somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লাহ'র আত্মপ্রেমী মন - ০১

৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লিখেছেন: আবুল কাশেম অনুবাদ: অগ্নি অধিরূঢ়

ইসলাম ধর্মে, প্রত্যেক মুসলমান একথা বিশ্বাস করতে বাধ্য যে, কোরানের প্রত্যেক শব্দ আল্লাহ দ্বারা লিখিত হয়েছে। যদি কোন মুসলমান এ কথাকে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তাকে ধর্মদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। আর এই ধরণের ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে সাধারণত গলা কেটে ফেলা হয়। তবুও কেউ যদি খোলামনে এবং মনোযোগের সাথে কোরান পড়ে, তাহলে সে হতভম্ভ হয়ে পরবে। সেদেখবে পবিত্র বাণীর আড়ালে কত ভুল ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যই না রয়েছে। কোরাণের অনেক বক্তব্য আমাদেরকে স্পষ্টভাবে জানায় যে আসলে এর অধিকাংশ মানুষের রচনা, আল্লাহর নয়।

আল্লাহ যে আসলে কতটা দুর্বল চিত্তের ছিলেন, তাই আমরা এই প্রবন্ধে আলোচনা করবো।

আল্লাহ নিজের ঢোল নিজেই পিটিয়েছেন। নিজেকে বাহবা দিয়েছেন এবং নিজেই নিজের মহিমা কীর্তন করেছেন।

এই হাস্যকর বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করে দেখা যাক:

যিশুখ্রিস্ট নিজেই নিজেকে প্রশংসা করছেন।
কালীমাতা (এক হিন্দুদেবী) নিজেই নিজের পূজা করছেন।
গণেশ (আর এক হিন্দু দেবতা) নিজেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
ভগবান বুদ্ধ নিজেই নিজের প্রার্থনা করছেন।
নেলসন ম্যান্ডেলা নিজেই নিজেকে আশীর্বাদ করছেন।
হিটলার নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন।
রাদোভান কারাদজিক নিজেই নিজেকে ভালোমানুষ বলছেন।
জর্জ বুশ নিজেই নিজেকে সৎ চরিত্রের সনদ দিচ্ছেন।
বারাক ওবামা নিজের গুণ নিজের কাছেই বলছেন।
ওসামা বিন লাদেন নিজের কাজে নিজেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।
হিলারী ক্লিনটন নিজেই নিজের কাছে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন।
আহমেদিনেজাদ নিজের কাছে নিজের সাফল্য প্রত্যাশা করছেন।
ইন্দিরা গান্ধী নিজেই নিজেকে সফল বলছেন।
কার্ল মার্ক্স নিজেই নিজেকে বাহবা দিচ্ছেন।
ভ্লাদিমির পুতিন নিজেই নিজের মঙ্গল কামনা করছেন।
স্যার উইনস্টন চার্চিল নিজেই নিজেকে সফল বলছেন।

এভাবে আরও বলা যেতে পারে।

আমরা নিশ্চয় একথা স্বীকার করব যে উপরের উদ্ধৃতিগুলো আসলে অযৌক্তিক, উদ্ভট, শিশুতোষ এবং একেবারেই বোকামীসুলভ। এমনকি যারা এই কথাগুলো বলবে বা লিখবে তাদের আমরা পাগল বা বুদ্ধিহীন বলবো এবং অবশ্যই তাদেরকে পাগলা গারদে পাঠিয়ে দেব। এরকমভাবে ভাবার আগে থামুন, কারণ কোরানের লেখক আল্লাহ ঠিক একই কাজ করেছেন। সুরা কাহফ (অনুবাদ: হিলালী এবং খান) এর বেশ কিছু অংশে দেখা যায় যে আল্লাহ নির্লজ্জভাবে নিজেই নিজের প্রশংসা করেছেন।


১৮.১ - সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। যিনি মোহাম্মদ এবং কেতাবটি পাঠিয়েছেন এবং এ বিষয়ে জটিলতার কোন অবকাশ রাখেননি।
১৮.২ - (তিনি তৈরি করেছেন) সরাসরি সতর্ক করেছেন (অবিশ্বাসীদেরকে) এই বলে যে তিনি ভয়াবহ শাস্তি দেবেন। এবং বিশ্বাসীদেরকে (যারা আল্লাহর একত্বে তথা ইসলামী একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করে) এর সুসংবাদ দিচ্ছেন যে, যারা সঠিক কাজ করেছেন তাদের জন্য রয়েছে দারুণ পুরস্কার (অর্থাৎ বেহেশত)।
১৮.৩ - তারা সেখানে অনন্তকাল বাস করবে।
আমরা যদি উপরের উদ্ধৃতিগুলো মনোযোগের সাথে পড়ি, তাহলে সহজ উপসংহারে পৌঁছাবো।


মোহাম্মদ অথবা অন্য কেউ এই লাইনগুলোর রচয়িতা।
আল্লাহ যদি মোহাম্মদকে এই কথাগুলো বলে থাকেন, তাহলে বলতে হবে তিনি নিশ্চয় নেশাগ্রস্থ ছিলেন অথবা শক্তিশালী মাদকের প্রভাবে আচ্ছন্ন ছিলেন।
তাকে অবশ্যই কোন পাগলা গারদে পাঠানো প্রয়োজন।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে আরও কয়েকটি মজার বাণী নিবেদন করছি।

২৫.১ - তার মঙ্গল প্রার্থনা করি, যিনি মোহাম্মদকে মাপকাঠি দিয়েছেন (ভালো ও মন্দের, অর্থাৎ কোরান। তিনি নিশ্চয় সৃষ্টিকর্তা (মানবজাতি ও জ্বীন সকলের) এবং আমাদেরকে সতর্ক করেছেন।
৩৪.১ - সকল প্রশংসা এবং ধন্যবাদ আল্লাহর, কারণ তিনি বেহেশত ও পৃথিবীর সকল কিছুর মালিক। তিনি সর্বজ্ঞানী এবং তিনি সবসময় সজাগ থাকেন।
৩৫.১ সকল প্রশংসা এবং ধন্যবাদ আল্লাহর, তিনি বেহেশত ও পৃথিবীর সবকিছুর স্রষ্টা। তাকে বন্দনা করি, তিনি ফেরেশতাদেরকে তৈরি করেছেন। তিনি যা ইচ্ছা করেন, তাই সৃষ্টি করেন। আসলে আল্লাহ সবকিছুই করতে পারেন।
৩৭.১৮২- এবং সকল প্রশংসা ও ধন্যবাদের মালিক আল্লাহ কারণ তিনি আলামিন (মানুষ, জিন এবং যা কিছু আছে সবকিছুর)।
৪৫.৩৬ - অতএব সকল প্রশংসা ও ধন্যবাদ আল্লাহর উপরে বর্ষিত হোক, কারণ তিনিই জগতের প্রভু।

উপরের বাক্যগুলোতে আল্লাহ নিজেই নিজেকে প্রশংসা করেছেন। নিজে নিজের বন্দনা করেছেন।

...ক্রমশ...
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×