শ্রদ্ধা আর মমতাই তোমাকে জয়ী করতে পারে; তুমি তোমার জ্ঞান প্রয়োগ কর।

শব্দ-রাজ্যে অভিযান (১১): Sycophant!

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:১২

শেয়ারঃ
0 0 0


পুরাণ
জিউস একদা সাইকিয়াস (Syceus বা Sykeus) নামের এক টাইটান ও তার মাতা, ধরিত্রী দেবী গেইয়াকে (Gaia) তাড়া করে ফিরছিল। পুত্রকে বাঁচানোর জন্য গেইয়া তাকে ডুমুর গাছে পরিণত করে ফেলে এবং সবুজ বনানীতে শাখা প্রশাখার আচ্ছাদনে লুকিয়ে রাখে। প্রাচীন গ্রিক নগরী Sykea-র নামকরণ হয় পৌরাণিক এই কাহিনীর উপর ভিত্তি করে, এবং গ্রিক শব্দ sykea বা sycea-র মানে দাঁড়ায়, ডুমুর বৃক্ষ। বৈজ্ঞানিকভাবে বললে, Ficus sycomorus

এবার খানিক ইতিহাস
খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতকের দিকে, বর্তমান গ্রিসের যে স্থানটি এথেন্স তথা এটিকা নামে পরিচিত, তা হয়ে উঠে ডুমুরের জন্য বিখ্যাত। শাসক সলোন ফরমান জারি করলেন, কোনো ডুমুর রপ্তানি করা যাবে না, শুধুমাত্র গ্রিকদের খাওয়ার জন্যই ডুমুর। সে যুগে ধনী, দরিদ্র সকল গ্রিকের কাছে ডুমুর বিবেচিত হত খুব গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র খাবার হিসেবে।

কিন্তু সলোনের আদেশের পরও গোপনে ডুমুর রপ্তানি হতে লাগল, চোরাই বাজারেও চলল বেচাকেনা। এদিকে রাজার অনুগ্রহলোভী কিছু মানুষও তৈরি হয়ে গেল, গোপন বেচাকেনার খবর পেলেই তারা রাজার কানে তুলত। এ কাজটির মাধ্যমে তারা কামনা করত রাজার কাছ থেকে ব্যক্তিগত অনুদান লাভের। এদের নির্দেশ করার জন্য শীঘ্রই জন্ম হলো একটি শব্দের, sycophant: sycon- মানে ডুমুর, -phanein মানে দেখানো; সুতরাং sycophant হচ্ছে এমন ব্যক্তি যে ডুমুর দেখিয়ে দেয়।

যেহেতু এই ডুমুর দেখিয়ে দেওয়া লোকেরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবশত নয়, বরং ব্যক্তিগত লাভের জন্য, চাকরসুলভ চাটুকারের ন্যায় আচরণ করত, সাধারণ মানুষ তাদেরকে খুব অপছন্দ করত।

আর এ কারণে ডুমুর দেখানো লোক,
sycophant এর বর্তমান মানে চাটুকার, তোষামুদে, অন্যের মোসাহেবী করে ব্যক্তিগত অনুগ্রহ কামনা করে এমন মানুষ।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): শব্দতত্ত্ব ;
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:১৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, সব্যসাচী। আপনাকে নিয়ে লেখার ইচ্ছা রইল। সমীরণ বয়ে যাক আপনার জীবনে।

২. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:২২
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: আপ্নে মিয়া কামৈ কর্তেছেন এক্টা, শব্দের পেছনের ইতিহাস নিয়া আমার নিজের আগ্রহ আছে সেই খোরাক মিটাইয়া।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। ভাল লাগল আপনার কথা। বিজন বনে আপনার অভিযান সফল হোক।

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪০

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। ইউ আর দি ওয়ান। :)

৪. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:২৭
রোবোট বলেছেন: কাউয়ার সাথে একমত


ভাগ্যিস, আপনার মত মানুষ রা ব্লগে আসে, নৈলে ব্লগে খালি "কি দিয়া নাশতা করলেন" মার্কা জরীপ পোস্ট আর "কি মুশকিল গরম লাগে" টাইপের পোস্টে ভৈরা যাইত।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। "কি দিয়া নাশতা করলেন", "কি মুশকিল গরম লাগে" পোস্টে কতই না জানার আকাঙ্ক্ষা, কতই না বেদনা ফুটে উঠে!

সমীরণ আর রঙে পূর্ণ হোক আপনার সময়। ভাল থাকুন।

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার পেছনের বনানী খুব সুন্দর। শুভ্র মেঘের ভেলায় বয়ে যাক আপনার সময়।

৬. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩০
অলস ছেলে বলেছেন: আজকের শব্দটা খুব বেশি পছন্দ হয়েছে। আগামী কয়েকদিন চর্চা করে মাথায় ধরে রাখতে চেষ্টা করবো।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫০

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, বেশ একটা রূপকতা রয়েছে এতে। আশা করি, শব্দটা আপনার হৃদয়ের তন্ত্রীতে বাঁধা পড়বে।

৭. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩৩
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: এটা জানতাম না

++ এ্যাজ অলওয়েজ :)
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার আগমন শব্দ-রাজ্যে চমৎকার অনুরণন সৃষ্টি করে। :)

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। ভাল থাকবেন।

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৮

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আমার ব্লগে আপনার পদচারণা আনন্দময় হোক।

১০. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৪৭
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: মাননীয় শব্দৈতিহাসিকের প্রতি উত্তম ঝাজা!
গ্রীক পুরানের উপর তো দেখি আপ্নে পি এইচ ডি করা, একজন কামেল পাব্লিক!
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:০৭

লেখক বলেছেন: ঝাজাটি বাজিল বেশ। হ্যাঁ, পুরাণের রাজ্যে ভ্রমণাভিযান রয়েছে কিছু। ভাল থাকুন, আর পদচারণায় আন্দোলিত করুন শব্দ-রাজ্য।

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:০৯

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। শব্দরাজ্যে আপনার পরিভ্রমণ আনন্দময় হোক। ভাল থাকবেন।

১২. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:০৭
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ইন্টারেস্টিং ... চলুক এই সিরিজ ... পুরো দমে
একশোটা প্লাস ++++++++++
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:১২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। আপনার উপহার প্রেরণাদায়ক, শব্দ-রাজ্যের পরিধি বিস্তারে বেগ সঞ্চার করবে। সুখ শান্তিতে কাটুক কোহেকাফ নগর।

১৩. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:০৮
জানজাবিদ বলেছেন: ছবিটাও এপ্রোপ্রিয়েট হইছে।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, জানজাবিদ। sycophant-এর একটি সমার্থক হলো bootlicker.

১৪. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:১৬
মুক্ত বয়ান বলেছেন: আপনার ব্লগে এই প্রথম আসলাম। মিস কর্ছি। :(
লিংকে নিয়ে গেলাম। সবগুলাই পড়তে হবে।
ভাল থাকুন।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:১৭

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য আনন্দ উৎসারিত করল। পোস্টে আপনার বিচরণ চমৎকার রঙের ছটা ছড়িয়ে দিক।

১৫. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:১৯
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: বস,
মাঝে মাঝে লিংকও দিয়েন।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। পরামর্শটি মনে রাখব। লিঙ্ক দেবার একটি সহজ পদ্ধতি জানতে পারলে সুবিধা হত। ভাল থাকুন।

১৬. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:২৩
ফারহান দাউদ বলেছেন: ডুমুর থেকে চাটুকার??? খাইসে!!!
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:৫২

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ডুমুর দেখানো লোকের ব্যাপারে সাবধান!

১৭. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৬
সাইমুম বলেছেন: অপ্রাসঙ্গিক ভাবেই এ মন্তব্য করছি।
ফারসি আবদার শব্দের অর্থ উজ্জ্বল। কিন্তু বাংলায় দাবি অথবা অন্যায় দাবি অর্থে যে 'আবদার' শব্দটি চালু রয়েছে, তার মূল যদি জানেন, তাহলের জানানোর অনুরোধ করছি।
হরিচরণ এ ব্যাপারে চুপ মেরে গেছেন। জ্ঞানেন্দ্রমোহন সন্দেহ নিয়েই বলেছেন, হিন্দি 'আবদা'=তীব্র বাসনা থেকে শব্দটি বাংলায় আসতে পারে। আবুল ফজলের লেখায় জানা যায়, সম্রাট আকবরের আমলে আবদারখানা অর্থ ছিল গোসলখানা। আমি এখনো আবদার শব্দের মূল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারিনি।
বাংলা একাডেমীর অভিধানে জ্ঞানেন্দ্রমোহনকে অনুসরণ করে গোজামিল দিয়ে বাংলা আবদার শব্দের মূল দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার জানা থাকলে জানাবেন।
১৮. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৬
ম্যাভেরিক বলেছেন: শুভেচ্ছা, সাইমুম। আপনার আগমন মরুঝড়ের মতোই উদ্দীপনাময়।

"আবদার" শব্দটির ব্যাপারের আপনার অনুসন্ধান শ্রদ্ধা উৎসারিত করে। আমার জানা হলো বেশ। শব্দের ইতিহাস পর্যালোচনায় গবেষকদের মধ্যে কখনো কখনো মতপার্থক্য দেখা যায়; এর ফলে সৃষ্টি হতে পারে ফোক ইটিমোলজি এবং দুষ্কর হতে পারে শব্দের প্রকৃত ইতিহাস। আবদার-এর ব্যাপারে বস্তনিষ্ঠ তথ্য পেলে জানাব।

ধন্যবাদ। ভাল থাকুন
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৮:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার অভিযান আনন্দময় হোক, শব্দ-রাজ্য হোক উজ্জ্বীবিত।

ভাল থাকবেন।

২০. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯
নাফিস ইফতেখার বলেছেন: এ্যাজ ইউজ্যুয়াল! অসাধারণ! :)
২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, রম্য-রাজ। আপনার মজার লেখা পড়ে বাংলার রসবোধ আবারও উজ্জ্বীবিত হোক।

২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৯

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আপনার আগমনে শব্দ-রাজ্যের আনন্দ বিবর্ধিত হলো। ভাল থাকবেন।

২২. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩০
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন: শব্দরাজ্যের অনেকগুলো সভা মিস করে গেছি, টাইম মেশিনে করে আগের সভাগুলোতেও এটেন্ড করতে হবে।


আপনি এই তথ্যগুলো কোথায় পান...এ সংক্রান্ত কয়েকটি বইয়ের নাম ও প্রাপ্তিস্থান জানালে বাধি হই, আবদারটা একটু বেশি বেশি শোনালেও আপনার কাছে এইটুকু আবদার জায়েজ বলে ধরে নিচ্ছি।

শব্দরাজ্যের সবগুলো পর্বের লিঙ্ক দিয়েন শেষ পোস্টে। একবারে সেটিকেই প্রিয়পোস্ট করব।
২৫ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:০১

লেখক বলেছেন: হা, হা। ধন্যবাদ।

তথ্যের উৎস বেশ অনেকগুলি। শব্দের তীব্র ঝোঁক ছিল ছোটবেলায়ই, ফলে বিভিন্ন জায়গায় শব্দ খুঁজতাম: গল্প-উপন্যাস, মুভি, রাস্তায় দোকান পাটের নাম, অক্সফোর্ড টকিং ডিকশ্যনারী, নেট...

আপাতত একটি বইয়ের নাম বলছি: Word Origins, লেখকের নাম মনে নেই। তবে নীলক্ষেতে দেখেছিলাম। মনে হলে আরো বইয়ের নাম বলব।

হ্যাঁ, সব পোস্টের লিঙ্ক দেব পরে।

ভাল থাকুন।

২৩. ২৫ শে মে, ২০০৯ দুপুর ২:৩৭
আকাশ অম্বর বলেছেন:

+

আপনার 'শব্দ-রাজ্যে অভিযান'গুলো পড়ছি।
সত্যিই অসাধারণ।

ধন্যবাদ।
২৫ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৫

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। খুব ভালো লাগল শুনে, প্রেরণাদায়ক, সম্মানবহ।
চমৎকার কাটুক আপনার সময়।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭৮৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
প্রাচীন সভ্যতা, পুরাণ, সংখ্যাতত্ত্ব, শব্দের ইতিহাস ভালো লাগা একজন মানুষ
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই