
আল আমীন (৮) ও রিফাত (৫) নামে ২ পুত্র সন্তানের জনক রফিক। গতকাল জোহরের নামাজের পর ঘর থেকে বের হয়েছিলেন শেষবারের মত প্রিয় সন্তানগুলোর চেহেরা দেখে। সেটাই তার শেষ দেখা হবে সে যেমন ভাবেনি তেমন ভাবেনি রফিকের পরিবার। কাল দুপুরের পর নিখোঁজ রফিকের লাশ মিলল আজকে লালমনিরহাট সীমান্তের সানিয়াজান নদীতে। বিজিবি সূত্র জানায়, বুড়ীমাড়ি ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের ৮৩৫ নম্বর মেইন পিলারের পাশ থেকে ভারতীয় কুচবিহার ১০৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির টহল দল রোববার সকালে রফিকুল ইসলামকে আটক করে। এরপর তাকে অহেতুক কোন অপরাধ ছাড়া বেদম প্রহার ও কপালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার পর লাশ সীমান্তের সানিয়াজান নদীতে ভাসিয়ে দেয় তারা। অথচ তারা খুব নিকট সময়ে বাংলাদেশী হত্যা আর করা হবেনা বলে বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
এই গত ৬ জুলাই ঢাকা সফরে আশা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণ এক সেমিনারে বলেছিলেন, সীমান্ত নিরাপত্তারক্ষাবাহিনীর হাতে নিরীহদের মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নয়, ‘সীমান্তে হত্যার ঘটনা কমে এসেছে। তবে আমরা চাই এটাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে।’ এরপর গত ১৭ জুলাই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর সীমান্তে শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠক বিএসএফ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সীমান্তে তারা আর দেখামাত্র বাংলাদেশীদের গুলি করবেনা। এরপর গত ১৮ জুলাই থেকে খুলনায় শুরু হওয়া বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনেও বিএসএফ জানিয়েছিল তারা আর নিরীহ বাংলাদেশীদের উপর বিনা কারনে গুলি ছুড়বেনা।
অল্প সময়ে এত প্রতিশ্রুতি আর ওয়াদা স্বত্বেও কার ইশারায় আর কোন কারনে আমাদের বাংলাদেশীদের একের পর এক হত্যা করে চলেছে ভারত? অন্য কোন দেশের সীমান্তে কোন মানুষ মারা যাওয়া দূরে থাক সামান্য নির্যাতনের কারনেও সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে এর কারন জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু আমাদের অতিশয় দুর্বল আর হিনমন্যটায় ভোগা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কাজটি করার সাহসও হারিয়ে ফেলেছে। কি রাষ্ট্র আর কি দলীয় চারিদিকে আজ ভারত ভারত রব। যেন ভারত ছাড়া বাংলাদেশ মরে যাবে এমন ভাব। এমন নির্লজ্জতা আর রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা ডানে ব্যর্থ সরকারের কোন প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা বিবেচনা এখন সময়ের দাবী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


