লেখাটি অনেক বড়
তাই পড়তে কষ্ট হতে পারে
তবে জানার আছে
আর এই হচ্ছে লিংক
Click This Link
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত যত কাজ হয়েছে, তাকে প্রথম পর্যায় বলে ধরা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৬১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। বর্তমানে গ্লাস টাওয়ার নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত করার জন্য ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম যায়যায়দিনকে জানান, চলতি মাসে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা থেকে স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ার নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যাবে এবং ৯ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এটাই হবে বিশ্বের প্রথম স্টেক গ্লাস টাওয়ার। তিনি বলেন, বিশ্বে অনেক গ্লাস টাওয়ার আছে, তবে এ ধরনের টাওয়ার আর নেই। আর এর নির্মাণ কাঠামো এমন হবে যে, সূর্যের আলোতে টাওয়ারে আলোর বিভিন্ন প্রতিফলন ঘটবে।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত জানান, বাংলাদেশের বিজয়সহ বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে ধরা হবে এ চত্বরে। যেখানে থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ভাষণ, ভাষা আন্দোলনসহ ঐতিহাসিক সব নিদর্শন। আর গ্লাস টাওয়ারটি এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে এক অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমন্বিত এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এখানে আন্তর্জাতিকমানের ভূগর্ভস্থ জাদুঘর, ১৫০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গ্লাস টাওয়ার, শিখা অনির্বাণ, জলাধার, স্বাধীনতা যুদ্ধের ম্যুরাল এবং সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয়ের অধীনে উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা হবে। নকশা অনুযায়ী ২৪ ফুট মাটির নিচে ২৫৩ বাই ১২৬ ফুট আয়তনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন ও আলোকচিত্র সংগ্রহ, উন্মুক্ত পাকা চত্বর এবং ঝরনা থাকবে। থাকবে ১৫৭ সিটের অডিও ভিজ্যুয়াল কক্ষ।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং স্বাধীনতা স্তম্ভের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজান-উল-আলম বলেন, প্রকল্পটি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের হলেও এ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ না থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্লাস টাওয়ারের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে ১৬ ফুট। এই টাওয়ার তৈরি করা হবে গ্লাস আর স্টিলের কাঠামোর ওপর। ভবনগুলোতে সাধারণত যেভাবে গ্লাস ব্যবহার করা হয়, গ্লাস টাওয়ারে সেভাবে গ্লাস ব্যবহার করা হবে না। এই টাওয়ারের একটির ওপর একটি গ্লাস ব্যবহার করা হবে। যেভাবে টেবিলে একটির ওপর একটি বই সাজিয়ে রাখা হয়। টাওয়ারে প্রতিটি প্যানেলে ৯০টি করে গ্লাস ব্যবহার করা হবে, যাকে স্টেক গ্লাস বলে।
এ ব্যাপারে প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ১৫০ ফুট উঁচু এই গ্লাস টাওয়ারের যে কাচের দেয়াল হবে, এই কাচ চওড়ায় ৭৫ মিলিমিটার হবে। আর গ্লাসের পুরু হবে ১৯ মিলিমিটার।
জানা গেছে, মার্চ মাসে গ্লাস টাওয়ারে টেকনিক্যাল ডিজাইন আহ্বান করা হয়। এতে আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এপ্রিল মাসে তাদের পাওয়ার প্লান্ট উপস্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থাপন মূল্যায়ন করে এখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়। এই প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে মেরো এশিয়া প্যাসিফিক প্রাইভেট লিমিটেড, এনডিই নোবাম কনসোর্টিয়াম ও মির আক্তার-সাজিন জয়েন্টভেঞ্চার। নির্বাচিত এই তিন প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ জুলাই গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হলে মেরো বাদে বাকি দুই প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রস্তাব দেয়। এ দুটি থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করবে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নানা কারণে বাঙালি জাতির কাছে শৌর্য-বীর্যের প্রতীক? ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এখানেই দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে স্বাধীনতার ডাক দেন। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এখানেই আত্মসমর্পণ করে। আগামী প্রজন্মের কাছে জাতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এখানে স্বাধীনতা স্তম্ভ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতা স্তম্ভের অন্যতম আকর্ষণ ‘শিখা চিরন্তন’ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সে সময়ের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিখা চিরন্তন স্থাপন করেন। শেখ হাসিনা এর আগে একই বছরের ৭ মার্চ শিখাটি প্রজ্বলন করেন। মশাল জ্বালিয়ে সারাদেশ পরিভ্রমণ শেষে শিখাটি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এ ঐতিহাসিকস্থানে স্থাপন করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতা স্তম্ভের ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে যায়। মূল পরিকল্পনার অনেক কিছু বাদ দিয়ে জোট সরকার ৫ বছরে মাত্র ১০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
১৯৯৬ সালে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার এই ব্যয় কমিয়ে ৭৩ কোটি ৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে পড়ে। ব্যয় সঙ্কোচনের কথা বলে বন্ধ করে দেয়া হয় নির্মাণকাজ। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে বিএনপি-জামায়াত সরকার ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে আবার স্বাধীনতা স্তম্ভের নির্মাণকাজ শুরু করে। কিন্তু ব্যয়বহুল অজুহাত তুলে স্বাধীনতা স্তম্ভের প্রধান আকর্ষণ গ্লাস টাওয়ার বাদ দেয়া হয়। আর গ্লাস টাওয়ার না থাকায় স্বাধীনতা স্তম্ভ নামকরণই মূল্যহীন হয়ে পড়ে। তখন শিল্পী ও স্থপতিরা বলেছিলেন, গ্লাস টাওয়ারসহ স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মিত হলে এটি হতো বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক স্থাপনা, যা বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই। জোট সরকারের সময় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্সটি অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার শিল্পকলা একাডেমী থেকে চারুকলা ইন্সটিটিউট পর্যন্ত ৬৭ একর জমির ওপর যে ‘সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয়’ নির্মাণের বিশাল উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নেয়, স্বাধীনতা স্তম্ভ ছিল তারই অংশ। এখন এ বলয়ও বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৩ অক্টোবর একটি সভাও হয়েছে। এতে বদলে যাবে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর পাশের এলাকার চিত্র। বর্তমান স্বাধীনতা স্তম্ভ ২০ একর জায়গার ওপর নির্মিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। বিগত সরকার এটিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।
বর্তমানে স্বাধীনতা স্তম্ভের জাদুঘর অংশের পূর্বদিকে রয়েছে ৪২৪ ফুট লম্বা ও ১৪ ফুট ৯ ইঞ্চি উঁচু জনতার দেয়াল। এই দেয়ালে ২২৫০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে টেরাকোটার মাধ্যমে শাশ্বতকালের আবহমান বাংলা, তেভাগা আন্দোলন, বাংলা সংস্কৃতির ওপর পাকিস্তানি শাসকের খড়গ দৃষ্টি, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ঘটনাবলি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রথম প্রভাতফেরি, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ’৫৮-এর আইয়ুব শাহির সামরিক শাসন, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার আন্দোলন ও কারাবরণ, ’৬৬-এর ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, আইয়ুব শাহির পতনঘণ্টা, ’৭০-এর প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাস ও নির্বাচন, ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ২৫ মার্চের কালরাতে গণহত্যাযজ্ঞ, মুজিবনগরে প্রথম বাংলাদেশ সরকার গঠন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী গঠন, জেড ফোর্স, এস ফোর্স ও কে ফোর্সের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের ঘটনাবলি, বুদ্ধিজীবী হত্যা, জেনারেল নিয়াজির আত্মসমর্পণ এবং সর্বশেষ ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিজয়সহ বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রমনার ইতিহাস
জানা যায়, রমনার ইতিহাস শুরু হয় ইংরেজি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে যখন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে সুবাহদার ইসলাম খান ঢাকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় ঢাকার উত্তর শহরতলিতে দুটি চমৎকার আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠে। সুবেদার ইসলাম খান চিশতির ভাইয়ের নামানুসারে এর একটির নামকরণ করা হয় মহল্লা চিশতিয়া এবং সুবেদার ইসলাম খানের একজন সেনাধ্যক্ষ সুজা খানের নামানুসারে অপর এলাকাটির নামকরণ হয় মহল্লা সুজাতপুর। এই এলাকায় তখন উন্নত বসতবাড়ি ছাড়াও মসজিদ, বাগান, সমাধিসৌধ, মন্দির ইত্যাদি গড়ে ওঠে। মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর রমনা ধীরে ধীরে তার পুরনো গৌরব হারিয়ে ফেলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে সরকারি কাগজপত্রে রমনার নাম তেমন একটা চোখে পড়ে না। বস্তুত সে সময় রমনা ছিল একটি জঙ্গলাকীর্ণ পরিত্যক্ত এলাকা, যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত দালানকোঠা, মন্দির, সমাধি ইত্যাদি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
বৃটিশ আমলে ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার বৃটিশ কালেক্টর ডয়েস ঢাকা নগরীর উন্নয়নের জন্য কতগুলো বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং পুরো এলাকাটি পরিষ্কার করে তিনি এর নাম দেন রমনা গ্রিন এবং এলাকাটিকে রেসকোর্স হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাঠের বেড়া দেন। সে সময় রমনা রেসকোর্সের মধ্যখানে একটি কালীমন্দির ছিল।
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ঢাকার খ্যাতনামা আলেম মুফতি দীন মহম্মদ এক মাহফিল থেকে ঘৌড়দৌড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। এ কারণে সরকার ১৯৪৯ সালে ঘোড়দৌড় বন্ধ করে দেয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের পর জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামানুসারে রমনা রেসকোর্স ময়দানের নাম রাখা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আশির দশকের শেষভাগ থেকে এ উদ্যানে প্রচুর গাছ-গাছালি রোপণ করা হয়। বর্তমানে উদ্যানে ফাঁকা জায়গা তুলনামূলকভাবে কম।
শুরু হচ্ছে স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ার নির্মাণকাজ। টাওয়ারটি তৈরি হলে এটি হবে পৃথিবীর অদ্বিতীয় স্টেক গ্লাস টাওয়ার। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্লাস টাওয়ার নির্মাণেই খরচ হবে ১৩৫ কোটি টাকা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭১ কোটি টাকা।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত যত কাজ হয়েছে, তাকে প্রথম পর্যায় বলে ধরা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৬১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। বর্তমানে গ্লাস টাওয়ার নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত করার জন্য ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম যায়যায়দিনকে জানান, চলতি মাসে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা থেকে স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ার নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যাবে এবং ৯ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এটাই হবে বিশ্বের প্রথম স্টেক গ্লাস টাওয়ার। তিনি বলেন, বিশ্বে অনেক গ্লাস টাওয়ার আছে, তবে এ ধরনের টাওয়ার আর নেই। আর এর নির্মাণ কাঠামো এমন হবে যে, সূর্যের আলোতে টাওয়ারে আলোর বিভিন্ন প্রতিফলন ঘটবে।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত জানান, বাংলাদেশের বিজয়সহ বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে ধরা হবে এ চত্বরে। যেখানে থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ভাষণ, ভাষা আন্দোলনসহ ঐতিহাসিক সব নিদর্শন। আর গ্লাস টাওয়ারটি এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে এক অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমন্বিত এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এখানে আন্তর্জাতিকমানের ভূগর্ভস্থ জাদুঘর, ১৫০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গ্লাস টাওয়ার, শিখা অনির্বাণ, জলাধার, স্বাধীনতা যুদ্ধের ম্যুরাল এবং সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয়ের অধীনে উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা হবে। নকশা অনুযায়ী ২৪ ফুট মাটির নিচে ২৫৩ বাই ১২৬ ফুট আয়তনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন ও আলোকচিত্র সংগ্রহ, উন্মুক্ত পাকা চত্বর এবং ঝরনা থাকবে। থাকবে ১৫৭ সিটের অডিও ভিজ্যুয়াল কক্ষ।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং স্বাধীনতা স্তম্ভের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজান-উল-আলম বলেন, প্রকল্পটি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের হলেও এ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ না থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্লাস টাওয়ারের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে ১৬ ফুট। এই টাওয়ার তৈরি করা হবে গ্লাস আর স্টিলের কাঠামোর ওপর। ভবনগুলোতে সাধারণত যেভাবে গ্লাস ব্যবহার করা হয়, গ্লাস টাওয়ারে সেভাবে গ্লাস ব্যবহার করা হবে না। এই টাওয়ারের একটির ওপর একটি গ্লাস ব্যবহার করা হবে। যেভাবে টেবিলে একটির ওপর একটি বই সাজিয়ে রাখা হয়। টাওয়ারে প্রতিটি প্যানেলে ৯০টি করে গ্লাস ব্যবহার করা হবে, যাকে স্টেক গ্লাস বলে।
এ ব্যাপারে প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ১৫০ ফুট উঁচু এই গ্লাস টাওয়ারের যে কাচের দেয়াল হবে, এই কাচ চওড়ায় ৭৫ মিলিমিটার হবে। আর গ্লাসের পুরু হবে ১৯ মিলিমিটার।
জানা গেছে, মার্চ মাসে গ্লাস টাওয়ারে টেকনিক্যাল ডিজাইন আহ্বান করা হয়। এতে আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এপ্রিল মাসে তাদের পাওয়ার প্লান্ট উপস্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থাপন মূল্যায়ন করে এখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়। এই প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে মেরো এশিয়া প্যাসিফিক প্রাইভেট লিমিটেড, এনডিই নোবাম কনসোর্টিয়াম ও মির আক্তার-সাজিন জয়েন্টভেঞ্চার। নির্বাচিত এই তিন প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ জুলাই গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হলে মেরো বাদে বাকি দুই প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রস্তাব দেয়। এ দুটি থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করবে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নানা কারণে বাঙালি জাতির কাছে শৌর্য-বীর্যের প্রতীক? ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এখানেই দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে স্বাধীনতার ডাক দেন। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এখানেই আত্মসমর্পণ করে। আগামী প্রজন্মের কাছে জাতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এখানে স্বাধীনতা স্তম্ভ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতা স্তম্ভের অন্যতম আকর্ষণ ‘শিখা চিরন্তন’ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সে সময়ের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিখা চিরন্তন স্থাপন করেন। শেখ হাসিনা এর আগে একই বছরের ৭ মার্চ শিখাটি প্রজ্বলন করেন। মশাল জ্বালিয়ে সারাদেশ পরিভ্রমণ শেষে শিখাটি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এ ঐতিহাসিকস্থানে স্থাপন করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতা স্তম্ভের ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে যায়। মূল পরিকল্পনার অনেক কিছু বাদ দিয়ে জোট সরকার ৫ বছরে মাত্র ১০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
১৯৯৬ সালে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার এই ব্যয় কমিয়ে ৭৩ কোটি ৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে পড়ে। ব্যয় সঙ্কোচনের কথা বলে বন্ধ করে দেয়া হয় নির্মাণকাজ। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে বিএনপি-জামায়াত সরকার ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে আবার স্বাধীনতা স্তম্ভের নির্মাণকাজ শুরু করে। কিন্তু ব্যয়বহুল অজুহাত তুলে স্বাধীনতা স্তম্ভের প্রধান আকর্ষণ গ্লাস টাওয়ার বাদ দেয়া হয়। আর গ্লাস টাওয়ার না থাকায় স্বাধীনতা স্তম্ভ নামকরণই মূল্যহীন হয়ে পড়ে। তখন শিল্পী ও স্থপতিরা বলেছিলেন, গ্লাস টাওয়ারসহ স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মিত হলে এটি হতো বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক স্থাপনা, যা বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই। জোট সরকারের সময় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্সটি অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার শিল্পকলা একাডেমী থেকে চারুকলা ইন্সটিটিউট পর্যন্ত ৬৭ একর জমির ওপর যে ‘সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয়’ নির্মাণের বিশাল উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নেয়, স্বাধীনতা স্তম্ভ ছিল তারই অংশ। এখন এ বলয়ও বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৩ অক্টোবর একটি সভাও হয়েছে। এতে বদলে যাবে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর পাশের এলাকার চিত্র। বর্তমান স্বাধীনতা স্তম্ভ ২০ একর জায়গার ওপর নির্মিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল। বিগত সরকার এটিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।
বর্তমানে স্বাধীনতা স্তম্ভের জাদুঘর অংশের পূর্বদিকে রয়েছে ৪২৪ ফুট লম্বা ও ১৪ ফুট ৯ ইঞ্চি উঁচু জনতার দেয়াল। এই দেয়ালে ২২৫০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে টেরাকোটার মাধ্যমে শাশ্বতকালের আবহমান বাংলা, তেভাগা আন্দোলন, বাংলা সংস্কৃতির ওপর পাকিস্তানি শাসকের খড়গ দৃষ্টি, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ঘটনাবলি, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রথম প্রভাতফেরি, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ’৫৮-এর আইয়ুব শাহির সামরিক শাসন, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার আন্দোলন ও কারাবরণ, ’৬৬-এর ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, আইয়ুব শাহির পতনঘণ্টা, ’৭০-এর প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাস ও নির্বাচন, ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ২৫ মার্চের কালরাতে গণহত্যাযজ্ঞ, মুজিবনগরে প্রথম বাংলাদেশ সরকার গঠন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী গঠন, জেড ফোর্স, এস ফোর্স ও কে ফোর্সের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের ঘটনাবলি, বুদ্ধিজীবী হত্যা, জেনারেল নিয়াজির আত্মসমর্পণ এবং সর্বশেষ ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিজয়সহ বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রমনার ইতিহাস
জানা যায়, রমনার ইতিহাস শুরু হয় ইংরেজি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে যখন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে সুবাহদার ইসলাম খান ঢাকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় ঢাকার উত্তর শহরতলিতে দুটি চমৎকার আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠে। সুবেদার ইসলাম খান চিশতির ভাইয়ের নামানুসারে এর একটির নামকরণ করা হয় মহল্লা চিশতিয়া এবং সুবেদার ইসলাম খানের একজন সেনাধ্যক্ষ সুজা খানের নামানুসারে অপর এলাকাটির নামকরণ হয় মহল্লা সুজাতপুর। এই এলাকায় তখন উন্নত বসতবাড়ি ছাড়াও মসজিদ, বাগান, সমাধিসৌধ, মন্দির ইত্যাদি গড়ে ওঠে। মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের পর রমনা ধীরে ধীরে তার পুরনো গৌরব হারিয়ে ফেলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে সরকারি কাগজপত্রে রমনার নাম তেমন একটা চোখে পড়ে না। বস্তুত সে সময় রমনা ছিল একটি জঙ্গলাকীর্ণ পরিত্যক্ত এলাকা, যেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত দালানকোঠা, মন্দির, সমাধি ইত্যাদি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
বৃটিশ আমলে ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার বৃটিশ কালেক্টর ডয়েস ঢাকা নগরীর উন্নয়নের জন্য কতগুলো বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং পুরো এলাকাটি পরিষ্কার করে তিনি এর নাম দেন রমনা গ্রিন এবং এলাকাটিকে রেসকোর্স হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাঠের বেড়া দেন। সে সময় রমনা রেসকোর্সের মধ্যখানে একটি কালীমন্দির ছিল।
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ঢাকার খ্যাতনামা আলেম মুফতি দীন মহম্মদ এক মাহফিল থেকে ঘৌড়দৌড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। এ কারণে সরকার ১৯৪৯ সালে ঘোড়দৌড় বন্ধ করে দেয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের পর জাতীয় নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামানুসারে রমনা রেসকোর্স ময়দানের নাম রাখা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আশির দশকের শেষভাগ থেকে এ উদ্যানে প্রচুর গাছ-গাছালি রোপণ করা হয়। বর্তমানে উদ্যানে ফাঁকা জায়গা তুলনামূলকভাবে কম।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





