কোটি) আলোকবর্ষ দুরে জলীয়বাষ্পাকারে অবস্থিত এই উৎসটির পানির পরিমাণ পৃথিবীর সবগুলো সাগরে বিদ্যমান পানির পরিমাণের চেয়ে ১৪০ ট্রিলিয়ন (১,৪০,০০,০০০,০০০০০০০) গুণ বেশি এবং যা আযতনে সূর্য অপক্ষো এক লক্ষ গুণ বড়। পানির এই উৎসটি মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রায় ১০০,০০০০০০০ (১০০ কোটি) বছর পর অর্থাৎ এখন থেকে প্রায় ১৩৬০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। তাছাড়া কম হোক আর বেশি হোক, জলীয়বাষ্পের আকারে হোক বা অন্য কোন গঠনে হোক, সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই যে পানি ছিল, বিজ্ঞানীদের গভীর পর্যবেক্ষণের আলোকে সেই ইংগিতই পাওযা যায়।
এখন বাছারা কি বলে? মহাকাশে যে এত বিপুল পরিমাণ পানি আছে তা কিছুদিন পূর্বেও কল্পনা করা সম্ভব ছিল না। খোদ বিজ্ঞানই এবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে সেটা দেখিয়ে দিল। শধু তাই নয়, মহাবিশ্ব সৃষ্টির অতি নিকটবর্তী সময় থেকেই জলীয়বাষ্প কণা রূপে পানির উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আর যেহেতু পানি আছে তাই মহাকাশে অক্সিজেন থাকার সম্ভাবনাও অনেক গুণ বেড়ে গেল। আমরা যারা বিশ্বাস করি তাদের কোন সমস্যা যেমন আগেও ছিল না, তেমনি এখনও নেই। কারন স্রষ্টা মহান আল্লাহতায়ালা বিশ্বাসীদের জন্য অনেক আগেই এই অকাট্য বৈজ্ঞানিক তথ্যটি তাঁর প্রেরিত মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে জানিয়ে দিয়েছেন। যা বিজ্ঞান সম্প্রতি আবিষ্কার করল, আমরা কিন্তু তা অনেক আগে থেকেই জানতাম এবং বিশ্বাস করতাম। কারন আমাদের জানবার সোর্সটি তো স্বয়ং স্রষ্টা নিজেই। ওরা আগে বিশ্বাস না করলেও এখন আর না করে তো উপায় নেই। সৃষ্টি কালীন নিকটবর্তী সময়ে পানির উপস্থিতির বিষয়টি তো এখন পরিষ্কার। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি প্রক্রিয়ার সাথে পানির যোগসূত্র যে অত্যন্ত নিবিঢ় তা মহান স্রষ্টা (১১:০৭) নং আয়াতে অতি সংক্ষেপে অথচ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন (বিস্তারিত জানতে হলে এখানে দেখুন) । এই আয়াতেই মৃত্যুর পর পুনরুত্থান সম্পর্কেও বলা হয়েছে। যা প্রতিটি মুসলিম মাত্রই ১০০% বিশ্বাস করে। এই বিষয়টি নিয়ে অবিশ্বাসীরা আরও কিছুদিন হাসি-ঠাট্টা করুক এবং দ্বিধায় থাক। এটাও যে ১০০% সত্য ও সম্ভব তা বিজ্ঞানই একদিন ওদের কান ধরে বুঝিয়ে দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




