সিন্ধু সভ্যতার অক্টোবর ২০০৯ আপডেট: নগরকেন্দ্রিক সভ্যতাটির ভাষা দ্রাবিড়ীয় এবং এটি পশুচারণকেন্দ্রিক আর্য-বৈদিক সংস্কৃতির চেয়ে প্রাচীন
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০২
![]()
"সিন্ধু লিপি (Indus Script) ভাষাতাত্ত্বিক দিক থেকে দ্রাবিড়ীয় (Dravidian) এবং সংস্কৃতিগত দিক থেকে প্রাচীন তামিল সমাজ ব্যবস্থার (Tamil Polity) সাথে, এতদিন যা ধারণা করা হয়েছিল, তার চেয়ে আরো অনেক বেশি কাছাকাছি", বললেন বিখ্যাত লিপি-বিশেষজ্ঞ (epigraphist) ইরাবাথাম মহাদেবন (Iravatham Mahadevan)।
![]()
ইরাবাথাম মহাদেবন
মহাদেবন গত শুক্রবার তামিল নাড়ু ইতিহাস কংগ্রেসের ষোড়শ বার্ষিক অধিবেশনে একটি নিবন্ধ পাঠ করেন যাতে সিন্ধু লিপির উপর আলোকপাত করা হয়। প্রাচীন তামিলে সিন্ধু সভ্যতার ছাপ শীর্ষক নিবন্ধটি তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণাকর্মের অংশবিশেষ, যা এখনও সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি।
তিনি বলেন, তাঁর দাবি অবিশ্বাস্য ঠেকলেও, গত চার দশক ধরে সিন্ধু লিপি ও প্রাচীন তামিল সাহিত্যকর্মের উপর ব্যাপক গবেষণা তাঁকে এ উপসংহারে উপনীত করেছে।
সিন্ধু লিপি এবং তামিল-ব্রাহ্মী (Tamil-Brahmi) শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ মহাদেবন বলেন, এ ছাড়াও সিন্ধু সভ্যতা যে প্রাক-আর্য (Pre-Aryan) যুগের, এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়েছে। সিন্ধু সভ্যতা ছিল নগর-কেন্দ্রিক (urban) যেখানে বৈদিক সংস্কৃতি (Vedic Culture) ছিল গ্রামীণ এবং পশুচারণ-নির্ভর (rura & pastoral)।
সিন্ধু মোহরে (Indus seals), তিনি উল্লেখ করেন, আর্যভাষী সমাজের মূল পরিচায়ক-প্রতীক অশ্ব কিংবা কীলক-শোভিত চাকা বিশিষ্ট রথের (chariot) কোনো প্রতিকৃতি পরিলক্ষিত হয়নি। মোহরসমূহের চিত্রাঙ্কন দেখে প্রতীয়মান হয়, সিন্ধুর ধর্মে (Indus Religion) মহিষের শিং বিশিষ্ট এক পুরুষ দেবতা, বিভিন্ন মাতৃদেবী, পিপুল বৃক্ষ এবং সর্পের পূজার প্রচলন ছিল, এবং সম্ভবত লিঙ্গম প্রতীকেরও (Phallic Symbol)। বর্তমান হিন্দু ধর্মে প্রচলিত এ ধরণের ধর্মাচার উপমহাদেশের আদি অধিবাসীদের কাছ থেকে উদ্ভূত এবং ঋগ্বেদের (Rig Veda) ধর্মে তা ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
![]()
পিপুল বৃক্ষের সীমানায় দণ্ডায়মান দীঘল চুলের কঙ্কণ পরিহিতা শিং-বিশিষ্ট দেবীকে তার ডানপাশের মানুষটি পূজা নিবেদন করছে। একটি বৃষ এবং আরো সাতজন নারী দৃশ্যপট পরিবেষ্টন করে রয়েছে।
এ ছাড়া সিন্ধু সভ্যতা যে দ্রাবিড় সভ্যতা, এ ব্যাপারেও যথেষ্ঠ ভাষাগত নিদর্শন রয়েছে বলে তিনি যুক্তি দেন এবং এর সপক্ষে বেশ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন:
* ব্রাহুউ (Brahui) নামক একটি দ্রাবিড় ভাষা, যা এখনও পাকিস্তানের সিন্ধু এলাকায় প্রচলিত।
* দ্রাবিড় ভাষা থেকে ধারকৃত ঋগ্বেদের শব্দসমূহ।
* ইন্দো-আর্য ভাষার উপর দ্রাবিড় ভাষার সাবস্ট্রেটাম প্রভাব, যা ঋগ্বেদীয় আর্য ভাষার মূর্ধন্য ব্যঞ্জনবর্ণের উপস্থিতিতে প্রতীয়মান। এবং
* প্রাকৃত উপভাষাসমূহের প্রধান প্রধান পরিমার্জনা যা এগুলোকে সম্পর্কগত দিক থেকে আর্য ভাষা শাখার চেয়ে দ্রাবিড় ভাষা শাখার সাথে বেশি নিবিড় করে।
সিন্ধু লিপির কম্পিউটার বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, ভাষাটিতে দ্রাবিড় ভাষার মতো কেবল প্রত্যয় (suffix) বিদ্যমান; তাতে নেই আর্য ভাষার ন্যায় কোনো উপসর্গ (prefix) কিংবা মুণ্ডা (Munda) ভাষার ন্যায় কোনো মধ্য-পদাংশ (infix)।
তাঁর নিবন্ধে আর্য ও দ্রাবিড় শব্দদ্বয়ের প্রয়োগ সুস্পষ্ট করতে গিয়ে মহাদেবন বলেন, তিনি তাদের কেবল ভাষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লেখ করেছেন, কারণ আর্যভাষীরা হাজার হাজার বছর পূর্বেই দ্রাবিড় ও মুণ্ডাভাষীদের সাথে মিশে গিয়ে গড়ে তুলেছে বৈচিত্রময়, যোগিক ভারতীয় সমাজ।
সূত্র
http://beta.thehindu.com/news/article31700.ece
সম্পর্কিত পোস্ট
প্রাচীন পৃথিবীর বিস্ময়, সিন্ধু লিপি, আর্য প্রোপাগাণ্ডা এবং নতুন আলো: Click This Link
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সিন্ধু সভ্যতা, দ্রাবিড়, আর্য, ঋগ্বেদ ;
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৮:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: পড়া ও মন্তব্যে ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন।
নুভান বলেছেন:
আগে আমিও মনে করতাম যে সিন্ধু সভ্যতাই বোধহয় আর্য সভ্যতা। পরে উইকিতে পড়ে ভূল ভেঙ্গেছিলো। খুব তথ্যবহুল পোষ্ট ম্যাভেরিক দা। ধন্যবাদ লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, নুভান ভাই। ভালো লাগল আপনাকে দেখে। পোস্ট পড়া ও মূল্যায়নে ধন্যবাদ অনেক অনেক।'
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: খুব ভালো লাগল শুনে। আগের পোস্টের ৫ নং লিঙ্কটি দেখবেন বিশেষ করে, সাম্প্রতিক জার্নাল পেপার।
ভুরিদত্ত বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছ। আমার ব্লগে আপনার ভ্রমণ আনন্দময় হোক।
ভালো থাকুন।
রেজোওয়ানা বলেছেন:
ভাল লেগেছে, কারণ প্রাচীন ইতিহাস আর মূর্তিতত্ত্ব আমার পছন্দের বিষয়।তবে আমি পরেছিলাম এই সীলটা (সম্ভবত) যে এটা শিব আর নন্দী আদি রূপ।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আপনার আগ্রহের কথা শুনে ভালো লাগল খুব।
হ্যাঁ, মোহরের ব্যাপারে এটিও একটি হাইপোথিসিস হতে পারে।
নুভান বলেছেন:
আমাকে কিছুদিন আগে আমার কোরিয়ান প্রফেসর প্রশ্ন করেছিলো যে আমাদের বাঙ্গালী জাতীর আবির্ভাব কোথা থেকে? যেমন, কোরিয়ান রা দাবী করে যে তারা জাতীগতভাবে মোঙ্গল। আমি বলেছিলাম আমরা আদি-অস্ট্রলইয়েড (অস্ট্রেলিয়ার এবোরজিনিয়াসদের সাথে নাকি আমাদের মিল আছে), ভূল বলেছিলাম কিনা যানিনা। আমরা কি দ্রাবির গোষ্ঠি নাকি আদি অস্ট্রোলয়েড? একটু বিস্তারিত ব্যক্ষ্যা করলে বাধিত হব।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, নুভান ভাই। বাঙ্গালীদের বৈচিত্রের দিকে লক্ষ করলেই বোঝা যায়, বাঙ্গালী হচ্ছে বহু জাতিগোষ্ঠির সমন্বয়ে একাত্ম এক জাতি। আপনার তথ্য সঠিক এবং তা আংশিক।
নীচের মন্তব্যে পারভেজ রবিন সুন্দর করে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। উইকিপিডিয়ার এ লিঙ্কেও কিছু তথ্য পাবেন: http://en.wikipedia.org/wiki/Bengali_people
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: হঠাৎই আপডেটটা পেয়ে গেলাম, তাই দিয়ে দিলাম। ![]()
পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
পারভেজ রবিন বলেছেন:
@নুভান, অামি জানি যে বাঙালী জাতি শুধুই অস্ট্রালইয়েড নয়। এবং বাঙ্গালী কোন একক জাতি নয়, সংকর জাতি। পৃথিবীতে চারটি মহাজাতি আছে, অস্ট্রালয়েড, ককেশান, নিগ্রোয়েড ও মঙ্গোলয়েড। বাঙ্গালী জাতির মাঝে এর তিনটিরই মিশ্রন ঘটেছে। এই উপমহাদেশের আদীবাসী হল অস্ট্রালয়েড জনগোষ্ঠী, এদের ধর্ম সর্বপ্রাণবাদ। অস্ট্রেলীয়ার আদীবাসীরা এই মহাজাতির অন্তর্ভুক্ত। এর পর আসে আর্যরা, তারা ককেশান, ধর্ম হিন্দু। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপের মানুষ এই মাহাজাতির অর্ন্তভুক্ত। সর্বশেষ যুক্ত হয় মঙ্গোলয়েডরা। এজন্য বাঙ্গালী জাতির সুনির্দিষ্ট কোন দৈহিক বৈশিষ্ট নেই। এদেশে যেমন ধবধবে ফর্শ, কুচকুচে কালো, শ্যামলা, দীর্ঘ দেহ, খাটো, মঝারী সব ধরনের মানুষ দেখা যায়। আর একটা ব্যাপার হল এই তিনটি মহাজাতির মধ্যে মাত্র একটি জাতির ধর্ম হিন্দু। সাধাররনের ধারণা বাঙ্গালীরা একসময় সবাই হিন্দু ছিল। কিন্তু তারও আগে এই জনপদের হিন্দুদের অবস্থান ছিল বৌদ্ধ আর সর্বপ্রাণবাদীদের পর তৃতীয়। ভারতের আসামের জনগোষ্ঠী অহম বা অসমীয়রা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছে মাত্র ষোঢ়শ শতকে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ভ্রাত, চমৎকারভাবে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।
ভালো কাটুক সময়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। মন্তব্যে সম্মানিত বোধ করলাম।
প্রাচীন পৃথিবীর পথে ভ্রমণ আনন্দময় হোক।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। আমার ব্লগে স্বাগত।
আপনার পোস্ট পড়ে ভালো লাগল খুব।
লেখক বলেছেন: প্রাচীন পৃথিবীতে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ অনেক অনেক। ![]()
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
আমি এখন 'মুক্তি সংগ্রামের মূলধারা' নামের একটা বই পড়ছি! কিন্তু সেটা সপ্তম শতাব্দী থেকে শুরু ...... সেটাই আমার কাছে কত প্রাচীন লাগে !
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, প্রাচীন, তবু হারিয়ে যায় না। :-)
বইটি কে লিখেছে রে?
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
সংগ্রহে নিলাম
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। প্রিয় পোস্টের সম্মাননায় আনন্দিত হলাম।
ভালো থাকবেন।
আকাশ অম্বর বলেছেন:
চমৎকার!ভাষাগত দিক থেকে, প্রোটো-দ্রাবিড়িয়ানই বুঝি সেই অজানা সিন্ধু-সভ্যতার ভাষা!
ম্যাভেরিক ভাইয়াকে প্রাগৈতিহাসিক ধন্যবাদ!
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা। প্রাগৈতিহাসিক ধন্যবাদে উদ্ভাসিত হলো প্রাচীন পৃথিবী এক লহমায়। ![]()
ভালো কাটুক সময়।
নুভান বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ পারভেজ রবিন ও ম্যাভেরিক দা।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ, নুভান ভাই।
ভালো কাটুক জীবন।
লেখক বলেছেন: তেমন কিছু না, ভালো লাগার কারণে ভাষার ব্যাপারে একটু পড়াশোনা আর কি। ![]()
সাইমুম বলেছেন:
ভালো লাগলো। +
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, সাইমুম। পড়া ও মূল্যায়নে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ভালো কাটুক সময়।
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
+++++++++++++
পদ্ম।পদ্ম বলেছেন:
++++++++++
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















