somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাকির নায়েকের মিথ্যাচার: প্রসঙ্গ 'বিবর্তন' -২

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লিখেছেন: শিক্ষানবিশ


পূর্ববর্তী পর্ব

০২। "পেক অ্যাট নিচেস" বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তা এখনও বুঝতে পারলাম না। পেক শব্দের অর্থ তো ঠোঁকর দেয়া। আর এখানে "ইকোলজিক্যাল নিচ" তথা বাস্তুতান্ত্রিক পরিবেশ বোঝানো হচ্ছে। পরিবেশকে কিভাবে ঠোকর দেয়া যায় এটা জাকির নায়েকের সাথে দেখা হলে শিখে নেব। B-) তবে আপাতত আমার মনে হচ্ছে এখানে, pecking এর বদলে living হবে। অর্থাৎ পাখিরা বাস্তুতান্ত্রিক পরিবেশে বাস করে।
নার্ভাসনেসের কারণেই কি তার মুখ দিয়ে এসব আবোল তাবোল কথা বেরিয়ে এসেছে। তিনি সম্ভবত এরকম কিছু একটা বলতে চেয়েছিলেন:
Darwin did spend several years sailing around the entire world as ship’s naturalist in the HMS Beagle. One of his stops were the Galapagos Islands, where he found a number of finches (birds) that LIVED (not “pecked”) in different ecological niches.
একি মিথ্যাচার! নাকি ইন্টারনেটের কোন অপবিজ্ঞান ও অন্ধ-ইসলামের প্রচারক সাইট থেকে মুখস্থ করা অংশটুকু হঠাৎ ভুলে গিয়েছিলেন!

"DEPENDING UPON THE ECOLOGICAL NICHES THEY PECK, THE BEAKS KEPT ON BECOMING LONG AND SHORT. THIS OBSERVATION WAS MADE IN THE SAME SPECIES - NOT IN DIFFERENT SPECIES"

০৩। একে তো উনি দ্বীপ এবং পাখির নাম কোনটাই বলতে পারেননি, তার উপর পর্যবেক্ষণ করা পাখিগুলোকে একই প্রজাতির বলে আখ্যায়িত করেছেন। উনি এখানে গালাপাগোস দ্বীপের ফিঞ্চ পাখির কথাই বোঝাতে চেয়েছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, গালাপাগোস দ্বীপে ডারউইন ফিঞ্চ পাখির ১৪ টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। একটু গভীরে গেলে নায়েকের অজ্ঞতা আরও প্রকাশ পাবে। দ্বীপে পাখিগুলো দেখার সময় ডারউইন বুঝতে পারেননি যে, এগুলো একই পাখির ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি, সেটা বোঝার কোন উপায়ও ছিল না। সবগুলো নমুনা লন্ডনে ফিরিয়ে আনার পরই একজন পেশাদার পক্ষী বিশারদের সহায়তায় তিনি ভিন্ন প্রজাতির বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। নায়েক এখানে আরও একটি ভুল করেছেন, একই প্রজাতির মধ্যে beak তথা ঠোঁটের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য গণনার মধ্যেই আসে না। এই পার্থক্যটা কেবল ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ক্ষেত্রেই আসে। একই প্রজাতির ফিঞ্চ পাখির একটার ঠোঁট ছোট আর অন্যটার বড় কেন- ডারউইন নাকি এই পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এসব শুনলে ডারউইন নির্ঘাত স্ট্রোক করে বসতেন।

০৪। ভিন্ন প্রজাতির বিষয়টা তো গেল। এবার পার্থক্যের কথায় আসা যাক। প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঠোঁটের দৈর্ঘ্য ছাড়াও আরও অনেক পার্থক্য ছিল: রং, দেহের আকার, সঙ্গীর সাথে ব্যবহার, গান এবং খাদ্যাভ্যাস। এগুলো এতই পৃথক ছিল যে ডারউইন দ্বীপে থাকার সময় বুঝতেই পারেননি, এরা সবাই ফিঞ্চ পাখি।

CHARLES DARWIN WROTE A LETTER TO HIS FRIEND THOMAS THOMTAN, IN 1861 SAYING ‘I DO NOT BELIEVE IN ‘NATURAL SELECTION’- THE WORD THAT YOU USE - I DON’T BELIEVE IN ‘THEORY OF EVOLUTION’ BECAUSE I HAVEN’T GOT ANY PROOF. I ONLY BELIEVE IN IT BECAUSE IT HELPS ME IN CLASSIFICATION OF EMBRYOLOGY, IN MORPHOLOGY, IN RUDIMENTARY ORGANS’.

০৫। THOMAS THOMTAN? এই নামে গুগল সার্চ করে কাউকে পাওয়া গেল না। অবশেষে "The Correspondence of Charles Darwin" এর স্মরণাপন্ন হতে হল। ১৪ খণ্ডের এই জ্ঞানকোষে ১৮২১ থেকে ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত ডারউনের সব লেখা স্থান পেয়েছে। চিঠি, ডায়রি, আত্মজীবনী সব ঘেটেও এই নামে কাউকে পাওয়া গেল না। তবে হ্যা, যিনি গালাপাগোসকে ক্যালাট্রপিস বলেছেন তার পক্ষে থমসনকে থমটেন বলাও বেশ স্বাভাবিক। তাই থমসন নামে সার্চ করা হল। হ্যা টমাস থমসন (১৮১৭-৭৮) নামে সে সময়ের একজনকে পাওয়া গেছে।
ডারউইন কখনই থমসনকে চিঠি লিখেননি। কিন্তু থমসন ডারউইনকে একটি চিঠি লিখেছিলেন যা হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া চিঠি সম্পর্কে আমরা জানি কারণ, জোসেফ ডাল্টন হুকার ডারউইনের কাছে লেখা এক চিঠিতে থমসনের এই চিঠির কথা উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ ডারউইন ও হুকার পরস্পরকে যেসব চিঠি লিখেছেন কেবল সেগুলোতেই থমসনের নাম এসেছে।

:: ক্রমশ...::
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৪৭
১৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×