somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইন্টারনেটে ‘সেক্স’, ‘পর্নো’ খুঁজা শিশুদের নিয়ে পরিবার কতটা উদ্বিগ্ন হতে পারে

২৩ শে নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডয়েচে ভেলে রেডিও জার্মানের একটি খবর শুনে স্থীর থাকতে পারলাম না।যদিও খবরটি কয়েকদিন আগে শুনেছিলাম। তাঁরপরেও মনে হলো কিছু একটা লেখা দরকার। পত্রিকায় না হোক ব্লগে লেখাটা উচিত।
১৮ বছরের কম বয়সিরা ইন্টারনেটে যেসব শব্দ অনুসন্ধান করেছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইউটিউব, গুগল এবং ফেসবুক৷ (ফাইল ফটো)২০০৯ সালে ইন্টারনেটে শিশুরা যে শব্দগুলো সার্চ করেছে তার মধ্যে অন্যতম ‘সেক্স’৷ ইন্টারনেট নিরাপত্তা সংস্থা নর্টনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য৷
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সিরা ইন্টারনেটে যেসব শব্দ অনুসন্ধান করেছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইউটিউব, গুগল এবং ফেসবুক৷ আর এরপরেই অবস্থান ‘পর্নো' এবং ‘সেক্স' শব্দ দুটির৷ নর্টন আরো জানিয়েছে, বাবামাদের জন্য এই সংবাদ বেশ উদ্বেগের এবং এটি রোধ করতে তাদের উচিত শিশুদের সঙ্গে কথা বলা৷ একইসঙ্গে সন্তানদের বোঝাতে হবে ইন্টারনেট থেকে কোন বিষয়টি নেয়া উচিত আর কোন বিষয়টি থেকে দূরে থাকা উচিত।
আমি দীর্ঘ একটি বছর ইউনিসেফ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক 'ব্যাসিক সোসাল সার্ভিসেস ট্রেনিং ফর সোসাল ওয়ার্কার' বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ থেকে আর্থিকভাবে হলেও কিছুটা যেমন উপকৃত হয়েছি ঠিক তেমনি শিশুদের সম্বন্ধে কিছুটা জানতে পেরেছি। শিশুরা পবিত্র। শিশুদের জানার কৌতহুল রয়েছে। স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। প্রশিক্ষণে জানতে পেরেছিলাম যে, শিশুদের যৌন শিক্ষা দেওয়াটা বাবা-মায়ের উচিত। আমি এর তীব্র বিরোধিতা করলেও উত্তর দিতে পারি নি। কারণ, প্রশিক্ষণার্থী এবং প্রশিক্ষকরা ছিলেন নারী। উন্নত বিশ্বে নাকি শিশুদের যৌন শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে তাদের আগ্রহ কম থাকে সেক্স বিষয়ে। বাংলাদেশের মত উন্নত বিশ্বে এটা অসম্ভব। ধর্মীয় গ্রন্থে এটাকে কবিরা গুনাহ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ পশ্চিমা বিশ্বে যত বেশি পাড়ি জমাচ্ছে তত পশ্চিমা বিশ্বের সাংস্কৃতি সম্বন্ধে জানতে পারছে। যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে। মুক্ত আকাশ সাংস্কৃতির প্রভাবতো আছেই। এরফলে আমাদের দেশের শিশুরা অকালে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাবা-মা শিশুদের অকপটে বলে ফেলছে তুমি কি বাবা কারো সাথে প্রেম করো। তোমার কি কাউকে পছন্দ কর? বাবা-মাও লজ্জা হারিয়ে ফেলেছে।
বনানীল কামাল আতার্তুকে রেডিও টুডের অফিসে একদিন যাচ্ছিলাম। দেখলাম ১৫ থেকে ১৬ বছরের এক সুন্দরী কিশোরী কালো অরুচিশীল ড্রেস পড়ে এল, তার সমবয়সী প্রেমিকা তাকে শত শত মানুষের সামনে জড়িয়ে ধরলো। তারপর এক জায়গায় খোশ গল্প শুরু করলো। জানি না ওদের মা-বাবা কি এ ঘটনা জানে। নাকি জেনেও না জানার চেষ্টা করে। আজকাল ইভটিজিং বেড়েই চলেছে। তবে যারা রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে তারাই বেশি কষ্ট অনুভব করে। ইভটিজারদের কারণে আত্বহত্যা করে।
কিন্তু তারা প্রগেসিভ মাইন্ডেড পরিবার। বাবা-মা একসাথে মুক্ত সাংস্কৃতি উপভোগ করে। এক সাথে স্ত্রী, ছেলে মেয়েকে নিয়ে ক্লাবে আড্ডা দেয়। মদ খায়। তাদের মেয়েদের কাছে ইভটিজিং নাথিং। কারণ, তারা মনে করে সুন্দরীর দিকে যদি তরুণরা না তাকায় তবে সুন্দরভাবে ড্রেসআপ করা হয়েছে কি না বা রূপ-লাবণ্যে ঝলক দিচ্ছে কি না তা বুঝা যাবে না। একবার অনলাইন ভিত্তিক এক ম্যাগাজিনে পড়েছিলাম, আজকাল অনেক সুন্দরী মেয়েরা তাদের ছেলে-মেয়েদের সামনেই পরপুরুষের সাথে খোশগল্পে লিপ্ত থাকে। ঢাকা শহরে এ সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আজকাল শিশুরাও তাদের প্রেমিক-প্রেমিকাকে নগ্ন ভিডিও দেখায়। ওগুলো দেখে শিশুরাও মজা পায়।
কিন্তু আমাদের সমাজ কি ভেবে দেখেছে যে, আমাদের শিশুরা কোন পথে ধাবিত হচ্ছে। তাদের নৈতিক অবক্ষয় কেন ঘটছে? এর জন্য কে দায়ী? দায়ী যেমন সমাজ তেমনী দায়ী পরিবারও। গারো কমিউনিটির আমার এক কলিগ একদিন আমাকে বলল, আমার ১৬ বছরের ভাতিজিকে আমি প্রেম করতে বলি। কারণ, তার যা খুশি সে তা করবে। শুধু আমার ওই সহকর্মী নয়, মুসলিম সমাজের হাজার হাজার মানুষ এসব অশ্লীল কৃষ্টি কালচারে ধাবিত হচ্ছে। এদের রক্ষা করার উপায় এখনও খুজে বের করা যাচ্ছে না।
আবার ফিরে আসি পূর্বের কথায়। ট্রেনিং এ ট্রেইনার অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করেছিল। আপনার একজন ১৪ বছরের সুন্দরী মেয়ে আছে। পাশের বাড়ির দাদু গতকাল তার স্তনে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছিলো। আপনি এখন কি করবেন? আমি এর উত্তর খুজে পায় নি? এসব কথা প্রশিক্ষণে শোনার পর ভেবেছি। দেশক একশ্রেণীর এনজিওরা ফ্রি সেক্সের দেশ বানাতে চায়। কিন্তু সেটা বিভিন্ন কৌশলে করতে হবে। শিশুদের মাঝে পশ্চিমা কৃষ্টি কালচার ছড়িয়ে দিতে পারলে হয়ত: আমাদের সমাজকে ধব্বংশ করা সম্ভব। তা না হলে এদেশের মানুষ বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেই।
আসুন আমরা আমাদের শিশুদের ইন্টারনেটে 'সেক্স' পর্ণো' খোজা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করি। তাদেরকে ধর্মীয় অনুশাসনের দীক্ষায় দীক্ষিত করি। তা না হলে তাদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটবে। তার পরিণতি প্রতিটি মানুষকে ভোগ করতে হবে। নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়? আপনার শিশুর কাছ থেকে আমার শিশুও শিখবে। তারপর যা হবার হবে....................................।
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×