somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যন্ত্রণা-৪

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link
Click This Link
Click This Link


পরীক্ষাটা শেষ হয়ে গেল। অনেক শান্তি লাগছে। পুরো দুই সপ্তাহ যেন একটা বোঝা চেপে ছিল মাথায়। তমা বসে আছে করিডোরে, স্বর্ণার জন্য অপেক্ষা করছে। স্বর্ণা সবসময় সব কাজে দেরি করবেই। ও হল একটা স্টিকি মেয়ে। যেখানেই যাক, আটকে যাবে। সবার সাথে সব কিছু নিয়ে আলোচনা করতে হবে, সবকিছুতে নাক গলাতে হবে। তমার বসে থাকতে ইচ্ছা করছে না, এই সময়টা একা থাকতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু চলেও যেতে পারছে না। এখন ওকে না পেলে স্বর্ণা হয়তো বাসায় গিয়ে হাজির হবে। আর একবার বাসায় চলে আসলে ওর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া অনেক কঠিন।
স্বর্ণা এল, আরো প্রায় পনর মিনিট পর। ফিচেল মার্কা একটা হাসি ওর মুখে। তমা বিরক্ত হয়ে বলল, '‘তোকে এতবার বললাম আমি বেশিক্ষণ থাকবো না, তারপরও তোর এত দেরি করতে হল?’'
‘'শোন তমা, একটা কথা বলি। হাবিব স্যারকে আর কষ্ট দিস না। বেচারা! পুরাই ফিদা হয়ে আছে।’'
'’তোকে কি হাবিব স্যার ওকালতি করতে পাঠাইছে?’'
পলি আর শুভ্রাও এসে হাজির হল। শুভ্রা বলল, '‘কেন ওকালতি করতে হবে? তুই কি দেখিস না উনি তোকে কত পছন্দ করে?’'
তমা রেগে যায়, '‘শোন উনি আজকে যথেষ্ট ছ্যাবলামি করছে। টিচার হিসেবে উনাকে শ্রদ্ধা করি। সেটা নষ্ট করতে চাইনা। আর তোরা এসব বলে উনাকে আর ছোট করিস না।’'
‘'ছোট হওয়ার কি আছে? উনি খারাপ কিসে? এত কম বয়সে এত ভাল একটা পজিসনে আসছে, ফ্যামিলির অবস্থাও যথেষ্ট ভাল। আর সিনিয়র হিসেবে পাঁচ বছর ধরে দেখে আসতেছি, কখনো কমপ্লেন করার মত কিছু দেখি নাই ওনার মধ্যে।'’ শুভ্রার গলায় রাগ।
‘যত ভালই হোক,' উনি আমার টিচার। আর উনি আজকে যা করছে তা ভাল হয় কি করে?'’
‘'স্যার এমন কিছু খারাপ করে নাই। তোর একটু এক্সট্রা কেয়ার নেয়ার চেষ্টা করছে। একটু ভাল-মন্দ খোঁজ নেয়া, ডিপার্টমেন্ট ছেড়ে যাচ্ছিস, তোকে আর দেখবে না, উনার তো খারাপ লাগতেই পারে। এসব আসলে কিছু না, এটা শুধুই তোর অহংকার। এত দেমাগ ভাল না তমা।’'
‘'দেমাগ! আশ্চর্য! তোরা এমন শুরু করলি কেন আমার সাথে? ভাব দেখে মনে হচ্ছে আমি না, ওই ব্যাটা হাবিবই তোদের ফ্রেন্ড।'’ গা জ্বলে যাচ্ছে রাগে, উঠে গটগট করে হাঁটতে শুরু করল। বুঝতে পারছে এই জন্যই স্বর্ণা ওকে এতক্ষণ ধরে বসিয়ে রেখেছিল। একা পারবে না, তাই দলবল নিয়ে আসছে। স্বর্ণা পিছন পিছন আসছে, '‘তমা শোন, দাঁড়া। কথা আছে। খুব জরুরী। তমা।’'
কিন্তু তমা দাঁড়াল না। রিকশা ঠিক করল। বাসায় যাবে। স্বর্ণা তারপরও ডাকল কিছুক্ষণ। তমা শুনছে না, রিকশা চলতে শুরু করেছে। পরীক্ষাটা ভাল হয়েছিল, শেষ হল, একটু স্বস্তি ছিল মনে। কিন্তু মেজাজটাই খিচড়ে গেছে এখন।
হাবিব স্যার, হাবিব ভাই...... ওদের ডিপার্টমেন্ট থেকেই পাস করেছে। ওরা যখন ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হল, হাবিব ভাইরা তখন মাস্টার্স করছে। উনি তখন থেকেই তমাকে পছন্দ করতো। নানাভাবে বলার বা বুঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সরাসরি কখনোই বলতে পারেনি। ছয় মাস হল টিচার হিসেবে জয়েন করেছে। এখনো সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। আজকে পরীক্ষাশেষে বেরুনোর আগে ওকে নানারকম উপদেশ, পরামর্শ দিচ্ছিল, তমা যতই বের হয়ে আসতে চাচ্ছিল উনি ততই দেরি করিয়ে দিচ্ছিল। সবাই বুঝতে পারছিল, মিটমিট করে হাসছিল। কিন্তু তমার কিছুই করার ছিল না। হাবিব ভাই খারাপ মানুষ না, তমা জানে উনি খারাপ মানুষ না। কিন্তু তমার কেন যে ভাল লাগে না! তমা পারে না ভাল লাগাতে!

............... ......................... ..................

সন্ধ্যাবেলা লম্বা একটা ঘুম দিয়ে উঠেছে তমা। ঘরের লাইট নিভিয়ে দিয়ে হাল্কা একটা গান শুনছে, আর আয়েস করে চুমুক দিচ্ছে সন্ধ্যার চায়ে। গানের সুরে কেমন একটা আবেশ ঘিরে ধরল ওকে। ভাল লাগছে ভীষণ। এমন সময় তন্ময় এসে হাজির হল আর সবার আগেই লাইটটা জ্বেলে দিয়ে সুরের জালটা কেটে দিল।
‘'উফ তন্ময়, লাইট নেভাও।'’ অসহিষ্ণু গলায় বলল তমা।
‘'না শোনো, তোমার সাথে কথা আছে।'’ বলে এক লাফে বিছানায় উঠে বসল।
‘'তন্ময়, লাইট ছাড়াওতো কথা বলা যায়।’'
‘'নাহ্ চেহারা না দেখে কথা বলতে ভাল লাগে না।’'
‘'কি এমন কথা তোমার?'’ তমার একটু একটু মজা লাগছে।
‘'তোমার তো আজকে পরীক্ষা শেষ হয়্যা গেল। কেমন দিছ পরীক্ষা?'’
তমা হাসে, ‘'ওরে আমার মুরুব্বী! কেমন দিছি সেইটা এখন তোমার কাছে জবাবদিহি করতে হবে?’'
‘'ধুরো আপু, সোজা কথাকে ব্যাঁকা কর কেন? জিজ্ঞাসা করলাম শুধু! তোমারতো এখন কোন কাজ নাই, তাইনা?’'
‘'কাজ রাখতে চাইলেই হয়। কেন কি দরকার?’'
মাতবরী চালে মাথা নাড়ে তন্ময়, '‘তোমার কাজ বাড়ছে এখন।’'
‘'কি কাজ?’'
‘'তুমি জানো না? সত্যি জানো না? আমরা যে বাসা চেঞ্জ করতেছি।’'
'‘চেঞ্জ করতে হবে সেটাতো জানি। কিন্তু বাসা কি ঠিকঠাক?'’
‘'হ্যাঁ, সামনের সপ্তাহেই আমরা যাবো। বলতো কোথায়?’'
‘'কোথায়?’'
তন্ময় উৎসাহে লাফিয়ে উঠে, ‘'আগের বাসার কাছেই। ওই বাসাটা থেকে দুই-তিন বাসা সামনেই। কি ভাল হবে না? আম্মা খুব খুশি, আমিও। এইখানে আমার ভাল লাগে না। কেমন যেন! ওখানে গেলে খেলার জায়গা পাওয়া যাবে।.................'
তন্ময় বলে যেতে থাকে। কিন্তু তমা আর শোনে না। ওর মাথায় শুধু ঘুরছে ‘আগের বাসা, আগের বাসা, আগের বাসা’। কেন, কি দরকার? ওই জায়গা, ওই এলাকা..........তমা চায় না ফিরতে। একদম না।


চলবে............
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:১৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×