somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানা

১৭ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানা। উপকূল এলাকায় প্রতি বছর গড়ে ২০ বর্গকিলোমিটার করে বাড়ছে বাংলাদেশের আয়তন। প্রধানত দেশের দক্ষিণ উপকূলের নদী মোহনা এবং বঙ্গোপসাগরের বুকে বাড়ছে এ জমি। এরকমই একটি জমি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার মুহুরি প্রজেক্টে জেগে উঠেছে। সেখানে ১৭ হাজার একর জমিতে একটি শিল্প পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

জাতিসংঘের ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসি) এবং নাসার গোডার্ড ইন্সটিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এর ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে তলিয়ে যাবে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ ভূমি। কিন্তু তাদের সে পূর্বাভাস মিথ্যা প্রমাণ করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বাংলাদেশের ভূমি।

জানা গেছে, গত ৫৩ বছরে উপকূলীয় এলাকার জমি বৃদ্ধির মোট পরিমাণ প্রায় ১ হাজার বর্গকিলোমিটার। অর্ধশতকের পুরনো ম্যাপ আর বিভিন্ন সময়ে উপগ্রহ থেকে তোলা চিত্র বিশ্লেষণ করে
গবেষকরা এ তথ্য পেয়েছেন। চলমান ভূ-সৃজনের হিসাবে ৫০ বছরে আরো অন্তত ১ হাজার বর্গকিলোমিটার বাড়তি জমি যোগ হবে বাংলাদেশের মানচিত্রে।
ঢাকার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের গবেষণায় বলা হযেছে, হিমালয় থেকে নেমে আসা নদ-নদীগুলোর বয়ে আনা পলির এক-তৃতীয়াংশ মিশছে সাগরের পানিতে। বাকি অংশ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের জমির আয়তন। ৪০ দশকে নোয়াখালী, হাতিয়া এলাকায় জেগে ওঠা ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকার নিঝুম দ্বীপ থেকে শুরু করে সম্প্রতি সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার সামনে যে বিশাল ডুবোচর জেগেছে তা এরই প্রমাণ। ১৯৭৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত উপগ্রহ থেকে তোলা বাংলাদেশের ছবি এবং এ সময়ে নতুন প্রকাশিত এলাকা মানচিত্র অনুযায়ী ৫০ বছরে দেশের আয়তন বেড়েছে প্রায় ১ হাজার বর্গকিলোমিটার।

গবেষণায় বলা হযেছে, হিমালয় থেকে আসা নদীগুলো প্রতি বছর বয়ে আনে গড়ে ১ বিলিয়ন টনেরও বেশি পলি। আর এ পলি জমেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন চর। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই যা ব্যবহার করতে পারছে মানুষ। সেই সঙ্গে মানচিত্রে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। অবশ্য এসব চরের সবগুলোই যে টিকে থাকছে তা নয়। আলোচিত তালপট্টি দ্বীপের মতো অনেক জমিই আবার হারিয়ে যাচ্ছে সাগরে। তবে এ ঘটনা খুব একটা বেশি নয়। এলাকাভিত্তিক হিসেবে সর্বাধিক ভূমি সৃজন হচ্ছে দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায়। পটুয়াখালী, ভোলা এবং বরগুনার নদী মোহনা ও সাগরে জাগছে অসংখ্য চর। প্রতি বছরই বাড়ছে এসব চরের আয়তন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় গবেষণা ও জরিপ বিভাগ বলেছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তলিয়ে যাবে এই আশঙ্কায় চুপচাপ বসে আছে জাতিসংঘের আইপিসি। তাদের উচিত ভূমি সৃৃজনের এ তথ্য নিয়ে নতুনভাবে গবেষণা করা। দেশ তলিয়ে যাবে নাকি টিকে থাকবে তা নিয়ে আরো গবেষণা হওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে হয়তো বড় ধরনের আতঙ্ক থেকে রেহাই পাবে মানুষ। তাছাড়া শত শত বছর ধরে প্রাকৃতিক নিয়মে চলছে নতুন ভূমি গঠন। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত বাঁধগুলোও ভূমিকা রাখছে এক্ষেত্রে। দেশের অভ্যন্তরভাগসহ উপকূলীয় এলাকায় নদী এবং সাগরভাঙনে জমি বিলীন হওয়ার কিছু ইতিহাস থাকলেও ভূমি সৃজনের তুলনায় তা খুব একটা বেশি নয়। তাছাড়া ভেঙে যাওয়া তীর আবার জাগছে চর হয়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা উচিত বলে মনে করে এই বিভাগ। সেক্ষেত্রে দেশের আওতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক এবং পরিবেশগত অনেক দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলা সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি মুহুরি প্রজেক্টে জেগে ওঠা ১৭ হাজার একর জমিতে একটি শিল্প পার্ক নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার এ ইচ্ছা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত মাসের ২৮ তারিখ শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, সাগর থেকে জেগে ওঠা জমির ওপর শিল্প পার্ক তৈরি করার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। কারণ এটি সরকারি জমি। এ জমি আগে পার্কের জন্য হস্তান্তর করতে হবে, তারপর শিল্প পার্ক তৈরি করা হবে।

লিংক

Click This Link
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×