
তিস্তা
৬ সেপ্টেম্বর মানে আর মাত্র ২ দিন পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি হবে। চূড়ান্ত চুক্তির সময় একেবারে দোরগোড়ায় হলেও তাতে কিভাবে পানির বন্টন হবে সেটা নিয়ে আমাদের সরকার আমাদের জনগণকে এখন পর্যন্ত কোন সঠিক তথ্য দেয়নি। জনগণকে সম্পুর্ন অন্ধকারে রেখেই অতীতের মত সরকার ভারতের সাথে এই চুক্তি করতে যাচ্ছে। পত্রিকা মারফত এবং প্রধানমন্ত্রী আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর উদ্ধৃতি থেকে জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী শিলিগুড়ি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের গজলডোবা পয়েন্টে তিস্তায় প্রবাহিত পানির পরিমাণ হিসাব করে দু’দেশের মধ্যে পানিবণ্টন হবে। ৪৬০ কিউসেক হারে পানির সঞ্চয় রেখে বাকি পানির ৫২ শতাংশ নেবে ভারত, ৪৮ শতাংশ বাংলাদেশ।
কিন্তু বোম পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা থেকে লোকসভায় নির্বাচিত ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, চুক্তি অনুযায়ী ৭৫ শতাংশ পানি ভারত ও বাকি ২৫ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ। তাহলে কে সত্য বলেছেন? অতীত ইতিহাস থেকে রিজভীর কথা সত্য মনে হচ্ছেনা। কারন বাংলাদেশ প্রথম থেকেই গোপন করছে চুক্তি নিয়ে। সেক্ষেত্রে বলা যায় এটা আরেকটা ফারাক্কা চুক্তি হচ্ছে এবং তিস্তাকেও ফারাক্কার পরিনিতি বরন করে নিতে হবে।
আমার থেকে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের সরকার মিলে একসাথে আমাদের জনগণকে বোকা বানাচ্ছে। ভারত মনমোহনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে একতরফা ভাবে সব বাগিয়ে নিবে এটা এখনি বলা সম্ভব। আর এর গ্রাউন্ড প্রস্তুত করে গিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী।
" এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন- ভারতের সঙ্গে আলোচনায় এত গোপনীয়তা কেন? এতদিন কি আলোচনা হয়েছে, তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়ে কি কথাবার্তা হচ্ছে, কতটুকু নিয়ে দেন-দরবার চলছে- তা জনগণের কাছে প্রকাশ করা উচিত। তিনি বলেন, অবাধ তথ্যের এই যুগে কোন কিছুই গোপন রাখা যাবে না। তাছাড়া সরকারি উদ্যোগে যেখানে দেশে তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কি আলোচনা, চুক্তি বা সমঝোতার কি প্রস্তুতি- তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। "
প্রশ্ন হলো, কিসের ভিত্তিতে ৭৫% পানি ভারত নিবে? এই দাবীর ভিত্তি কি? বললেই হল? এই আমলে আমাদের সরকার ভারতের প্রতি বন্ধুত্তের হাত বাড়িয়েছি, ওদের অনেক অপরাধী ধরে দিয়েছে, ট্রানজিট, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারেরও সুযোগ দিয়েছে। এর মানে এই নয় যে আমরা সাধারণ মানুষ ভারতের কাছে নতজানু। মনে রাখতে হবে ভারতের সিভান সিস্টার খ্যাত রাজ্যগুলো আলাদা হলে আমাদেরই লাভ আর নিজের লাভ পাগলেও বোঝে। আমরা ভারতের কাছ থেকে সমমর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার না পেলে পুরনো পথ খোলা আছে, এটা ভারতকে মনে রাখতে হবে। পচা শামুকেও পা কাটে আর তা থেকে গ্যাংগ্রিনও হয়। হাজার বছর ধরে যে নদী যেভাবে বয়ে আসছে তাকে সেভাবেই রাখতে হবে। শুনতে হালকা লাগলেও এটা সত্যি যে প্রকৃতি তার উপর বিকৃতি পছন্দ করে না এবং তার মতো করেই প্রতিশোধ নেয়।
আর আমাদের দেশ কি উপদেষ্ঠারা চালায়? অনির্বাচিত এসব উপদেষ্ঠার এত প্রভাব কেন? জনগণের ভোটে নির্বাচিত মন্ত্রী দীপু মণি কোথায়? তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চুপ কেন? চুক্তি নিয়ে সব ক্ষেত্রে কেন এই গোপনীয়তা??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


