somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একবিংশ শতাব্দীর তিনটি যুগ অন্তকারী আবিষ্কার!

৩১ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিহান ছোট বেলা থেকেই ডানপিটে। চাপে পড়ে স্কুলে যেতে হয়েছে মাঝে মাঝে, কিন্তু পড়াশোনা ভালো লাগেনি কোনো কালে। বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াত, মার্বেল ডাংগুলি খেলেই পার করে দিত সারা দিন। পড়ার কথা উঠলেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আসত। তারপরও অনেকে বলত, স্কুল পালালেই রবীন্দ্রনাথ হওয়া যায় না হে! তাদের দিকে করুণার হাসি হাসত শিহান। বিজ্ঞানের প্রতি ছিল তার খুব ঝোঁক, কিন্তু স্কুলে পঠিত বিজ্ঞান না। স্কুলেই যদি বিজ্ঞান হত, তাহলে কি নিউটন আপেল গাছের নীচে বসে থাকতেন আর এডিসন গোলাবাড়িতে ডিমে তা দিতেন? তো শিহানকে নিয়ে সবাই হাসাহাসি করত। কিন্তু সেই শিহানই যে এত যুগ অন্তকারী আবিষ্কার করে ফেলবে আর সবার মুখ স্তব্ধ করে দিবে, কে জানত! নীচে শিহানের ৩টি মহা আবিষ্কার তুলে ধরা হলো:


১। একদিন শিহান তাদের পুকুরে মাছের পোনার ঝাঁকের দিকে তাকিয়ে ছিল। এমন সময় দেখল, তার খালাতো বোন শাহানা পুকুর পাড় ধরে হেঁটে বাড়ির ভেতর যাচ্ছে। শাহানা কিছু দিন আগে চুলে বব কাট দিয়েছে। খোলা চুলে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল তাকে, শিহান মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। এরপর শাহানা যতবারই বাড়িতে আসত, পুকুর পাড়ে পোনাকে খাবার দিতে দিতে তার চুলের দিকে তাকিয়ে থাকত শিহান। কয়েক মাস পর শিহান তার প্রথম মহা আবিষ্কারটি করল: মেয়েদের মাথার চুলের সাইজ বৃদ্ধি পুকুরে তেলাপিয়া মাছের সাইজ বৃদ্ধির সমানুপাতিক (directly proportional), একটা বাড়লে আরেকটা বাড়ে।

গাণিতিকভাবে, h=k*t, যেখানে
h = মেয়েদের চুলের সাইজ
t = তেলাপিয়া মাছের সাইজ
k = সমানুপাতিক ধ্রুবক।


২। আরেক দিন গভীর রাতে বাইরে বের হয়ে শিহান দেখল গাঁয়ের পাশের নদীতে সাদা ধোঁয়া উঠছে। ভূত ভেবে ভয় পেয়ে দৌড়ে ঘরে চলে আসল সে। দিনের আলোতে মনে হল তার মত বিজ্ঞানীর ভূতে ভয় পাওয়া মানায় না। তারপর বেশ অনেকদিন এ নিয়ে ভাবল সে, বিষয়টা কী!

হঠাৎ একদিন নিউটনের আপেল পড়ার মত অবস্থা হল তার। খুব চমকে গেল সে। এও কি সম্ভব, এও কি হতে পারে! তারপরও অনেক পরীক্ষা-নিরিক্ষার করল সে। সন্তুষ্ট হল তার দ্বিতীয় আবিষ্কারের ব্যাপারে। আমি বিজ্ঞান ভালো বুঝি না দেখে শিহান প্রযুক্তিগত জটিলতা বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের ভাষায় (layperson language) আমাকে বুঝাল।
ঘটনা হল, আমরা জানি পানি (H2O) হাইড্রোজেন (H2) ও অক্সিজেন (O2) দিয়ে তৈরি। হাইড্রোজেন দহন (combustion) প্রক্রিয়ায় জ্বলে; অক্সিজেন নিজে জ্বলেনা কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে। সুতরাং পানিকে সহজভাবে ভেঙে হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনে ভাগ করতে পারলে, তারপর হাইড্রোজেনকে সহজে পোড়াতে পারলে আর দেখতে হবে না, সারা পৃথিবীর জ্বালানী সমস্যা মুহূর্তে মিটে যাবে। তো শিহান একটা জংলী লতা থেকে এমন একটা রাসায়নিক পদার্থ আবিষ্কার করেছে যা পানিতে দিলে পানি সাথে সাথে ভেঙে যাবে। পদার্থটির নাকি কোন পরিবর্তন হবে না কারণ এর নাম প্রভাবক (catalyst)। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, শিহান আমাকে বলল, হাইড্রোজেনকে অক্সিজেনকে দিয়ে পোড়ালে আবার পানিই পাওয়া যায়। তার মানে শিহানের আবিষ্কারটা নবায়নযোগ্য (renewable)। কিছু পদ্ধতিগত অপচয় (system loss) বাদ দিলে ৪০ কেজি পানি দিয়েই নাকি একটি জাহাজ বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় বেশ কয়েকবার যাতায়ত করতে পারবে। শিহান অবশ্য আমাকে পদার্থটি দেখায় নাই, কিছুটা আমি বুঝব না দেখে, আর কিছুটা গোপনীয়তার স্বার্থে।

সবশেষে শিহান বলল সমরাস্ত্র (armament) হিসেবেও তার আবিষ্কার যুগান্তকারী, বিশেষ করে জলপথের যুদ্ধে (naval warfare)। যেমন বাংলাদেশে যদি জলপথে বহিঃশত্রুর আগমন ঘটে, তাহলে পদার্থটি দূর হতে পানিতে নিক্ষেপ করে সেখানে কোনো স্নাইপার একটি গুলি করলেই হবে, বিরামহীনভাবে আগুন জ্বলতে থাকবে।


৩। একদিন শিহানের বড় ভাই ও ভাবি খুব ঝগড়া করছিল। মুরুব্বিরা ভাইকে বলল, রক্ত গরম করিস না। সাথে সাথে শিহান পেয়ে গেল ধারণা।
ঝগড়ার সময় মানুষের যে রক্ত গরম হয়ে যায়, এই তাপ শক্তিকে (heat energy) কোন মতে যদি তড়িৎ শক্তিতে (electrical) রূপান্তরিত (transform) করা যায়! এর জন্য শিহান ইতোমধ্যে প্রাথমিক একটা বর্তনী (electrical circuit) তৈরি করেছে যার মাধ্যমে সে ২০ ওয়াটের (20 watt) দু'টি সাশ্রয়ী বাতি জ্বালাতে সক্ষম হয়েছে। এখন চেষ্টা করছে এর কার্যক্ষমতা (efficiency) বাড়ানোর। ইসস, ভাবুন তো একবার, ঢাকায় লোডশেডিং (load-shedding), কিন্তু আর ভয় নেই, বাসায় একটু ঝগড়া করে নেবেন মাত্র।

তথ্যসূত্র: শিহানের সাক্ষাতকার। লেখক যেহেতু বিজ্ঞান ভালো বুঝেন না, অতএব এইসব আবিষ্কারসংক্রান্ত তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতার জন্য লেখক দায়ী থাকবেন না। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য আগ্রহীদের সরাসরি শিহানের সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা গেল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৪
২৬টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×