বাংলার ভূত-পেত্নী
১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:২০
![]()
[লোকগাঁথা, লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী]
ভূত-পেত্নী পরিচিতি
ভূত হলো অশরীরি পুরুষ আত্মা, আর পেত্নী অশরীরি মেয়ে আত্মা। অপঘাত, আত্মহত্যা প্রভৃতি কারণে মৃত্যুর পর মানুষের অতৃপ্ত আত্মা ভূত-পেত্নী হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করতে পারে।
শাকচুন্নি: এটি একটি পেত্নী। অল্পবয়সী, বিবাহিত মেয়ে অপঘাতে মারা গেলে শাকচুন্নিতে পরিণত হতে পারে। শুভ্র কাপড় পরিহিত শাকচুন্নি মূলত জলাভূমির ধারে গাছে বাস করে এবং সুন্দর তরুণ দেখলে তাকে আকৃষ্ট করে ফাঁদে ফেলে। কখনো কখনো সে তরুণকে জলাভূমি থেকে মাছ ধরে দিতে বলে। কিন্তু সাবধান, শাকচুন্নিকে মাছ দেয়া মানে নিজের আত্মা তার হাতে সমর্পণ করা!
চোরাচুন্নি: দুষ্ট ভূত, কোনো চোর মারা গেলে চোরাচুন্নি হতে পারে। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। বাড়িতে এদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য গঙ্গাজলের ব্যবস্থা আছে।
মেছোভূত: মাছলোভী ভূত। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়।
পেঁচাপেঁচি: দেখতে পেঁচার মত এবং জোড়া ভূত—একটি ছেলে, অন্যটি মেয়ে। গভীর জঙ্গলে মানুষ প্রবেশ করলে এরা পিছু নেয় এবং সুযোগ বুঝে তাকে মেরে ফেলে।
মামদো ভূত: হিন্দু বিশ্বাস মতে, এটি মুসলমান আত্মা।
ব্রহ্মদৈত্য: ব্রাহ্মণের আত্মা, সাদা ধুতি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এরা সাধারণত পবিত্র ভূত হিসেবে বিবেচিত। বলা হয়ে থাকে, কোনো ব্রাহ্মণ অপঘাতে মারা গেলে সে ব্রহ্মদৈত্য হয়। এছাড়া পৈতাবিহীন অবস্থায় কোনো ব্রাহ্মণ মারা গেলেও ব্রহ্মদৈত্য হতে পারে। এরা কারো প্রতি খুশি হয়ে আশির্বাদ করলে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হয়, কিন্তু কারো প্রতি নাখোশ হলে তার সমূহ বিপদ। দেবদারু গাছ কিংবা বাড়ির খোলা চত্বরে বাস করে।
স্কন্ধকাটা বা কন্ধকাটা: মাথাবিহীন ভূত। অত্যন্ত ভয়ংকর এই ভূত মানুষের উপস্থিতি টের পেলে তাকে মেরে ফেলে। কোনো দুর্ঘটনায়, যেমন রেলে কারো মাথা কাটা গেলে, সে স্কন্ধকাটা হতে পারে। ভয়ংকর হলেও, মাথা না থাকার কারণে স্কন্ধকাটাকে সহজেই বিভ্রান্ত করা যায়।
আলেয়া: জলাভূমির গ্যাসীয় ভূত। এরা জেলেদেরকে বিভ্রান্ত করে, জাল চুরি করে তাদের ডুবিয়ে মারে। কখনো কখনো অবশ্য এরা জেলেদেরকে সমূহ বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করে থাকে।
নিশি: খুব ভয়ংকর ভূত। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে একা পেলে আক্রমণ করে, কিন্তু নিশি গভীর রাতে মানুষের নাম ধরে ডাকে। নিশির ডাকে সারা দিয়ে মানুষ সম্মোহিত হয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে, আর কখনো ফিরে না। কিছু কিছু তান্ত্রিক অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিশি পুষে থাকে।
কানাখোলা: গভীর নির্জন চরাচরে মানুষকে পেলে তার গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এই ভূত। মানুষটি তখন পথ হারিয়ে বার বার একই জায়গায় ফিরে আসে, এবং এক সময় ক্লান্ত হয়ে মারা যেতে পারে।
কাঁদরা-মা: অনেকটা নিশির মত এই ভূত গ্রামের পাশে জঙ্গলে বসে করুণ সুরে বিলাপ করতে থাকে। কান্নার সুর শুনে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে গেলে তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প বানিয়ে জঙ্গলের আরো গভীরে নিয়ে মেরে ফেলে। ছোট বাচ্চারা এর কান্নায় বেশি আকৃষ্ট হয়।
ভূত কোথায় থাকে: শেওড়া, তাল, দেবদারু, বেল, অশ্বত্থ প্রভৃতি গাছে একটি দুটি ভূতের দেখা পেতে পারেন। কিন্তু বেশি সংখ্যায় ভূত দর্শনের অভিলাষ থাকলে, আপনাকে যেতে হবে বিজন বনে, তেপান্তরে, কিংবা ভূষণ্ডির মাঠে।
ভূতের গল্প বলার উপযুক্ত সময়: কেউ অনুরোধ করলেই সাথে সাথে ভূতের গল্প বলতে বসে যাবেন না যেন। সব কিছুরই একটা তরিকা আছে। ভূতের গল্প বলতে হয় মজলিসে, আর গল্পের উপযুক্ত সময় হচ্ছে রাতের বেলা, বিশেষ করে বাদল ধারার রাতে। ঝমঝম বৃষ্টির ফোঁটা পড়বে টিনের চালে বা ছাদে, জানালা থাকবে হাট করে খোলা, হালকা বৃষ্টির ছাঁট আসবে ঘরে। তীব্র কোনো আলো রাখা চলবে না, কেবল একটু দূরে হারিকেন, কুপি বা মোমের মৃদু আলো মিটমিট করে জ্বলতে পারে।
ভূতের গল্পের বর্ণনা মাধ্যম: ভূতের গল্প উত্তম পুরুষে, অর্থাৎ নিজের জবানিতে বলাই ভালো, তাতে গল্পে অনুভূতির ব্যঞ্জনা তীব্র হয় এবং গা ছমছম ভাবটা প্রকট করা যায়। ভূতের গল্পে স্বভাবতই কাউকে না কাউকে ভূতের পাল্লায় পড়তে হবে, সেটি বর্ণনাকারী নিজেই হতে পারেন।
ভূতের গল্প একটানে বলতে নেই, কিছুটা ভয়ের জায়গায় এসে গল্প থামিয়ে দিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে হবে, যাতে অন্যরা অনুরোধ করে গল্প চালিয়ে যেতে। যেমন বলা যায়, "বিজন জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ এক জায়গায় দেখলাম কী..! আচ্ছা, আজ থাক, ঘুম পাচ্ছে, বাকিটা আরেক দিন বলব।"
কিন্তু গল্পের যে অংশগুলি বেশি ভয়ের, বিশেষ করে চূড়ান্ত অংশ, সেখানে না থেমে খুব দ্রুত, জোরে জোরে হঠাৎ বলে ফেলতে হবে। যেমন: "...একথা শুনে লোকটা বলল, আচ্ছা, দেখেন তো এরকম কিনা [নরম স্বরে বলতে হবে] ঘুরতেই দেখি, লোকটার পায়ের কাপড় একটু উপরে, পায়ের পাতা উল্টানো [একটু জোরে], পায়ের আঙ্গুলে কোনো ফাঁক নেই [আরো জোরে], একদম হাঁসের পায়ের মত দেখতে [আরো জোরে বলতে হবে এবং এই দেখো, বলে হঠাৎ গল্পকার নিজের পা দেখিয়ে দেবেন]।
ভূত-পেত্নী ও রাজাকার: ভূত-পেত্নীর সাথে রাজাকারের কোনো তুলনা হয় না। এদের জন্মভূমির প্রতি প্রবল টান থাকে। এক দেশের সাথে অন্য দেশের ঝগড়া বেঁধে গেলে ভূতরাও নিজ নিজ দেশের অধিকারের জন্য অন্যদেশের ভূতের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ভূতরা মাতৃভূমির প্রতি বিশ্বাসঘাতক হয় না।
প্রেম-ভালবাসায় ভূত-পেত্নী: ভূত-পেত্নীর শারীরিক সৌন্দর্যের ব্যাপারে নানা মত চালু থাকলেও, প্রেম-ভালবাসায় তাদের নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা বেশ সুবিদিত। তাই যুগ যুগ ধরে মানব প্রেমিক প্রেমিকা গভীর ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে পরস্পরকে পেত্নী, ভূত নামে আখ্যায়িত করে থাকে।
ভূত-পেত্নী দশার অবসান:
[ভূত-পেত্নী অতৃপ্ত আত্মা, পৃথিবীর মায়ায় ইত:স্তত ছুটে বেড়ায়। তাদের জীবন ক্লান্তিকর ভারবহ উদ্দেশ্যহীন, তাই কেউ ভূত-পেত্নীর আত্মা মুক্ত করলে তারা খুশি হয়। আত্মা মুক্ত করার একটি কার্যকর উপায় হলো গয়ায় গিয়ে ভূতের নামে পিণ্ডি দেয়া।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সাহিত্য, লোককথা, অতিপ্রাকৃত ;
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:১৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
ব্রহ্মদৈত্য হয়ে আপনার আগমন ঘটুক সামু-গোরস্থানে। লেখক বলেছেন: সামুর আবার কী হলো, ভাই? নিয়মিত সময় দিতে পারি না, তাই টের পাই না।
কিন্তু ব্লগের পরিবেশ চমৎকার, পরিশীলিত থাকুক, এই কামনা। ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার আগমন আনন্দময়।
হুমায়রা হারুন বলেছেন:
খুব সুন্দর লিখছেন । এবার কিছু ভূতের গল্প শোনান।প্যারানরমাল এন্টিটি নিয়ে নর্থ আমেরিকায় বেশ কাজ হচ্ছে। আমাদের দেশে হচ্ছে কি না জানি না।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। বাদল ধারার রাত আসুক, ভূতের গল্পের পোস্ট হতে পারে।
ভালো থাকবেন, শুভ্রতায়, মানুষের মমতায়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, পারভেজ ভাই। চমৎকার হোক আপনার গল্প।
লন্ডন-আমেরিকার (ইংরজী) জগৎ ছেড়ে একেবারে গ্রাম বাংলার মেঠো পথে পদার্পণ!
কাহিনী কী?
"ভূত অমনিবাস" - ভালো হয়েছে!
লেখক বলেছেন: না, ভাই, সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগে, এর জন্য স্থান-কাল-পাত্র দ্রুত পরিবর্তন হয়। বিশেষ কোনো কারণ নেই।
আর মেঠো পথে পদার্পণের যে কি আনন্দ! রবি শস্যের ক্ষেতের ভেতর, বসন্তে, মেঠো পথ দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসার চিত্রটা চির অম্লান।
ভালো থাকুন, মেঠোপথের স্নিগ্ধতায়।
লেখক বলেছেন: শুভ কামনা। আপনার দিবারাত্রি আনন্দকাব্যে ভরে উঠুক।
লেখক বলেছেন: লেখার একটা বড় অংশ এসেছে ছোটবেলায় শোনা চারপাশের মানুষের কিছু কাহিনী, গল্প বা গফ।
এছাড়া বহুদিন আগে পড়া ঠাকুমার ঝুলির খানিকটা স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছিল। বিক্ষিপ্ত কিছু নেট সার্চও কিছুটা গতি দিয়েছে পোস্টে।
হুমায়রা হারুন বলেছেন:
ইন্টারনেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি ভূতের ছবি। ডানের ছবিতে ১৮৩২ সালে নিহত কাউবয় বিলির প্রেতাত্মার আগমন প্রতি মধ্যরাতে সাউদার্ন ডেনভারে।পাশেরটি ইনফ্রা রেড ইমেজ।স্থান ইলিনয় শিকাগোর ১৮৬৪ সালের ব্যাচেলার গ্রোভ সেমেটারি যেখানে নির্মম ভাবে হত্যার পর মৃতকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হতো।
লেখক বলেছেন: ইশশ, কী গা ছমছম করা ঘটনা! আসলে কী হয়েছিল পড়ে দেখতে হবে।
ধন্যবাদ, ইমেজের জন্য। কত না রহস্য ছড়িয়ে আছে এই বিশ্বচরাচরে।
প্রতিধ্বনি, তুমিতো বলেছেন:
রাতবিরেতে কী পোষ্ট দিলেন.... এখন ঘুমামু কেমনে?
লেখক বলেছেন: কোনো সমস্যা নেই। ভূত নেই বলে নিজেকে সাহস দিয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। আর নেহাৎ যদি ভৌতিক ঘটনা ঘটে, তাহলে বিষয়টা বুঝার চেষ্টা করবেন। রহস্য ভেদের আনন্দ ভয় তাড়িয়ে দেবে।
শুভ হোক আপনার নিদ্রাভিযান।
লেখক বলেছেন: আরো ভূতের খবর পেলে যোগ করে দেব। ভূত চেনা ভাল।
ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: ডরের কিছু নাই। সাহস আনুন, পৃথিবীকে ভূত মুক্ত করা এবং ভূতের আত্মা মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।
লেখক বলেছেন: হে, হে, কিছুটা, এই আর কি!
ধন্যবাদ, ফারহান।
লেখক বলেছেন: ছম ছম আইডিয়ার জন্য ধন্যবাদ! গবেষণার একটু নতুন দ্বার খুলে যাবে।
লেখক বলেছেন: আপনি যে ব্রাইট, তাতে ভূতই কেবল বলবে "সার্ছে!"
শুভ কামনা রইল।
তনুজা বলেছেন:
++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।
মনির হাসান বলেছেন:
জট্টিল .... ফ্যান্টমিস্টিক .... হইছে ...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। সুখ স্বস্তিতে কাটুক আপনার সময়।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
আরো দুই প্রকার আছে । ছাপা খানার ভূত ও জ্বীন।
কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
ধরার মন্ত্র
[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/kakshalikgangchil_1239424113_1-syndetics.gif
ধরার যন্ত্র
গোস্ট কল রিসিভার
( মহিলাদের সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি)
লেখক বলেছেন: হা, হা। ছবি ও পদ্ধতি বড় মজার হয়েছে। কিন্তু মহিলাদের সাফল্য বেশি কেন?
লেখক বলেছেন: বইয়ের প্রচ্ছদ নাকি! জটিল তো: ভূত ধরার মন্ত্র।
লেখক বলেছেন: আপনি খুব ভাল গল্প লিখতে পারবেন।
গা ছম ছম করা গল্পকার হিসেবে আপনি খ্যাত হোন।
লেখক বলেছেন: হুমম, এটা ভূততাত্ত্বিকদের গবেষণার বিষয় হতে পারে।
মুক্ত বয়ান বলেছেন:
আপনার উপ্রে বেম্মদৈত্য ভর করুক!!
লেখক বলেছেন: এই রে কেন? বেম্মদৈত্যের আত্মা বরং মুক্ত হোক।
দীপ্ত আনন্দে উদ্ভাসিত হোক আপনার জীবন।
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
ভূত খুব ভয়ানক প্রাণী..
লেখক বলেছেন: ছম ছম ঘটনা আছে, মনে হয়! সময় পেলে লিখবেন।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
ভিন্ন প্রসঙ্গ....ফেসবুকে একটা গ্রুপ খুলেছি...উয়ারী-বটেশ্বর নিয়ে। আপনার সংশ্লিষ্ট কয়েকটা লিখার লিংক কি দিয়ে আসতে পারেন সেখানে। অথবা কোন কোন লিখার লিংক দেয়া যাবে সেই অনুমতি আমাকে দিতে পারেন।
Click This Link
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। পোস্ট কি উয়ারী-বটেশ্বর সংক্রান্ত হতে হবে?
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
না..উয়ারী-বটেশ্বর এবং প্রত্নতত্ত্ব বা ইতিহাস সম্পর্কিত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। খুঁজে দেখছি। দুয়েকটি পোস্ট পাওয়া যাবে।
লেখক বলেছেন: অনুভূতির ব্যঞ্জনা সবার থাকে, কিন্তু চমৎকারভাবে তা পরিপাশে উৎসারিত করা সবার হয় না। আপনি রেখে যান সাবলীল প্রকাশ, যা হয়তো উদ্ভাসিত হয় পাঠকের সামনে। আপনার স্বকীয় লেখক সত্তার প্রতি শ্রদ্ধা, শুভ কামনা।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
পেলাস!
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আনন্দময় কাটুক আপনার সময়।
শয়তান বলেছেন:
আমার নাম কৈ ??
লেখক বলেছেন: মানুষ ভূত বা শয়তান হয় না, তাই আপনার নাম নেই। আর নাম অন্তর্ভুক্তির কারণে আপনি তা হন, এ কামনা কখনো করি না।
শান্তি সফলতায় কাটুক আপনার জীবন।
মেঘলা মানুষ বলেছেন:
ভী+অল=ভয়
লেখক বলেছেন: নী+অল=নয়, এখন থেকে আর।
এবং স্বস্তি শান্তিতে থাকুক আপনার মন।
লেখক বলেছেন: আহ, হা, ধন্যবাদ। এ যে আমারও শৈশব।
শৈশবের শুভ্রতা থাকুক চির অমলিন।
'লেনিন' বলেছেন:
যদিও ছোটবেলায় জানতাম ভূত বলে কিছু নেই, কিন্তু গল্প শুনতে বেশ লাগতো। বাসার পরিচারিকা থেকে শুরু করে অতিথি যেই আসতো তাকেই বাধ্য করতাম দু'ভাইবোন মিলে গল্প বলতে হবে। আর তাদের গল্প বলার অকৃত্রিম দক্ষতা আপনার গবেষণার সাথেও মিলে যায়।
গ্রামে রাতে বের হতে হালকা ভয় হতো কিন্তু সব সময়ই তা জয় করার চেষ্টা করতাম এবং ভূতের ভয় যে কেবলই কল্পনা তা বুঝতে বেশি দেরি লাগেনি।
ভালো লাগলো পুরো লেখাটি।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, আসলেই ভূতের গল্প বেশ মজার। ছোটবেলায় খুব শুনতাম, কখনো কখনো ভয় পেতাম--মনে হতো ভয় না পাওয়াটা মোটেও মজার নয়।
শাওন মিয়া বলেছেন:
নববের্ষর শুভেচ্ছা । ভূতের গল্প ভাল লাগে। তাই গভীর রাতে পরলাম।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। গভীর রাতে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এটি যথাযথ পদক্ষেপ। নতুন বছর এবং আগামী সব বছর কাটুক আপনার গৌরবোজ্জ্বল ও সুখে।
শয়তান বলেছেন:
নববর্ষের শুভেচ্ছা ।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। শুভ্র সুখ স্বস্তি সাফল্যে কাটুক আপনার সময়।
কঁাকন বলেছেন:
ভুতপিডিয়া
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ভূতপিডিয়া। গবেষণার একটা নতুন দ্বার উন্মোচিত হোক।
নব বর্ষের শুভেচ্ছা। সাদা তুলো মেঘের অনুভূতিতে কাটুক আপনার সময়, বৈশাখের এই খর রৌদ্র হোক কোমল।
শাওন মিয়া বলেছেন:
নববর্ষের শুভেচ্ছা ।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আনন্দ পূর্ণতায় কাটুক নববর্ষের দিন এবং আগামী সব দিন। সুখ স্বস্তিতে পূর্ণ হোক আপনার চারপাশ।
মেহবুবা বলেছেন:
জরুরী পোষ্ট , প্রিয়তে থাক । তবে শ্যাওঁড়া পেত্নী ( যারা শ্যাওড়া গাছে বাস করেন ) নিয়ে কিছু না বলায় মাইনাস । মনে করবেন না যে আমি তাদের কেউ ।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা।
আহ, হা, বড়ই দুঃখিত, পেত্নীকূলশ্রেষ্ঠ শ্যাঁওড়া পেত্নীকে আলাদা করে না দেখানোয়। তবে ভূত-গবেষণাটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাই ভবিষ্যত সংস্করণে বিখ্যাত এই পেত্নীর উপর আলোচনা অবকাশ রয়েছে। আর আপনার মাইনাসটি বড় সুন্দর, গুছিয়ে বললে, বড়ই সৌন্দর্য।
জীবন আপনার উদ্ভাসিত হোক সুখ শান্তিতে।
লেখক বলেছেন: ওঁলে জেলীদি, ভূতকে বকে দেব, ক্ষণ, আপুনি। এবার তবে হাসুক, বোনটি। ![]()
পারভেজ রবিন বলেছেন:
এমনিতেই বাঙলার ভুতেরা অন্যান্যদেশীদের চেয়ে অনেক নিরীহ। তার উপর ভুতেদের দুর্দিন চলছে। এখন শেওড়া, কেওড়া, দেবদারু গাছ অনেক কমে গেছে। আর মানুষেরাই যেসব ভৌতিক কর্মকান্ড শুরু করেছে তাতে ভুতেদের আর মান ইজ্জত নিয়ে বাঁচার উপায় আছে!বাংলার ভৌতিক কাহিনীগুলো যতই ভয়ংকর করার চেষ্টা করা হোক না কেন অনেক সময় হাস্যকার হয়ে যায়। ভুতেদের সবচে' হাসক্যর করেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তার কিশোর উপন্যাসগুলোতে ভুতেরা হয় বরাবরই হাস্যকর চরিত্র।
লেখক বলেছেন: হা, হা, হা।
সত্যি বলেছেন। ভূতদের স্থান দখল করে ফেলছে মানুষ। ভদ্রভাবে ভূতদের চলাই এখন দায়। ভূতাধিকার সংরক্ষিত হোক।
মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান বলেছেন:
আমার চারপাশের অনেক মানুষ ভূতের দ্বারা উৎপিড়িত হয়েছে। আমি জানি না ব্যাপারগুলোর ব্যাখ্যা। কিন্তু যারা সমস্যায় ছিল বা আছে, তাদের যে কিছু একটা সমস্যা ছিল বা আছে তা কিন্তু সত্য। আমি বিশ্বাস করি এগুলো বিশেষ মনোদৈহিক সমস্যা। কিন্তু উপযুক্ত জ্ঞান এবং কিছুটা ভয়ের কারণে তাদেরকে সাহায্য করতে পারিনি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এখনো এধরণের কোন অভিজ্ঞতা লাভ করিনি। তাদের সবাইকে দেখেছি ভূত আক্রান্ত অবস্থায় তারা যা ই বলে তা অবশ্যই তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতানির্ভর। যার মুখোমুখি তারা কখনো হয়নি তা তারা বলেনা বা বলতে পারে না। আর তারা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত জীবনে এমন কোন সমস্যায় আছে যার সমাধান তারা করতে পারেনা বা অন্যদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে সাহায্য পায় না। আমি ভূত তাড়ানোর বা ভূত বন্দীর অনেক আসরে উপস্থিত ছিলাম। যা ছিল অদ্ভুত এবং রহস্যময় কিন্তু অবশ্যই ফাঁকিবাজি।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, মোহেব্বুর ভাই। খুব ভালো লাগল আপনাকে দেখে, সেই সাথে আপনার সুচিন্তিত মতামত।
আমি পালোয়ান বলেছেন:
ওরে মজা রে
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা।
হ্যাঁ, ওরে মজা রে! ![]()
দীপান্বিতা বলেছেন:
কতো ভূত! .........আহা রে! বাহা রে!...
.
.
.
.
.
.
.
(পড়তে পড়তে কিন্তু একটু গা ছমছম করছিল!)
লেখক বলেছেন: হা হা হা, আসলেই আহা রে, বাহা রে! কত ভূত, অদ্ভুত! ![]()
গা ছমছম না করলে ভূতেরা মনে কষ্ট পায়। ![]()
লেখক বলেছেন: হা হা হা, ভয় পাওয়ার নেই। ভূতেরা খুব ভালো, মানুষ শুধু শুধু ভয় পায়। মানুষকে তারা বন্ধু হিসেবেই দেখতে চায়। ![]()
লালসালু বলেছেন:
সামুভূত নামের কোন ভূচ নাই?
লেখক বলেছেন: আছে, সামুভূতগুলো সমূহ বিপদের ভূত। পোস্ট খেয়ে ফেলা, পোস্ট কপি-পেস্ট করা, মেসেজ মুছে দেয়া এগুলো এদের আছরের লক্ষণ।
রেজোওয়ানা বলেছেন:
খুব মজা পেলাম। রাক্ষস আর খোক্ষস কোথায়?
কানাখোলার মতো আর একটা ভুত আছে ভুলো, যাদের কাজও প্রায় একরকম, পার্থক্য হলো এরা পরিচিত জনের রূপ ধরে আসে। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের একটা খুব সুন্দর গল্প আছে ভূলো নিয়ে।
হুমায়ারা হারুন এর ছবি গুলো ভৌতিক, তবে এগুলো ফেক। গুগুলে Ghost লিখে সার্চ দিলে যে ইমেজ আসে ওখনে ঢুকলে ছবি এবং ছবি তোলার পদ্ধতি দেয়া আছে।
লেখক বলেছেন: রাক্ষস-খোক্ষস আসবে। :-)
ভুলো' তো দেখি কানাখোলা'র চেয়েও ভয়ঙ্কর!
ভৌতিক ছবিগুলো ফেইক! তবে ভয়টা যে এরা দেখায়, সেটি নয় বোধহয়!
উত্তর দিতে দেরি হয়ে গেল। ভালো থাকবেন।
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
হাসছি আপনার পোষ্ট পড়ে। ভূতের বর্ণনা কিরকম হবে তার নমুনা পড়েই আমার মাথার পেছনের চুল খাড়া হয়ে গিয়েছে। হেহেহে একটা ব্যাপার আমার বোধগম্য হয় না। ভূতগুলো সব গ্রামেই থাকবে কেন? শহর অঞ্চলে কি এদের কেও পাত্তা দেয় না নাকি?
লেখক বলেছেন: মেঘদূতের চুল সে দেখার বটে! ![]()
ভূতেরা সহজ-সরল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত, শহরের কূটিলতা এদের পছন্দ নয়। :-)
শায়মা বলেছেন:
কত রকম ভুত!
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, এত্ত কত্ত ভূতবিতং!
এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
পরশুরাম তথা রাজশেখর বসুর ভূষন্ডির মাঠ গল্পে মনে হয় সবচেয়ে বেশী ধরনের ভূত এর সমাগম হয়েছিল। সে এক বিরাট ইতিহাস লেখক বলেছেন: সে এক বিরাট ইতিহাস, সেই তেপান্তর, বিজন মাঠ, গহন বন...
লেখক বলেছেন: আপনাকে তাহলে ভূতজ্ঞ উপাধিতে ভূষিত করা হলো। ![]()
সৈয়দা আমিনা ফারহিন বলেছেন:
নিশির চেয়েও আমি ঝি ঝি পোকাকে বেশী ভয় পাই। শীত শেষ না হতেই জানালার পাশে কদম আর কিছু দূরে ঝি ঝি পোকার কাঠ কাটা আওয়াজ আর একটু ফাক পেলেই ঘরে ঢুকে যাওয়া......... এরোসল আর ঝাড়ু নিয়ে ঝি ঝি তাড়াতে গিয়ে নিজেই তাড়া খেয়ে চলে আসি...
লেখক বলেছেন: আপনি তো সাংঘাতিক, নিশিকে না ঝিঁঝিঁকে ভয় পান।
কদম আর বাঁশঝাড়ে ছোটবেলা মনে পড়ে।
সৈয়দা আমিনা ফারহিন বলেছেন:
কদম গাছে আর কিছু দূরে বাশঝাড়ে ** (correction)
সৈয়দা আমিনা ফারহিন বলেছেন:
নিশি তো উড়ে আসে না ঝি ঝি-র মতন। আমি যে কলোনীতে থাকি, সেখানে অনেক ভৌতিক গল্প আছে। প্রথম প্রথম আমায় ভয় দেখাতেন কেউ কেউ। একটা লিংক পোষ্ট করছি। গল্পগুলো অনেকটা এমন।Click This Link
পরে অবশ্য জেনেছিলাম, মানুষের চেয়ে বড় কোন আর ভূত নেই। আবার মানুষের মতন বড় কোন বন্ধু নেই। সারাক্ষণ আমার ঈশপকে জ্বালাতাম তখন। উনি ছিলেন আমার অভিযোগ জানানোর একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এখন আর জ্বালাই না। বড় হবার চেষ্টা করছি......
লেখক বলেছেন: পড়লাম। মানুষ আসলেই বড় ভূত।
ঈশপ মানুষটি বড় ভালো, নিপাট, যাকে বলে affable, আষাঢ়ে fable শুনেও হাসে। ![]()
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন:
আপনার একটু ভুল হচ্ছে বোধ হয়। ব্রহ্মদৈত্য বেলগাছ সবচেয়ে পছন্দ করে। দেবদারু নয়।
লেখক বলেছেন: শেওড়া, তাল, দেবদারু, বেল, অশ্বত্থ-ই মোটামুটিভাবে এ গাছগুলিই ভূতদের আখড়া। হ্যাঁ, ব্রহ্মদৈত্য বেলগাছেও আস্তানা গাড়ে বেশ। ভৌতিক সাহিত্য নিয়ে পরে আরো কাজ করলে নামটি যোগ করে দেব।
এক রাশ তরঙ্গ বলেছেন:
ভূত-পেত্নী দের ব্যাপারে অগাধ জ্ঞান লাভ করলাম!
লেখক বলেছেন: ভূত-পেত্নীসংক্রান্ত জ্ঞানের কল্যাণকর প্রয়োগ হোক। :-)
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















