Click This Link
Click This Link
Click This Link
পরীক্ষাটা শেষ হয়ে গেল। অনেক শান্তি লাগছে। পুরো দুই সপ্তাহ যেন একটা বোঝা চেপে ছিল মাথায়। তমা বসে আছে করিডোরে, স্বর্ণার জন্য অপেক্ষা করছে। স্বর্ণা সবসময় সব কাজে দেরি করবেই। ও হল একটা স্টিকি মেয়ে। যেখানেই যাক, আটকে যাবে। সবার সাথে সব কিছু নিয়ে আলোচনা করতে হবে, সবকিছুতে নাক গলাতে হবে। তমার বসে থাকতে ইচ্ছা করছে না, এই সময়টা একা থাকতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু চলেও যেতে পারছে না। এখন ওকে না পেলে স্বর্ণা হয়তো বাসায় গিয়ে হাজির হবে। আর একবার বাসায় চলে আসলে ওর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া অনেক কঠিন।
স্বর্ণা এল, আরো প্রায় পনর মিনিট পর। ফিচেল মার্কা একটা হাসি ওর মুখে। তমা বিরক্ত হয়ে বলল, '‘তোকে এতবার বললাম আমি বেশিক্ষণ থাকবো না, তারপরও তোর এত দেরি করতে হল?’'
‘'শোন তমা, একটা কথা বলি। হাবিব স্যারকে আর কষ্ট দিস না। বেচারা! পুরাই ফিদা হয়ে আছে।’'
'’তোকে কি হাবিব স্যার ওকালতি করতে পাঠাইছে?’'
পলি আর শুভ্রাও এসে হাজির হল। শুভ্রা বলল, '‘কেন ওকালতি করতে হবে? তুই কি দেখিস না উনি তোকে কত পছন্দ করে?’'
তমা রেগে যায়, '‘শোন উনি আজকে যথেষ্ট ছ্যাবলামি করছে। টিচার হিসেবে উনাকে শ্রদ্ধা করি। সেটা নষ্ট করতে চাইনা। আর তোরা এসব বলে উনাকে আর ছোট করিস না।’'
‘'ছোট হওয়ার কি আছে? উনি খারাপ কিসে? এত কম বয়সে এত ভাল একটা পজিসনে আসছে, ফ্যামিলির অবস্থাও যথেষ্ট ভাল। আর সিনিয়র হিসেবে পাঁচ বছর ধরে দেখে আসতেছি, কখনো কমপ্লেন করার মত কিছু দেখি নাই ওনার মধ্যে।'’ শুভ্রার গলায় রাগ।
‘যত ভালই হোক,' উনি আমার টিচার। আর উনি আজকে যা করছে তা ভাল হয় কি করে?'’
‘'স্যার এমন কিছু খারাপ করে নাই। তোর একটু এক্সট্রা কেয়ার নেয়ার চেষ্টা করছে। একটু ভাল-মন্দ খোঁজ নেয়া, ডিপার্টমেন্ট ছেড়ে যাচ্ছিস, তোকে আর দেখবে না, উনার তো খারাপ লাগতেই পারে। এসব আসলে কিছু না, এটা শুধুই তোর অহংকার। এত দেমাগ ভাল না তমা।’'
‘'দেমাগ! আশ্চর্য! তোরা এমন শুরু করলি কেন আমার সাথে? ভাব দেখে মনে হচ্ছে আমি না, ওই ব্যাটা হাবিবই তোদের ফ্রেন্ড।'’ গা জ্বলে যাচ্ছে রাগে, উঠে গটগট করে হাঁটতে শুরু করল। বুঝতে পারছে এই জন্যই স্বর্ণা ওকে এতক্ষণ ধরে বসিয়ে রেখেছিল। একা পারবে না, তাই দলবল নিয়ে আসছে। স্বর্ণা পিছন পিছন আসছে, '‘তমা শোন, দাঁড়া। কথা আছে। খুব জরুরী। তমা।’'
কিন্তু তমা দাঁড়াল না। রিকশা ঠিক করল। বাসায় যাবে। স্বর্ণা তারপরও ডাকল কিছুক্ষণ। তমা শুনছে না, রিকশা চলতে শুরু করেছে। পরীক্ষাটা ভাল হয়েছিল, শেষ হল, একটু স্বস্তি ছিল মনে। কিন্তু মেজাজটাই খিচড়ে গেছে এখন।
হাবিব স্যার, হাবিব ভাই...... ওদের ডিপার্টমেন্ট থেকেই পাস করেছে। ওরা যখন ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হল, হাবিব ভাইরা তখন মাস্টার্স করছে। উনি তখন থেকেই তমাকে পছন্দ করতো। নানাভাবে বলার বা বুঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সরাসরি কখনোই বলতে পারেনি। ছয় মাস হল টিচার হিসেবে জয়েন করেছে। এখনো সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। আজকে পরীক্ষাশেষে বেরুনোর আগে ওকে নানারকম উপদেশ, পরামর্শ দিচ্ছিল, তমা যতই বের হয়ে আসতে চাচ্ছিল উনি ততই দেরি করিয়ে দিচ্ছিল। সবাই বুঝতে পারছিল, মিটমিট করে হাসছিল। কিন্তু তমার কিছুই করার ছিল না। হাবিব ভাই খারাপ মানুষ না, তমা জানে উনি খারাপ মানুষ না। কিন্তু তমার কেন যে ভাল লাগে না! তমা পারে না ভাল লাগাতে!
............... ......................... ..................
সন্ধ্যাবেলা লম্বা একটা ঘুম দিয়ে উঠেছে তমা। ঘরের লাইট নিভিয়ে দিয়ে হাল্কা একটা গান শুনছে, আর আয়েস করে চুমুক দিচ্ছে সন্ধ্যার চায়ে। গানের সুরে কেমন একটা আবেশ ঘিরে ধরল ওকে। ভাল লাগছে ভীষণ। এমন সময় তন্ময় এসে হাজির হল আর সবার আগেই লাইটটা জ্বেলে দিয়ে সুরের জালটা কেটে দিল।
‘'উফ তন্ময়, লাইট নেভাও।'’ অসহিষ্ণু গলায় বলল তমা।
‘'না শোনো, তোমার সাথে কথা আছে।'’ বলে এক লাফে বিছানায় উঠে বসল।
‘'তন্ময়, লাইট ছাড়াওতো কথা বলা যায়।’'
‘'নাহ্ চেহারা না দেখে কথা বলতে ভাল লাগে না।’'
‘'কি এমন কথা তোমার?'’ তমার একটু একটু মজা লাগছে।
‘'তোমার তো আজকে পরীক্ষা শেষ হয়্যা গেল। কেমন দিছ পরীক্ষা?'’
তমা হাসে, ‘'ওরে আমার মুরুব্বী! কেমন দিছি সেইটা এখন তোমার কাছে জবাবদিহি করতে হবে?’'
‘'ধুরো আপু, সোজা কথাকে ব্যাঁকা কর কেন? জিজ্ঞাসা করলাম শুধু! তোমারতো এখন কোন কাজ নাই, তাইনা?’'
‘'কাজ রাখতে চাইলেই হয়। কেন কি দরকার?’'
মাতবরী চালে মাথা নাড়ে তন্ময়, '‘তোমার কাজ বাড়ছে এখন।’'
‘'কি কাজ?’'
‘'তুমি জানো না? সত্যি জানো না? আমরা যে বাসা চেঞ্জ করতেছি।’'
'‘চেঞ্জ করতে হবে সেটাতো জানি। কিন্তু বাসা কি ঠিকঠাক?'’
‘'হ্যাঁ, সামনের সপ্তাহেই আমরা যাবো। বলতো কোথায়?’'
‘'কোথায়?’'
তন্ময় উৎসাহে লাফিয়ে উঠে, ‘'আগের বাসার কাছেই। ওই বাসাটা থেকে দুই-তিন বাসা সামনেই। কি ভাল হবে না? আম্মা খুব খুশি, আমিও। এইখানে আমার ভাল লাগে না। কেমন যেন! ওখানে গেলে খেলার জায়গা পাওয়া যাবে।.................'
তন্ময় বলে যেতে থাকে। কিন্তু তমা আর শোনে না। ওর মাথায় শুধু ঘুরছে ‘আগের বাসা, আগের বাসা, আগের বাসা’। কেন, কি দরকার? ওই জায়গা, ওই এলাকা..........তমা চায় না ফিরতে। একদম না।
চলবে............
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


