১০/০৫/১০
নামীরা আজ একটা নাম্বার দিল। আমি নিতে চাইনি। তবু দিল। বলল কথা বলে দেখ। আর কিছু না হোক, সময়তো কাটবে। আবার সাবধানও করে দিল এই বলে যে ছেলেটা একটু বিপজ্জনক। এত পাগল এই মেয়ে!
করবো না, করবো না করেও শেষ পর্যন্ত ফোন করলাম, কথা বললাম। ছেলেটা এত অদ্ভুত সুন্দর করে কথা বলে! শুধু শুনতেই ইচ্ছা করে.....আর শুনতেই ইচ্ছা করে। কাল রাত দুটো পর্যন্ত আমি কথা বলেছি। কি অবাক! কি করে আমি এটা করলাম! বুঝতে পারছিলাম ঘুমাতে হবে, কিন্তু আমি ছাড়তেই পারছিলাম না। কেমন যেন মন্ত্রমুগ্ধের মত, কেমন অদ্ভুত একটা আবেশ।
ঠিক হল? হল না? কে জানে!
১৩/০৫/১০
ও খুব দু:খী একজন মানুষ। কিন্তু সবসময় এত হাসিখুশী থাকে। নিজের দু:খটা লুকিয়ে রাখা, একসাথে অন্যকে আনন্দে রাখা। কি করে পারে? এত শক্তি ও কোথায় পায়? আমি হলেতো কিছুতেই পারতাম না। বাবা-মা দুজনকেই ও এত ভালবাসে, আবার একসাথে দুজনকে সমান ঘৃণা করে। ওদের কারণেই তো ওর জীবনটা এমন ছন্নছাড়া হয়ে গেছে। কেন মানুষ এমন হয়! যে সম্পর্ক ধরেই রাখতে পারবে না, সেখানে নিজেকে জড়ানো কেন?
ওর জন্য ভীষণ মায়া হচ্ছে।
১৪/০৫/১০
কাল রাত ছিল গানে আর সুরে বিভোর। এত দরদী, এত সুরেলা ওর কন্ঠ। গানে গানে কোথায় যে হারালাম! কোথা দিয়ে পার হয়ে গেল গোটা রাত!
১৫/০৫/১০
প্রায় রোজ রাতই জেগে কাটছে। চোখের নিচে হালকা একটু ছায়া। চেহারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছেতো। ছেলেটাকে বললেও শোনে না। কি একটা অধিকার নিয়ে কথা বলে! আর আমিও, কিছুতেই পারি না কঠিন হতে। এই ছেলেকে কিছুতেই ignore করা যায় না। আমার বাধগুলো যেন একটু একটু করে ভেঙে পড়ছে। আমি অধীর হয়ে অপেক্ষা করি ওর ফোনের।
আমি! আমি....................কেউ যদি শোনে আকাশ থেকে পড়বে।
১৮/০৫/১০
ও বলেছে ও আমার কাছে কিছুই লুকাবে না। কারণ he wants to be honest with me. আমাদের মধ্যে কোন লুকাছাপা থাকুক ও চায় না। কিন্তু এত কঠিন সত্যি আমি কি করে সহ্য করবো?
বাবা-মা'র ডিভোর্সের পর থেকে ও অনেক অনেক বেশি ডিপ্রেসড হয়ে গেছিল। যেমন ও বলে লাইফের প্রতি ঘেন্না ধরে যাওয়া। সিগারেট, মদ, আর মেয়েদের সাথে একটার পর একটা সম্পর্কে জড়ানো। না, কোন ইমোশনাল রিলেসন না...only physical...এ পর্যন্ত কত মেয়ের সাথে যে ও গিয়েছে! তারপরে কত সহজে ভুলেও যায় তাদের। ও বলে একেকটা অধ্যায়ের সমাপ্তি।
আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু যখন ও বলল, 'আর না, এবার আমি স্থির হতে চাই। তুমি শুধু আমাকে মুখ লুকানোর একটুখানি জায়গা দাও বুকে।' আমি কিছুই বলতে পারলাম না। কি করে আমার এমন হল!
আমি কি ভালবেসে ফেললাম ওকে?
ওহ আমি কিছুই ভাবতে পারছি না..........................
২১/০৫/১০
আজ আমাদের দেখা হল। আমি তাকাতে পারছিলাম না, কিছু শুনতেও পাচ্ছিলাম না, ভাবতেও না। যেন এক ঘোরের জগতে চলে গিয়েছিলাম। আজকে আমি নিশ্চিত হলাম............ওহ খোদা...........
প্রেম এসে গেছে................yes, I love him...............
ও আমাকে প্রমিজ করেছে, তুমি যদি পাশে থাকো আর কিছু চাই না আমার। আমি সব ছেড়ে দিবো, সব.................শুধু আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না। I trust him..............আমি জানি ও সত্যি বলেছে। I can feel that.
২৪/০৫/১০
ও আমাকে খুব ফোর্স করছে বাসায় জানানোর জন্য। ফ্যামিলি থেকে ফরলাম প্রপোজাল পাঠাতে চাইছে। আমি কি করবো? বাসায় কিছুতেই মেনে নিবে না একটা ব্রোকেন ফ্যামিলি আর এইরকম একজন ছেলেকে। যদি কোনভাবে জানতে পারে ওর সম্পর্কে আমাকে খুন করে ফেলবে।
আমার এই দ্বিধা ও খুব বুঝতে পারে। শুধু করুণভাবে বারবার বলে, 'ছেড়ে যাবা না তো?'
কি করবো? আমি কি করবো?
২৭/০৫/১০
কি যে পাগলামি শুরু করেছে পাগলটা! যখনই কথা হচ্ছে, যখনই দেখা হচ্ছে.......একই কথা......বারবার বারবার........এই বাধভাঙা জোয়ার আমি ঠেকাবো কি করে? আমি নিজেও যে চাইছি। ভীষণভাবে চাইছি.................
০১/০৬/১০
এটা কি স্বপ্ন! মোহ! ঘোর!
আমি জানি না। ভালবাসা পূর্ণতা পেল আজ.......ধারণ করেছি আমার ভালবাসাকে আমার গভীরে। আজ আমার ভেসে যাওয়ার দিন। আজ আমার হারানোর দিন। কত সুর, কত গান আজ আকাশে...সুরে সুরে রঙে রঙে গানে গানে...
I am the happiest person in this world...I am the luckiest one...
০৩/০৬/১০
ও বারবার একটা কথাই বলছে, 'তুমি বাসায় কবে জানাবা? আমি আর দেরী করতে চাইনা। তোমাকে আমি আমার করে নিয়ে আসতে চাই।'
পাগল...পাগল...আস্ত একটা পাগল...
০৪/০৬/১০
কাল রাত থেকে ওকে ফোনে পাচ্ছি না। দুটো ফোনের একটাও ধরছে না। কত সহস্রবার যে আমি ফোন করেছি হিসাব নেই। অস্থির লাগছে ভীষণ।
০৭/০৬/১০
পাঁচদিন হল। একটা মানুষ কি কর্পূরের মত হাওয়ায় মিলিয়ে গেল! ফোন বেজে যাচ্ছে তো, যাচ্ছেই।
ওহ কি করবো আমি? কি টেনসন যে হচ্ছে আমার! কিছুতেই কান্না ঠেকাতে পারছি না। যখন তখন চোখ ভিজে উঠছে। সব কাজেই অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছি।
কি হল? কি হল?
১২/০৬/১০
ওর একটা এ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল। এতদিন হাসপাতালে ছিল। আর ফোন ছিল বাসায়। এতদিন ধরে ও হাসপাতালে, অথচ আমি জানতেই পারলাম না। ইচ্ছে হচ্ছে ছুটে চলে যাই। কিন্তু সেটা সম্ভব না। কেন যে এত বিধি নিষেধ মেনে চলতে হয় আমাদের?
১৫/০৬/১০
ও আবার হারিয়ে গেছে। দুদিন হল ফোন করে পাচ্ছি না। ফোন বেজে যাচ্ছে। কেমন আছে ও? শরীর বেশি খারাপ হল নাতো? কাউকে যে জিজ্ঞেস করবো সে উপায় ও নেই। নামীরা হয়তো খবর দিতে পারতো, কিন্তু ওকে যে বলাই যাবে না আমাদের সম্পর্কের কথা। she is so jealous. নামীরা কখনোই চায়নি আমি ওর সাথে যোগাযোগ রাখি। আমি জানি ও নষ্ট পথে হেঁটেছে বহুদূর। কিন্তু আমার ভালবাসাতো ওকে ফিরিয়ে এনেছে।
ফোন কেন ধরছে না? ভাল লাগছে না, কিচ্ছু ভাল লাগছে না।
২০/০৬/১০
আমার আজকাল সবকিছু বড্ড বিষাদ লাগে। পানসে, রঙহীন। আমি কিছুতেই ভাবতে পারি না ও আমাকে ধোকা দিয়েছে। ভাবতে পারি না আর সব অধ্যায়ের মত আমিও ওর বন্ধ হয়ে যাওয়া একটা অধ্যায়। আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু এর আর কি ব্যাখ্যা থাকতে পারে?
২২/০৬/১০
ওকে যে আমি আমার স্বপ্ন দিয়েছিলাম, সব রঙ, সব সুর দিয়েছিলাম। সবকিছু নিয়ে ও কোথায় চলে গেল!
২৫/০৬/১০
আমি যেন একটা মেশিনের মত চলছি। ওর ফোন বেজেই চলছে। কানে ধরলেই গান শুনি, 'শুনতে কি পাও!' শুনতে কি পাও? কেন পাও না?
০৩/০৭/১০
নামীরার সাথে দেখা হল আজ হঠাৎ করেই। একথা সেকথা। ওর যা স্বভাব, একা একাই বকবক করে যাচ্ছে। তারপর হুট করে জানতে চাইল আমাদের যোগাযোগ আছে কিনা। এ ভয়টাই পাচ্ছিলাম সারাক্ষণ। বললাম না।
নামীরা জানাল ও বাইরে চলে গেছে, মা'র কাছে। মা'র পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করবে, তাই।
কিছু বলিনি। কি বলবো? কি বলার আছে?
০৬/০৭/১০
আমার ভালবাসা নিয়ে এইভাবে খেলার কি দরকার ছিল ওর? আমাকে নি:স্ব করে কেন চলে গেল? ও যা চায়, তাতো খুব সহজেই আরো অনেকের কাছে পেতে পারতো। কেন আমাকে? আমাকেই কেন?
আমার বিশ্বাস ভেঙে ওর কি লাভ হল?
ঘৃণা করি। আমি তোমাকে ঘৃণা করি।
০৮/০৮/১০
এভাবেই বেঁচে আছি এখনো। এক বুক অবিশ্বাস নিয়ে, একবুক ঘৃণা নিয়ে।
একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। এবার নতুন কোন অধ্যায়ের সূচনা হবে, যার রচয়িতা হব আমি।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


