হারাম/হালাল নির্ধারনের জন্য মহান আল্লাহতায়ালাই যথেষ্ট। শয়তানি গানই শুধু নয়, এরূপ সকল কুকর্ম অবশ্যই হারাম। কিন্তু তাই বলে সকল গানই কি হারাম? এই হারাম বলার এখতিয়ার মানুষকে কে দিল!?
সূরা লোকমানের ৬ নং আয়াতের রেফারেন্স টেনে এনে ঢালাওভাবে সকল প্রকার গান ও বাদ্যকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়- তা আদৌ ঠিক কি?
সূরা লোকমান (মক্কায় অবতীর্ণ)
(৩১:০৬) একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।
(৩১:০৭) যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও।
সূরা লোকমানের এই আয়াত দুটির তফসির যে যেভাবেই করার চেষ্টা করুক না কেন, এখানে সরাসরি জোর করে শুধু ঢালাওভাবে সর্বপ্রকার গান বা বাদ্যকে হারাম বলার মত কোন ইংগিত আছে বলে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এই আয়াত দুটিতে সেই ইংগিতই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এমন কোন কথা, বক্তৃতা, কবিতা বা গান ইত্যাদি যাই হোক না কেন, যার মাঝে মানুষের ইমান নষ্ট করার মত বক্তব্য রয়েছে এবং যা মানুষের খারাপ প্রবৃত্তিকে জাগ্রত করতে পারে, সে ধরনের সব কিছুকেই আমি হারাম মনে করি। নচেৎ নয়।
অবাক লাগে! যখন দেখি যে, গান নাযায়েজ হওয়ার ব্যপারে একতরফাভাবে নিচের আয়াতটিকে দলিল হিসেবে পেশ করার ব্যার্থ চেষ্টা করা হয়ে থাকে।
সূরা বনী ইসরাঈল ( মক্কায় অবতীর্ণ )
(১৭:৬৪) অর্থ- তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।
এই আংয়াতের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। কারন শুধু গানই নয়, কবিতা পাঠ, বক্তৃতা ও কথা বলার সময়ও যে আওয়াজ হয় তা সবাই জানে। এখানে 'শয়তানের আওয়াজ' বলতে শুধুমাত্র গানই নয়, বরং ইমান নষ্ট করার মত কথা, বক্তৃতা, কবিতা বা গান ইত্যাদি সব কিছুই অন্তর্ভূক্ত।
একইভাবে এখানে তো অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী, অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বলে কি অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী, অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে হারাম ভাবতে হবে!!?? না, তা কখনই নয়।
এখানে সেই অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী, অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির কথাই বলা হয়েছে যারা আল্লাহর সরল পথে নয়, বরং শয়তানের দ্বারা প্ররচিত হয়ে গরল পথে পরিচালিত হয়।
আল্লাহর নামে ও সরল পথে অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী পরিচালনা করার যেমন প্রয়োজন রয়েছে ও যায়েজ, তেমনি অর্থ-সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় অর্জন ও খরচ করাও অবশ্যই যায়েজ। আর ইমানদার সন্তান-সন্ততি তো অমূল্য সম্পদ। তেমনি যে ধরনের কথা, বক্তৃতা, কবিতা ও গান ইত্যাদি সত্য ও শান্তির বার্তা বহন করে ও ইমানী জজবা সৃষ্টি করে সেগুলো কখনই হারাম নয়। তবে অন্য অনেক বিষয়ের মত এগুলো সম্পর্কেও অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন জরুরী।
আমি হাদিছ মানি বলেই পক্ষে ও বিপক্ষের বিভিন্ন হাদিছ বিশ্লেষণ করেই গান ও বাদ্যের রুচিশীল ও সীমিত প্রয়োগকে নিষিদ্ধ মনে করি না।
সেই ধরনের গান-বাজনা থেকে আমাদের অবশ্যই তওবা করতে হবে যা অন্তরে শয়তানের প্ররোচনা সৃষ্টি করে-
আমি সব গানকে যেমন সমাজবিধ্বংসী মনে করি না, তেমনি যেসব গান-বাজনা উগ্র পরিবেশ সৃষ্টি করে, অস্বস্তিকর বোধ হয় এবং সমাজবিধ্বংসী- সেগুলো বৈধতা দেবার দলেও নই-
সামি ইউসুফের গানের লিংক-
বিশেষ করে যেসব ব্যাপারে আল-কোরআনে স্পষ্ট বক্তব্য নেই সেই বিষয়ে আমি চরম নয়, বরং মধ্যপন্থাই অবলম্বন করি, আর সে কারনেই মার্জিত ও রুচিবোধ সম্পন্ন গান আমি অল্পবিস্তর নিজেও শুনি এবং তা শোনাকে নাযায়েজ বলার পক্ষে নই। এতে কে কি ভাবল তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই-
তবে আবারও বলছি, কুরুচিপূর্ণ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর গানই শুধু নয়, এরূপ কোন কথা, বক্তৃতা বা যাই হোক না কেন তা আমি কখনই বরদাস্ত করি না বা প্রশ্রয় দেই না-
যাইন ভিকার গানের লিংক-
First We Need The Love - Zain Bhikha
মাইকেল জ্যাকসনের গান-
হাহ হাহ হাহ---
নিষ্পাপ কৌতুক-
যে সুর প্রকৃতির মাঝে ছড়িযে আছে তা তো স্রষ্টারই দান। সেই সুরকে চিনতে পারলে অন্তরে যেমন প্রশান্তি মিলতে পারে, তেমনি সেই সুরের ছোঁয়ায় প্রকৃতির মাঝে শান্তির ধর্ম ইসলামের কথা অতি সহজে ছড়িয়ে দেয়াও সম্ভব বৈকি-
এমপিত্রি গান-১
এমপিত্রি গান-২
এমপিত্রি গান-৩
এমপিত্রি গান-৪
এমপিত্রি গান-৫
এমপিত্রি গান-৬
এমপিত্রি গান-৭
এমপিত্রি গান-৮
এমপিত্রি গান- সামি ইউসুফ
*Meditation
*Al-Mu Allim
*Allahu
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


