গণিতের সপ্ত কৌতুক (৪)
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৪
![]()
১। কিন্ডারগার্টেনে পড়া ছোট্ট রবিনকে হোমওয়ার্ক হিসেবে কিছু অঙ্ক দিয়েছেন ম্যাডাম। ছোট্ট রবিন ড্রয়িংরূমে বাবার কাছে গিয়ে আবদার করে, "আমার হোমওয়ার্কের অঙ্কগুলো করে দাও না, বাবা।"
খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে রবিনের বাবা বললেন, "অঙ্কগুলো তুমি বরং নিজেই করো, কারণ তোমার হোমওয়ার্ক আমি করে দিলে ঠিক হবে না।"
বাবার চেয়ারের হাতল ধরে, কাঁধ নাড়াতে নাড়াতে রবিন বলে, "কিন্তু তুমি তো চেষ্টা করে দেখতে পার।"![]()
২। তিন ব্লন্ড রেস্টুরেন্টে গেল তাদের সাফল্য উদযাপন করতে। খুশিতে ঝলমল করছে তাদের চেহারা, পান-ভোজনের সাথে সাথে খুব হাসাহাসি করছে সবাই।
"সম্মানিত ভদ্র মহিলাগণ, কী নিয়ে আপনারা এত হাসাহাসি করছেন, জানতে খুব ইচ্ছে করছে আমার। " স্মিত হেসে তাদের কাছে এসে দাঁড়ায় বারটেন্ডার।
"ওহ, অবশ্যই!" উত্তর দেয় এক ব্লন্ড।" এই মাত্র গাণিতিক এই পাজলটার সমাধান করলাম আমরা। এটা করতে আমাদের সময় লেগেছে মাত্র এক মাস, যদিও পাজল বক্সের গায়ে লেখা ছিল '৬ থেকে ৯ বছর!" ![]()
৩। সম্ভাবনাময় এক তরুণ পিএইচডি স্টুডেন্ট ফাইন্যাল পরীক্ষায় তার থিসিস পেপার প্রেজেন্ট করছে। পদার্থবিদ্যার একটা তত্ত্ব ধরে এগুতে এগুতে এক পর্যায়ে আবিষ্কার করল সে F = -MA প্রমাণ করে ফেলেছে।
নিজের কাজে স্টুডেন্ট খুব বিব্রত বোধ করতে লাগল।
বিব্রত হলেন তার থিসিস সুপারভাইজর, বিব্রত হলেন পরীক্ষা কমিটির পর্যবেক্ষগণ। অপ্রস্তুতভাবে কাশতে কাশতে ছাত্র বললো, "পেছনে কোথাও ছোট্ট একটা ভুল করে এসেছি আমি!"
কমিটিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকা গণিতবিদ বললেন, " ইয়াংম্যান, ভুলটি তুমি হয় একবার করেছ, না হয় বিজোড় সংখ্যক বার করেছ।"![]()
৪। কনফারেন্স বিরতিতে কৌতুক বলে আড্ডা দিচ্ছেন কতিপয় গণিতবিদ। নিজেদের কৌতুকগুলি গণিতবিদগণ এত ভালো জানেন যে প্রতিটি কৌতুকের জন্য তারা একটি করে সিরিয়াল নম্বর নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এবং সময় বাঁচানোর জন্য সম্পূর্ণ কৌতুক না বলে কেবলমাত্র কৌতুকের সিরিয়াল নম্বরটি উচ্চারণ করেন তারা।
"৪৯৩," চিৎকার করে উঠলেন একজন পুরুষ গণিতবিদ। অন্যেরা এর সমর্থনে উচ্চ হাসিতে ফেটে পড়ে।
"৭২৪," চিৎকার করলেন একজন মহিলা গণিতবিদ। অন্যেরা এতেও প্রাণখুলে হাসতে থাকে।
"৫৮৯," চিৎকার দিলেন আরেক গণিতবিদ। অধিকাংশ গণিতবিদ তাতে মৃদু হাসলেন মাত্র। কিন্তু তরুণ এক গণিতবিদ হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে লাগল, একেবারে হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়ে গেল সে।
কৌতুককারী গণিতবিদ অবাক হয়ে তরুণের কাছে এগিয়ে এসে বলল, "জন, আমার কৌতুকে এত ভয়ঙ্কর মজার কী পেলে তুমি!"
তরুণ গণিতবিদ হাঁপাতে হাঁপাতে উত্তর দেয়, "এই কৌতুকটা আগে...আগে কখনো শুনিনি আমি!" ![]()
৫। কম্পিউটার সায়েন্সের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কমন প্রশ্ন দেয়া হলো: 2 টু দ্য পাওয়ার 2 সমান কতো?"
লেভেল ১, টার্ম ১-এর ছাত্র কোনো চিন্তা-ভাবনা না করেই বলে বসে, "4"।
লেভেল ২, টার্ম ১-এর ছাত্র উইন্ডোজের স্টার্টমেনু থেকে "রান" বাটন প্রেস করে calc লিখে উইন্ডোজের ক্যালকুলেটর অ্যাপ্লিকেশনটি বের করে হিসেব করে, তারপর বলে, "ঠিক 4"।
লেভেল ৩, টার্ম ১-এর ছাত্র ভিজ্যুয়াল বেসিকে একটি ক্যালকুলেটর বানায়, তারপর তাতে ইনপুট দিয়ে আউটপুট হিসেবে বলে, "4.00"।
লেভেল ৪, টার্ম ১-এর ছাত্র সি প্রোগ্রামিং-এ ১০০ লাইনের একটি প্রোগ্রাম লিখে, এটিডিবাগ করে, তারপর রান করে বলে, "4.0e+00"।
লেভেল ৪, টার্ম ২-এর ছাত্র এ ধরণের গাণিতিক হিসেব করার উপযোগী একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বানায়, সেটি ইনস্টল করে, তার উপর একটি প্রোগ্রম লিখে, এবং উত্তর দেয়, "এখানে তো ফলাফল আসছে 4, কিন্তু গতরাতে কুৎসিত বাগটা দূর হয়েছি কিনা সন্দেহ হচ্ছে।"
থিসিস ডিফেন্ড করতে যাওয়া ছাত্র বলে, "কী কুক্ষণেই না কম্পিউটারে পড়তে এসেছিলাম! পাগল স্যারদের পাল্লায় পড়ে কনস্ট্যান্ট মুখস্ত মুখস্ত করতে আর মাথার চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে জীবন শেষ হয়ে গেল, কোনো আনন্দ-ফুর্তিই হলো না!" ![]()
৬। ৩ নং কৌতুকে উল্লেখিত কনফারেন্সেরই আরেকটি ঘটনা।
কৌতুকের পর কৌতুক বলা হচ্ছে, আর হাসির বন্যা বয়ে যাচ্ছে রূমে, কিন্তু উসখুস করছে তরুণ আরেক গণিতবিদ। বেচারা এই প্রথমবারের মতো কনফারেন্সে যোগ দিয়েছে, কৌতুকের এই সব ব্যাপার-স্যাপার সে জানে না। কিন্তু কেউ তাকে অসামাজিক ভাবুক, এটিও সে চায় না। এ ছাড়া এদের কৌতুক বলা খুব সহজ দেখে আড্ডায় যোগ দিতে তীব্র ইচ্ছা জাগল তার। ফলে মনে মনে একটি সংখ্যা স্থির করে এক সময় সোল্লাসে চিৎকার করে উঠল সে, "৭৭৭।"
অবাক হয়ে লক্ষ করল সে, একটুও হাসল না কেউ। বরং একেবারে পিনপতন নিরবতা নেমে আসল রূমে, আর মাঝে মাঝে অন্যদের বিদ্বেষ, ভর্তসনাপূর্ণ চাহনি, মন্তব্য ভেসে আসতে লাগল তার দিকে। কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধ এক গণিতবিদ তার দিকে তাকিয়ে বলল, " দেখো, তোমার বয়স কম, কিন্তু এটা বুঝা উচিত, রূমে যখন সম্মানিত ভদ্রমহিলাগণ রয়েছেন, তখন তাদের সামনে আমরা ডার্টি জোকস বলি না।"![]()
এটি ঠিক গণিতের কৌতুক না। আগের পর্বগুলির দুয়েকটি কৌতুকে একটু বেশি গণিতের ক্ষতিপূরণ হিসেবে: ![]()
৭।
দৃশ্য ১: বনের মধ্যে চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল এক দিন। খরগোশটি তার নিজের গর্ত থেকে বের হয়ে কম্পিউটার চালু করে, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ওপেন করে, টাইপ করতে লাগল। হাঁটতে বেরিয়ে খরগোশকে দেখে পা টিপে টিপে তার কাছে আসল এক শেয়াল।
শেয়াল: [থাবা বের করে ধূর্ত হাসি দিয়ে] কী করছিস তুই?
খরগোশ: থিসিস লিখছি আমার, আগামী পরশু জমা দিতে হবে।
শেয়াল: [তাচ্ছিল্যভরে] অ! তা কীসের থিসিস?
খরগোশ: ওহ, আমার থিসিসের বিষয় হচ্ছে "খরগোশরা কীভাবে শেয়ালদের খায়!"
[বিশাল নিরবতা নেমে আসে কথোপকথনে]
শেয়াল: লিখলেই হলো! গুলতানির আর জায়গা পাস না। যেকোনো গাধাও জানে খরগোশরা কখনো শেয়াল খায় না।
খরগোশ: অবশ্যই খায়। আমি প্রমাণ দেখাচ্ছি, এসো আমার সাথে ।
খরগোশ ও শেয়াল খরগোশের গুহায় ঢুকে যায়। কয়েক মিনিট পর শুধু খরগোশ ফিরে আসে, তারপর আগের মতো ওয়ার্ডে লিখতে থাকে।
দৃশ্য ২: একটু পর গুহার কাছে আসে নেকড়ে। খরগোশের লেখা দেখে খুব কৌতূহল জাগে তার।
নেকড়ে: কী লিখছিস রে?
খরগোশ: "খরগোশরা কীভাবে নেকড়ে খায়", তার উপর একটা থিসিস করছি।
নেকড়ে: [অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে পড়তে] এ রকম রাবিশ একটা জিনিস নিশ্চয়ই পাবলিশ করার চিন্তা করছিস না তুই! নাকি চিন্তা করছিস?
খরগোশ: রাবিশ না, আমার সাথে এসে দেখে যাও।
দুজনে ঢুকে পড়ে খরগোশের গর্তে, এবং আগের মতোই শুধু খরগোশ ফিরে আসে খানিক পর, মন দেয় থিসিস লেখায়।
দৃশ্য ৩: খরগোশের গুহা। এক কোণায় দেখা যায় শেয়ালের হাড়ের স্তুপ পড়ে আছে, অন্য কোণায় নেকড়ের হাড়ের স্তুপ। আরেক কোণায় বিশালদেহী এক সিংহ বসে বসে দাঁত খিলাচ্ছে।
নৈতিক শিক্ষা: থিসিসের বিষয়বস্তু হিসেব তুমি কী নির্ধারণ করেছ, তা কোনো ব্যাপার নয়। তথ্য-উপাত্তের জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করেছ, তাও কোনো ব্যাপার নয়। আসল ব্যাপার হলো,তোমার থিসিস সুপারভাইজর কে?।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কৌতুক, গণিত ;
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
মজাক পাইছিলেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। মজাকেই লেখার আনন্দ। ![]()
ভালো কাটুক জীবন, সুখে, মজাকে।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
হা হা হা! আমার থিসিস সুপারভাইজরের নাম শুনলেই 'কিমুন জানি' লাগে! :-S--- দ্বিতীয়টাকে সবার উপরে রাখছি এবারে!
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, সুপারভাইজর অনেক সময় বড় জটিল প্রকৃতির হয়ে থাকেন। আমার সুপারভাইজর অবশ্য খুব চমৎকার ছিলেন, কোনো সমস্যা হয়নি। ![]()
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, বাউল। মূল্যায়নে আনন্দিত হলাম। এবার ঈদে আপনার একতারাও আনন্দ বয়ে আনুক অন্যদের জন্য।
ফিফথ্নিক বলেছেন:
সুপারভাইজর ডা ফ্যাক্ট !
লেখক বলেছেন: বড়ই আপ্তবাক্য!
ভালো থাকুন।
কালপুরুষ বলেছেন:
যথারীতি ভাল লাগলো। তেমন জটিল কোন গণিত বা অংক না থাকায় পড়তে ও বুঝতে কোন অসুবিধে হলোনা। তবে কতটা আইকিউ বা স্মরণ শক্তি থাকে এতোগুলো জোক মনে রাখে যায় সেটাই ভাবছি। জীবনে শ'খানেকের বেশী জোক শুনেছি বলতে গেলে বড়জোড় দু'তিনটে বলতে পারবো। ৭২৪ কিংবা ৭৭৭ নং জোক কল্পনাও করতে পারিনা।
লেখক বলেছেন: দাদাকে দেখে ভালো লাগল।
গণিতবিদরা একটু পাগল-টাগল হয়তো, তাই একটু উল্টা-পাল্টা বেশি মুখস্ত করে রাখে। ![]()
আমিও অবাক, কীভাবে এতগুলি কৌতুক মনে রাখতে পারে, তাও আবার ক্রমানুযায়ী। ![]()
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। যাক, শেষ রক্ষা হলো। ![]()
ভালো থাকবেন।
রথে চেপে এলাম বলেছেন:
হা হা হা .... মজা পাইলাম।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আপনার রথ ভ্রমণ আনন্দময় হয়েছে জেনে সম্মানিত বোধ করলাম।
ভালো কাটুক সময়।
খলিল মাহ্মুদ বলেছেন:
৪ নংটা আগেই জানা ছিল। থিসিস সুপারভাইজারেরটা জব্বর হয়েছে।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। পড়া ও অনুভবে ধন্যবাদ, অনেক অনেক।
চমৎকার কাটুক সময়, প্রিয় মুখদের সাথে।
লেখক বলেছেন: ঝিক ঝিক ঝিক, বাবুনি হাসে খিক খিক খিক। ![]()
৩ নং-এ সঠিক সূত্রটি হচ্ছে F = MA। কিন্তু ভুলবশতঃ ছাত্র লিখে ফেলেছে F = -MA। আর এতেই গণিতবিদের ধারণা
১বার ভুলে F = -MA
২ বার ভুলে F = +MA (মাইনাসে মাইনাসে +)
৩ বার ভুলে আবার F = -MA
৪ বার ভুলে আবার F = +MA। এভাবে...
লেখক বলেছেন: সংক্ষেপে কি সিরাম সিরাম! ![]()
ভালো থাকুন।
উদ্ভ্রান্ত পথিক বলেছেন:
এবারের গুলো পড়ে আগের মত মজা পেলাম না তবে শেষেরটা আগেই পড়ে ছিলাম!
শেষেরটার আরেকটা পার্ট আছে গ্রাজুয়েট স্টুটেন্ড নিয়ে
লেখক বলেছেন: একটু কম গণিতের কারণে কি? ![]()
শেষটার আরেক পার্ট ৭৭৭ না হলে বলে দেন, শুনি সবাই। ![]()
এস. এম. রায়হান বলেছেন:
ভাল লাগলো। + তবে দু-একটি কৌতুক যেন বুজতে পারলাম না!
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। পড়া ও মূল্যায়নের জন্য ধন্যবাদ। কোনগুলি সমস্যা, বললে চেষ্টা করতে পারি। ![]()
ভালো থাকবেন।
ওয়ার হিরো বলেছেন:
ব্যাপক হইছে, ব্যাপক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবদ হিরো, ব্যাপক। ![]()
ভালো কাটুক সময়।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। প্রিয় পোস্টের সম্মাননায় আনন্দিত হলাম।
ভালো কাটুক জীবন।
জটিল
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, আপু।
জটিল কাটুক সময়। ![]()
কার্নেল বলেছেন:
চরম , কঠ্ঠিন , বেশি জোস ++++++++
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, কার্নেল। এই মন্তব্যের তীব্রতার উপর কোনো কথা নেই। ![]()
আমার ব্লগে আপনার ভ্রমণ আনন্দময় হোক।
লেখক বলেছেন: জুস ধন্যবাদ, বোহেমিয়ান। ![]()
ভালো কাটুক সময়।
লেখক বলেছেন: হিক হিখিকজ...![]()
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন:
দারুণ মজার, তবে ৪ নম্বরটা একটু বুঝিয়ে দিলে ভালো হতো।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। ৪ নম্বর কিন্তু বেশ মজার।
এখানে বোঝা যাচ্ছে, সবগুলি কৌতুক গণিতবিদদের আগে থেকেই মুখস্ত রয়েছে। সুতরাং কৌতুককারী যখন শুধু নম্বর বলেন, সে অনুযায়ী অন্যরা কৌতুকটি স্মরণ করেন, এবং কৌতুকের মাত্রা অনুযায়ী হাসির তারতম্য হয়।
এখন তরুণ গণিতবিদ নম্বরটি শুনেছে মাত্র, এবং সে স্বীকার করেছে এর সাথে সংশ্লিষ্ট কৌতুকটি তার জানা নেই। সুতরাং শুধু নম্বর শুনে তার এত হাসি আসবে কেন? কারণ সে তো নম্বরের সাথে কোনো কৌতুকই মেলাতে পারবে না। মানুষ সাধারণত কোনো কৌতুক নতুন শুনলে বেশি মজা পায়, কিন্তু এক্ষেত্রে তরুণ গণিতবিদ তো নতুন কৌতুক শুনেনি, নম্বর শুনেছে মাত্র। ![]()
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
আপনার অনেক লেখাই পড়েছি, মুগ্ধ হয়েছি, আলস্যের কারণে মুগ্ধতার কথা জানানো হয়নি! আজকে সেটা জানাতে এলাম।জটিল সব বিষয় নিয়ে এত সহজ করে কিভাবে লেখেন ভেবে পাই না। আপনার আগ্রহের জায়গাগুলোও বহুমুখি। গণিতের বিষয়-আশয় বা শব্দরাজ্যে অভিযান- যা নিয়েই লিখুন না কেন, সবই ভারি মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে। আপনার সম্বন্ধে আগ্রহ উত্তোরত্তর বেড়েই চলেছে।
--------------------------
কৌতুকগুলো ভালো লেগেছে, শেষেরটা তো অসাধারণ। আমিও একটা শেয়ার করি। পুরনো কৌতুক, তবে মজার। আপনি নিশ্চয়ই জানেন এটা, অন্যদের জন্য শেয়ার করছি (আমার ভাগ্নে দায়ীনের সৌজন্যে পাওয়া) :
মাটিতে পোঁতা পতাকাদণ্ডের উচ্চতা নির্ধারণ করতে বসেছে একদল শ্রমিক। তাদের কাছে রয়েছে শুধু মাত্র গজ ফিতা, কিন্তু দণ্ডের আগায় কীভাবে ফিতাটি পৌঁছানো যেতে পারে, তারা বুঝতে পারছে না।
গণিতবিদ এলেন তাদের সাহায্যে, বললেন, 'জ্যামিতির সূত্র প্রয়োগ করে সহজেই এর উচ্চতা নির্ণয় করা যাবে।' দণ্ডের ছায়া দেখে গণিতবিদ যখন সদৃশকোণী ত্রিভুজ গঠন করার চেষ্টা করছিলেন, এলেন ইংরেজির শিক্ষক। সব শুনে মুচকি হেসে দণ্ডটি মাটি থেকে তুলে মাটির ওপর শুইয়ে দিলেন শিক্ষক। তারপর গজ ফিতা দিয়ে মেপে বললেন, 'পুরোপুরি ১৫ গজ।'
ভাব নিয়ে চলে যাচ্ছেন ইংরেজির শিক্ষক, পেছন থেকে উষ্মাভরে গণিতবিদ বললেন, 'ইংরেজির শিক্ষক, হু! আমরা বের করতে চাচ্ছি উচ্চতা, আর উনি বের করলেন দৈর্ঘ্য!'
লেখক বলেছেন: আপনার কাছ থেকে পাওয়া গভীর এই সম্মান মনে থাকবে সব সময়।
ভাগ্নের কৌতুকটিও অনন্য। ভালো কাটুক জীবন, সুখে সম্মানে।
খলিল মাহ্মুদ বলেছেন:
এর চেয়ে আর হয় না @আহমাদ মোস্তফা কামাল।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, কৌতুকটি জটিল বটে।
লেখক বলেছেন: শেষটা যতটা না কৌতুক, তারচেয়ে কম নয় বাস্তব! ![]()
লেখক বলেছেন: এইটা হইল ঈদের সেলামী। ![]()
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, বোন। বেশ কিছুদিন পর দেখলাম মনে হচ্ছে। আশা করি সবকিছু চলছে ভালো।
ভালো কাটুক জীবন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আনন্দময় হোক কৌতুক অবগাহন। ![]()
ভালো থাকবেন।
'লেনিন' বলেছেন:
৭নং টা পড়ে আগের গুলা ভুলে গেলাম।আর হ্যাঁ আহমাদ মোস্তফা কামাল সাহেবের জোকটাও ম্যাভেরিক ভাই আগে লিখেছিলেন।
লেখক বলেছেন: আয় হায়, ভুলে গেলে হাসবে কে? ![]()
নিরন্তর সাথে থাকায় ধন্যবাদ অনেক অনেক। ![]()
১ আর ২ দেইখা ভাবচিলাম একটা মৌকিখ মাইনাচন সতর্কিকরন দেব- এরপরের গুলার জন্য দাবুল পিলাচ!
লেখক বলেছেন: যাক, শেষটায় ভালো ভালোয় কাটল।
ভালো থাকবেন।
মুহিব বলেছেন:
শেষেরটি ব্যাপক মজার।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ঠিকই ব্যাপক মজার, এবং কিছুটা বাস্তবও।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: ইসস, পানি খেয়ে নেন তাড়াতাড়ি। কী কাণ্ড বলুন তো। ![]()
লাস্টের সামষ্টিক সত্য বলেই মনে হচ্ছে। ![]()
লেখক বলেছেন: বাহ, বেশ গাণিতিক অনুভূতি তো! ভালো লাগল খুব।
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
ইফতারের আগে সাধারণত কোন লেখা পড়তে ভাল লাগেনা। আপনার লেখাখান পড়ে আমার অনেক হাসি আসছে। রোজাদার শুকনা মুখ করে বসে থাকা মানুষকে ইফতারের আগে হাসি উপহার দেওয়ার জন্য আপনায় অনেক ধন্যবাদ।বরাবরের মতই আপনার লেখা ভাল হয়েছে। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, ধূসর। প্রাণছোঁয়া মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আনন্দময় কাটুক আপনার জীবন, প্রিয়জনদের নিয়ে।
সংগ্রামী অলস বলেছেন:
৪ নম্বর কৌতুকে হেবি মজা। তবে শেষেরটা মনে হয় সারা জীবন মনে থাকবে।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। মন্তব্যে আনন্দিত হলাম।
শেষেরটা বাস্তব জীবনে বেশ প্রযোজ্যই দেখা যাচ্ছে।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। হ্যাঁ, শিক্ষাটা চরম বটে! ![]()
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আলো জ্বলছে! :-)
আলোর ঔজ্জ্বল্য বাড়ছে! :-)
অনেক অনেক ধন্যবাদ, কৌতুকে আলোকপাত করায়।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, আসলেই..![]()
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আমার ব্লগে আপনার ভ্রমণ আনন্দময় হোক।
হ্যাঁ, গণিতের কৌতুক রাজ্যটি নেহাৎ ছোট নয়।
ভালো থাকবেন।
হাল্ক বলেছেন:
৭ নং টা জুস!!
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, গণিত ফলের...
ভালো কাটুক হাল্কের জীবন।
মুক্ত বয়ান বলেছেন:
৫ নং-টা জট্টিল!!! আর, ৭-এ এসে তো ভয় পেয়ে গেলাম ভাইয়া.. এইবার থেকেই থিসিস শুরু!!!
দোয়া রাইখেন।
লেখক বলেছেন: আরে, এ যে দেখি, মুক্ত! ![]()
৫ নংটা বেশ পরিবর্তন করেছি আমি; লেভেল, টার্ম, ভিজ্যুয়াল বেসিক, সি...এগুলো আমদানি করেছি।
থিসিসের ব্যাপারে ফী আমামিল্লাহ...ভালো হয়ে যাবে। ![]()
লেখক বলেছেন: ইসস, কী সুন্দর! অনেক ধন্যবাদ, আপুনি।
ঈদ মোবারক।
ঈদ-পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায়...)
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
কনফারেন্স বিরতিতে কৌতুক বলে আড্ডা দিচ্ছেন কতিপয় গণিতবিদ। নিজেদের কৌতুকগুলি গণিতবিদগণ এত ভালো জানেন যে প্রতিটি কৌতুকের জন্য তারা একটি করে সিরিয়াল নম্বর নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এবং সময় বাঁচানোর জন্য সম্পূর্ণ কৌতুক না বলে কেবলমাত্র কৌতুকের সিরিয়াল নম্বরটি উচ্চারণ করেন তারা।"৪৯৩," চিৎকার করে উঠলেন একজন পুরুষ গণিতবিদ। অন্যেরা এর সমর্থনে উচ্চ হাসিতে ফেটে পড়ে।
"৭২৪," চিৎকার করলেন একজন মহিলা গণিতবিদ। অন্যেরা এতেও প্রাণখুলে হাসতে থাকে।
"৫৮৯," চিৎকার দিলেন আরেক গণিতবিদ। অধিকাংশ গণিতবিদ তাতে মৃদু হাসলেন মাত্র। কিন্তু তরুণ এক গণিতবিদ হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে লাগল, একেবারে হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়ে গেল সে।
কৌতুককারী গণিতবিদ অবাক হয়ে তরুণের কাছে এগিয়ে এসে বলল, "জন, আমার কৌতুকে এত ভয়ঙ্কর মজার কী পেলে তুমি!"
তরুণ গণিতবিদ হাঁপাতে হাঁপাতে উত্তর দেয়, "এই কৌতুকটা আগে...আগে কখনো শুনিনি আমি!
বেস্ট...........
লেখক বলেছেন: ঈদের শুভেচ্ছা, পথিক ভাই।
ভালো কাটুক জীবন, সুখে শান্তিতে।
মাসুদুল হক বলেছেন:
শেষেরটা অসাধারণ...আগের কয়েকটা জানা ছিল,লাস্টেরটা একদম নতুন ও মজারু ...ঈদের শুভেচ্ছা রইল।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আনন্দময় কাটুক আপনার সময়। পড়া ও অনুভবে ধন্যবাদ, অনেক অনেক।
ভালো থাকবেন।
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ বলেছেন:
আসল ব্যাপার হলো,তোমার থিসিস সুপারভাইজর কে?। দারুণ হইসে। পিলাচ।
লেখক বলেছেন: ধইন্যা।
বাস্তব জীবনের কথা কিনা! :-)
এস. এম. রায়হান বলেছেন:
যেমন ১, ৩, ও ৪ নাম্বার কৌতুক পড়ে হাসি পেল না। সূক্ষ্ম কিছু মিস করেছি কি-না কে জানে।
লেখক বলেছেন: ১ ও ৩ হালকা হতে পারে, কিন্তু ৪ তো কড়া হবার কথা। ![]()
মন্তব্যে ৪-এর ব্যাখ্যা দেয়া আছে, মিলিয়ে দেখতে পারেন।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, একে a+ib আকারে প্রকাশ করা যায়। ![]()
পোলাপান বলেছেন:
"হা হা হা (a+ib)+++"
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আমার ব্লগে আপনার ভ্রমণ আনন্দময় হোক।
(a+ib) কাটুক আপনার সময়।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, মুনশিয়ানা। ব্লগ ভ্রমণ আনন্দময় হোক।
ভালো কাটুক সময়।
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন:
হিহিহিহি।
লেখক বলেছেন: হাহাহাহা!
হিহি কাটুক সময়।
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
সবগুলা জোশের ওপরে জোশ! সোজা প্রিয়তে! ব্লন্ডেরটা বুঝতে একটু টাইম লাগছিলো, তাই ঐডায় বেশি মজা পাইছি
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। প্রিয় পোস্টের সম্মাননায় ধন্যবাদ।
হ্যাঁ, ব্লন্ডেরটায় হঠাৎ ভেসে আসে কৌতুকের মূল। ![]()
বোকা ছেলে বলেছেন:
Haha...the last one was awesome! Its reminds me of my thesis supervisor! লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, বোকা ছেলে। আপনার স্মৃতিচারণা মজা লাগল খুব।
এরকম সুপারভাইজারের এরকম কাণ্ডকীর্তি আরো বেশি বেশি হোক। ![]()
লেখক বলেছেন: ব্লগে যখন সম্মানিত ভদ্রমহিলাগণ রয়েছেন, তখন তাদের সামনে এসব জোকস একেবারেই ঠিক না। :x
আজম বলেছেন:
থিসিসের বিষয়বস্তু হিসেব তুমি কী নির্ধারণ করেছ, তা কোনো ব্যাপার নয়। তথ্য-উপাত্তের জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করেছ, তাও কোনো ব্যাপার নয়। আসল ব্যাপার হলো,তোমার থিসিস সুপারভাইজর কে?হা হা হা....হাসতে হাসত পড়ে গেলাম।
সত্য কথা...
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। উত্তর দিতে একটু দেরি হয়ে গেল।
হাসতে হাসতে আনন্দ শান্তিতে কাটুক সময় আপনার।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। হাসিতে ধন্যবাদ অনেক। ![]()
ভালো কাটুক সময়।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


























