আজ অনেক দিন পর ক্যাম্পাসে গেলাম। ছুটির দিন সব বন্ধুরা মিলে ভাবলাম একসাথে হই, একটু আড্ডাবাজি করি। সকাল সকাল যাবো বললেও ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেল, গিয়ে পৌঁছালাম সাড়ে এগারোটায়। যদিও গিয়ে দেখি আমিই সবার আগে পৌঁছেছি। শাহবাগ থেকে হেঁটে যাচ্ছিলাম ডিপার্টমেন্টে। চারুকলার সামনে দিয়ে, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী পাশ কাটিয়ে, কলাভবনের মাঝ দিয়ে এসে পৌঁছালাম মল চত্বরে। যেতে যেতে হাঁটতে হাঁটতে ভীষণ নস্টালজিক হয়ে পড়ছিলাম। নজরুলের মাজারের সামনের ফুটপাতটা, এখান থেকে কত পুরনো বই কিনেছি। সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর সামনে বসে কত আড্ডা দিয়েছি, আর দুপুরে এখানেই আসতাম খিচুড়ি খেতে। অপরাজেয় বাংলার সামনে এক মামা রঙ চা বিক্রি করতো। সকালের প্রথম ক্লাসটা করেই এক কাপ চা খাওয়ার জন্য ছুটে আসতাম। আর যখন তখন ঝালমুড়ি-চানাচুর খাওয়া তো আছেই। আর তারপর সেই মল চত্বর! এই মল চত্বরে রাস্তার ওপর বসে কত আড্ডাই না দিয়েছি। কতদিন এমন হয়েছে গাছের ওপর থেকে কাক কারো না কারো ওপর ইয়ে করে দিয়েছে। তবু একটু বেছে টেছে নিয়ে এখানে বসতেই হবে। এতসব ভাবতে ভাবতে মনে হচ্ছিল বাকিরা আসার আগেই বুঝি আমি কোথায় হারিয়ে যাচ্ছি........যাচ্ছি..........যাচ্ছি.........যাচ্ছি..........
এমন সময় এক বন্ধুর কাছে শোনা একটা গল্প মনে পড়ল। এক মাঝবয়েসী ভদ্রলোক, ক্যাম্পাস ছেড়েছেন বহু আগে। একদিন তিনি ঘুরতে এলেন। সারা ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর ভীষণ স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছেন। হাঁটতে হাঁটতে তাঁর হলের সামনে এলেন। যে হলে তিনি কাটিয়ে গেছেন প্রায় সাত-আট বছর। হলের সামনে দাঁড়িয়ে উদাস স্বরে বলছেন, 'সেই হল!'
ঢুকলেন ভিতরে, করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলছেন, 'সেই করিডোর!'
তিনি যে রুমে ছিলেন সে রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, 'সেই রুম!'
রুমের বাসিন্দা দরজা খুলে দিল, বিনীত ভঙ্গিতে ঘুরে ঘুরে দেখাতে লাগল। বিছানা দেখে তিনি বলছেন, 'সেই বিছানা!' টেবিল দেখে বলছেন, 'সেই টেবিল!' বুকশেলফ দেখে বলছেন, 'সেই বুকশেলফ!' তারপর তিনি গিয়ে দাঁড়ালেন দেয়াল লাগোয়া আলমারির সামনে, 'সেই আলমারি!' রুমের বাসিন্দা ছাত্রর মুখ এবার বেশ কাচুমাচু। না জানি ভদ্রলোক এখন কি করেন? যে ভয় পাচ্ছিল ভদ্রলোক তাই করলেন। আলমারির পাল্লা খুলে ফেললেন। ভিতরে জড়োসরো হয়ে ভীত মুখে বসে আছে এক মেয়ে। ছাত্র তো এবার ভয় পেয়ে গেছে। না জানি আঙ্কেল কি বলে, কি করে! সে কাচুমাচু হয়ে বলছে, 'আঙ্কেল, আমার কাজিন।'
ভদ্রলোকের কোন ভাবান্তর হল না। তিনি তেমনি উদাস গলায় বললেন, 'সেই পুরনো গল্প!'
গল্পটা মনে পড়তেই আমার নস্টালজিয়ার বেলুনটা ফটাক করে ফেটে গেল আর আমি একা একাই ফ্যাক করে হেসে ফেললাম।
"সেই পুরনো গল্প!"
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


