somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা যখন ভূমিষ্ঠ হন-তখন এমন কতিপয় আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল-যা সচরাচর দেখা যায় না।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা যখন ভূমিষ্ঠ হন-তখন এমন কতিপয় আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটেছিল-যা সচরাচর দেখা যায় না।প্রথম ঘটনাটি স্বয়ং বিবি আমেনা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন এভাবে-
“যখন আমার প্রসব ব্যাথা শুরু হয়-তখন ঘরে আমি প্রায় একা ছিলাম এবং আমার শশুর আব্দুল মোত্তালিব ছিলেন কা’বা ঘরে তাওয়াফরত।আমি দেখতে পেলাম,একটি সাদা পাখির ডানা আমার কলিজায় কি যেন মালিশ করে দিচ্ছে।” এতে আমার ভয়ভীতি ও ব্যাথা বেদনা দূরিভূত হয়ে গেল।এরপর দেখেতে পেলাম এক গ্লাস শ্বেতশুভ্র শরবত আমার সামনে।আমি ঐ শরবতটুকু পান করে ফেললাম।অতঃপর একটি উর্দ্ধগামী নূর আমাকে আচ্ছাদিত করে ফেললো।এ অবস্থায় দেখতে পেলাম-আবদে মানাফ(কোরাইশ) বংশের মহিলাদের চেহারা বিশিষ্ট এবং খেজুর বৃক্ষের ন্যায় দীর্ঘাঙ্গিনী অনেক মহিলা আমাকে বেষ্টন করে বসে আছে।আমি সাহাজ্যের জন্য ‘ওয়া গাওয়াসা’ বলে তাদের উদ্দেশ্যে বললাম-আপনারা কোথা হতে আমার বিষয়ে অবগত হলেন?
উত্তরে ,তাঁদের একজন বললেন-আমি ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া।আরেকজন বলেন,আমি ইমরান তনয়া বিবি মরিয়ম।এবং আমাদের সঙ্গীনীগণ হচ্ছেন বেহেস্তি হুর। আমি আরো দেখতে পেলাম-অনেক পুরুষবেশীলোক শূন্যে দন্ডায়মান রয়েছেন।তাদের প্রত্যেকের হাতে রয়েছে রুপার পাত্র।আরো দেখতে পেলাম-একদল পাখি আমার ঘরের কোঠা ঢেকে ফেলেছে।আল্লাহ তায়ালা আমার চোখের সামনের সকল পর্দা অপসারণ করে দিলেন এবং আমি পৃথিবীর পূ্র্ব থেকে পশ্চিম সব দেখতে পেলাম।আরো দেখতে পেলাম-তিনটি পতাকা।একটি পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে স্থাপিত,অন্যটি পশ্চিম প্রান্তে এবং তৃতীয়টি কাবা ঘরের ছাদে।এমতাবস্থায় প্রসব বেদনার চূরান্ত পর্যায় আমার প্রিয় সন্তান হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ভূমিষ্ঠ হলেন”- (হযরত ইবনে আব্বাস সূত্রে মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া)খাছায়েছুল ক্বুবরা ও তারিখুল খামিছ গ্রন্থে যথাক্রমে আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও আবু বকর দিয়ারবিকরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি-বিবি আমেনা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর একটি বর্ণনা এভাবে লিপিবদ্ধ করেছেনঃ
বিবি আমেনা বলেন- “যখন আমার প্রিয় পূত্র ভূমিষ্ঠ হলেন,তখন আমি দেখতে পেলাম-তিনি সিজদায় পড়ে আছেন।তারপর মাথা উর্দ্ধগামী করে শাহাদাত আঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করে বিশুদ্ধ আরবী ভাষা পাঠ করছেন আশহাদু আললা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্নি রাসূলুল্লাহ”(যিকরে জামীল সূত্রে)
উপরোক্ত বর্ণনায় কয়েকটি বিষয় প্রমাণিত হলোঃ
(১) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর পবিত্র বেলাদত উপলক্ষে বেহেস্ত ও আকাশ হতে পবিত্র নারী ও হুর-ফিরিস্তাগন জুলুস করে বিবি আমেনা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কুটিরে আগমন করেছিলেন এবং নবীজির সম্মানা্র্থে দন্ডায়মান হয়ে ক্বিয়াম করেছিলেন।আর ফিরিস্তাদের হয়ে এই জুলুস ছিল আকাশ ছোয়া জুলুস।তাই আমরাও নবীজির সম্মানে ক্বিয়াম করি ও জুলুস করি।
(২) নবী করীম সাল্লালালহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর-নূরের আলোতে বিবি আমেনা রাদিয়াল্লাহু আনহা পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অবলোকন করেছিলেন।যাদের অন্তরে নবীজীর নূর মুবারক বিদ্যমান,সেসব অলীগনের দিব্যদৃষ্টি খুলে যায়।তাঁরা লাওহে মাহফুযও দেখতে পান(মসনবী শরীফ)
(৩) নবী করীম সাল্লালালহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা এর জন্ম উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণস্থান আলো ও পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা উত্তম।ইহা আল্লাহ ও ফিরিস্তাদের সুন্নাত।
(৪) কোরআন নাযিলের ৪০ বৎসর পূর্বেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি আদর্শ-‘কলেমা ও নামাজ’ বাস্তবায়ন করেছিলেন।মূলতঃথিউরিটিক্যাল কোরআন নাজিলের পূর্বেই প্রাকটিক্যাল কোরআন(নবী)নাযিল হয়েছিলেন।কোরআন হলো হাদিয়া-আর নবী হলেন সেই হাদিয়ার মালিক।হাদিয়া ও তাঁর মালিকের মধ্যে যে সম্পর্ক তা সর্বজন বিদিত।
(৫)পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা উপলক্ষে জুলুস এবং শুকরিয়ার আনন্দ মিছিল বের করা ফিরিস্তাদেরই অনুকরণ(আনোয়ারে আফতাবে সাদাকাত)।
মাওয়াহেব গ্রন্থের বর্ণনায় আকাশ হতে জমীন পর্যন্ত ফেরেস্তাদের জুলুস বা মিছিল পরিস্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে।আল্লাহপাক বলেন-“তোমরা আল্লাহর ফযল ও রহমতস্বরুপ(নবীকে)পেয়ে আনন্দ উল্লাস করো।”(সূরা ইউনূস৫৮ আয়াতের তাফসীর তাফসীরে রুহুল মায়ানী দেখুন।)জালালুদ্দীন সুয়ূতী তাঁর আল হাভী লিল ফাতাওয়া গ্রন্থে ঈদে মিলাদুন্নাবীর সাল্লালালহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা দিনে সব রকমের আনন্দ-উল্লাসকে বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন।(অর্থাৎ,হারাম ব্যতিত সকল ধরনের উল্লাস)
পূর্ব যুগের জুলুস
প্রাচীনকালে ১০৯৫-১১২১ খৃষ্টাব্দের মিশরে ঈদে মিলাদুনাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা উপলক্ষে ধর্মীয় জুলুস বের করা হতো।গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এতে অংশগ্রহন করতেন।উযির আফযলের যুগে এ আনন্দ মিছিল বের করা হতো।এ সময় রাজপথসমূহ লোকে লোকারণ্য হয়ে যেত।পরবর্তীতে এ উৎসবের প্রসার ঘটে আফ্রিকার অন্যান্য শহরে,ইউরোপের স্পেনে ও ভারতবর্ষে।(মাকরিজী,ইবনে খাল্লেকান)।
সুতরাং যারা জশনে জুলুসকে নূতন প্রথা,শিরক ও বিদয়াত বলে-তারা অতীত ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ এবং ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে মূর্খ।নবীবিদ্বেষ তাদেরকে অন্ধ করে রেখেছে।(বিস্তারিত জানার জন্য দৈনিক জনকন্ঠ ৩০শে আগস্ট’৯৬ ‘মিলাদের ইতিকথা’ পড়ুন)।জশনে জুলুস বের করা কোরআনী আয়াত দ্বারাই প্রমাণিত।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×