somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ পর্যন্ত আমি একজন মেয়েই

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসায় ছিলাম না সকাল থেকেই। সারা বিকেল আর সন্ধ্যেটা কাটিয়েছি কিছু বন্ধুর সাথে। অনেক অনেক সুন্দর কেটেছে পুরো সময়টা। আমার বন্ধুরা ছিল, ছিল গুরুজন, এবং ছোটরাও। কিন্তু আমাদের গল্প হয়েছে বন্ধুর মত। আড্ডার একটা বড় অংশ ছিল একজন মেয়ের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে, তার অধিকার নিয়ে, একজন মেয়ে পিতা-মাতার সন্তান, কারো ঘরনী, কারো মা হয়ে যাওয়ার পরেও যে তার একটা আলাদা অস্তিত্ব থাকে, সে যে একজন স্বতন্ত্র মানুষ সেই বিষয়টি বেশিরভাগ সময় আমরা ভুলে যাই। কি করা যায়, আপনজনের কি করণীয়, নিজের সত্ত্বাকে স্বতন্ত্র রাখতে মেয়েটি নিজে কি করতে পারে তাই নিয়েও অনেক কথা হয়েছে। গল্পের ফাঁকে একবারও মুহূর্তের জন্যও আমার মনে হয়নি আমাকে শুধু একজন মেয়ে হিসেবে দেখা হচ্ছে। বরং মানুষ হিসেবে আমার অস্তিত্বটুকুই অনেক অনেক গুরুত্ব পেয়েছে। ভাল লাগছিল এত সুন্দর একটা দিনের পরে যখন ফিরে আসছিলাম।

আমি আর আরেক ছোটভাই সিএনজি নিলাম। ফিরছি মিরপুর থেকে উত্তরা। স্বাভাবিকের চেয়েও অনেক বেশি ভাড়ায় রাজি হতে হল শুধু সিএনজিওয়ালাদের দাপটে টেকা দায় বলে। শুরু থেকেই লোকটা এমন বেপরোয়া চালাতে লাগল যে প্রতি মুহূর্তে কোন দুর্ঘটনার ভয় পেতে হচ্ছিল। বারবার বলেও তার ওই বেপরোয়া চালানো বন্ধ করা গেল না। ভাগ্যক্রমে কয়েকবার কোন দুর্ঘটনা হওয়া থেকে বেঁচে গেলাম। খিলখেতে বাসা বলে ছোটভাইটি নেমে গেল। উত্তরা পর্যন্ত পনর-বিশ মিনিটের রাস্তায় আমি একা। হঠাত করে সিএনজিওয়ালার হাব-ভাব বদলে গেল। সে একটু ঘুরে বসে বারবার আড়চোখে পিছন ফিরে দেখছে। খেয়াল করলাম বাতাসে আমার ওড়নাটা একটুখানি সরে গেছে, যেটা খুব স্বাভাবিক। অস্বস্তিতে নড়ে-চড়ে বসে ওড়নাটা ঠিক করে নিলাম। যাকে বলে গায়ের সাথে পেচিয়ে নেয়া, তাই করলাম। কিন্তু তারপরও তার সেই তাকানো বন্ধ হল না। সে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল বারবার। ভয় হচ্ছিল ওই হাইওয়েতে এইভাবে চলতে গিয়ে কোন এক্সিডেন্ট না করে। কিন্তু এয়ারপোর্টের পরের একটুখানি রাস্তায়, জায়গাটুকু একটু নীরব আর অন্ধকার, আমাকে এক্সিডেন্টের চেয়ে বড় একটা ভয় চেপে ধরল। সিএনজিওয়ালার সেই লোভী, লোলুপ, ঘিনঘিনে নোংরা, সাপের মত দৃষ্টির সামনে আমি যেন কুকড়ে গেলাম। ভয়ে অস্থির হয়ে ভাবছিলাম কখন এই পথটুকু শেষ হবে।

কিছুদূর যেতেই এক মোটরসাইকেলের পিছনে বসা এক মেয়ের দিকে সে তাকাতে লাগল ঘুরে ঘুরে। ভয় পেলাম পেছনে তাকিয়ে চালাচ্ছে, না জানি কি হয়...মোটরসাইকেল পার হয়ে যেতেই সে আবার আমার দিকে মনযোগ দিল। ভীষণ অস্বস্তি নিয়ে বাকি রাস্তা আসলাম। নামার পরে যখন ভাড়া দিচ্ছি, সিএনিজিওয়ালা আমার কাছে ভাড়ার অতিরিক্ত কিছু বখশিশ চাইল। আমার এমন রাগ হল, কড়া গলায় বললাম, 'আপনি এমনিতেই অতিরিক্ত ভাড়ায় আসছেন আবার বখশিশ কেন দিবো আপনাকে?'
সে উদ্ধত গলায় বলল, 'চাইছি, তাই দিবেন।'
আমি ভাড়ার টাকাটা দিয়ে নেমে আসলাম। শুনলাম পিছন থেকে লোকটা বলছে, 'আপনারা যদি ভালবাসা না দেন, আমরা কই যাবো?' এত নোংরা, এত অশ্লীল সেই কন্ঠস্বর...

খাচার ভিতর নোংরা লোকটা নিরাপদে বসেছিল। আমার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল কষে একটা চড় লাগাই। কিন্তু আমি চলে আসলাম। সারাদিনের স্নিগ্ধতা একটা নোংরা লোকের নোংরামিতে চাপা পড়ে গেল।

আমার শিক্ষা-দীক্ষা, আমার মানসিক উতকর্ষ , আমার মেধা-মনন, সবকিছু ছাপিয়ে আমি শুধুই একটি মেয়েতে পরিণত হলাম। শুধুই একটি শরীরে পরিণত হলাম। আর কিছুই কি নেই আমার? এইসব নোংরা, লোলুপ দৃষ্টি, চোখ দিয়ে গিলে খাওয়া...

শুধুতো এই অশিক্ষিত সিএনজিওয়ালাই নয়, খুব ভদ্রবেশী মুখোশপরা শিক্ষিত ভদ্রলোকও সুযোগ পেলে একি কাজ করছে। সুযোগ পেলে না, বলা যায় সুযোগ করে নিচ্ছে। কি তার চোখের দৃষ্টিতে, কি কথায়, সামনাসামনি অথবা ফোনে...

আমার অন্যায় একটাই, সবকিছু ছাপিয়ে আমি শেষ পর্যন্ত একজন মেয়েই, একটি শরীর...যাকে গিলে খেতে হয়, চেটে-পুটে খেতে হয়, লুটে নিতে হয়।

ছিঃ............
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:৩৫
১০৩টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×