আলেম ও নাস্তিক বিষয়ে একটি পোস্ট এসেছে। নাস্তিকের প্রশ্নের জবাবে আলেম ইটা মেরে বসেছেন। বিস্তারিত Click This Link দেখুন।
পোস্টে উল্লেখিত 'আলেম' একজন 'জালেম' সন্দেহ নাই। কারো প্রশ্নের জবাবে তাকে শারীরিক ভাবে আহত করা সমর্থনযোগ্য নয়।
আলেমের যুক্তি তার বিজ্ঞানে দখলের অভাবের মতোই ত্রুটিপূর্ন। এ ধরনের অপ-যুক্তি ব্যাবহার করেই গ্রামাঞ্চলে 'অ-শিক্ষিত' জনগোষ্ঠীর মাঝে এরা ধর্মের 'আলো' (??) ছড়িয়ে থাকে।
প্রথমতঃ
ইটের আঘাতে যে 'ব্যাথা' প্রাপ্ত হয়েছে তা 'প্রমান' করা সম্ভব। ইটা যে মারা হয়েছে তার চাক্ষুস স্বাক্ষীও বিদ্যমান। ইটের আঘাতে নাস্তিকের গায়ে যে দাগ বা কালশিটে পড়েছে তা-ই তার ব্যাথার উপযুক্ত প্রমান।
ইটের আঘাতে যে কেউ ব্যাথা পাবে। যেহেতু ব্যাথা'র কার্যকারন ইট দৃশ্যমান এবং গায়ে দাগ বিদ্যমান, সুতরাং এর অস্ত্বিত্ব সহজেই প্রমান যোগ্য। এছাড়াও, নাস্তিক বিচারের জন্য যে কাজীর কাছে গিয়েছেন, কাজী ব্যাথার অস্তিত্বের প্রমান চাইলৈ তাকেও পরীক্ষামূলকভাবে ইটা মেরে দেখানো যেতে পারে। তাতেও ব্যাথার অস্তিত্ব প্রমানিত হবে।
দ্বীতিয়তঃ
অপরাধ করে একে ভাগ্যলিখন বলে চালিয়ে দেয়া সু-বিচারের লক্ষন নয়। তাহলে গাজায় মৃত শিশুগুলির ব্যাপারেও আমরা ললাট-লিখন বলে চুপ করে বসে থাকতাম।
ধর্মের নামে ভাগ্যে বিশ্বাস করানো গ্রাম্য অ-শিক্ষিত মানুষেরা আর প্রতিবাদ করে না। তারা মেনে নেয় যে মাতব্বর/মোল্লা মিলে তাদের ওপর 'ইটা' মেরে যাবে এবং ললাট লিখন হিসেবে মেনে নিতে বলবে। এভাবেই ধর্মের উদ্ভাবন এবং অপব্যাবহার চলে আসছে।
নাস্তিকের নৈতিকতা:
উপরোক্ত উদাহরনে, নাস্তিক জানার উদ্দেশ্যেই আলেমকে প্রশ্ন করেছিলো। তার উত্তরে চরম বেয়াদবের মতো আলেম ইটা মেরে বসেছে। (এখানে আমরা তার উগ্র চরিত্র বা ধর্মে-নিষিদ্ধ প্রশ্নের প্রতি স্বভাব-গত অ-সহনশীলতার কথা ভাবতে পারি)। ইটা মেরে কখনো মৌখিক প্রশ্নের উ্ত্তর দেয়া উচিত নয়। আলেম ইটা মারার কথা বলে তার সাথে তর্কে প্রবৃত্ত হতে পারতেন। তা না করে ইটা মেরে তিনি একটি অপরাধ করেছেন।
'ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়' নীতি অনুযায়ী নাস্তিক যদি আলেমকে লাঠির বাড়ি মারতেন তবে তা কি দুষনীয় হতো?
কিন্তু নাস্তিক তা করেন নি। উনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে (যা নৈতিক মূল্যবোধের এক অসাধারন নজির) বিচারকের আদালতে আরজি দাখিল করেছেন।
এ থেকে প্রমানিত হয়, ধর্মের নামে প্রচুর অপকর্ম হয়েছে এবং ধর্মের ধ্বজ্জাধারী আলেমরা আসলে অজ্ঞানী এবং উগ্র স্বভাবের। অথচ ধর্মের বাণী শান্তির বাণী হওয়া উচিত।
অন্যদিকে মোল্লাদের প্রচারিত 'নাস্তিকেরা মিথ্যা বলে, আইনের প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই, নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু নেই' এটাও উক্ত নাস্তিকের 'কর্মের' মধ্য দিয়ে ভুল প্রমানিত হলো।
ইটা খেয়েও নাস্তিক আইন নিজের হাতে তুলে নেননি।
এ থেকে নাস্তিকের উন্নত নৈতিকতাই কি প্রমানিত হয় না?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



