somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লাহ'র আত্মপ্রেমী বোকা মন - ০২

১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবুল কাশেম
অনুবাদ: অগ্নি অধিরূঢ়


পাঠকগণ নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, আল্লাহ মোহাম্মদকে পড়ার জন্য বলেননি। আরবী শব্দ কুল (পড়) কোথাও নেই। তাই, আমরা বলতে পারি উপরের বাক্যগুলো আসলে মোহাম্মদ বা অন্য কেউ বলেছে।

আমরা যদি বিশ্বাস করি যে কোরানের লেখক একমাত্র আল্লাহ, তাহলে বলতে হবে আল্লাহর বোকামীর কোন সীমারেখা নাই।

* আল্লাহ নিজে বলেছেন "ইনশাল্লাহ" অর্থাৎ 'যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন'।
সুরা কাহফে আল্লাহ মোহাম্মদকে অচেতন জাতি সম্পর্কে বলেছেন। এর পূর্বে মোহাম্মদ কোন ধর্মীয় কাহিনী জানেন কিনা সে সম্পর্কে ইহুদিরা খোঁজখবর নিয়েছিল। ইহুদিদের বক্তব্য শুনে মোহাম্মদ হতভম্ভ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি উত্তর দেবার জন্য দুই (২) সপ্তাহ সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। আল্লাহ এ বিষয়ে সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন সেটাই তার প্রত্যাশা ছিল। দুই সপ্তাহ চলে গেল। মোহাম্মদ তারপরও কিছু বললেন না। ইহুদি পুরোহিতরা আল্লাহর বুদ্ধির শক্তি বুঝে গেলেন। এই আচরণের ব্যাখ্যা দেয়ার কাহিনী সুরা কাহফ ১৮.২৩-২৪ তে লেখা আছে এভাবে-

মোহাম্মদ আল্লাহকে তার (আল্লাহর) দেরির বিষয়ে অভিযোগ জানালেন। আল্লাহ মোহাম্মদকে মৃদু ভৎর্সনা করে ইহুদী ধর্মযাজকদের সাথে কথা বলার সময় 'ইনশাল্লাহ' শব্দটি ব্যবহার করতে বললেন।
সুরাগুলো এরকম
(অনু: হিলালি এবং খান)

১৮.২৩ - এবং কখনো বলবে না 'আমি আগামীকালকে এই এই করবো'।
১৮.২৪ - 'যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন'- এটা বলা বাদ দিয়ে.... ভুলে গেলে তোমার আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং বলবে 'হয়তো আল্লাহ আমাকে অপেক্ষাকৃত আরো সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে'।

সুরা আল-কালামে (সুরা ৬৮) আল্লাহ এক বাগানের গল্প করেছেন। বাগানের মালিকপক্ষ উচ্চ ফলন হবার অহঙ্কারে ফল তোলার সময় 'ইনশাল্লাহ' বলতে ভুলে গিয়েছিল। পরের দিন তারা বাগানে গিয়ে দেখে সব ধ্বংস হয়ে গেছে।

লাইনগুলো এরকম-
৬৮.১৭ - আমরা কমবেশি চেষ্টা করেছিলাম, আমাদের আগ্রহের কমতি ছিল না। পরদিন যখন তারা ফল তুলতে বাগানে গেল তখন।
৬৮.১৮ - ইনশাল্লাহ (আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন) না বলাতে।
৬৮.১৯ - বাগানে ঢুকেই তারা দেখল তাদের আল্লাহ গতরাতে সবাই ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে বাগানে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। ফলে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
৬৮.২০ - ফলে সকালে সমস্ত বাগানটাকে কালো দেখাচ্ছিল। পিচকালো রাত্রির মতো (সবকিছু পুড়ে নষ্ট হবার পর)

অবাক কাণ্ড হল নিচের সুরাতে (অনু: হিলালি এবং খান) আল্লাহ নিজে 'ইনশাল্লাহ' বলেছেন।
৪৮.২৭ - আল্লাহ অবশ্যই আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে স্বচ্ছ করবেন, আমাদেরকে সত্যের সন্ধান দিবেন। যেরকম বাস্তব দৃশ্য মোহাম্মদকে দেখিয়েছেন। (এর মানে হল- মোহাম্মদ একটা স্বপ্ন দেখেছেন, তিনি সঙ্গিসাথীদেরকে নিয়ে মক্কায় ঢুকেছেন। সাথীদের কারো চুল ছোট করে কাটা, কেউ কেউ ন্যাড়া মাথা।) অবশ্যই তুমি আল মসজিদদালহারাম এ নিরাপদে প্রবেশ করতে পারবেন। তোমার সাথীদের কেউ চুল ন্যাড়া করবে, কেউ কেউ চুল ছোট করে কাটবে। কোন ভয় পাবে না। তুমি (মোহাম্মদ) জাননা তা তিনি (আল্লাহ) জানেন। তিনি তোমাকে বিজয়ের খুব কাছাকাছি এনেছেন।

উপরোক্ত লাইনগুলোতে আল্লাহ স্পষ্টভাবে 'ইনশাল্লাহ' শব্দটি উচ্চারণ করেছেন। আরবী কোরানে ৪৮.২৭ নম্বর সুরাটি দেখুন-
Laqad sadaqa Allahu rasoolahu alrru/ya bialhaqqi latadkhulunna almasjida alharama in shaa Allahu amineena muhalliqeena ruoosakum wamuqassireena la takhafoona faAAalima ma lam taAAlamoo fajaAAala min dooni thalika fathan qareeban. (Note: thebold emphasis is mine)

আল্লাহর এই শিশুতোষ বোকামীকে ঢাকার জন্য সুরার নিচে মওদুদী মন্তব্য করেছেন-এখানে ইনশাল্লাহ (যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন) শব্দটি সম্পর্কে, যা আল্লাহ তার নিজের প্রতিজ্ঞার সাথে উচ্চারণ করেছেন। যা বলতে চাই, তা হল নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে ঘটনাকে অসম্ভাব্য করে তোলার কারণ কি? উত্তর হল: এখানে 'ইনশাল্লাহ' শব্দটি 'আল্লাহ ইচ্ছা করবেন না' এরকম বোঝায় না। তিনি তার প্রতিজ্ঞানে অপূর্ণ রাখবেন না। কিন্তু যে পরিস্থিতিতে তিনি এই কথা বলেছেন তা হল........
(মন্তব্য নং; ৪৮/৪৮ http://www.tafheem.net/main.html)
মওদুদীর মন্তব্য নিয়ে আমি কোন টস করবো না। হয়তো আল্লাহ নিজেও হ্যাঁ অথবা না এ দুয়ের মধ্যে কোনটাকে বেছে নিবেন তা বোঝেননি।

মূল: অগ্নি অধিরূঢ়

৯টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×