আমাদের ইতিহাস, আমাদের কিংবদন্তী: বোবা মেয়েটির কথা!
২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৩৩
ইতিহাসের পথ ধরে হাঁটলে তাকে পাবে না তুমি।
তাকে নিয়ে রচিত হয়নি কোন বীরত্বগাঁথা যুগ যুগ ধরে যা উজ্জ্বীবিত করতে পারে মানুষকে।
কেউ তাকে নিয়ে গায়নি কোন গান যার মনোহর সুর দিনের পর দিনে মাতিয়ে রাখে মানবহৃদয়।
কিন্তু সে বেঁচে আছে আজও, এক রহস্য হয়ে, দক্ষিণ এশিয়ার কিংবদন্তীতে, লোককথায় এবং, আরো প্রোজ্জ্বলভাবে, মানুষের জীবনে--মমতা ভালোবাসা, দ্রোহ দ্বন্দ্ব, এমনকি হিংসা ধ্বংসে, জ্ঞানের কণা সত্যের পরশ বুলিয়ে। বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলে তার সতত উপস্থিতি, কাব্যময় তার কথা মায়া ভরে স্মরণ করে মানুষ, প্রতিদিন। আর পশ্চিম বঙ্গে, রহস্যময় ঘুমন্ত এক ধ্বংসস্তুপে, জড়িয়ে আছে তার নাম।
তার নাম খনা (Khona)--খনার বচনের খনা।
কিংবদন্তীর কথা
তাকে নিয়ে প্রচলিত নানা কাহিনী। এদের সাধারণ সুতোটি হচ্ছে, উপমহাদেশের প্রাচীন রাজ্য অবন্তী (Avanti) তথা উজ্জয়নের (Ujjain) রাজা হর্ষ-বিক্রমাদিত্যের (Harsha Vikramaditya) রাজপ্রাসাদে প্রধান জ্যোতির্বিদ ছিলেন বিখ্যাত পন্ডিত বরাহমিহির (Varahamihira), আনুমানিক ৫০০ খ্রীষ্টাব্দের কথা। বরাহমিহিরের পুত্র জন্মগ্রহণ করলে তিনি পুত্রের কোষ্ঠি (horoscope) বিচার করে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যান। হিসেব করে দেখেন মাত্র এক বছরের মধ্যেই মারা যাবে তার প্রিয় শিশুপুত্র। পিতা হয়ে পুত্রের মৃত্যু অসহায়ের মত অবলোকন করতে হবে আর ভয়ংকর দিনগুলি গণনা করে যেতে হবে, এই চিন্তা সহ্য করতে না পরে তিনি ভাসিয়ে দেন পুত্রকে, পাত্রে ভরে নদীর স্রোতে।
অনেক দূরের এক রাজ্যে, নদী থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে রাক্ষস সম্প্রদায়। কিন্তু মারা যায় না শিশু, বড় হতে থাকে রাক্ষসদের মধ্যে। ষোল বছর বয়সে শাণিত বুদ্ধির এক রাক্ষস মেয়ের প্রেমে পড়ে যায় সে, বিয়ে করে তাকে। মেয়েটি তার জ্যোতির্জ্ঞান প্রয়োগ করে জানতে পারে তার স্বামী মিহির উজ্জয়নের বিখ্যাত পন্ডিত বরাহমিহিরের পুত্র। একদিন দুজন মিলে রওয়ানা দেয় উজ্জয়নের পথে।
পুত্র-পুত্রবধুর পরিচয় পেয়ে রাজপ্রাসাদে তাদের গ্রহণ করেন বরাহ। কৃষিকাজে মেয়েটির ছিল অগাধ জ্ঞান আর গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে আবহাওয়ার চমৎকার পূর্বাভাস দিতে পারত সে। উজ্জয়নের কৃষকরা ব্যাপক উপকার লাভ করে তার কাছ থেকে, আর তা দেখে রাজা বিক্রমাদিত্য মেয়েটিকে তার রাজ্যের দশম রত্ন (tenth jewel) হিসেবে আখ্য দেন।
মেয়েটির জ্ঞানে সারা রাজ্য রাজপ্রাসাদ মুগ্ধ হয়ে রইল, পন্ডিত বরাহের খোঁজ আর কেউ নেয় না। এমনকি বরাহ নিজেও জনসমক্ষে এক বিতর্কে পুত্রবধুর হাতে পরাস্ত হন। ঈর্ষাপরায়ণ বরাহ তাই এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুত্রকে আদেশ দেন মেয়েটির জিহ্বা কেটে ফেলতে যাতে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায় তার কন্ঠ। আর ঘটেও যায় এই মর্মন্তুদ ঘটনা!
উড়িষ্যার উপাখ্যানটিতে বর্ণিত আছে, রক্তক্ষয়ী এই ঘটনার পর মেয়েটির নাম হয় খনা, উড়িয়া ভাষায় যার মানে "বোবা"।
বাংলার এক কিংবদন্তীতে আছে, জন্মের পর মেয়েটির পিতা তার নাম রাখেন খনা কারণ তার জন্ম হয়েছিল এক শুভক্ষণে। কিন্তু বাংলার এই মেয়েটি বেড়ে উঠে লঙ্কা নামের রাক্ষস দ্বীপে (বর্তমানের Sri Lanka)। মধ্যযুগীয় কিছু বর্ণনায়, যেমন কালহানের রত্নরঙ্গিনীতে, বাংলার গৌড় (Gauda) কেই অবশ্য রাক্ষস রাজ্য (Kingdom of Demons) হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
রহস্যময় এক ভগ্নাবশেষ
কোলকাতা শহরের ৪০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে বারাসাত নগরীর কাছে বীরচম্পা (Berachampa) নামক জায়গায় গেলে দেখা যাবে প্রাচীন এক ভগ্নাবশেষ (ruins), মহাসড়কের উভয়পাশে বিস্তৃত। দক্ষিণ পাশে পরিলক্ষ্যিত হয় প্রাচীন দুর্গ (fort) ও প্রতিরক্ষাবেষ্টনি বা গড় (rampart) এর নিদর্শন। ধারণা করা হয়, এখানেই ছিল রাজা চন্দ্রকেতুর (Chandraketu) সাম্রাজ্য। কৃষিকাজ বা অন্যান্য খননকাজে মাটির নীচ থেকে প্রায়ই বেরিয়ে আসে নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন (artefacts): মুদ্রা, পুঁতি (bead), প্রস্তর ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য (stone & terracotta sculpture), গজদন্ত (ivory), উন্মোচন করে টুকরো টুকরো কত না ইতিহাস। নিদর্শনগুলির শুধু মাত্র সংখ্যার প্রাচুর্যই মুগ্ধ করে রাখার মত যথেষ্ঠ।
২৪ পরগনা জেলায় অবস্থিত এই এলাকাটিতে ১৯৫০ এর দশকে কিছু খননকার্য হয়েছিল। রোমান ও ভূমধ্যসাগরীয় মুদ্রা পর্যবেক্ষণ করে ঐতিহাসিকদের অভিমত, এখানকার স্থাপনাসমূহ খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের। পুরাতত্ত্ববিদগন (archeologist) এখানে মৌর্য্য (Maurya) ও গুপ্ত (Gupta) শাসনামলের নিদর্শনও আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু তৈজসপত্রের টুকরা (pot-sherds) এবং গোলাকার সিলমোহরের (seal) উপর খোদাইকরা অভিলিখন (inscription) এর মর্মোদ্ধার করা এখনও হয়ে উঠেনি, ফলে রাজা চন্দ্রকেতুর সঠিক পরিচয় এবং সেই এলাকার ইতিহাস এখনও আলো-আধাঁরিতে খেলা করে।
আর এখানেই, মহাসড়কের উত্তর পাশে শায়িত সমাধিফলকের মত এক ইঁটের স্থাপনা। বহুভুজাকৃতির উঁচু এই স্থাপনাটি কৌতূহল জাগানোর মত উত্তর-দক্ষিণে সুবিন্যস্ত, পাশে আরো কিছু স্থাপনা। এটিই খনা-মিহিরের মূড়া (Mound of Khona-Mihir) নামে পরিচিত। কিছু কিছু ঐতিহাসিক মূড়াটিকে গুপ্ত যুগের মন্দির হিসেবে অনুমান করলেও মন্দিরের পক্ষে জোড়ালো কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এখানে।
এক বাঙ্গালী নারীর গৌরব যাত্রা
কিন্তু প্রাচীন এই ধ্বংসস্তুপের সাথে খনার নাম কেন জড়িত? খনা তো বেঁচে আছে শুধু তার ছন্দোময় জ্ঞানকথায়: আবহাওয়া, কৃষিকাজ, জ্যোতিষী শাস্ত্রে, আর কিছু ছন্দে যা তুলে ধরে তার শ্বশুর বরাহমিহিরের বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা। আসলে কে সে?
অনেক কথাই হয়তো বলা যায়। কিন্তু আমার ভাবতে খুব ভালো লাগে সেই কবে, পুরাকালে, বাঙ্গালী এক নারীর গৌরব-যাত্রা, বাংলার গৌড় থেকে বীরচম্পা হয়ে ভারতের অবন্তীতে, চারপাশে রেখে যাওয়া চোখ ধাঁধানো বাস্তবজ্ঞান আর মন মাতানো ছন্দ।
তারপর, সে এক বিষাদ গাঁথা, জ্ঞানের ছটা সহ্য করতে না পেরে তাকে বোবা-স্তব্ধ করে দিতে ঈর্ষাপরায়ণ কুচক্রীদের হীন বীভৎস ষড়যন্ত্র! কিন্তু কে কবে পেরেছে তা? কুচক্রীর দল মারা গেছে সেই কবে, বেঁচে আছে খনা, বেঁচে আছে তার কন্ঠ:
কলা-রুয়ে কেটো না পাত,
তাতে কাপড় তাতেই ভাত।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
লেখকের কথা
খনার উপাখ্যানে রাক্ষস সম্প্রদায়ের কথা শুনে একে নিছক পুরাকালের পরমকথা বলে হেসে উড়িয়ে দেবার উপায় নেই। গঙ্গার তীরে বাংলার দুর্ধর্ষ গঙ্গারিধি জাতি বহুবার থামিয়ে দিয়েছিল বহিরাগত শত্রুর বিজয় অভিযান, পরাক্রমশালী আলেকজান্ডার সাহসই করেননি এই এলাকায় অভিযানের, আর্যরাও ঢুকতে পারেনি বহুকাল, আর তাই বহি:শত্রুরা ব্যর্থ মনোরথ হয়ে অপমান-ক্ষোভে প্রায়ই বাংলার মানুষকে তাদের সাহিত্যে আখ্যা দিয়েছে রাক্ষস, দানব, বানর হিসেবে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ইতিহাস, কিংবদন্তী, প্রত্নতত্ত্ব ;
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৩৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: একদম কাছা কাছি, সত্যি বলেছেন আর কী! ![]()
'লেনিন' বলেছেন:
সংস্কৃত যারা জানতো না তারাই যবন ম্লেচ্ছ, অচ্ছুৎ, চণ্ডাল, যজমান, রাক্ষস, প্রাকৃতজন।
'লেনিন' বলেছেন:
বৃষ্টি নামে আগনে, রাজা নামে মাগনে
ব্যাখ্যা: অগ্রহায়নে ফসল ভরা ধান পাকা শুরু এসময় বৃষ্টি হলে রাজাকেও ভিক্ষায় নামতে হবে।
বৃষ্টি নামে মাঘের শেষ
ধন্যি রাজার পুণ্যি দেশ।
ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।
লেখক বলেছেন: আপনার সতত বিচরণ সর্বত্র মুগ্ধতা বাড়িয়ে দেয়, প্রতিনিয়ত।
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
আমি একটি মন্তব্য দিয়েছিলাম, ওটি কি আসেনি খনার বচন তো পরিচিত কথা মুখে মুখে ফেরে ... কিন্তু তার পেছনের মানুষটিকে নিয়ে কখনও মাথা ঘামানোর চেষ্টা করি নি ...
খনার কিছু উল্লেখযোগ্য বচন এবং সম্ভব হলে তার বিশ্লেষণ নিয়ে একটি পোস্ট দিন ।
লেখক বলেছেন: আপনার পোস্টটি স্টিকি দেখে ভালো লাগছে, আশা করছিলাম। ![]()
আপনার মন্তব্যটি দেখি নি, ইসস, হারিয়ে গেল!
খনার বচনের উপর হলে আরেকবার দিন না?
খনার বচনের উপর পোস্টের কাজ চলছে। ভালো থাকবেন।
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
মিস্টার ম্যাভেরিক, একটি বিশেষ অনুরোধ, আপনিতো শব্দ-ইতিহাস নিয়ে লেখেন, এবার যুদ্ধাপরাধীদের এই শব্দ বিশ্লেষনটি নিয়ে লিখুন দয়া করে ।সবার জানা দরকার আসলেই এই যৌক্তিক বিশ্লেষণ ...নির্বাচনের আগেই এই পোস্টটি আশা করছি আপনার কাছে থেকে ।
লেখক বলেছেন: শব্দের বিশ্লেষণে আপনার আস্থা অবশ্যই বিশাল আনন্দের ব্যাপার। চেষ্টা করছি, কিন্তু বিভিন্ন ব্যস্ততায় একটু উদ্বিগ্ন, সময় পাব কিনা শেষ করতে। তবে হবে নিশ্চয়ই।
পারভেজ রবিন বলেছেন:
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে এই বিষয়ে লিখছেন।সূত্র দিয়েছেন ইন্টারনেট। কিন্তু ইন্তারনেতে এই সব বিষয়ে ভাল বাংলা উৎস নেই। আপনি সূত্র ইন্তারনেতের ঘারে চাপিয়ে দিয়ে নিজের বিদ্যা লুকিয়ে রাখতে চান।
লেখক বলেছেন: আপনার আস্থা শ্রদ্ধেয়। খনা ও তার বচনের উপর কোন তথ্য থাকলে দিন, আরো বড় করছি পোস্টটি। ![]()
'লেনিন' বলেছেন:
ম্যাভেরিক ভাই, আমাকে কিন্তু বঞ্চিত করা হচ্ছে.... ওখানে গিয়ে দেখলাম ওখানে আপনি নিয়মিত পোস্ট করেন। এখানে খবর নেই। লেখক বলেছেন: কী করব ভাই, এখানে পোস্টের অ্যাকসেস পেতে এত সব কাহিনী, খারাপ লেগেছে। ![]()
লেখক বলেছেন: এই ব্লগে, ম্যাভেরিক। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
যুদ্ধাপরাধী শব্দ বিশ্লেষণ নিয়ে পোস্টটি দিয়ে দিন, তাড়াতাড়ি...
সাথে এ.টি.এন বাংলা সংক্রান্ত খরবের পত্রিকার লিংকটিও জুড়ে দিন, পাঠকের সিকোয়েন্স বুঝে নিয়ার সুবিধার্তে ।
লেখক বলেছেন: আমার সত্যি খুব খারাপ লাগছে, খারাপ একটা অনুভব, জানি বুঝবেন, ব্যস্ততা এত বাজে জিনিস। রাত্রে চেষ্টা করব আরেকবার। ভালো থাকবেন।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
হিঁদু নারী খনা হিন্দুস্তানী ইতিহাসের অংশ, হিঁদুয়ানী সংস্কৃতি নিয়ে কোনো কোনো সুন্নি মস্লেমের ঢলানিতে আমোদ কম লাগে না, সুলিখিত মিথ্যাচার ও সুন্দর পাল্প ফিকশন উপহার দেওয়ার জন্যে + দিলুম।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ, একটি কথা কত বিভিন্নভাবেই না বলা যায়, ব্যাখ্যা করা যায়, অনুসিদ্ধান্ত টানা যায়, এটি বস্তুতপক্ষে দেখিয়ে দেয়ার জন্য। এরকম কিছু ইতিহাস, কিংবদন্তী, গণিত, ও শব্দতত্ত্বের উপর আমার আরো কিছু লিখা আছে, পড়বেন আশা করি। + নিয়ে চিন্তিত হবেন না। ভালো থাকবেন।
অপ্সরা বলেছেন:
রহস্যময়ী খনাকে এক অপাররহস্যের ভালো লাগার নারী হিসেবেই ভালো লাগে আমার।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। হ্যাঁ, রহস্যের আলো-আধাঁরিতে জ্ঞানের ছটা আর দ্যোতনা, ভালো লাগা এক প্রাচীন জীবন্ত নারী।
ভাল থাকুন, অপ্সরা।
অলস ছেলে বলেছেন:
++++++++++++++++++++++
লেখক বলেছেন: বড় ভাল লাগল আপনাকে দেখে। ভাল থাকুন।
সোহানা মাহবুব বলেছেন:
এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম।এক কথায় চমৎকার।যদিও পোস্ট টি পুরনো,তবু একজন নতুন ব্লগার হিসেবে আমার কাছে নতুন।আপনার সবগুলো লেখা পড়ার ইচ্ছে আছে।আশা করি ধীরে ধীরে পড়ে ফেলব।শুভকামনা।+++
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যে, মূল্যায়নে সম্মানিত বোধ করছি খুব। লেখক সত্তার কাছে এ এক বড় প্রাপ্তি।
আনন্দ মমতা ঘিরে থাকুক আপনার চারপাশ।
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
কিছুদিন আগে কালিদাস নিয়ে একটা পোষ্ট করতে যেয়ে বিক্রামাধিত্যের নবরত্নের ব্যাপারে জানতে পারি। তখন বরাহমিহিরের নামটা ইংলিশ থেকে বাংলা করতে না পেরে লিখেছিলাম নামটা বাংলা করা আমার কম্মো না। পরে বন্ধু তায়েফ নামটা বাংলায় বলে দেয়। যেহেতু নামটা শুনিনি কখনো মনে তাই একটা কৌতুহল থেকেই গিয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে উত্তরটা আমি পেয়ে গিয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, মে ঘ দূ ত। অনেক ভালো লাগল আপনাকে দেখে।
আপনার পোস্ট পড়ব শীঘ্রই।
চমৎকার কাটুক জীবন।
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
আপনি এতো সুন্দর করে উত্তর দেন কি করে? :=)আপনার পোষ্টে কমেন্ট করতে পারাটায় তো সৌভাগ্যের ব্যাপার। আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যও অনন্য অনুভূতির, রেশ থেকে যায় হৃদয়ে। :-)
সুখ স্বস্তিতে পূর্ণ থাকুক আপনার সময়।
ত্রিভুজ বলেছেন:
যথারীতি চমৎকার লেখা, ম্যাভেরিক ভাই।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভাই।
ভালো থাকবেন।
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
স্কুলে থাকতে খনার কথা পড়েছিলাম, এর পর অনেক বার মনে এলেও জানতে ইচ্ছে করে নি, জানতে ইচ্ছে করলেও সুযোগ হয় নি, সুযোগ এলেও চেষ্টা করি নি...আজ জেনে নিলাম
দারুণ লাগল
লেখক বলেছেন: হা হা হা। বেশ জটিল ঘটনাপ্রবাহই বলা যায়।
পড়া ও অনুভবে ধন্যবাদ।
রিমি (স. ম.) বলেছেন:
খনার বচন শুনে নি এমন কেউ নেই মনে হয়। এতকিছু আগে জানা ছিল না। খুব ভাল লাগল পড়ে। আরেকটা বচন মনে পড়লঃযদি বৃষ্টি আগনে, রাজা যায় মাগনে।
যদি বৃষ্টি পৌষের শেষ, ধন্যি রাজার পুণ্যি দেশ।
কিছুদিনের মধ্যে বৃষ্টি হলে মুশকিল হবে।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। ভালো লাগল আপনাকে দেখে। আপনার দেয়া বচন দুটি আমার খুব প্রিয়, কারণ এ দুটোর কথা মনে হলেই ভেসে আসে আমার গ্রামের ছবি, ধান কাটা শেষ হয়েছে, ধূসর ধু ধু প্রান্তর, তবু কী মায়াময়!
লেখক বলেছেন: ইসস, বাবুনি আপু, অনেক দেরি হয়ে গেল উত্তর দিতে! তাও যা হোক, বছর পেরুতে দেইনি। ![]()
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, কবি। একটু দেরি হয়ে গেল উত্তর দিতে।
মূল্যায়নে সম্মানিত হলাম। ভালো কাটুক সময় আপনার।
সুরঞ্জনা বলেছেন:
অসম্ভব ভালো লাগলো। প্রিয়তে নিলাম।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, সুরঞ্জনা আপা। প্রিয়তে'র সম্মানে ভালো লাগল খুব।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যে মূল্যায়নে অনেক ধন্যবাদ। লিঙ্ক দেখব।
লেখক বলেছেন: বোবা মেয়েটি আসলেই অনেক সুন্দর গুণী। ভালো লাগে সবসময়।
সৈয়দা আমিনা ফারহিন বলেছেন:
খনা............... খুব পছন্দের একটা চরিত্র
লেখক বলেছেন: পছন্দ করার মতো তেজস্বিনী স্পষ্টভাষী জ্ঞানী।
পেছনের পোস্ট বেড়িয়ে যাওয়ায় আনন্দিত সম্মানিত বোধ করছি। :-)
সৈয়দা আমিনা ফারহিন বলেছেন:
ওমা... আমি পড়ব না :-?
লেখক বলেছেন: হা হা
না না
তা না
:-)
লেখক বলেছেন: জীবন কাটুক সুখে, শান্তিতে।
ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন বলেছেন:
অনেক সুন্দর লিখেছেন ++++++
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। পড়া ও মূল্যায়নে ধন্যবাদ অনেক।
সুন্দর কাটুক সময়।
শুকনা মরিচ বলেছেন:
এক কথায় অসাধারণ একটা লেখা পড়লাম ।এ ধরনের আরও লেখা পড়তে চাই
ভীষণ ভালো লাগলো । আপনাকে অনুসরনে রাখলাম ।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। অনুসরণে সম্মানিত বোধ করছি, প্রচেষ্টা থাকবে আরও লেখার। আমার ব্লগে আনন্দময় হোক আপনার ভ্রমণ।
মেহবুবা বলেছেন:
ধন্যবাদ ইমন জুবায়েকে । তার প্রিয় তে ছিল এটি । না হলে আড়ালেই থেকে যেত হয়তো । খনার বিভিন্ন বচন সেই আমার নানীর মুখে শুনতাম ছোটবেলা থেকে । তার ওপর রচিত একটা বইও সংগ্রহে আছে ।
তবে আপনার দেয়া তথ্য অনেকটাই অজানা ছিল ।
কিছু কিছু "বিশেষ" মানুষ আছে তাদেরকে সাধারন মনে হয় না । খনা তাদের অন্তর্ভুক্ত একজন ।
ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে এবং ইমন জুবায়েরকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার খনাময় শৈশবের কথা শুনে ভালো লাগল। এ ব্যাপারে সময় করে একটি পোস্ট দিন, বিশেষ করে নানী কীভাবে বচনগুলো বলতেন এবং ব্যাখ্যা করতেন। কিছু কিছু শৈশবের বেঁচে থাকা প্রয়োজন।
ভালো কাটুক সময়।
উম্মে মারিয়াম বলেছেন:
অসাধারন এক কাহিনি।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। মন্তব্যে অনুভবে অনেক ধন্যবাদ। আমার ব্লগে আনন্দময় হোক আপনার ভ্রমণ।
রেজোওয়ানা বলেছেন:
আপনার এই লেখাটি আগে চোখে পড়েনি, আজকে ইমন জুবায়ের ভাইয়ের শোকেসে দেখে আসলাম।খনাকে নিয়ে এমন চমৎকার লেখা আমি আর পড়িনি, খুব ভাল লাগলো ভাইয়া .......
লেখক বলেছেন: ঐতিহাসিকের লেখা ভালো লাগায় অনেক সম্মানিত বোধ করছি। সুন্দর কাটুক সবসময়।
যাযাবরমন বলেছেন:
খনা/রাক্ষস/বাংলা/গঙ্গরিধি/আলেকজান্ডার/কর্ন
যাযাবরমন বলেছেন:
মহাভারতে কর্ন সম্ভবত এই অন্চলের রাজা ছিলো
ঘুমন্ত আমি বলেছেন:
ভালো লাগলো খনা কথন
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















আমরা যেমন পরীক্ষা ভাল না হলে বলি প্রশ্ন কঠিন হয়েছে।