somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উইপোকার প্রতি শ্রদ্ধা

১৬ ই মে, ২০০৯ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হারারে শহরের ইস্টগেইট সেন্টার (Eastgate Centre), জিম্বাবুয়ের সর্ববৃহৎ দফতর ভবন ও বিপণি বিতান। বিস্ময়কর এক স্থাপত্য নিদর্শন ভবনটি, তবে ব্যাপকতার জন্য নয়, বরং এর নির্মাণ শৈলীতে জৈব-অনুকরণ (biomimicry) নীতি প্রয়োগের কারণে। সবুজ স্থাপত্য এবং বাস্তুসংস্থানগত অভিযোজনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ এটি। গতানুগতিক কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই ভবনটিতে, নেই কোনো উত্তাপ ব্যবস্থা। কিন্তু সারাবছরই এটি থাকে তাপীয় নিয়ন্ত্রিত, বিস্ময়করভাবে কম শক্তি খরচ করে।

ভবনটির নকশার অনুপ্রেরণা এসেছে উইপোকার (termite) কাছ থেকে। আফ্রিকার তৃণভূমিতে (savannah) দৈত্যাকার ঢিবি বানিয়ে তার ভেতর ছত্রাকের চাষ করে উইপোকা—ছত্রাক এদের প্রধান খাবার। ছত্রাকের সুষ্ঠু জীবন বিকাশের জন্য ৮৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা প্রয়োজন, কিন্তু জিম্বাবুয়ের রাতগুলি হয়ে থাকে বরফশীতল, ৩৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, আর দিনগুলি ছড়ায় ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উত্তাপ।

এরকম বৈরী পরিবেশেও চমৎকারভাবে সঠিক তাপমাত্রাটি বজায় রাখে উইপোকারা, দিনের বিভিন্ন সময়ে ঢিবির গায়ে উষ্ণ এবং শীতল রন্ধ্রপথ (vent) ক্রমাগত খুলে দিয়ে। তাপের পরিচলন প্রক্রিয়া (convection) ব্যবহার করে, ঢিবির নিচের রন্ধ্রপথগুলি দিয়ে বাতাস টেনে ভেতরে নিয়ে যায় উইপোকা; তারপর মাটির দেয়ালের ভেতর বানানো নিঃসরণ পথের মধ্য দিয়ে তা প্রবাহিত করে দেয় উপরের দিকে। ঢিবির বিভিন্ন প্রকোষ্ঠ থেকে তাপ গ্রহণ করে ধীরে ধীরে উষ্ণ হয়ে উঠে বাতাস, এবং এক সময় বেরিয়ে যায় চূড়ার উষ্ণ রন্ধ্রের ভেতর দিয়ে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, পরিশ্রমী উইপোকা প্রতিনিয়ত খুঁড়ে চলে নতুন নতুন রন্ধ্রপথ, আর বুঁজে দেয় পুরাতন পথ।

ইস্টগেইট সেন্টার, যা মূলত কংক্রিট দিয়ে তৈরি, কাজ করে উইপোকার মতো। ভবনটির নিচতলার পাখাগুলি বাতাস চুষে নিয়ে উপরের তলার দিকে ছুঁড়ে দেয়, মেঝের ভেতরের ফাঁপা জায়গার সাহায্যে। সেখান থেকে বেসবোর্ড ফোকরের মধ্য দিয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে প্রতি তলায়। সবশেষে বেরিয়ে যায় ছাদের চিমনির মধ্য দিয়ে। ঋতুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে ভবনটিতে বায়ুপ্রবাহের হারেরও তারতম্য করা হয়।


গতানুগতিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আমদানি না করার দরুন, ৩৬ মিলিয়ন ডলার খরচে তৈরি ভবনটিতে প্রথমেই সাশ্রয় হয় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া সমান আকারের একটি গতানুগতিক ভবনের চেয়ে ইস্টগেইট সেন্টার মাত্র ১০ শতাংশ শক্তি ব্যয় করে। সাশ্রয়ের কারণে, এর ভাড়াটেরা আশেপাশের ভবনের ভাড়াটেদের চেয়ে ২০ শতাংশ কম ভাড়া দিয়ে থাকে।

একটু গাণিতিক আলোচনা

উইপোকা যত সহজে তার ঢিবিকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাখে, মানুষের ক্ষেত্রে অতটা সহজ নয় ব্যাপারটি। ইস্টগেইট ভবনটি নির্মাণ করতে গণিতবিদগণ নির্দিষ্ট সুচনাবিন্দু এবং সীমার মধ্যে বেশ অনেকগুলি আংশিক ব্যবকলন সমীকরণ (partial differential equation) সমাধান করেন। প্রয়োজন হয় নিউমেরিক্যাল অ্যানালাইসিস, জেনেটিক এলগোরিদম এবং আর্টিফিসিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্কের। কাজেই আমার ধারণা, উইপোকা, যা জন্মান্ধ, গণিতের জ্ঞান রাখে বিস্ময়কর।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×